× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

আমাদের মুক্তির যুদ্ধ চলছে, চলবে

মুস্তাফিজ শফি

প্রকাশ : ১৬ ডিসেম্বর ২০২৩ ০০:২১ এএম

আপডেট : ১৬ ডিসেম্বর ২০২৩ ১১:০০ এএম

প্রতিদিন বাংলাদেশ সম্পাদক মুস্তাফিজ শফি

প্রতিদিন বাংলাদেশ সম্পাদক মুস্তাফিজ শফি

লেখাটির শুরুতে বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক সাত মার্চের ভাষণের শেষ দুটি বাক্য প্রণিধানযোগ্য। কী বলেছিলেন সেখানে বাঙালির স্বাধীনতার স্থপতি, জাতির পিতা শেখ মুজিবুর রহমান? বলেছিলেন- ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।’ এই ভাষণকেই স্বাধীনতার অনানুষ্ঠানিক ঘোষণা ধরে নিয়ে শুরু হয়ে গিয়েছিল ‘যার যা আছে তাই নিয়ে’ শত্রুর মোকাবিলায় ঝাঁপিয়ে পড়ার প্রস্তুতি। ঘরে ঘরে গড়ে উঠেছিল দুর্গ। 

আমরা যদি বঙ্গবন্ধুর ভাষণটির শেষ ওই দুই বাক্যের মর্মার্থ বিশ্লেষণের চেষ্টা করি তাহলে দেখব স্বাধীনতার আগে তিনি ‘মুক্তি’র কথা বলেছেন। মুক্তি মানে কী? মোটা দাগে দেখলে সবার আগে আসে অর্থনৈতিক মুক্তির কথা (যে বিষয়ে স্বাধীনতা-পরবর্তী সময়েও বঙ্গবন্ধু একাধিকবার কথা বলেছেন), তারপর রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক মুক্তি। আত্মার মুক্তি, বাধাহীন চিন্তার মুক্তি- এগুলোকেই বা বাদ দেই কীভাবে! সামষ্টিকভাবে শোষণহীন, গণতান্ত্রিক, অসাম্প্রদায়িক, ধর্মনিরপেক্ষ এক মুক্ত বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেছিলেন বঙ্গবন্ধু। কবিগুরুর অমিয় বাণী ধারণ করে নিজেই যার নাম দিয়েছিলেন ‘সোনার বাংলা’। কতটুকু অর্জিত হয়েছে সেই সোনার বাংলা? উত্তর খুঁজলে অর্জনের ডালি দেখা যাবে অনেকখানি পূর্ণ, তবে বিসর্জনের খাতাও শূন্য নয়। 

একাত্তরে রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে আমরা ভৌগোলিক স্বাধীনতা অর্জন করেছি, কিন্তু এখনও পুরোপুরি মুক্তির লক্ষ্য অর্জন করতে পারিনি। বিজয়ের পঞ্চাশ বছর অতিক্রম করে আমরা যখন বায়ান্নর দ্বারপ্রান্তে তখন বিষয়টি আলোচনার দাবি রাখে। কিছু কিছু সংখ্যা আমাদের বুকের ভেতর জ্বলজ্বল করে- যেমন বায়ান্ন, একুশ, একাত্তর। সাধারণভাবে দেখলে বিজয়ের বায়ান্নতম বার্ষিকী হয়তো আলাদা কিছু নয়, তবে সংখ্যাটা বায়ান্ন বলেই সেটা আলাদা আবেদন তৈরি করে। যে বায়ান্নর একুশে ফেব্রুয়ারিতে আমাদের মাতৃভাষার অধিকার অর্জিত হয়েছিল, সাংস্কৃতিক পুনর্জাগরণের পথে এগিয়ে গিয়েছিল বাঙালি, সেই বায়ান্নর পথ ধরেই এসেছে একাত্তর। 

একাত্তরে মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে রক্তগঙ্গা পেরিয়ে অর্জিত বিজয়ের পেছনে যেমন আমাদের সুনির্দিষ্ট কিছু প্রত্যয় ছিল, তেমনি বিজয় অর্জনের পর যুক্ত হয়েছিল আরও কিছু প্রত্যয়ও। আমাদের জাতীয় ইতিহাসের বাঁক পরিবর্তনে দুটি প্রেক্ষাপটই গুরুত্বপূর্ণ। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্ব ও ডাকে বিশ্বমানচিত্রে এই বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের ঐতিহাাসিক প্রেক্ষাপট বিশ্লেষণ করলে সর্বাগ্রে যা আসে, তা হলো জাতির মুক্তি। আগেই বলেছি, মুক্তি অনেক বড় বিষয়। মুক্তি বলতে বঙ্গবন্ধু শুধু ভৌগোলিকভাবে মানচিত্র অর্জন কিংবা নিজস্ব পতাকার জন্য অঙ্গীকারবদ্ধ হয়ে মুক্তিযুদ্ধের ডাক দেননি, তিনি চেয়েছিলেন গণতান্ত্রিক, অসাম্প্রদায়িক, বৈষম্যহীন এবং দুর্নীতি ও শোষণমুক্ত একটি বিকশিত রাষ্ট্র। জাতির দুর্ভাগ্য, বিজয় অর্জনের মাত্র সাড়ে তিন বছরের মাথায় সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি আমাদের মহান স্বাধীনতার স্থপতি বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা করে সেই স্বপ্নের মূলে কুঠারাঘাত করে পাকিস্তানি ধ্যানধারণায় পুষ্ট এদেশেরই কিছু কুসন্তান। 

বায়ান্ন বছরের বাংলাদেশে সঙ্গত কারণেই প্রশ্ন দাঁড়ায়- গোটা জীবন ব্যয় করে জেল-জুলুম তুচ্ছ করে বঙ্গবন্ধু যে স্বপ্নের ‘সোনার বাংলা’ গড়তে চেয়েছিলেন, তার বাস্তবায়নে আমরা স্ব-স্ব ক্ষেত্রে কে কতটুকু দায়িত্ব পালন করতে পেরেছি! এই আত্মসমালোচনা আজকের প্রেক্ষাপটে খুব বেশি জরুরি। তর্কাতীতভাবেই বলা যায়, আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ধারাবাহিক তিন মেয়াদের সরকারের শাসনামলে উন্নয়ন-অগ্রগতির সড়ক অনেক চওড়া হয়েছে। বাংলাদেশ আজ বিশ্বে অনন্য উচ্চতায় পৌঁছেছে নানা প্রতিকূলতা-প্রতিবন্ধকতার দেয়াল ভেঙে। এটা সম্ভব হয়েছে নেতৃত্বের দৃঢ়তায়। প্রশ্ন উঠতে পারে, কোন নেতৃত্ব? নেতৃত্বের অগ্রভাগে থাকেন রাষ্ট্র পরিচালনার মূল শক্তি সরকারের নির্বাহী প্রধান। স্বীকার করতে হবে, বঙ্গবন্ধুতনয়া প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সেই নেতৃত্ব দিয়েই বাংলাদেশকে এই জায়গায় নিয়ে এসেছেন। দেশের যোগাযোগ অবকাঠামোগত উন্নয়নে শুধু বৈপ্লবিক পরিবর্তনই সাধিত হয়নি, খুলে গেছে সম্ভাবনার নবদিগন্তও। ধাক্কা খেলেও চলমান বৈশ্বিক সংকটে আমাদের অর্থনীতির অবস্থান একেবারে নড়বড়ে নয়। বিশ্বের নানা সূচকে এদেশ এখন আলোচনায় আসে। অনেক দেশের কাছে বাংলাদেশ উন্নয়নের রোল মডেল হিসেবে অনুসরণীয়। কিন্তু এত অর্জন ও সাফল্যের পরও ব্যর্থতার ছায়া যে নেই তাও কিন্তু নয়। সরকারের নানারকম সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি চলমান থাকা সত্ত্বেও মূল্যস্ফীতির কশাঘাত সাধারণ মানুষের জীবনযাপনে বিরূপ প্রভাব ফেলেছে। 

অনিয়ম-দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকারের শূন্য সহিষ্ণুতার অঙ্গীকার সত্ত্বেও দুর্নীতিবাজদের নানারকম কদর্যতার চিত্র সংবাদমাধ্যমে উঠে আসছে। আইনের শাসন ও ন্যায়বিচারের পথ সুগম করার জনপ্রত্যাশা এখনও পূর্ণতা পায়নি। জঙ্গিবাদ-উগ্রবাদ-প্রতিক্রিয়াশীলতার যে ছায়া বিগত দিনে যতটা প্রলম্বিত হয়েছিল এর অনেকটাই অপসারিত, তবে একেবারে যে মুছে ফেলা গেছে তা বলা যাবে না। বঙ্গবন্ধুর সাম্যের বাংলাদেশে বৈষম্যের ছায়া বিস্তৃত হওয়ার প্রেক্ষাপটও আলোচনার দাবি রাখে। এর নিরসন করা ছাড়া যে জাতির পিতার স্বপ্নের ‘সোনার বাংলা’ গড়া দুরূহ। সমাজও এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি কলুষিত। বিজয় অর্জনের বায়ান্ন বছরে এসব কিছুই গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনা করে লক্ষ্যে পৌঁছার জন্য যূথবদ্ধ রাজনৈতিক অঙ্গীকার জরুরি। একই সঙ্গে এই অঙ্গীকার বাস্তবায়নের লক্ষ্যে নির্মোহ অবস্থানেরও বিকল্প নেই। 

যূথবদ্ধ রাজনৈতিক অঙ্গীকারের প্রসঙ্গেও প্রশ্ন উঠতে পারে- কাদের যূথবদ্ধতা প্রয়োজন? এর সহজ উত্তর, যারা মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাস করেন, যারা দেশপ্রেমের অগ্নিপরীক্ষায় উত্তীর্ণ এবং কোনোভাবেই যারা দলীয় স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে দেশ-জাতির অগ্রযাত্রায় প্রতিবন্ধক নন। একই সঙ্গে কোনোভাবেই যারা সাম্প্রদায়িক এবং ধর্মান্ধ নন। 

বাঙালির রাজনৈতিক সংগ্রামের ইতিহাস অনেক দীর্ঘ। এই ইতিহাসের বাঁকে বাঁকে অনেক স্বর্ণোজ্জ্বল অধ্যায় রয়েছে। বায়ান্নর ভাষা আন্দোলনের পথ ধরে বাঙালির স্বাধিকার সংগ্রামের যে সূচনা হয়েছিল, ঐতিহাসিক ছয় দফার মধ্য দিয়ে ষাটের দশকে তা চূড়ান্ত রূপ পরিগ্রহ করে। কিন্তু এও মনে রাখা বাঞ্ছনীয়, অগ্নিঝরা ওই সোনালি অধ্যায়কে কেবল ভাষার মর্যাদা বা অর্থনৈতিক সাম্যের কাঠামোর নিরিখে পর্যালোচনা করলে চলবে না। শিল্প-সাহিত্য-সংস্কৃতির ক্ষেত্রে তখন যেমন রেনেসাঁ এসেছিল, তেমনি রাজনৈতিক অঙ্গনেও লেগেছিল প্রগতিশীলতার উত্তাল ঢেউ। এই সূত্রেই অর্গলবদ্ধ বাঙালি জাতীয়তাবাদের টানে বাঁধভাঙা জোয়ার সৃষ্টি করে মুক্তির সোপান রচনা করেছিল। সেই নতুন যুগের স্বপ্নদ্রষ্টা আর কেউ নন, বঙ্গবন্ধু নিজে। গণতান্ত্রিক, ধর্মনিরপেক্ষ, বৈষম্য ও শোষণহীন রাষ্ট্রব্যবস্থার বাস্তবায়নে আবারও জরুরি প্রগতিশীলতার সেই ঢেউ এবং রাজনৈতিক যূথবদ্ধতা। যা আমাদের সামগ্রিক মুক্তির যুদ্ধকে চূড়ান্ত লক্ষ্যের দিকে নিয়ে যাবে। 

পঁচাত্তরের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে হত্যার মাধ্যমে দেশকে অন্ধকারের দিকে ঠেলে দেওয়া হয়েছিল। বঙ্গবন্ধুতনয়া প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সেই বাংলাদেশ আবার ঘুরে দাঁড়িয়ে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার সড়কে ওঠে এবং সেই থেকেই সুগম হয় বিচারহীনতার অপসংস্কৃতি নিরসনের পথ খোঁজাও। আমাদের সামনে নজির রয়েছে কীভাবে নিকষ আঁধার সরিয়ে যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের এবং বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার সম্পন্ন করা সম্ভব হয়েছিল। কিন্তু গণতন্ত্রের প্রাতিষ্ঠানিকীকরণের আরও অনেক কাজ এখনও বাকি। এর জন্য সর্বাগ্রে প্রয়োজন রাজনৈতিক শুদ্ধাচার এবং রাজনীতিকদের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা। রাজনীতির শ্রী যদি ফিরে না আসে তাহলে সমাজও উজ্জ্বল হবে না। এই সত্য এড়ানোর অবকাশ নেই। তাই রাজনীতিতে প্রগতিশীল শক্তির ঐকমত্যের পথে জিইয়ে থাকা প্রতিবন্ধকতাগুলো সরানোই হোক বিজয়ের বায়ান্ন বছরে আমাদের প্রত্যয়।

আমরা কোন বাংলাদেশ চেয়েছিলাম, এ নিয়ে ইতোমধ্যে আলোচনা-পর্যালোচনা কম হয়নি। কিন্তু কাজের কাজ কতটা কী হয়েছে এর উত্তর নিহিত রয়েছে বিদ্যমান বাস্তবতাতেই। তবে বিলম্ব হলেও সময় কিন্তু ফুরিয়ে যায়নি। বরং নবজাগরণ ঘটিয়ে সব বাধা পেরিয়ে লক্ষ্য অর্জনের পথে পূর্ণ প্রস্তুতি নিয়েই এগিয়ে যেতে হবে বাঁকবদলের এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে। আগামীর বাংলাদেশ যেন হয় অর্থনৈতিকভাবে আরও গতিময়, গণতান্ত্রিকভাবে আরও বিকশিত। পাশাপাশি সাংস্কৃতিকভাবে আরও মুক্ত, অসাম্প্রদায়িক এবং ধর্মনিরপেক্ষ। এসব কিছুই সম্ভব যদি রাজনীতিকরা স্বচ্ছতা নিশ্চিত করেন, জনগণকে সঙ্গে নিয়ে এগিয়ে যান। একই সঙ্গে আরও প্রয়োজন প্রশাসনিক ক্ষেত্রেও দক্ষতা-জবাবদিহি নিশ্চিত করা। আমরা সেই বাংলাদেশ চাই, যেখানে লিঙ্গসমতাসহ একমুখী শিক্ষার পথ কুসুমাস্তীর্ণ হবে। এজন্য অধিকারের মাঠ অবশ্যই করতে হবে সমতল। 

এবার আমরা ভিন্ন রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও আবহে বিজয় দিবস উদযাপন করতে যাচ্ছি। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সমাগত। গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থায় নির্বাচনের মাধ্যমে বিজয়ী পক্ষ সরকার গঠন করে রাষ্ট্র পরিচালনা করবে, এটি অত্যন্ত স্বাভাবিক রীতি। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, পঁচাত্তরের মর্মন্তুদ অধ্যায়ের পর এদেশে সেই ধারাবাহিকতা ব্যাহত হয়। অপচ্ছায়া বিস্তার করে অপশাসন কিংবা কুশাসন। ভয়াবহ রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের মধ্য দিয়ে রাজনীতিতে যে কলঙ্কের ছায়া বিস্তৃত হয়েছিল এরই ধারাবাহিকতায় শুরু হয় গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলো ধ্বংস করে দেওয়ার অপপ্রক্রিয়া। এর দায় এখনও বহন করছে রাজনীতি। এখনও আমরা বিভাজনের রাজনীতি থেকে বের হতে পারিনি। এবারও নির্বাচন বর্জনের পথে রয়েছে রাজনীতির একটি বড় অংশ। আমরা অবশ্যই চাই, গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক সংস্কৃতি চর্চার অনুশীলনে আরও পরিশীলিত হোক রাজনীতি এবং বায়ান্ন বছরের বাংলাদেশে বিচ্ছুরিত হোক সেই আলো। নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা-গ্রহণযোগ্যতা শুধু নির্বাচনকেই অর্থবহ করে না, একই সঙ্গে গণতন্ত্রেরও শোভাবর্ধন করে, এর ভিত্তিকে মজবুত করে।

ফিরে তাকাই পেছনে। ১৯৭৪ সালের ১৮ জানুয়ারি আওয়ামী লীগের কাউন্সিল অধিবেশনে বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, ‘রাজনীতিতে যারা সাম্প্রদায়িকতা সৃষ্টি করে, যারা সাম্প্রদায়িকÑ তারা হীন, তাদের অন্তর ছোট। যে মানুষকে ভালোবাসে সে কোনোদিন সাম্প্রদায়িক হতে পারে না।... আওয়ামী লীগের কর্মীরা তোমরা কোনোদিন সাম্প্রদায়িকতাকে পছন্দ করো নাই। তোমরা জীবনভর তার বিরুদ্ধে সংগ্রাম করেছ। তোমাদের জীবন থাকতে যেন বাংলার মাটিতে আর কেউ সাম্প্রদায়িকতার বীজ বপন করতে না পারে।’ আজকের বাস্তবতায় আওয়ামী লীগ তো বটেই, অন্যান্য রাজনৈতিক দলের নীতিনির্ধারকদেরও বঙ্গবন্ধুর ওই আহ্বান আত্মস্থ ও অনুধাবন করা প্রয়োজন। এবারের বিজয় দিবস আমাদের নবপ্রত্যয়ে উদ্দীপ্ত করুক। বুকের ভেতর জ্বালুক চেতনার নবমশাল। 


লেখক : সম্পাদক, প্রতিদিনের বাংলাদেশ

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা