পরিপ্রেক্ষিত
মো. খসরু চৌধুরী
প্রকাশ : ০১ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ ১০:০৮ এএম
যানজটের নগরী
ঢাকাকে যানজট থেকে মুক্তি দিতে যোগাযোগব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।
এ উদ্দেশ্যে ঢাকার পাঁচ রুটে পাতালরেল চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে মেট্রোরেলের
লাইন-১ বিমানবন্দর থেকে কমলাপুর রুটে ১৯.৮৭ কিলোমিটার পাতাল পথে চলবে। এ লাইনের মূল
কাজ শুরু হবে সেপ্টেম্বরে। ডিপো নির্মাণের কাজ চলছে। মেট্রোরেল কর্তৃপক্ষ ও নির্মাতা
প্রতিষ্ঠানের পরিকল্পনা অনুযায়ী দুই বছর পর ২০২৬ সালের শেষে খুলবে বিমানবন্দর-পিতলগঞ্জ
রুট। লাইন-১-এর পাতাল রুট সরাসরি যুক্ত হবে থার্ড টার্মিনালের সঙ্গে। মেট্রোরেল কর্তৃপক্ষ
ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেডের লাইন-১, ২, ৪ ও ৫-এর নর্দার্ন, সাউদার্নসহ
সব রুটই হবে উড়াল ও পাতাল। এতে আধুনিক বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে ঢাকাকে নিয়ে যাওয়া
হবে অত্যাধুনিক নগরীর রূপে। ইতোমধ্যে মেট্রোরেল লাইন-৬ উত্তরার দিয়াবাড়ী থেকে মতিঝিল
পর্যন্ত পুরোদমে চালু হয়েছে। এর সুবিধা ইতোমধ্যে পাওয়া শুরু করেছে নগরবাসী। পাতালরেল
নির্মাণকাজ ২০২৬ সালের মধ্যে সম্পন্ন হবে বলে আশা করা হচ্ছে। দৈনিক ৮ লাখ যাত্রী এ
পাতালরেল পথে যাতায়াতের সুযোগ পাবে।
পাতালরেল দেশবাসীকে
প্রযুক্তিগত অগ্রগতির নতুন যুগের সঙ্গে যুক্ত করবে। মানুষ কম খরচে শহরের বাইরে থাকতে
এবং অফিস ও অন্যান্য কাজে সহজে ঢাকায় আসতে পারবে। প্রকল্প এলাকার বাণিজ্যিক উন্নয়ন
ঘটবে এবং রুটের চারপাশের সুবিধাগুলোর মূল্য বাড়বে। ওইসব এলাকায় বসবাসকারী স্বল্প আয়ের
লোকজন কম ভাড়ার জায়গায় চলে যাওয়ার গরজ অনুভব করবে এবং এতে মানুষ রাজধানীর শহরতলিতে
বিকেন্দ্রীভূত হবে। ঢাকা এ মুহূর্তে বিশ্বের অন্যতম মেগা সিটি। বিশ্বের বৃহৎ নগরীগুলোর
মধ্যে সবচেয়ে বেশি ঘনবসতিসম্পন্ন। জনসংখ্যার তুলনায় সড়কের সংখ্যা কম হওয়ায় যানজট অনিবার্য
হয়ে ওঠে। মেট্রোরেল, পাতালরেল সেই দুর্বিষহ অবস্থা সহনশীল পর্যায়ে আনতে সহায়তা করবে।
বাংলাদেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতি এবং গণতন্ত্র বিকাশে বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ
হাসিনার অবদান অপরিসীম ও অতুলনীয়। বাংলাদেশ পৃথিবীর মানচিত্রে সত্যিই এক উদাহরণ। এ
উদাহরণ অগ্রগতির উদাহরণ। অর্থনীতি ও আর্থসামাজিক বেশিরভাগ সূচকে বাংলাদেশ ছাড়িয়ে গেছে
দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশকে। বাংলাদেশ আজ বড় সম্ভাবনার দেশ। বাংলাদেশের উন্নয়নের এ
অগ্রগতিকে একটি ‘উন্নয়নবিস্ময়’ বলে আখ্যায়িত করা হয়।
আওয়ামী লীগ ব্যবসা
ও উন্নয়ন বান্ধব সরকার। ব্যবসা-বিনিয়োগ বৃদ্ধির লক্ষ্যে সরকার বিভিন্ন ধরনের সুযোগসুবিধা
দিয়েছে। মানুষের মাথাপিছু আয়, উৎপাদন, প্রবৃদ্ধি বেড়েছে। দেশের শহর থেকে গ্রামগঞ্জ
সবখানে উন্নয়নের ছোঁয়া লেগেছে। বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে
দেশের অর্থনীতি আজ চাঙা। তথাকথিত ‘তলাবিহীন ঝুড়ি’ আজ মধ্য আয়ের দেশে পরিণত হচ্ছে। বাংলাদেশ
বিশ্বে মডেল ইকোনমিক কান্ট্রি। বতর্মান সরকারের সময় শিক্ষা, স্বাস্থ্য, বিদ্যুৎ, যোগাযোগ,
তথ্যপ্রযুক্তি, ক্রীড়া, পরিবেশ, কৃষি, খাদ্য, টেলিযোগাযোগ, সংস্কৃতি, সামাজিক নিরাপত্তা,
মানবসম্পদ উন্নয়ন এমন কোনো খাত নেই যে খাতে অগ্রগতি সাধিত হয়নি। শেখ হাসিনার বলিষ্ঠ
নেতৃত্বে গত কয়েক বছরে অবকাঠামো, দারিদ্র্যমোচন, পুষ্টি, মাতৃত্ব এবং শিশুস্বাস্থ্য,
প্রাথমিক শিক্ষা, নারীর ক্ষমতায়ন ইত্যাদি ক্ষেত্রে ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে; যা দেশের গণ্ডি
পেরিয়ে প্রশংসিত হয়েছে আন্তর্জাতিক মহলেও।
ঢাকা এখন বিশ্বের অন্যতম ঘনবসতি নগরী। অপরিকল্পিতভাবে গড়ে ওঠা এ মহানগরীর যোগাযোগব্যবস্থা যুগোপযোগী করতে সরকারের নিরলস প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। বাস্তব কারণেই রাজধানীতে নতুন রাস্তা করা কঠিন। পাতাল রেলপথ যানজট নিরসনে কার্যকর অবদান রাখবে বলে আশা করা যায়।