× ই-পেপার প্রচ্ছদ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি ফিচার চট্টগ্রাম ভিডিও সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

উপাচার্যদের চৌর্যবৃত্তি, দুর্নীতির শাস্তি নিশ্চিত হোক

সম্পাদকীয়

প্রকাশ : ০১ মে ২০২৪ ১৮:১৫ পিএম

উপাচার্যদের চৌর্যবৃত্তি, দুর্নীতির শাস্তি নিশ্চিত হোক

সরকারি হোক বা বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যদের বিরুদ্ধে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ যেন পিছু ছাড়ছে না। একের পর এক বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যদের দুর্নীতির খবর আসছে সংবাদমাধ্যমে। অতীতেও সরকারি-বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর উপাচার্যদের দুর্নীতি, তাদের অনেকের নেতিবাচক কর্মকাণ্ড নিয়ে কম আলোচনা হয়নি। উপাচার্যদের কারও কারও স্বয়ং অসৎ কর্মে লিপ্ত থাকার কথায় জাতির মাথা হেঁট হলেও, তাদের অনেকেরই হয়তো তা হয় না। ফলে ঘুরেফিরে একই ধরনের অভিযোগ সামনে আসছে। এবার অভিযোগ উঠেছে কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ আবদুস সালামের বিরুদ্ধে। ২০২০ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক শেখ আবদুস সালাম। ৩০ এপ্রিল প্রতিদিনের বাংলাদেশ-এ প্রকাশিত ‘উপাচার্যের এত অনিয়ম’ শিরোনামের শীর্ষ প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার পর থেকেই নানা অনিয়ম-দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়েন তিনি। তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তোলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরাও। সরকার সমর্থক ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগের পক্ষ থেকেও অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগে তার অফিসকক্ষে বেশ কয়েকবার তালা ঝোলানো হয়। শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের আন্দোলন, অভিযোগের প্রেক্ষিতে উপাচার্যের বিরুদ্ধে ওঠা অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ খতিয়ে দেখতে তদন্তের সিদ্ধান্ত নেয় ইউজিসি। গঠিত হয় তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি। এই কমিটি তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পেয়েছে, প্রমাণ পেয়েছে অনিয়ম-দুর্নীতির; যা স্বীকার করে প্রতিদিনের বাংলাদেশ-কে ইউজিসির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান অধ্যাপক মুহাম্মদ আলমগীর বলেছেন, ব্যবস্থা নিতে সুপারিশসহ প্রতিবেদন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। মন্ত্রণালয় পরবর্তী ব্যবস্থা নেবে। দুর্নীতি দমন কমিশনও (দুদক) তার বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেছে। ইউজিসির তদন্তে ৫৩৭ কোটি টাকার মেগা প্রকল্পে নয়ছয়, ভুয়া বিলে সোয়া ৬ কোটি টাকা আত্মসাৎ, ঢাকার কেরানীগঞ্জে ব্যক্তিগতভাবে নির্মাণাধীন বিল্ডিংয়ের কাজ তদারকির জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থে এলিট ফোর্সেস লিমিটেড থেকে সিকিউরিটি গার্ড নিয়োগ করে বেতন-ভাতা দেওয়ার অভিযোগ প্রমাণিত। যদিও উত্থাপিত অভিযোগ মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছেন উপাচার্য ড. শেখ আবদুস সালাম।

উপাচার্যের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। এর অর্থ বিশ্ববিদ্যালয়ের সমগ্র প্রশাসনকে অভিযুক্ত করা। অতীতেও বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেকের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ শুধু উত্থাপনই নয়, ইউজিসির তদন্তে প্রমাণিতও হয়েছে। বিভিন্ন সময়ে দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে অনেক উপাচার্য দুর্নীতির আঁতুড়ঘরে পরিণত করেছেন। সিন্ডিকেট, নির্মাণকাজে অসাধুতা, ক্রয়সংক্রান্ত অনিয়ম, ভুয়া বিল-ভাউচার, পরীক্ষা ও নিয়োগ দুর্নীতি- তাদের অনিয়ম-দুর্নীতির এ তালিকা দীর্ঘ। এসব অভিযোগের প্রেক্ষিতে উপাচার্যদের বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটিও হয়েছে। কিন্তু অভিযোগ খতিয়ে দেখতে কমিটি হলেও কার্যত শাস্তির উদাহরণ নেই। তাই উপাচার্যদের বিরুদ্ধে ওঠা বিভিন্ন অভিযোগ খতিয়ে দেখতে তদন্ত কমিটি করা বা শাস্তির সুপারিশই শুধু নয়, তাদের শাস্তিরও যথাযথ প্রতিবিধান করতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে কোনোভাবেই দুর্নীতির আখড়ায় পরিণত হতে দেওয়া যাবে না। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হবে আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা। সেই সঙ্গে দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকারের যে জিরো টলারেন্স অঙ্গীকার, তাও বাস্তবায়ন করা দুরূহ হয়ে উঠবে। এজন্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে দুর্নীতির আখড়া করে রাখা উপাচার্যদের বিরুদ্ধে যেমন সরব হওয়া প্রয়োজন, তেমনি অভিযোগ প্রমাণ হলে তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তিও নিশ্চিত করতে হবে। ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের বিরুদ্ধে নানা দুর্নীতির অভিযোগ ছিল আন্দোলনকারীদের। আমরা মনে করি, অবাধ দুর্নীতি ও বিধিবহির্ভূত কার্যকলাপের পরিপ্রেক্ষিতে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের বিরুদ্ধে পূর্ণাঙ্গ তদন্তের পাশাপাশি অনিয়ম-দুর্নীতির দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। প্রথাগত নিয়মের বাইরে যা কিছু তিনি করেছেন তার দায় এড়ানোর সুযোগ নেই।

প্রায়ই দেখা যায়, কোনো অনিয়ম হলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হয় না। এটি অনিয়ম বন্ধ না হওয়ার অন্যতম কারণ। প্রবাদ আছে, জাস্টিস ডিলেইড, জাস্টিস ডিনাইড। অনেক সময় কর্তৃপক্ষ ধীরে চলার নীতি অনুসরণ করে। যার ফলে, অপরাধ কর্মকাণ্ড থেকে সাধারণের মনোযোগ সরে যায়। এতে পার পেয়ে যায় অপরাধী। আর অনিয়মের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিলে অন্যদের মনেও ধারণা জন্মে যে, অনিয়মের শাস্তি হয় না। এজন্য অন্যরাও অনিয়ম-দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়ে। তাই আমরা মনে করি, উপাচার্যদের অনিয়ম দুর্নীতির দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির পাশাপাশি প্রয়োজন উপাচার্য নিয়োগের স্বচ্ছতা। দেশে স্বায়ত্তশাসিত, সরকারি ও বেসরকারি মিলিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা শতাধিক। এসব বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে মাত্র চারটিতে উপাচার্য নিয়োগের সুনির্দিষ্ট নীতিমালা থাকলেও তা যথাযথভাবে মানা হয় না। আর বাকি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে উপাচার্য নিয়োগে কোনো সুনির্দিষ্ট নীতিমালাই নেই। উপাচার্য নিয়োগে অবশ্যই স্বচ্ছ নীতিমালা থাকার পাশাপাশি নিয়োগের সময়ে উপাচার্যের দক্ষতা ও প্রশাসনিক যোগ্যতাও দেখা জরুরি। 

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মুস্তাফিজ শফি

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০১৯১১০৩০৫৫৭, +৮৮০১৯১৫৬০৮৮১২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০১৭১২০৩৩৭১৫ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা