× ই-পেপার প্রচ্ছদ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি ফিচার চট্টগ্রাম ভিডিও সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

পাকিস্তান

ভোট হলো কিন্তু স্বস্তি কি ফিরবে

এমএ নিয়াজি

প্রকাশ : ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ ১২:১৩ পিএম

এমএ নিয়াজি

এমএ নিয়াজি

৮ ফেব্রুয়ারি গোটা দেশে অর্থাৎ পাকিস্তানে নাগরিক দায়িত্ব সম্পন্ন হয়েছে। নাগরিক এই দায়িত্ব পূরণের মাধ্যমে জাতির ভবিষ্যৎ গতিপথ অনেকাংশে নির্ধারিত হওয়ার কথা। ভোটে বিজয়ী হয়ে যারা সরকার গঠন করবেন, তাদের সামনে বিদ্যমান প্রতিবন্ধকতা-সম্ভাবনাও ইতোমধ্যে দৃশ্যমান হওয়ার কথা রাজনৈতিকভাবে। কিন্তু এতকিছুর পরও পাকিস্তানের গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে শঙ্কার অপছায়া কোনোভাবেই অপসারণের সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে না। চলতি বছর মোট ৪৭টি দেশে জাতীয় পর্যায়ের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ইতোমধ্যে বাংলাদেশে নির্বাচন কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে। দক্ষিণ এশিয়ার দেশ শ্রীলঙ্কা ও ভারত চলতি বছরের মধ্যভাগে নির্বাচনের জোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। সমগ্র বিশ্বের অর্ধেক জনসংখ্যা বছরের বিভিন্ন সময়ে ভিন্ন ভিন্ন দেশের ভূভাগের বিভিন্ন গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার দিকে সংগত কারণেই তাকিয়ে থাকে। পাকিস্তানও এই পর্যবেক্ষণের বাইরে নয়। বিশ্বব্যাপী গুরুত্বপূর্ণ নানা অঞ্চলে জাতীয় পর্যায়ের নির্বাচন থাকায় গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক প্রক্রিয়া এবং ভূরাজনীতির আন্তঃসম্পর্কের নিরিখে এই বছরটি গুরুত্বপূর্ণ। গুরুত্বপূর্ণ বৈশ্বিক অর্থনীতির প্রেক্ষাপটেও।

বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে না ভেবে যদি শুধু একটি দেশের নির্বাচনের বিষয়টি বিবেচনা করা হয় তাহলে ভোটারের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া বাঞ্ছনীয়। বিদ্যমান বৈশ্বিক সংকটে ভোটার তাকে বা তাদেরই ভোট দেবেন যারা দেশের অর্থনৈতিক কাঠামোকে সংকট মোকাবিলার জন্য সুসংহত করে তুলতে পারবেন। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি বিদ্যমান রাজনৈতিক সংকট নিরসনের ক্ষেত্রে যোগ্য নেতৃত্ব নিতে সক্ষমরাই গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় নির্বাচিত হওয়ার কথা। পাকিস্তানের ক্ষেত্রে অবশ্য এখন পর্যন্ত গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার শোভা দৃশ্যমান হওয়ার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। ভোটগ্রহণ উপলক্ষে ৮ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তানে মোবাইল সেবা বন্ধ রাখা হয়েছিল। নানা মানবাধিকার সংস্থা ও অধিকাংশ রাজনৈতিক দল এর সমালোচনা করেছে। এই সিদ্ধান্ত নির্বাচনের স্বচ্চতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে বলে মতপ্রকাশ করেছে বিভিন্ন মহল। এসব বিষয় বাদেও নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে সম্ভবত কোনো রাজনৈতিক পক্ষের কাছেই সমাধান নেই। পিটিআইয়ের দৈন্যদশা সবচেয়ে করুণ। পিটিআই দলীয় প্রতীকে নির্বাচন করতে পারেনি। দলটির চেয়ারম্যান বিভিন্ন অভিযোগে আইনি প্রক্রিয়ার মুখোমুখি রয়েছেন এবং সংসদে প্রার্থিতার যোগ্যতাও আপাতত তার ছিল না। কিন্তু দলের পক্ষ থেকে তার বার্তা সুস্পষ্ট, যেভাবেই হোক নির্বাচনে জয়ী হতে হবে। যদি তার দল জয়ী হয় তাহলে পাকিস্তানের ভবিষ্যৎ কোনদিকে ধাবিত হবে, তা আমরা জানতে পারিনি। তবে তার দল জয়ী হলে জল কতদূর গড়াবে, তা অননুমেয় নয়।

অন্যদিকে নওয়াজ শরিফের পাকিস্তান মুসলিম লিগের লক্ষ্যও চতুর্থবারের মতো নওয়াজ শরিফের প্রধানমন্ত্রিত্বের পদ ধরে রাখা। যত বেশি আসনের ফল আসছে তত এগিয়ে যাচ্ছে নওয়াজের মুসলিম লিগ। মুসলিম লিগের ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত পাঞ্জাব প্রদেশের আসন ১৪১টি, যা দেশটির মোট আসনের অর্ধেকের চেয়ে বেশি। তাই আবারও প্রধানমন্ত্রিত্বের পদে তিনি আসবেনÑ এমন ধারণা উড়িয়ে দেওয়ার অবকাশ নেই। নওয়াজ শরিফ তার দলের নির্বাচনী প্রচারণায় অর্থনীতিকে সুসংহত করার দায়িত্ব পালনে প্রস্তুতÑ এমনটিই নির্বাচনী প্রচারণায় বারবার উল্লেখ করেছেন। অর্থনীতিকে কোন নীতিনির্ধারণী কৌশলে সুসংহত করা হবে তা জানানোর মতো পরিকল্পনা বোধহয় তার নেই। নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে এই স্বচ্ছতার অভাব তাকে ভুগিয়েছে। সম্প্রতি পাকিস্তান ডেমোক্রেটিভ মুভমেন্টের মাধ্যমে নওয়াজ শরিফের অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনার দৈন্যদশা নানাভাবে চিত্রিত হওয়ার পর জন আস্থা কমে যাওয়া অস্বাভাবিক নয়। ভোটের মাঠের এখন পর্যন্ত যে ফলাফল পাওয়া গেছে তা থেকে তা-ই প্রতীয়মান হচ্ছে।

ভোটের মাঠে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা প্রসঙ্গে পাকিস্তান পিপলস পার্টিই ছিল সরব। অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা প্রসঙ্গে তারা স্বচ্ছ দৃষ্টিভঙ্গি উপস্থাপন করতে পেরেছে। সমস্যা হলো, অধিকাংশ দৃষ্টিভঙ্গিই উচ্চাভিলাষী এবং ব্যাপক বিনিয়োগ দাবি করে। বিপুলসংখ্যক এই বিনিয়োগ তারা কীভাবে সংগ্রহ করবে, তা স্পষ্ট করা হয়নি। আইএমএফের শর্তের বেড়াজালে নিজেদের আটকে রাখা হবে না, এমন একটি বার্তাও পাকিস্তান পিপলস পার্টির রাজনীতিকরা দিয়েছেন। অর্থাৎ নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে করনীতি কিংবা জিডিপি লক্ষ্যমাত্রা সম্পর্কে সব রাজনৈতিক পক্ষই স্বচ্ছ-স্পষ্ট ধারণা দিতে ব্যর্থ। সংগত কারণেই পাকিস্তানে ভোটারের আস্থা অর্জন বড় একটি সংকট হয়ে দাঁড়িয়েছিল। রাজনৈতিক অঙ্গনে সংকটের কারণে ভোট কারচুপি এবং কোনো কোনো স্থানে সংঘাত-সহিংসতার মাধ্যমে রাজনৈতিক আধিপত্য বিস্তারের চিত্রও দেখা গেছে। পাকিস্তানের অর্থনীতিবিদ ও ব্যবসায়ী মহলের প্রায় সবাই মনে করেন, বিদ্যমান পরিস্থিতিতে রাজনৈতিক সংকট নিরসন অত্যাবশ্যকীয়। নির্বাচনের মাধ্যমে এই রাজনৈতিক স্থিতাবস্থা সৃষ্টি করার সুযোগ তৈরি হয়েছে। কিন্তু যে সরকার কাঠামোর আভাস এখন পর্যন্ত পাওয়া যাচ্ছে তা আশাজাগানিয়া নয়।

তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থার মেয়াদ মার্চে শেষ হবে। পরবর্তী সময়ে যারাই সরকার গঠন করবেন তাদের আইএমএফের সঙ্গে সমঝোতার পথে হাঁটতে হবে। বিশেষত আইএমএফের ঋণের শর্তপূরণ এবং মধ্যবর্তী প্রক্রিয়া সুসম্পন্ন করার বিষয়ে তাদের প্রস্তুতি সম্পন্ন করার পর্যাপ্ত সময় নেই। ঋণের কিস্তি পরিশোধে অকৃতকার্য হওয়ার শঙ্কাও রয়েছে। বৈদেশিক লেনদেনের পথ সুগম করা ব্যতিরেকে বৈদেশিক ঋণ পরিশোধও কঠিন হয়ে পড়বে। এক্ষেত্রে সরকার নির্ধারণও একটি বড় বিষয়। নির্বাচনে বিজয়ী হিসেবে পাকিস্তান মুসলিম লিগের (নওয়াজ) সম্ভাবনাই বেশি। দলটির নির্বাচনী ইশতেহারের ঐতিহ্যই এ ধারণার একমাত্র কারণ নয়। নওয়াজ ভ্রাতৃদ্বয়ের সঙ্গে আন্তর্জাতিক মহলের সুসম্পর্ক ও যোগাযোগ ভালো। ফলে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নওয়াজ শরিফের গ্রহণযোগ্যতাই বেশি। কিন্তু ভোটারদের প্রত্যুত্তরে তার সম্ভাবনা ক্ষীণ। নির্বাচনকালীন পাকিস্তান মুসলিম লিগের বিজয়ী হওয়ার সম্ভাবনাই ছিল বেশি। কিন্তু নির্বাচন ঘোষণার আগমুহূর্তে এখন পর্যন্ত জোট সরকারের কাঠামোই দৃশ্যমান হচ্ছে, যা অভাবনীয়। কারণ পিটিআইয়ের প্রার্থীরা এবার স্বতন্ত্র্য প্রার্থীর ন্যায়ই নির্বাচনী লড়াই সম্পন্ন করছেন। পিটিআই পৃষ্ঠপোষক হিসেবে অবস্থান করছে। ইতোমধ্যে কারাবন্দি ইমরান খান নওয়াজ শরিফকে পরাজয় মেনে নিতে আহ্বান জানিয়েছেন। অন্যদিকে নওয়াজ শরিফ বিজয় ভাষণ দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানা গেছে।

বিদ্যমান পরিস্থিতিতে পাকিস্তানে সরকার কাঠামোর স্বরূপ ঘিরে রাজনৈতিক সংকট ঘনীভূত হচ্ছে। অতীতে ক্ষমতাসীন দলের প্রধানকে তারই দলের প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতার মাধ্যমে হারিয়েছে এমন নজির রয়েছে ১৯৯৮, ১৯৯০, ১৯৯৩ ও ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে। ২০০০ সালে সামরিক আইনের মাধ্যমে রাজনৈতিক ব্যর্থতা সামালের চেষ্টা হয়েছে। এখন পর্যন্ত নানা মহলের গুঞ্জন, মিয়ান নওয়াজ চতুর্থবারের মতো প্রধানমন্ত্রী হতে চলেছেন। গুঞ্জন অনুসারে, ক্ষমতার শেষ পর্যায়ে অতীতের অনেকের মতো তাকেও হয়তো পদত্যাগ করতে হবে। এই সম্ভাবনা যদি সত্য না হয়ে থাকে, তাহলে নো কনফিডেন্স ভোটের মাধ্যমে তার প্রধানমন্ত্রী হওয়ার সম্ভাবনা বাতিল হতে পারে। পাকিস্তানে অর্থনৈতিক স্থিতাবস্থা জরুরি। কিন্তু অর্থনৈতিক স্থিতাবস্থা নিশ্চিতকরণের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক সংকট ও শঙ্কার বিষয়গুলো দূর করা জরুরি সর্বাগ্রে। কিন্তু তা হবে কি? পাকিস্তানের সদ্য সমাপ্ত জাতীয় নির্বাচনে জনরায়ের প্রতিচ্ছবি বাস্তবায়নের দিকেই এগুচ্ছে, কিন্তু যে সরকার কাঠামো ভাবনায় দৃশ্যমান হচ্ছে তা খুব আশাজাগানিয়া নয়। এই প্রেক্ষাপটে পাকিস্তানের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ অনিশ্চিতই রয়ে যাচ্ছে। অর্থাৎ স্বাস্তি নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে

  • পাকিস্তানের দ্য নেশন পত্রিকার এক্সিকিউটিভ এডিটর

পাকিস্তান টুডে থেকে সংক্ষেপিত অনুবাদ : আমিরুল আবেদিন

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মুস্তাফিজ শফি

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০১৯১১০৩০৫৫৭, +৮৮০১৯১৫৬০৮৮১২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০১৭১২০৩৩৭১৫ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা