× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

সম্পাদকীয়

দ্রুত আসা মিধিলির আঘাতে বড় ক্ষতি

সম্পাদক

প্রকাশ : ১৯ নভেম্বর ২০২৩ ১০:৫০ এএম

দ্রুত আসা মিধিলির আঘাতে বড় ক্ষতি

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় মিধিলির প্রভাবে ১৭ নভেম্বর দেশের দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূলজুড়ে হতাহতের পাশাপাশি ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। ১৮ নভেম্বর প্রতিদিনের বাংলাদেশ-এ প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঘূর্ণিঝড়টি শেষ পর্যন্ত বৃষ্টি ঝরিয়ে গভীর নিম্নচাপে পরিণত হয়। সংবাদমাধ্যমে বলা হয়েছে, মিধিলিকে ঘূর্ণিঝড় হিসেবে ঘোষণা দেওয়ার পাঁচ ঘণ্টার মধ্যে বাংলাদেশের উপকূল স্পর্শ করে। দ্রুত এসে ঘূর্ণিঝড়টি টানা কয়েক ঘণ্টা স্থলভাগে স্থায়িত্ব ছিল। কিন্তু এর মধ্যেই অনেক তছনছ হয়ে গেছে এবং সবচেয়ে বড় ক্ষতি প্রাথমিকভাবে দৃশ্যমান হয়েছে ফসলের। মিধিলির আঘাতে কক্সবাজারের টেকনাফে একটি বসতঘরের মাটির দেয়াল ধসে এক পরিবারের চারজনের প্রাণহানি ঘটে। অন্যান্য স্থানেও হতাহতের খবর সংবাদমাধ্যমে উঠে এসেছে। এর অভিঘাত লেগেছে বোরো ধানের বীজতলায়, বিনষ্ট করেছে উঠতি ফসল আমন ধান ও শীতকালীন সবজি। দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অনেক স্থানে যোগাযোগবিচ্ছিন্নতাসহ জীবনবৈরী ঘটনা ঘটিয়ে গেছে মিধিলি।

আমরা জানি, দুর্যোগ মোকাবিলায় বাংলাদেশ যথেষ্ট সক্ষমতা অর্জন করেছে এবং বহির্বিশ্বে তা অনেকটা রোল মডেল হিসেবেও বিবেচিত। কিন্তু মিধিলি খুব বেশি শক্তিশালী না হয়েও ক্ষতি অনেক বড়ই করেছে। বরিশাল বিভাগে স্থলনিম্নচাপ অবস্থায় মিধিলি ঘুরপাক খাচ্ছিল দীর্ঘ সময়। পটুয়াখালী, বরগুনাসহ উপকূলের বিভিন্ন অঞ্চলে বাতাসের গতি ও বৃষ্টিপাতের ধরনে আবহাওয়াবিদরা প্রায় দেড় দশক আগের ঘূর্ণিঝড় আইলার সঙ্গে এর অনেকটাই মিল খুঁজে পান। সাধারণত কোনো ঘূর্ণিঝড় আঘাতের অনেক আগেই আবহাওয়া অধিদপ্তর বার্তা দিতে সক্ষম হলেও মিধিলির ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম লক্ষ করা গেছে। ঘূর্ণিঝড়টির ঘোষণা দেওয়ার পর স্বল্প সময়ের মধ্যেই উপকূলজুড়ে আঘাত আনায় ক্ষয়ক্ষতির চিত্র অনেকটাই স্ফীত হয়ে উঠেছে। আমনের আধাপাকা ধান চিটা হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। তা ছাড়া বৃষ্টিতে শীতকালীন সবজি ও রবি মৌসুমের বিভিন্ন ফসলসহ বোরোর বীজতলা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় কৃষকের মাথায় হাত পড়েছে। নোয়াখালীর উপকূলেও ফসলের ব্যাপক ক্ষতি ঘটিয়ে গেছে মিধিলি। আমাদের স্মরণে আছে, ২০২২ সালের অক্টোবরে সিত্রাং চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, খুলনা ও বরিশালের উপকূলে আঘাত হেনেছিল। তবে আবহাওয়া অধিদপ্তর থেকে অনেক আগে এর বার্তা মেলায় মানুষ সতর্ক অবস্থান নিতে পেরেছিল। মিধিলি ফসলসহ জনজীবনে যে অভিঘাত করেছে, তা বিদ্যমান কঠিন বাস্তবতায় বাড়তি চাপ সৃষ্টি করল তাতে কোনো সন্দেহ নেই।

