× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

সম্পাদকীয়

সাগরপারে উন্নয়নের আলোকরশ্মি

সম্পাদক

প্রকাশ : ১২ নভেম্বর ২০২৩ ০০:৩০ এএম

সাগরপারে উন্নয়নের আলোকরশ্মি

ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, এ ভূখণ্ডে চট্টগ্রাম-ষোলশহর রেললাইন নির্মিত হয় আসাম বেঙ্গল রেলওয়ে কোম্পানির তত্ত্বাবধানে ব্রিটিশ আমলে। ১৯২৯ থেকে ২০২৩ সাল। মধ্যে ১৯৭১। ’৭১-এ রক্তগঙ্গা পেরিয়ে বিশ্ব মানচিত্রে আমাদের স্বাধীন-সার্বভৌম ভূখণ্ডের পতাকা অর্জিত হয়। ৫২ বছরের বাংলাদেশ হেনরি কিসিঞ্জার কথিত সেই তলাবিহীন ঝুড়ি নয়, উন্নয়নযজ্ঞের মহাসড়কে ধাবমান। উত্তরে পঞ্চগড়, দক্ষিণে কক্সবাজার—বাংলাদেশ রেলওয়ের বিস্তৃতি ঘটেছে ১১ নভেম্বর কক্সবাজার আইকনিক রেলস্টেশন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে। এখানেই শেষ নয়। একই দিন এক দশক আগেও যে জনপদটি ছিল অবহেলিত, সেই জনপদ কক্সবাজারের দ্বীপ উপজেলা মহেশখালীর মাতারবাড়ীতে খুলে গেছে দেশের একমাত্র গভীর সমুদ্রবন্দরের দ্বারও। নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণযজ্ঞের পর মেট্রোরেল, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র, বঙ্গবন্ধু টানেলসহ বিগত ১৫ বছরে ধারাবাহিক তিন মেয়াদের এ সরকারের উন্নয়নযজ্ঞের আলোকরশ্মি ছড়িয়েছে দেশের এ-প্রান্ত থেকে ও-প্রান্ত পর্যন্ত।

‘সমুদ্রের শহরে ট্রেনের হুইসেল’ শিরোনামে ১১ নভেম্বর প্রতিদিনের বাংলাদেশ-এর প্রচ্ছদের শীর্ষ প্রতিবেদনে যে তথ্য উঠে এসেছে, তাতে যোগাযোগের নতুন দিগন্তের উন্মোচনের বার্তাই শুধু মেলেনি; পর্যটন খাতের প্রসারে নতুন সম্ভাবনার দ্যুতির খবরও মিলেছে। ঢাকা-কক্সবাজার রুটে রেল যোগাযোগের যে দ্বার উন্মোচন হলো, তা পুরোপুরি কার্যকর হতে হাতেগোনা আর মাত্র কয়েকটি দিন লাগবে। কক্সবাজারে নির্মিত ঝিনুকাকৃতির আইকনিক এ রেলস্টেশনে রয়েছে শপিং মল, কনভেনশন সেন্টার, রেস্টুরেন্ট, শিশুযত্নকেন্দ্র, লাগেজ রাখার লকারসহ আধুনিক সব সুযোগসুবিধা। শুধু দেশের নয়, আন্তর্জাতিকভাবেও বাংলাদেশের সমুদ্রতীরবর্তী শহর কক্সবাজারের প্রতি পর্যটকদের বিশেষ আকর্ষণ রয়েছে। বিশ্বের অন্যতম দীর্ঘ সমুদ্রসৈকত কক্সবাজারে সড়ক ও আকাশ পথে যাতায়াত থাকলেও রেল যোগাযোগ নিশ্চয় শুধু পর্যটকদের সুবিধাই নয়, সুনীল অর্থনীতির ক্ষেত্রেও বিশেষ ভূমিকা রাখবে। মহেশখালীর মাতারবাড়ী অঞ্চলের মানুষের জীবনজীবিকা নির্বাহের একমাত্র অবলম্বন ছিল লবণ ও চিংড়ি চাষ। লবণ ও চিংড়ি চাষের মাঠই হয়ে উঠল দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম অর্থনৈতিক অঞ্চল। এ সরকারের গৃহীত একাধিক মেগা প্রকল্প বাস্তবায়নের কারণে দেশের বিভিন্ন এলাকায় যেমন উন্নয়নের আলোকরশ্মি ছড়িয়েছে, তেমনি একসময়কার অবহেলিত জনপদ মাতারবাড়ী তথা মহেশখালীসহ অনেক অঞ্চলই হয়ে উঠেছে অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ প্রাণকেন্দ্রও।

