প্রেক্ষাপট
দিলীপ কুমার আগরওয়ালা
প্রকাশ : ০১ নভেম্বর ২০২৩ ১২:৩৩ পিএম
হরতালের পর বিএনপি টানা তিন দিনের অবরোধ পালন করছে। বিএনপি-জামায়াতের হরতালে রাজধানীর মোহাম্মদপুরসহ নানা জায়গায় বাসে আগুন লাগায় পিকেটাররা। ডেমরায় পিকেটাররা বাসে আগুন দিয়ে হত্যা করে চালকের এক সহকারীকে। লালমনিরহাটে বিএনপি-জামায়াতের পিকেটাররা ছুরিকাঘাতে হত্যা করে এক স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতাকে। বগুড়ায় মাইকে ঘোষণা দিয়ে পুলিশের ওপর হামলা চালানো হয়। এই লেখাটি যখন লিখছি তখন পর্যন্ত রাজধানীতে পিকেটারদের আগুন ও ভাঙচুরের শিকার হয় ১৯টি যানবাহন। ২৮ অক্টোবর সমাবেশের নামে নানামুখী তৎপরতা এবং পরদিন হরতালে পণ্য চলাচলে বিঘ্ন হওয়ায় বেড়েছে নিত্যপণ্যের দাম।
বিশ্বমন্দায় কঠিন সময় মোকাবিলা করছে গুটিকয় বাদে বিশ্বের প্রায় সব দেশ। বাংলাদেশেও
এ ধকল অনুভূত হচ্ছে। বর্তমান
সরকার ক্ষমতায় আসার সময় বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ছিল তলানিতে। ওয়ান-ইলেভেনি
শাসনের ক্যারিশমায় অর্থনীতি ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছিল। তার পর থেকে
বাংলাদেশের ইতিহাস এগিয়ে যাওয়ার। এমনকি
এই মহামন্দাকালেও বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি দুনিয়ার সবচেয়ে সমৃদ্ধ এবং সেরা অর্থনৈতিক শক্তি হিসেবে যাদের ধরা হয় তাদের চেয়েও ঢের বেশি। বাংলাদেশের
জোর কদমে এগিয়ে যাওয়ায় বিশ্বমোড়লদের গাত্রদাহ শুরু করেছে। এ দেশকে
কীভাবে ঠেকানো যায় তা নিয়ে শুরু হয়েছে বিশ্বমাতবরদের কারসাজি। তবে বাংলাদেশকে
যে হারানো যাবে না,
সে সত্যটি তুলে ধরা হয়েছে গোল্ডম্যান শ্যাক্সের প্রতিবেদনে। এতে বলা হয়েছে, ২০৭৫
সাল নাগাদ বিশ্বের ১৬তম অর্থনীতির দেশ হবে বাংলাদেশ।
পূর্বাভাস অনুযায়ী,
২০৭৫ সালে বাংলাদেশের জিডিপি বেড়ে দাঁড়াবে ৬ দশমিক ৩ ট্রিলিয়ন ডলারে। ১ ট্রিলিয়ন
ডলার সমান ১ লাখ কোটি ডলার। সে হিসেবে
বাংলাদেশের জিডিপি হবে ৬ দশমিক ৩ লাখ কোটি ডলার। স্থানীয়
মুদ্রায় জিডিপি হবে ৬৮৬ দশমিক ৭ লাখ কোটি টাকা। এটি চলতি
অর্থবছরে সরকারের প্রাক্কলিত জিডিপির চেয়ে ৬৩৬ লাখ কোটি বেশি। একটি
দেশের বর্ধিত জনসংখ্যা,
শ্রমশক্তি এবং বিপুল প্রতিভার জন্য প্রশিক্ষণ ও দক্ষতাকে সম্ভাবনা ধরে অর্থনীতির এ পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। গোল্ডম্যান
শ্যাক্সের জিডিপি আউটলুক ২০৭৫-এ বিকাশমান
অর্থনীতির দেশগুলোকে সম্ভাবনাময় বলা হয়েছে। বাংলাদেশের
অর্থনীতি দ্রুত এগোচ্ছে। করোনা
মহামারির কারণে জিডিপি অর্জন কিছুটা শ্লথ হলেও আবার অর্থনীতি গতি ফিরে পাচ্ছে। এ ধারা
অব্যাহত রাখতে পারলে ২০৭৫ সালে বাংলাদেশ কাঙ্ক্ষিত গন্তব্যে পৌঁছাতে পারবে। বাংলাদেশের
অর্থনীতি সৌদি আরব,
কানাডা,
অস্ট্রেলিয়া,
তুরস্ক,
ইতালি,
মালয়েশিয়া ও দক্ষিণ কোরিয়াকেও ছাড়িয়ে যাবে। বিশ্ব
অবাক দৃষ্টিতে দেখবে বাংলাদেশকে।
বৈশ্বিক অস্থিরতার যে প্রভাব দেশের অর্থনীতিতে পড়েছে সেখান থেকে এখনও বাংলাদেশ বের হয়ে আসতে পারেনি। অন্যদিকে
মূল্যস্ফীতিও রয়েছে উচ্চমাত্রায়। এ অর্থনৈতিক
চ্যালেঞ্জের মধ্যে হরতাল-অবরোধ
দিলে দেশের অর্থনীতিতে ক্ষতির পরিমাণ হবে বিপুল।এর আগে ২০১১
সালের জুলাইয়ে টানা ছয় দিন চলা হরতাল নিয়ে জাতিসংঘের উন্নয়ন বিষয়ক সংস্থা ইউএনডিপির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল,
তখনকার ছয় দিনের হরতালে দেশের ২০ হাজার কোটি টাকা ক্ষতি হয়েছে। শুধু
এক দিনের হরতালের কারণে দেশে পণ্যমূল্যের দাম বাড়ে ১০ শতাংশ। সংঘাত-সহিংসতা
নয়,
আমরা শান্তি চাই। শান্তি ও উন্নয়নের
ধারা বজায় রাখতে হরতাল-অবরোধের
বিরুদ্ধে সবাইকে সোচ্চার হতে হবে। দেশের
অর্থনীতি ধ্বংসকারী রাজনৈতিক কর্মসূচি বয়কট করতে হবে।