আমাদের স্মরণে আছে, সিডর, আইলার আঘাতে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে ক্ষয়ক্ষতি ব্যাপক হয়েছিল। যোগাযোগ অবকাঠামোসহ ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত এবং হতাহতের ঘটনায় যে ক্ষত সৃষ্টি হয়েছিল এখনও কোনো কোনো অঞ্চলে তা দৃশ্যমান। আমরা মনে করি, সেই অভিজ্ঞতা আমলে রেখেই মিধিলির কারণে দেশের যেসব অঞ্চলে বিরূপ প্রভাব পড়েছে এর উপশমে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। চলমান মূল্যস্ফীতিসহ রাজনৈতিক সংকট সাধারণ মানুষের জীবনযাপন বৈরী পরিস্থিতিতে নিপতিত করেছে। এ অবস্থায় মিধিলির অভিঘাত সামলাতে আমরা আন্দোলনকারী রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে তাদের কর্মসূচির ব্যাপারে সুবিবেচনা প্রত্যাশা করি। একই সঙ্গে মনোযোগ দেওয়া জরুরি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায়ও। আমরা জানি, প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে উপকূলবাসীকে রক্ষায় সবুজ বেষ্টনী গড়ে তোলার মতো যে দূরদর্শী উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল, তা কোনো কোনো ক্ষেত্রে ব্যাহত হয়েছে। সংবাদমাধ্যমে প্রকাশ, ওই সবুজ বেষ্টনীর গাছগুলোয় বলবানদের কুনজর পড়ায় অনেক অঞ্চলে সেসব লোপাটও হয়েছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগে অবকাঠামোগত ক্ষতি অনেকাংশে বেশি হয়ে থাকে। আর তা যদি ফসলের মৌসুমে হয় তাহলে এর চাপ জনজীবনে আরও বেশি পড়ে। মিধিলির ক্ষেত্রে এমনটিই দৃশ্যমান। আমরা আশা করব, যোগাযোগ অবকাঠামো দ্রুত সংস্কারের পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের পাশে সরকার সর্বত সহায়তা নিয়ে দাঁড়াবে। তাদের সহজে ঋণ প্রাপ্তির ব্যবস্থাসহ যথাযথভাবে পৌঁছে দিতে হবে ত্রাণসামগ্রীও। এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল সব পক্ষের যূথবদ্ধ কর্মপ্রয়াস জরুরি।

উপকূলবাসীর সুরক্ষায় আরও বিস্তৃত কর্মপরিকল্পনা নেওয়া প্রয়োজন বলেও আমরা মনে করি। সবুজ বেষ্টনীগুলোর দিকে নজর গভীর করার পাশাপাশি কৃষি খাতের সুরক্ষায়ও সমভাবেই নজর বাড়াতে হবে। কৃষিনির্ভর অর্থনীতির দেশে কৃষির ক্ষতি মানে শুধু কৃষকেরই ক্ষতি নয়, জাতীয় অর্থনীতির জন্যও বড় সংকট। একই সঙ্গে এও মনে রাখতে হবে, সাম্প্রতিক সর্বশেষ ঘূর্ণিঝড় মিধিলির ব্যতিক্রমী আচরণ থেকে শিক্ষা নিয়ে ভবিষ্যতে যেকোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় আগাম প্রস্তুতি রাখা বাঞ্ছনীয়। বিদ্যুৎসংযোগ দ্রুত পুনঃস্থাপন এবং ঘরবাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ ক্ষয়ক্ষতির সব দিক চিহ্নিত করে ক্ষতিগ্রস্তদের স্বাভাবিক জীবনযাপনে ফিরিয়ে আনতে সময় ক্ষেপণ না করে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা