প্রজন্মের ভাবনা
আল মাসুম হোসেন
প্রকাশ : ১৭ জানুয়ারি ২০২৪ ১৪:২১ পিএম
বিশ্ব
এখন প্রযুক্তিবিপ্লবের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তানির্ভর
প্রযুক্তিবিপ্লব পাল্টে দেবে মানুষের দৈনন্দিন চিরচেনা রূপ। ইতিহাসে এখন পর্যন্ত তিনটি
শিল্পবিপ্লব ঘটেছে। চতুর্থ শিল্পবিপ্লব এখনও ধারণা। চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের জনক
ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের প্রতিষ্ঠাতা ক্লাউস সোয়াব বলেছেন, ‘আমরা চাই বা না
চাই, আমাদের জীবনধারা, কাজকর্ম ও চিন্তাচেতনা আগে যেমনটা ছিল এখন তার পরিবর্তন হতে
শুরু করেছে। এখন আমরা এক প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে অতিক্রম করছি।’ চতুর্থ
শিল্পবিপ্লবের নিয়ামক হিসেবে কাজ করছে প্রযুক্তি, ইন্টারনেট অব থিংস, রোবোটিকস,
অটোমেশনস, কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তা, ক্লাউড কম্পিউটিং ইত্যাদি। অর্থাৎ সম্পূর্ণ
প্রযুক্তিনির্ভর এ ব্যবস্থা বদলে দেবে শিল্প খাত।
১৯৬৯ সালে
ইন্টারনেটের আবির্ভাবে তৃতীয় শিল্পবিপ্লবের পর তথ্যপ্রযুক্তির বাধাহীন ব্যবহার ও
দ্রুত তথ্য আদানপ্রদানের মাধ্যমে গোটা বিশ্বের জীবনধারার গতি ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি
পেয়েছে। তেমনভাবে চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের কারণে জ্ঞানার্জন ও জ্ঞানদান পদ্ধতির
উন্নয়ন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহারে ঝুঁকিপূর্ণ কাজ, চিকিৎসাবিজ্ঞানে জটিল
রোগের অপারেশন সহজে করা, কৃষিক্ষেত্র-ব্যবসাবাণিজ্যে লেনদেন, মার্কেটিং, বুকিং,
পণ্য সরবরাহ ইত্যাদি কাজ সহজ করবে। অর্থাৎ চতুর্থ শিল্পবিপ্লব বিশ্বের অর্থনৈতিক,
সামাজিক, রাজনৈতিক, সাংগঠনিক সব ক্ষেত্রই প্রভাবিত করবে। কেননা চতুর্থ
শিল্পবিপ্লবের প্রভাব এত ব্যাপক ও বহুমাত্রিক হবে যে প্রতিটি পরিবর্তন একে অন্যকে
প্রভাবিত করবে। ভৌগোলিক কিংবা অর্থনৈতিক কারণে বাংলাদেশে প্রযুক্তির উন্নয়নের ছোঁয়া
সামান্য দেরিতে পৌঁছেছে বটে, বাংলাদেশে প্রতিটি সেক্টরে ইতোমধ্যে বেড়েছে
প্রযুক্তির ব্যাপক ব্যবহার। চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের প্রত্যক্ষ প্রভাবে বাংলাদেশের
পোশাক শিল্পে ৬৫%, কৃষিজাত শিল্পে ৪০%, আসবাবপত্র শিল্পে ৫৫%, চামড়া ও জুতা শিল্পে
৩৫% কর্মহীনতা তৈরি করবে বলে বিশেষজ্ঞরা ধারণা করেছেন। সব নেতিবাচক প্রভাব উপেক্ষা
করে সম্ভাবনা কাজে লাগাতে কিছু গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণ ও চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা
করা গেলে চতুর্থ শিল্পবিপ্লব বাংলাদেশেও ইতিবাচক পরিবর্তন বয়ে আনবে।
চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের সুফল পেতে হলে দেশে কিছু পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করা জরুরি। যেমন হাইটেক পার্ক তৈরি, ই-সেবা চালু, গ্রাম ও শহরের মানুষের মধ্যে সেবা প্রাপ্তিতে ব্যবধান কমানো, ইউনিয়ন পরিষদগুলোকে ডিজিটালাইজড করা, লার্নিং ও আর্নিং পদ্ধতিতে আধুনিক টেকনোলজির ব্যবহার বৃদ্ধি, ব্যবসাবাণিজ্যে অটোমেশনের ব্যাবহার বৃদ্ধি, কারিগরি শিক্ষালাভ সহজীকরণ, শিল্পকারখানা ডিজিটাল করা, ডিজিটাল অর্থনীতি তৈরি, বাংলাদেশ ই-ডিরেক্টরি তৈরি ইত্যাদি। চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় জনগণ ও সরকার উভয়েরই সম্মিলিত প্রচেষ্টায় দক্ষ ও উপযুক্ত মানবসম্পদ তৈরির বিকল্প নেই। কারণ আগামী দিনের অর্থনীতি, বৈদেশিক বিনিয়োগ থেকে শুরু করে রাজনৈতিক অঙ্গনেও দক্ষ মানবসম্পদ ও উচ্চ প্রযুক্তির ব্যবহার হয়ে উঠবে বাঞ্ছনীয়।