সন্দেহ নেই, মাতারবাড়ীতে গড়ে ওঠা দেশের একমাত্র গভীর সমুদ্রবন্দর জাতীয় অর্থনীতিতে অবদান রাখার পাশাপাশি ওই অঞ্চলের মানুষের জীবনজীবিকাই শুধু পালটে দেবে না, আনবে বৈচিত্র্যও। বহুমুখী কর্মক্ষেত্রের দরজা ক্রমাগত খুলবে এবং কক্সবাজার পর্যন্ত রেল যোগাযোগ শুধু পর্যটক কিংবা সাধারণ যাত্রীদেরই নয়, মাতারবাড়ীসহ ওই অঞ্চলের পণ্য পরিবহনের পথও মসৃণ করবে। বিদ্যমান বাস্তবতার প্রেক্ষাপটে নিঃসন্দেহে বলা যায়, মাতারবাড়ীকে বিশ্বের উন্নত পরিকল্পিত বাণিজ্যিক নগর হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব যদি সরকারের ভাবনার পূর্ণ বাস্তবায়ন ঘটে। সেখানে শুধু গভীর সমুদ্রবন্দরই নয়, এলএনজি টার্মিনাল, বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র নির্মিত হওয়ার পাশাপাশি অর্থনৈতিক এলাকা হিসেবে ঔজ্জ্বল্য ছড়ানোর সরকারের যে বিস্তৃত পরিকল্পনা রয়েছে, এর বাস্তবায়ন সন্দেহাতীতভাবে দেশের সামগ্রিক প্রেক্ষাপটে বিশেষ অবদান রাখবেÑ এও আমরা আশা করি। দোহাজারী-রামু-কক্সবাজার এবং রামু-গুনদুম প্রকল্প ট্রান্স এশিয়া রেলওয়ে করিডোরের সঙ্গে সংযোগ স্থাপনের ঔজ্জ্বল্যও এখন বলতে গেলে দৃশ্যমান বাস্তবতা। ধারণা করা যায়, দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় রুট হয়ে উঠবে ঢাকা-কক্সবাজার রেলপথ। এ রেলপথটি টেকনাফ, সেন্টমার্টিন ছাড়াও বান্দরবানের পর্যটন বিকশিত করবে। আমরা জানি, দেশের পার্বত্যাঞ্চলের মধ্যে সবচেয়ে বেশি পর্যটকসমাগম হয় বান্দরবানে। কক্সবাজারের মতোই ওই জেলায় যেতে পর্যটকদের যে সময়ক্ষেপণ করতে হতো, এর নিরসন ঘটতে যাচ্ছে সহসাই।

এশিয়ার বৃহত্তম আইকনিক রেলস্টেশন কক্সবাজার, দক্ষিণ এশিয়ার বিজনেস হাব মহেশখালী আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এখন নতুন করে পরিচিত হয়ে উঠল। সমগ্র সাগরপারে উন্নয়নযজ্ঞের যে আলোকরশ্মি ছড়িয়েছে এজন্য আমরা সরকারকে অভিনন্দন জানাই। কক্সবাজার শহর কিংবা মহেশখালীই শুধু নয়, আশপাশের সব অঞ্চলেই অর্থনীতির পাশাপাশি মানুষের জীবনযাত্রায়ও বৈপ্লবিক পরিবর্তনের দরজা উন্মোচিত হলো। এ প্রেক্ষাপটে প্রতীয়মান হয়, দেশ-জাতির উন্নয়ন-অগ্রগতির জন্য সরকারের দূরদর্শী পরিকল্পনা ও এর বাস্তবায়নে দক্ষতা-সদিচ্ছা দরকার। তবে একই সঙ্গে এ কথাও বলা বাঞ্ছনীয়, শুধু পরিকল্পনা-দক্ষতা কিংবা সদিচ্ছাই যথেষ্ট নয়, চাই সেরকম সাহসও। আমরা মনে করি, ধারাবাহিক তিন মেয়াদের এ সরকার সেই সাহসিকতার স্বাক্ষর রেখেছে স্তরে স্তরে।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা