× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

পরিপ্রেক্ষিত

সামাজিকতার মাত্রা

কাজী মো. আতাউর রহমান

প্রকাশ : ২৮ জানুয়ারি ২০২৪ ১২:০৪ পিএম

সামাজিকতার মাত্রা

ফেসবুক জনপ্রিয় সমাজমাধ্যম। এ মাধ্যমে ভাইরাল শব্দটিও জনপ্রিয়। মানে অধিক প্রচারিত। ফেসবুকে অনেক কিছুই ভাইরাল হয়। ভালোটা যেমন, তেমন মন্দটাও। ফেসবুকে নানা বিষয়ে প্রচুর লেখালেখি হয়। অর্থাৎ ফেসবুক যেন হয়ে উঠেছে একটি উন্মুক্ত পত্রিকা। অনেকেই এখন লেখালেখির শ্রেষ্ঠ মাধ্যম হিসেবে বিবেচনা করছেন ফেসবুক। পত্রিকায় লেখা প্রকাশের জন্য লেখার মান বিবেচিত হয়। নির্ধারিত মানদণ্ডে বিবেচিত না হলে পত্রিকায় লেখা প্রকাশ পায় না। কিন্তু ফেসবুকে এ বালাই নেই। যার যা খুশি তা-ই লিখছে, কারও তোয়াক্কা করছে না। এখানে নিজে লেখক নিজে কম্পোজার, নিজেই প্রকাশক।

অনেকেই বলছেন এখন অনেকেই শিক্ষিত, জ্ঞানী। তাই অবলীলায় ফেসবুকে জ্ঞান বিতরণ চলছে। কথাটা নেতিবাচক হলেও আমরা ইতিবাচক দৃষ্টি দিয়ে যদি দেখি, তাহলে কোনো মানুষই মূর্খ নয়, নিরক্ষর হতে পারে। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বলেছিলেন, ‘তিনি এমন একজন মানুষের কাছে ঋণী, যিনি নিরক্ষর, কিন্তু মূর্খ নন। সেই মানুষটি হলেন লালন শাহ।’ আমরা যে-কারও কাছ থেকে শিক্ষা বা জ্ঞান আহরণ করতে পারি। তাই কবি সুনির্মল বসু বলেছেন, ‘বিশ্বজোড়া পাঠশালা মোর সবার আমি ছাত্র, নানান ভাবে নতুন জিনিস শিখছি দিবারাত্র।’ সুতরাং যে-কারও থেকেই আমরা জ্ঞান আহরণ করতে পারি। পারি শিক্ষা লাভ করতে।

কিন্তু ফেসবুকে আমাদের কী লেখা উচিত আর কী লেখা উচিত নয় এ বিষয়ে কি আমরা ভাবছি? মনে হয় না। ‘সোশ্যাল ডিসটেন্স’ শব্দটার সঙ্গে আমরা কয়েক বছর আগে পরিচিত হয়েছি। করোনার ভয়াল থাবা থেকে রক্ষা পেতে আমরা ৩ থেকে ৬ ফুট দূরত্ব বজায় রেখে সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করেছি। সমাজমাধ্যমেও সোশ্যাল ডিসটেন্স বজায় রাখাটা প্রয়োজন। অর্থাৎ, কথা প্রকাশের আগে সতর্ক থাকা চাই। তা না হলে রয়েছে করোনার মতোই ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা। কোথাও পড়েছিলাম ‘হিত সাধন করে যা তা-ই সাহিত্য’। সুতরাং অকল্যাণকর কোনো কিছুই যেমন সাহিত্য নয়, তেমন অকল্যাণকর কোনো বিষয়ই ফেসবুকে স্থান পেতে পারে না। ফেসবুক এমন একটা প্ল্যাটফর্ম যেখানে সবাই দাঁড়াতে পারে। সুতরাং সবার দাঁড়ানো জায়গায় আমাকে কীভাবে দাঁড়াতে হবে সে জ্ঞান সবারই থাকা উচিত। ফেসবুকে সবাই বন্ধু, এখানে রয়েছে সব শ্রণি-পেশার মানুষ। লজ্জা বলে একটা বিষয় রয়েছে, যা মানুষকে শালীন করে। এমন অনেক কথা আছে প্রিয় লোকের কাছে যা বলা যায়, তা অপ্রিয় লোকের কাছে বলা যায় না।

চদৈনন্দিন জীবনে কোন কথাটা কার কাছে বলা যায় আর কার কাছে বলা যায় না, তা বিবেচনা করেই আমরা কথা বলি। তেমন ফেসবুকে কিছু লিখতে গেলে আমাদের মনে রাখা জরুরি, এখানে আমার ছেলে-মেয়ে, পিতা-মাতা, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, ভাই-বোন, বন্ধুবান্ধব, সহপাঠী, সহকর্মী, দেশি-বিদেশি সব শ্রেণির বন্ধু আছে। সুতরাং আমি সরাসরি যে কথাটি কারও সামনে বলতে লজ্জা পাই, সে কথাটি ফেসবুকে লিখতেও লজ্জা পাওয়া উচিত। কেননা ফেসবুকে আমার ফেসটা সবার সামনে উন্মুক্ত। যে কথা সামনাসামনি বলা দূষণীয়, সে কথা ফেসবুকে লেখাও দোষের। মনে করি এটাই হচ্ছে মিডিয়ায় সোশ্যাল ডিসটেন্স বা সমাজমাধ্যমে সামাজিক দূরত্ব।

  • প্রধান শিক্ষক, ভলাকুট ক্ষেত্রনাথ বিশ্বাস উচ্চ বিদ্যালয়, নাসিরনগর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া
শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা