নাদের দুরঘাম
প্রকাশ : ১২ ডিসেম্বর ২০২৩ ১০:৫০ এএম
দক্ষিণ গাজার ‘নিরাপদ’ অংশ বলে পরিচিত খান ইউনিস ইসরায়েল-ফিলিস্তিন যুদ্ধের অন্যতম ময়দান হয়ে উঠেছে। অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি থামার পর ইসরায়েলি সেনারা শহরের বাসিন্দাদের কাছে গৃহত্যাগের লিফলেট বিতরণ করে। ইসরায়েল-ফিলিস্তিন যুদ্ধের শুরুতে খান ইউনিসের জনসংখ্যা বাড়তে শুরু করে। গাজায় সংঘাত শুরুর পর থেকেই মানুষ গাজা শহর ছেড়ে উত্তরে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়। অবশ্য পালানোর জায়গাই স্বল্প। তাই ফিলিস্তিনিদের সংঘাতের মুখে পড়তে হচ্ছে। ইসরায়েলের দাবি, হামাসের নেতারা খান ইউনিসে আত্মগোপনে রয়েছে। এ ছুতোয় তারা বোমা হামলা অব্যাহত রেখেছে। বাদ যাচ্ছে না স্থানীয় হাসপাতালগুলোও। খান ইউনিস গাজা উপত্যকার দ্বিতীয় বড় শহর। ১৪ শতকে মামলুক সাম্রাজ্যের সময় এমির ইউনুস আল নুরুজি এখানকার সড়কের ধারে একটি সরাইখানা গড়ে তোলেন। যেকোনো পথিক বা মুসাফির এখানেই রাত কাটানোর সুযোগ পেতেন। সেখান থেকেই খান ইউনিস নামটির উৎপত্তি। ১৩৮৭ সালে মামলুক সুলতান বারকুক এমিরকে তার নামে একটি প্রাসাদ গড়তে বলেন। এ প্রাসাদ গড়ে তোলার মাধ্যমে কায়রো ও দামাস্কাসের মধ্যে সংযোগ সাধন হয় এবং এ অঞ্চলের নিরাপত্তাও নিশ্চিত হয়। বারকুক প্রাসাদ আজও ফিলিস্তিনিদের অন্যতম ঐতিহ্যবাহী স্থাপনা।

প্রথম বিশ্বযুদ্ধের
পর অটোমান সাম্রাজ্যের পতন হয়। ফিলিস্তিন চলে আসে ব্রিটিশ শাসনাধীনে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের
সময় নাৎসিদের আগ্রাসনে অনেকেই উদ্বাস্তু হয়ে খান ইউনিস ও পাশের এলাকায় আশ্রয় নিতে শুরু
করে। ১৯৪৮ সালে আরব অঞ্চলে ভয়াবহ যুদ্ধ অর্থাৎ নাকবায় সাড়ে ৭ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত
হয়। খান ইউনিস মিসরীয় তদারকির অধীনে চলে আসে। ফিলিস্তিনি সশস্ত্র গোষ্ঠী ফেদাইনও সক্রিয়
হয়ে ওঠে। এরপর শহরের জনসংখ্যা বেড়েছে। ১৯৬৭ সালে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের পর খান ইউনিস
ইসরায়েলের অধীনে চলে আসে। গাজায় হামাসের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার পর থেকে খান ইউনিসের জন্য
নানা সংকট তৈরি হয়।
ইসরায়েল সচরাচর
গাজা সিটিতে বেশি হামলা করে। তবে খান ইউনিসকেও এর নেতিবাচক প্রভাব টের পেতে হয়। ২০০৯
থেকে ২০২৩ পর্যন্ত প্রায় প্রতিদিন বোমা হামলার কম্পন খান ইউনিসের বাসিন্দাদের টের পেতে
হয়েছে। সম্প্রতি ইসরায়েল আরও আগ্রাসি হয়ে হামলা করছে। খান ইউনিসের বাসিন্দাদের দক্ষিণে
আশ্রয় নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। অর্থাৎ ঐতিহাসিক খান ইউনিসে এবার হামলা চালানো হবে। অথচ
এ অঞ্চলের মানুষের অবস্থা স্থিতিশীল বলা যাবে না। মানবিক সংকট আরও বাড়বে। অনেক ফিলিস্তিনি
মিসরের সীমান্তে অবস্থিত রাফা শহরে আশ্রয় নিতে শুরু করেছে। অনেকে এখনও আশ্রয় খুঁজেই
পায়নি। আন্দাজ করা যায় খান ইউনিস ও জাবালিয়া রিফিউজি ক্যাম্প যুদ্ধের প্রধান কেন্দ্রবিন্দু
হয়ে উঠবে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা পর্যন্ত ক্ষয়ক্ষতির চিত্র দেখে শঙ্কিত হয়ে পড়েছে।
ইতোমধ্যে মৃতের সংখ্যা ১৭ হাজার ছাড়িয়ে গেছে। এর মধ্যে শিশুর সংখ্যা ৬ হাজারেরও বেশি।
এ পরিস্থিতি ‘কল্পনার বাইরে’ বলে অভিহিত করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। ফিলিস্তিন-ইসরায়েল
সংকট ক্রমেই গাঢ় হচ্ছে এবং দেখা দিয়েছে চরম মানবিক বিপর্যয়।
মিডল ইস্ট আই থেকে সংক্ষেপিত অনুবাদ : আমিরুল আবেদিন