বিজয়ের মাস
মো. খসরু চৌধুরী সিআইপি
প্রকাশ : ২২ ডিসেম্বর ২০২৩ ১৩:৩৯ পিএম
রক্তক্ষয়ী এ মুক্তিযুদ্ধে ৩০ লাখ শহীদ ও দুই লাখ
মা-বোনের সম্ভ্রমের বিনিময়ে বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্থাৎ কাঙ্ক্ষিত বিজয় অর্জিত হয়
একাত্তরের ১৬ ডিসেম্বর। ১৯৭০-এর ঐতিহাসিক নির্বাচনে জাতির রায় মেনে নিতে চায়নি
পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী। ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ রেসকোর্স ময়দানে ভাষণ দেন বঙ্গবন্ধু
শেখ মুজিবুর রহমান। যার হাতে যা আছে, তাই নিয়ে ঘরে ঘরে দুর্গ গড়ে তোলার আহ্বান
জানান তিনি। ঘোষণা দেন, ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম
স্বাধীনতার সংগ্রাম।’ বাঙালির বুকে স্বাধীনতার বীজমন্ত্র বোনা হয়ে যায় সেদিনই।
সেদিন থেকে আর বাঙালিকে দাবিয়ে রাখা যায়নি। আর সে কারণেই ২৫ মার্চ রাতে অপারেশন
সার্চলাইটের নামে বাঙালি নিধন শুরু হলেও রুখে দাঁড়াতে সময় নেয়নি বীর বাঙালি।
ধ্বংসস্তূপ থেকে জেগে উঠে মুক্তির যুদ্ধে শামিল হয় সমগ্র জাতি। ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধুর
ভাষণের ভেতর দিয়েই জাতি পেয়ে যায় দিকনির্দেশনা। সেদিনই স্থির হয়ে যায় বাঙালির
ভাগ্য। পাকিস্তানি শোষণের জাঁতাকল থেকে মুক্তির পথ যেন খুঁজে পায় বাঙালি জাতি, যার
ফলে আমরা দেখি একাত্তরে বাংলাদেশের প্রতিটি ঘরই হয়ে উঠেছিল একেকটি দুর্গ।
মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিতে কাউকে পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি। দেশকে শত্রুমুক্ত করার
প্রত্যয়ে যুদ্ধে গিয়েছিল বাঙালি। স্বীকার করতে হয় অপরিসীম ত্যাগ-তিতিক্ষা।
১৯৭০ সালে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ নির্বাচনে
জয়ী হলে পাকিস্তানিরা তাঁর কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরে অস্বীকৃতি জানায়। শুধু তাই নয়,
তারা একাত্তরের ২৫ মার্চ রাতের আঁধারে নিরস্ত্র বাঙালির ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। শুরু হয়
গণহত্যা। এ প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষিত হয় এবং শুরু হয় মুক্তিযুদ্ধ।
জাতি এ বছর একাত্তরের মহান বিজয়ের ৫২তম বার্ষিকী পালন করছে। একটি সুখী-সমৃদ্ধ
বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা ছিল মুক্তিযুদ্ধের প্রত্যাশা। পদ্মা সেতু নির্মাণ, সমুদ্র
সীমানা বিজয়, শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধি, ঢাকা ও ঢাকার বাইরে অবকাঠামোগত উন্নয়ন, জেলেদের
খাদ্যসহায়তা প্রদান, দারিদ্র্যের হার নিম্ন পর্যায়ে নিয়ে আসা, যুদ্ধাপরাধী ও
রাজাকারদের বিচার, বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার, বিনামূল্যে প্রত্যেকে শিক্ষার্থীকে বই প্রদান,
ইত্যাদি অনেক কিছু আলো ছড়াচ্ছে। এখানেই শেষ নয়। আর আছে এবং তা হলো অসহায়
মুক্তিযোদ্ধাদের আবাসন, রামপাল কয়লাবিদ্যুৎ কেন্দ্র, মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মানি ভাতা
প্রদান, প্রতিটি ইউনিয়নে ডিজিটাল তথ্যসেবা কেন্দ্র, বিভিন্ন জেলায় বিনোদন কেন্দ্র,
শিল্প পার্ক নির্মাণ, বিভিন্ন স্থানে ইকোনমিক জোন নির্মাণ, গ্রামীণ রাস্তাঘাট ও
কালভার্ট নির্মাণ, মোবাইল ও ইন্টারনেট গ্রাহক বৃদ্ধি, একটি বাড়ি একটি খামার
প্রকল্প, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, কৃষিতে সফলতা, জঙ্গি ও সন্ত্রাস দমনে সফলতা, এশিয়া
হাইওয়ে প্রকল্প, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বৃদ্ধি, প্রতিবন্ধী ভাতা প্রদান, নারীর
ক্ষমতায়ন। বিধবা ভাতা প্রদান, মাতৃত্বকালীন ছুটি বৃদ্ধি, বয়স্ক ভাতা প্রদান,
মাতৃত্বকালীন ভাতা প্রদান, ডিজিটাল বাংলাদেশ কার্যকর, মেট্রোরেল প্রকল্প, হাতিরঝিল
প্রকল্প, এলিভেটেড এক্সপ্রেস প্রকল্প, মাদক নিধন, ভিক্ষুক মুক্তকরণ, অসংখ্য
প্রাইমারি স্কুল সরকারিকরণ এও শেখ হাসিনা সরকারের বড় অবদান।
অফুরন্ত সম্ভাবনার অন্য নাম বাংলাদেশ। এ দেশের রয়েছে অমিত সম্ভাবনাময় ১৭ কোটি মানুষের ৩৪ কোটি হাত। ১৭ কোটি মানুষ বাংলাদেশের জন্য অভিশাপ নয়, আশীর্বাদ। কেননা আবহমানকাল থেকেই এ দেশের মানুষ কর্মনিষ্ঠ, পরিশ্রমী। অচিরেই এ দেশ পরিণত হবে পৃথিবীর অন্যতম বৃহৎ পোশাক, জুতা, ওষুধ, সিরামিক ও চামড়াজাত পণ্যের রপ্তানিকারক। সৃষ্টিকর্তার অপার কৃপায় ধন্য এ দেশে রয়েছে পৃথিবীর সবচেয়ে উর্বর মাটি আর দূষণমুক্ত পানি। গ্যাস ও কয়লার প্রাচুর্যের পাশাপাশি বছরে তিনবার ফসল উৎপাদিত হয়। কৃষিতে বৈপ্লবিক পরিবর্তনের পাশাপাশি দরিদ্র, শ্রমজীবী, প্রান্তিক জনগোষ্ঠীনির্ভর প্রবাসী আয় পুঁজি করে বাংলাদেশ ঘুরে দাঁড়িয়েছে।