× ই-পেপার প্রচ্ছদ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি ফিচার চট্টগ্রাম ভিডিও সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

পরিপ্রেক্ষিত

এত কদাচার!

মাসুক আলতাফ চৌধুরী

প্রকাশ : ২২ মার্চ ২০২৪ ০১:৫২ এএম

এত কদাচার!

মারাত্মক বুলিং বা পীড়নের শিকার ফাইরুজ সাদাফ অবন্তিকা (২৪) শেষমেশ প্রতিবাদী হয়ে চলেই গেল। সে লিখে গেল সব। তারই করুণ অনুচ্চারিত কথা, ‘আমি জানি এটা কোনো সলিউশন না কিন্তু আমাকে বাঁচতে দিতেছে না, বিশ্বাস করুন। আমি বাঁচতে চাইছিলাম...এটা সুইসাইড না মার্ডার। টেকনিক্যালি মার্ডার।’ অবন্তিকার ওপর দেড় বছর ধরে চলেছে বহুমাত্রিক নিপীড়ন। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) প্রশাসন সবাই জেনেছে। কিন্তু তার পরও বিষয়টি কেন তাদের কাছে গুরুত্ব পেল না? সহপাঠীদের সহাবস্থান ঘটল না, পীড়ন বন্ধ হলো না? স্থায়ী সমাধানের পথ খুঁজলেন না কেন দায়িত্বশীলরা? এর দায় এড়াতে পারে না বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। মর্মস্পর্শী ঘটনা ঘটে যাওয়ার পর তারা তদন্ত কমিটি করেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ে বিশেষ করে আইনে মাস্টার্স পড়ুয়া মেয়ের নিশ্চয়ই যেকোনো ধরনের অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের ক্ষমতা ও সুযোগের অভাব ছিল না। কিন্তু অবন্তিকা কেন পারেনি? এতে সহপাঠীদের দায়ও এড়ানোর সুযোগ নেই।

সমাজে বুলিংয়ের নেতিবাচক প্রভাব সম্পর্কে সচেতনতা নেই বললেই চলে। এটা সত্য, অপশক্তির ক্ষমতা বেশি থাকে। দলবল বড় হয়। যে বুলিংয়ের শিকার হয় সে হতেই থাকে। একসময় সে একা হয়ে পড়ে, হতাশা জেঁকে বসে। এমনিতেই মেয়েরা বুলিংয়ের শিকার হয় বেশি টিজিং বা ইমোশনাল আক্রমণাত্মক আচরণের মাধ্যমে। অভিভাবক, শিক্ষককে সব সময় এসব খুলেও বলা যায় না। সহপাঠীরা এসব নিয়ে উল্টো মজায় মেতে ওঠে, তারাও সমানভাবে বোঝে না। এতে বৈষম্য তৈরি হয়, একা বোধ হতে থাকে। বুলিং আমাদের সমাজে অপরাধ হিসেবে ততটা গুরুত্ব পায় না। শারীরিক বুলিং অপরাধ বিবেচনা পেলেও মানসিক বুলিং অপরাধ বিবেচনা খুব একটা পায় না। যদিও সে তুলনায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করা বুলিং ডিজিটাল বুলিংয়ের অপরাধ বিবেচনা পায় শক্তভাবেই। সাম্প্রতিক সময়ে মাধ্যমিক স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ে বুলিংয়ের মাত্রা বেড়েছে। প্রযুক্তিমাধ্যমে এর প্রকোপ আরও তীব্র হচ্ছে। অভিভাবকরা এর নিরসনের সুযোগ পান না। অনেক ক্ষেত্রেই তা অপরাধ হিসেবেও গণ্য হয় না। গুরুত্বও দেওয়া হয় না। কিন্তু এটি এখন গুরুতর সামাজিক সমস্যা। অথচ যুথবদ্ধ প্রচেষ্টায় তা প্রতিহত করা দুরূহ নয় মোটেও। এমন অসদাচরণ যে কোনো কাউকে সাময়িক বা দীর্ঘমেয়াদে মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করে। তাই এর প্রতিরোধে গুরুত্ব বাড়াতে হবে। শিক্ষকদের নজরদারিতে বুলিং প্রাধান্য দিতে হবে। শিক্ষায়তনে বুলিং প্রতিরোধ সেল গঠন করা জরুরি হয়ে পড়েছে। বিপদগ্রস্তকে পাশে রেখে এসব মোকাবিলায় সাহসী করে রাখতে হবে। প্রয়োজনে কাউন্সেলিং করতে হবে।

দেশের বিদ্যমান আইনে এ ধরনের ঘটনার প্ররোচনায় মামলা হয়। এমন মামলায় দ্রুত বিচারের আশাও যেন আজ দুরাশা। অথচ এমন অপরাধের দ্রুত দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রয়োজন। যাতে করে সামাজিক সচেতনতা বাড়বে। দুষ্টের দমন ঘটবে, দূর হবে অন্ধকার। 


  • সাংবাদিক
শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মুস্তাফিজ শফি

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০১৯১১০৩০৫৫৭, +৮৮০১৯১৫৬০৮৮১২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০১৭১২০৩৩৭১৫ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা