× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

সম্পাদকীয়

পাঠ্যবই নিয়ে সংকটের ছায়া দূর হোক

সম্পাদক

প্রকাশ : ০৬ ডিসেম্বর ২০২৩ ১০:৩৩ এএম

পাঠ্যবই নিয়ে সংকটের ছায়া দূর হোক

বছরের শুরুতে শিক্ষার্থীদের হাতে পাঠ্যবই পৌঁছবে কি নাÑ এ নিয়ে দেখা দিয়েছে উদ্বেগ। শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের উদ্বেগ প্রকাশের যথেষ্ট কারণও রয়েছে। সময়মতো বই না পৌঁছলে স্বাভাবিকভাবেই শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হয়। তাতে শিক্ষকদের যেমন সমস্যা, তেমনি শিক্ষার্থীদেরও। প্রতিটি শিক্ষার্থীর কাছে যাতে বছরের শুরুতেই পাঠ্যবই পৌঁছে যায়Ñ এজন্য বেশকিছু কার্যকর পদক্ষেপও গ্রহণ করা হয়। আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে বছরের প্রথম দিনই শিক্ষার্থীরা উৎসবমুখর পরিবেশে হাতে পেয়ে থাকে বিনামূল্যের বই। সরকারের এ উদ্যোগটি প্রশংসনীয়। কিন্তু গত কয়েক বছর ধরেই বিনামূল্যের পাঠ্যবই সময়মতো ছাপার কাজ শেষ না হওয়ায় অনেকের হাতেই বছরের প্রথম দিনে বই ওঠেনি। এমন অবস্থায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মাঝেও হতাশার ছায়া দেখা দেয়। এবারও তেমন ঘটনারই পুনরাবৃত্তির আভাস মিলেছে প্রতিদিনের বাংলাদেশে প্রকাশিত প্রতিবেদনে। ৫ ডিসেম্বর ‘পাঠ্যবই প্রকাশে আবারও লেজেগোবরে অবস্থা’ শিরোনামের প্রতিবেদনে বলা হয়েছেÑ এখনও ছাপাই শুরু হয়নি প্রায় ৯ কোটি বইয়ের। অথচ নতুন শিক্ষাবর্ষ শুরু হতে বাকি নেই এক মাসও। প্রতিবেদন থেকে আরও জানা যায়, যেসব বই ছাপা হয়েছে, সেগুলোও নানা জটিলতায় মাঠপর্যায়ে পৌঁছানো যায়নি। আরও উদ্বেগজনক খবর, নতুন শিক্ষাক্রমের অষ্টম ও নবম শ্রেণির ‘ইতিহাস ও সামাজিক বিজ্ঞান’ বইয়ের পাণ্ডুলিপিই এখনও চূড়ান্ত হয়নি! আবার ছাপা হওয়া বইয়ের অধিকাংশতেই ব্যবহার করা হয়েছে গতবারের থেকেও নিম্নমানের কাগজ। সব মিলিয়ে আগের মতো বছরের প্রথম দিনে শিক্ষার্থীদের হাতে বিনামূল্যের নতুন বই তুলে দেওয়ার উৎসবের সম্ভাবনাও কমছে। এর সঙ্গে যোগ হচ্ছে বছরের প্রথম সপ্তাহেই দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) ২০২৪ শিক্ষাবর্ষে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের ৩ কোটি ৮১ লাখ ২৭ হাজার ৬৩০ শিক্ষার্থীর মধ্যে বিনামূল্যে বিতরণের জন্য প্রায় ৩১ কোটি বই ছাপার কাজ করছে। এসব বই ছাপানো দেরি হওয়ার পেছনের কারণ হিসেবে রাজনৈতিক অস্থিরতা ও হরতাল-অবরোধকে দায়ী করা হয়েছে। এর সঙ্গে যথাসময়ে পাণ্ডুলিপি না পাওয়াকেও দায়ী করা হচ্ছে। তবে আমরা মনে করি, এর সবই খোঁড়া যুক্তি। বই ছাপানো একটি দীর্ঘ প্রক্রিয়ার কাজ। এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকে অনেক অনুষঙ্গ। তার কোনো একটি যথাযথভাবে পালন না করা হলে পিছিয়ে যায় পুরো প্রক্রিয়াটিই। আমরা প্রশ্ন রাখতে চাই, কেন বই প্রকাশের সঙ্গে জড়িত মাধ্যমগুলো তাদের দায়িত্ব যথানিয়মে পালন করে না? কেন এবং কোথায় ঘাটতি থেকে যায়, যার কারণে গত কয়েক বছর ধরে শিক্ষার্থীদের এই ভোগান্তি। আমাদের স্মরণে আছে, চলতি বছর প্রথম, ষষ্ঠ ও সপ্তম শ্রেণিতে নতুন শিক্ষাক্রমের আলোকে পাঠদান শুরু হয়। স্বাভাবিকভাবেই তাতে করে পাল্টে যায় পুরোনো বই। কিন্তু নতুন বই শিক্ষার্থীদের হাতে পৌঁছাতে পেরিয়ে গিয়েছিল মার্চ মাস। যার প্রভাব পড়ে শিক্ষার্থীদের সিলেবাস সম্পন্ন করায়। এরই ধারাবাহিকতায় আগামী বছর পাল্টে যাচ্ছে দ্বিতীয়, তৃতীয়, অষ্টম ও নবম শ্রেণির পাঠ্যপুস্তক। ফলে শিক্ষার্থীরা যদি যথাসময়ে পাঠ্যপুস্তক না পায়, তাহলে চলতি বছরের মতোই পাঠ্যক্রম শেষ করায় জটিলতা তৈরির আশঙ্কা রয়েছে।

২০০৯ সাল থেকে বাংলাদেশ সরকার বিনামূল্যে বই বিতরণের সিদ্ধান্ত নেয়। ২০১০ সাল থেকে বছরের প্রথম দিন বই উৎসবের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের হাতে বই তুলে দেওয়ার রেওয়াজ গড়ে উঠেছিল। আমরা মনে করি, কোনোভাবেই এই শুভ উদ্যোগে ভাটা পড়তে দেওয়ার সুযোগ নেই। বই উৎসবের মতো একটি শুভ উদ্যোগÑ যা কোমলমতি শিশুদের জন্য আনন্দদায়ক অভিজ্ঞতা; তা কারও অদূরদর্শিতায় নষ্ট হয়ে যাক, এটা কোনোভাবেই প্রত্যাশিত নয়। এতে করে শিক্ষার্থীদের মধ্যেও হতাশা তৈরি হতে পারে। তাই সময়মতো পাঠ্যবই শিক্ষার্থীদের হাতে তুলে দিতে যে অসম্পূর্ণতা রয়েছে, তা দ্রুত দূর করার উদ্যোগ নিতে হবে। সেই সঙ্গে পাঠ্যবই যেন ত্রুটিমুক্ত হয়, কোথাও অসঙ্গতি না থাকেÑ সেদিকেও দৃষ্টি দিতে হবে। অতীতে পাঠ্যবইয়ের ভুল নিয়ে শিক্ষক-অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের বিড়ম্বনায় পড়ার অভিজ্ঞতা রয়েছে। যাতে সরকারকেও বিব্রত হতে হয়েছে। আমরা মনে করি, কারও অবহেলা ও যথাযথ তদারকির অভাব যেন পাঠ্যবই ছাপা ও বিতরণের ক্ষেত্রে না থাকে। শিক্ষার অপরিহার্য এই উপকরণ শিক্ষার্থীদের হাতে সময়মতো পৌঁছে যাক। এজন্য যাদের যতটুকু দায়িত্বশীল ভূমিকা রয়েছে, তা যথাযথ পালিত হোক।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা