পরিপ্রেক্ষিত
আর কে চৌধুরী
প্রকাশ : ২২ অক্টোবর ২০২৩ ১৩:১২ পিএম
ফিলিস্তিনে
ইসরায়েলি বর্বরতায় স্তম্ভিত বিশ্বের বিবেকবান মানুষ। ইসরায়েলিরা গাজার এক
হাসপাতালে বোমা হামলা চালিয়ে হত্যা করেছে ৮০০-এর বেশি মানুষ; যার বড় অংশই নারী ও
শিশু। গাজার দক্ষিণাঞ্চলের খান ইউনিস শহরের ইউরোপিয়ান হাসপাতালের পরিচালক ইউসেফ
আল-আক্কাদকে গণমাধ্যমের সামনে বলতে শোনা যায়, ‘এই শোকাহত ও নির্যাতিত মানুষের
বিরুদ্ধে গণহত্যা চলার সময়ে মুক্ত বিশ্ব তুমি কোথায়?’ সরাসরি তিনি প্রশ্ন না ছুড়লেও,
এই শিশুদের কী দোষ ছিল, তাই যে সে কথায় বলতে চেয়েছেন তা তার আকুতিতে স্পষ্ট। এ সময়
ইসরায়েলের বোমাবর্ষণ বন্ধে আবেগঘন আকুতি জানাতেও দেখা যায় তাকে।
৭
অক্টোবর ফিলিস্তিনের মুক্তিকামী সংগঠন হামাস ইসরায়েলে আকস্মিক হামলা চালায়। এরপর
ওই দিন থেকেই গাজায় বোমা হামলা অব্যাহত রেখেছে ইসরায়েল। এ হামলায় এখন পর্যন্ত নিহত
হয়েছে প্রায় ৪ হাজার ফিলিস্তিনি। যাদের এক-তৃতীয়াংশই শিশু। জানা গেছে, ইসরায়েলি
বাহিনীর চলমান হামলায় অনেক নবজাতকও নিহত হয়েছে। ফিলিস্তিনের নিউজ এজেন্সি ওয়াফার
খবরে বলা হয়েছে, ইসরায়েলের বিমান হামলায় খান ইউনিস শহরের দক্ষিণ দিকে অবস্থিত
আল-বাকরির পরিবারে ভয়াবহ শোক নেমে আসে। ওই হামলায় এ পরিবারের সাত শিশুসহ অন্তত নয়জন
নিহত হয়েছে। অনেকে ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়েছে। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস নিউজ
এজেন্সির খবরেও এ হত্যার তথ্য নিশ্চিত করা হয়।
ফিলিস্তিনের
গাজা উপত্যকার মোট বাসিন্দা ২৩ লাখ; যার প্রায় অর্ধেকই শিশু, বয়স ১৮ বছরের নিচে।
গত ১৫ বছরে এই শিশুরা দেখেছে পাঁচটি যুদ্ধ। ২০০৮-০৯ সালে ২৩ দিনব্যাপী চলা যুদ্ধে
নিহত হয় ৩৪১ জন, ২০১২ সালের যুদ্ধে নিহত হয় ৩৫ জন, ২০১৪ সালের যুদ্ধে ৫৩২ জন এবং
২০২১ সালের যুদ্ধে ৬৬ শিশু নিহত হয়। এবারে গাজায় দুই সপ্তাহ ধরে যুদ্ধে ফিলিস্তিনি
শিশু নিহতের সংখ্যা হাজার ছাড়িয়েছে।
বলা
হচ্ছে, ২০০৮-০৯ সালের যুদ্ধে যে শিশুর বয়স ছিল দুই বছর, সে-ও এ পর্যন্ত পাঁচটি
যুদ্ধের সাক্ষী। যুদ্ধের সাক্ষী হওয়া শিশুদের স্বাভাবিকভাবে বেড়ে ওঠা যেমন কঠিন,
তেমন যুদ্ধ শিশুদের মনে বড় ধরনের দাগ তৈরি করে।
যুক্তরাষ্ট্র,
ব্রিটেন, জার্মানি প্রভৃতি পশ্চিমা দেশ হাসপাতালের ওপর ভয়াবহ বোমা বর্ষণে ৮০০-এর
বেশি মানুষের প্রাণহানির যুদ্ধাপরাধ সত্ত্বেও ইসরায়েলের পক্ষ নিয়েছে। মার্কিন
প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন হাসপাতালে ভয়ংকর ধরনের বোমা মেরে ৮০০-এর বেশি মানুষের প্রাণ
কেড়ে নেওয়ার দায় থেকে ইসরায়েলিদের রেহাই দিতে গিয়ে বলেছেন, অন্য কেউ এ হামলা
চালিয়েছে। ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর সঙ্গে বৈঠক শেষে ব্রিফিংয়ে বাইডেন
বলেছেন, গাজার আল-আহলি আল আরবি হাসপাতালে ইসরায়েল নয়, অন্য কেউ হামলা চালিয়েছে।
বাইডেন অবশ্য গাজার হাসপাতালে বিস্ফোরণের ঘটনায় গভীরভাবে দুঃখিত এবং ক্ষুব্ধ হওয়ার
কথাও বলেছেন। গণতন্ত্র ও মানবাধিকার নিয়ে যে দেশটির মাতামাতি বিশ্ববাসীকে তটস্থ
করে রাখে, তাদের ইসরায়েলনীতি বর্তমান সময়ে মুখোশ খোলার জন্য যথেষ্ট বললে খুব ভুল
হবে না।