দিবস
পিয়ানুর আহমেদ হাসান
প্রকাশ : ১৯ নভেম্বর ২০২৩ ১০:৪১ এএম
শতভাগ টয়লেট-সুবিধা
নিশ্চিতকরণের বিষয়টি মাথায় রেখে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ‘বিশ্ব শৌচাগার দিবস’ পালন
করা হয়। ২০০১ সালে বিশ্বে টয়লেট ব্যবহার ও স্যানিটাইজেশন সম্পর্কে ক্যাম্পেইন শুরু
করে ওয়ার্ল্ড টয়লেট অর্গানাইজেশন। এরপর থেকে প্রতিবছর ১৯ নভেম্বর পালিত হয়ে আসছে
দিবসটি। বাংলাদেশের আর্থসামাজিক নানান খাতে উন্নয়ন হলেও এখনও প্রায় ৫ লাখ ৫ হাজার
পরিবার শৌচাগার (টয়লেট) সুবিধা থেকে বঞ্চিত। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস)
করা ‘জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২’-এর প্রাথমিক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। বিবিএস
দেশের ৬৪ জেলার মোট ৪ কোটি ১০ লাখ ১০ হাজার ৫১টি পরিবারের ওপর জরিপ চালিয়ে এই
হিসাব বের করে। দেশের বিভিন্ন জেলা-পৌরসভায় সরকারি গণশৌচাগার স্থাপন করা হলেও
হবিগঞ্জ জেলার বানিয়াচং উপজেলা গণশৌচাগারবিহীন। পৃথিবীর বৃহত্তম গ্রাম বানিয়াচং
সদরÑ এখানে রয়েছে ঐতিহ্যবাহী কমলা রানীর দিঘি, যা সাগরদিঘি হিসেবে পরিচিত। রয়েছে
উপজেলার সব গুরুত্বপূর্ণ অফিস-হাসপাতাল, স্কুল-কলেজ-মাদ্রাসা; যেখানে চারটি
ইউনিয়নের প্রায় ২ লাখ লোকের বসবাস। দুঃখের বিষয় হলো, এই গ্রামের ওপর দিয়ে নিয়মিত
এত লোকের যাতায়াত, এত লোকের বসবাস, অথচ গ্রামে কোনো পাবলিক টয়লেট নেই।
স্বাস্থ্য ভালো রাখতে
শৌচাগারের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। খোলা জায়গায় মলত্যাগ করলে পানিবাহিত ও সংক্রমণ রোগ
ছড়ায়। দেশে রাস্তাঘাটে পথচারীদের জন্য টয়লেটের ব্যবস্থা খুবই অপ্রতুল। শহরে কোনো
কোনো জায়গায় টয়লেট থাকলেও বেশিরভাগ সময় সেগুলো একেবারেই ব্যবহারের অনুপযোগী,
গ্রামে তো একেবারে নাই বললেই চলে। বানিয়াচংয়ে রাস্তার পাশে পথচারীদের মলমূত্র ত্যাগ
করতে দেখা যায় প্রতিমুহূর্তেই। এর অন্যতম কারণ পাবলিক টয়লেট না থাকা। বাংলাদেশ
সরকার উন্মুক্ত স্থানে মলমূত্র ত্যাগ শূন্যের কোঠায় আনার ঘোষণা দিয়েছে। তবে গ্রামীণ
ও মফস্বল অনেক অঞ্চলে এখনও দৃশ্যমান অবকাঠামোগত উন্নয়ন ঘটেনি। পাবলিক টয়লেট না
থাকায় পথচারী, মানুষ বিভিন্ন উন্মুক্ত জায়গায় মলমূত্র ত্যাগের মাধ্যমে প্রতিনিয়ত
পরিবেশদূষণ করছে।
মলমূত্র চেপে রাখাও স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। এর ফলে লিভার, কিডনি জটিলতাসহ নানা ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি দেখা দেয়। বিশেষত নারীদের ক্ষেত্রে সমস্যা আরও বেশি। তাদের মূত্রথলির সংক্রমণ, পানিশূন্যতা, কিডনি বিকলসহ নানা ধরনের শারীরিক সমস্যার দিকে ঠেলে দিচ্ছে। এসব সমস্যা বিবেচনায় সারা দেশে বিভিন্ন অঞ্চলে গণশৌচাগার গড়ে তোলার বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়া জরুরি। বিশেষত গণশৌচাগার নির্মাণেই সমাধান মিলবে না। গণশৌচাগারের পরিবেশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখাও সমভাবেই গুরুত্বপূর্ণ। মানুষকে গণশৌচাগার ব্যবহারে ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিতকরণে সচেতনতা কার্যক্রম চালাতে হবে।