× ই-পেপার প্রচ্ছদ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি ফিচার চট্টগ্রাম ভিডিও সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

পরিপ্রেক্ষিত

নির্বাচন ও স্বতন্ত্র তত্ত্ব

তামান্না মিনহাজ

প্রকাশ : ১৪ মার্চ ২০২৪ ১০:২৬ এএম

নির্বাচন ও স্বতন্ত্র তত্ত্ব

দেশের রাজনীতিতে সাম্প্রতিক সময়ে সবচেয়ে আলোচিত শব্দ ‘স্বতন্ত্র প্রার্থী’। তবে ‘স্বতন্ত্র’ কিন্তু নতুন উদ্ভাবিত কোনো শব্দ বা পদ নয়। এর আভিধানিক অর্থ স্বাধীন, মুক্ত, ভিন্ন। কিন্তু এত বছর ধরে শব্দটি যে অর্থে ব্যবহার করা হয়েছে, গত জাতীয় নির্বাচনে সে অর্থের প্রয়োগ পাল্টে গেছে অনেকটাই। এবং এর পর থেকেই পরিবর্তিত অর্থে ব্যবহার করা হচ্ছে কোনো একটি ‘দল সমর্থিত স্বতন্ত্র প্রার্থী’ শব্দগুচ্ছ। বছরের শুরু থেকেই নির্বাচনের যে ডামাডোল দেশে চলছে তাতে ঘুরেফিরেই বারবার শোনা যাচ্ছে এ শব্দগুলো। জাতীয় নির্বাচন দিয়ে শুরু করে এর প্রয়োগ হয়েছে সদ্যসমাপ্ত ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে। ৯ মার্চ অনুষ্ঠিত ওই নির্বাচনে মেয়র পদে পাঁচ প্রার্থীর মধ্যে চারজনই স্বতন্ত্র লড়েছেন; যারা একটি দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা।

এর আগে ৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২৮টি দল অংশ নিলেও ভোট বর্জন করে বিএনপিসহ ১৬টি নিবন্ধিত দল। ভোটারদের কেন্দ্রমুখী করতে দলীয় গঠনতন্ত্রে ছাড় দিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থীদের জন্য দলের সব বাধার দুয়ার খুলে দেয় ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। দল মনোনীত নৌকার প্রার্থীর বিপরীতে ঈগল, ট্রাকসহ বিভিন্ন প্রতীকে স্বতন্ত্র হয়ে লড়েছেন আওয়ামী লীগের নানা পর্যায়ের ৩১৭ নেতানেত্রী। ফলে অধিকাংশ আসনেই ভোটযুদ্ধ হয়েছে আওয়ামী লীগের সঙ্গে আওয়ামী লীগের। ফলাফলেও দেখা গেছে তার প্রভাব। জয় পান রেকর্ড ৬২ জন। যার মধ্যে ৫৯ জনই সরাসরি আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। এ অভিজ্ঞতার পর স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রশ্নে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ তাদের নেতাকর্মীদের নতুন সিদ্ধান্ত জানিয়ে দিয়েছে। আসন্ন ষষ্ঠ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে দলটি দলীয় প্রতীকে প্রার্থী না দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে।

জাতীয় সংসদ নির্বাচন বয়কট করার পর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনেও একই অবস্থানে অনড় বিএনপি। যদিও নেতিবাচক সিদ্ধান্তে স্পষ্ট অবস্থান গ্রহণের পরও অতীতে স্থানীয় নির্বাচনে দলটির তৃণমূল নেতাদের অংশ নেওয়ার রেকর্ড রয়েছে। এর আগে সিটি করপোরেশন নির্বাচন এবং ২০১৯ সালের উপজেলা পরিষদ নির্বাচনও দলের পক্ষ থেকে বর্জনের ঘোষণা দেওয়া হয়। তবে তৃণমূল পর্যায়ে সব নেতা দলের এ সিদ্ধান্ত মেনে নেননি। তারা নির্বাচনে অংশ নেন এবং কেউ কেউ বিজয়ীও হন। এবারও একই পথে হাঁটছেন তারা। বিএনপি নেতাদের দলের বিরুদ্ধে এমন অবস্থান অবশ্য এবারের জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও লক্ষ করা গেছে। কোনো কোনো নেতা দল থেকে বেরিয়ে অন্য দলের ব্যানারে নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন। যে কারণে এবারও অতীতের বিষয়গুলোরই পুনরাবৃত্তি ঘটতে যাচ্ছে বলে ধরে নেওয়া যায়।

স্বতন্ত্রদের অংশগ্রহণ সহজ করতে নির্বাচন আইনেও বেশ বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। স্বতন্ত্র প্রার্থীদের স্থানীয় ২৫০ ভোটারের স্বাক্ষরসহ মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার বিধান ছিল; যা এবার তুলে নেওয়া হয়েছে। তবে একে পুরোপুরি নির্দলীয় নির্বাচন বলার কোনো সুযোগ নেই। প্রতীক না থাকলেও দল থেকে প্রার্থী মনোনয়ন দেওয়া হবে। এতে ভিন্ন প্রতীকে প্রার্থী থাকলেও ট্যাগ লেগে থাকবে ‘আওয়ামী লীগ সমর্থিত স্বতন্ত্র প্রার্থী’। ফলে স্থানীয়ভাবে জনপ্রিয় ব্যক্তি বা এ দলের অথবা অন্য দলের যোগ্য ব্যক্তির প্রতিদ্বন্দ্বিতার পথ খুব একটা মসৃণ হবে না।

অধিকাংশ বড় রাজনৈতিক দল নির্বাচনে অংশ না নেওয়ায় দেশি-বিদেশি সমালোচনা এড়াতে কৌশলী হয়েছে সরকার ও নির্বাচন কমিশন। এতে উপজেলা চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান পদগুলোয় প্রার্থীর গাণিতিক সংখ্যা বাড়বে। ঠিক তেমনি প্রতিটি উপজেলায় মনোনয়নযুদ্ধ মুক্ত স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার সুযোগ অবারিত হবে। জাতীয় নির্বাচন বয়কটকারী বিএনপিসহ ১৬ দল অংশ না নিলে মূলত আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টি উপজেলায়ও স্থানভেদে নিজেদের শক্তি ও সামর্থ্যের জানান দেবে। আর এমনটি ঘটলে সংসদের মতো এ নির্বাচনেও ভোটারের অংশগ্রহণ বাড়ানোর চ্যালেঞ্জ ইসির সামনে রয়েই যাবে। 

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মুস্তাফিজ শফি

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০১৯১১০৩০৫৫৭, +৮৮০১৯১৫৬০৮৮১২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০১৭১২০৩৩৭১৫ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা