বিশ্ব খাদ্য দিবস
মোতাহার হোসেন
প্রকাশ : ১৬ অক্টোবর ২০২৩ ১১:১০ এএম
আজ বিশ্ব খাদ্য দিবস। প্রতিবছর জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা এই দিবসটি উদযাপন করে থাকে। বাংলাদেশেও
দিবসটি গুরুত্বের সঙ্গে পালিত হয়ে আসছে। রাজধানীসহ সারা দেশে খাদ্যশস্যের মূল্য স্থিতিশীল ও অবৈধ মজুদদারি রোধের লক্ষ্যে খাাদ্য মন্ত্রণালয় ও খাদ্য অধিদপ্তরের গঠিত বাজারদর মনিটরিং টিম চাল ও আটার বাজারদর এবং ওএমএস কার্যক্রম তদারকি অব্যাহত রেখেছে। দেশের সব সিটি করপোরেশন, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে বাজার মনিটরিং টিম বাজার তদারকি করছে। প্রান্তিক পর্যায়ে কৃষকের কাছ থেকে ৩০ টাকা কেজি দরে ধান, ৪৪ টাকা কেজি দরে সিদ্ধ চাল এবং ৩৫ টাকা কেজি দরে গম সংগ্রহ করা হচ্ছে। সরকারি ধান কেনায় মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য ও দুর্নীতি হ্রাসের লক্ষ্যে প্রকৃত কৃষক তালিকা থেকে লটারির মাধ্যমে কৃষক নির্বাচন করে ধান কেনা এবং কৃষকের ১০ টাকার অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে মূল্য পরিশোধ নিশ্চিত করা হচ্ছে। মূলত ধান কেনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা
নিশ্চিতকরণে ডিজিটাল পদ্ধতিতে ‘কৃষকের অ্যাপস’ ব্যবহার করে চলতি বোরো সংগ্রহ মৌসুমে দেশের ৬৪ জেলার ৩০২ উপজেলায় ধান সংগ্রহ করা হচ্ছে।
পাঠ্যপুস্তকে নিরাপদ খাদ্যের বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ইতোমধ্যে প্রাথমিক পর্যায়ের তৃতীয় থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত বিজ্ঞান বইতে খাদ্য বিষয়ক অধ্যায় সংযুক্ত করা হয়েছে। তা ছাড়া আধুনিক স্টিল সাইলো নির্মাণ প্রকল্পের আওতায় দেশের বিভিন্ন কৌশলগত স্থানে দুটি গমের ও পাঁচটি চালের সাইলো নির্মাণের কাজ চলছে। এর মধ্যে আশুগঞ্জে ১ লাখ ৫ হাজার মেট্রিক টন,
ময়মনসিংহে ৪৮ হাজার মেট্রিক টন ও মধুপুরে ৪৮ হাজার মেট্রিক টন ধারণক্ষমতার তিনটি সাইলোর নির্মাণ চলছে। পাশাপাশি ৫ লাখ পরিবারের মধ্যে পারিবারিক সাইলো বিতরণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে দেশের দুর্যোগপ্রবণ
এলাকার ১৯ জেলার ৬৩ উপজেলায় ৫ লাখ দরিদ্র পরিবারের মধ্যে ৮০ টাকা মূল্যে পারিবারিক সাইলো বিতরণ করা হয়েছে। সামগ্রিক খাদ্য ব্যবস্থাপনা কার্যক্রমের গুণগতমান উন্নয়নের লক্ষ্যে এ প্রকল্পের আওতায় সমন্বিত খাদ্যনীতি প্রণয়নে গবেষণার কাজ চলছে।
খাদ্য অধিদপ্তরের ছয়টি আঞ্চলিক অফিসে খাদ্যের গুণগতমান পরীক্ষার জন্য আধুনিক পরীক্ষাগার নির্মাণ করা হয়েছে। তা ছাড়া দেশের উপকূলীয় ও দুর্যোগপ্রবণ এলাকায় দরিদ্র ও অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর নিরাপদ খাদ্য সংরক্ষণের জন্য হাউস-হোল্ড সাইলো সরবরাহ; নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলায় ৪৮ হাজার মেট্রিক টন ধারণক্ষমতাসম্পন্ন চালের আধুনিক স্টিল সাইলো নির্মাণ; ঢাকা সিএসডিতে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের প্রধান কার্যালয় ও রেফারেন্স ল্যাবরেটরি এবং খাদ্য মন্ত্রণালয়ের প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট স্থাপন; রংপুর, কুড়িগ্রাম, কুষ্টিয়া ও সিলেট জেলায় আনুষঙ্গিক সুবিধাদিসহ মোট ১ লাখ ২০ হাজার মেট্রিক টন ধারণক্ষমতার চারটি নতুন সিএসডি নির্মাণ করা হয়। বর্তমান খাদ্য ব্যবস্থাপনা, খাদ্য মজুদ, খাদ্য সংরক্ষণ, খাদ্য বিতরণ, খাদ্যমূল্য সহনীয় এবং আরও টেকসই, আরও ফলপ্রসূ করার উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে এটাই আমাদের প্রত্যাশা। কারণ মনে রাখতে হবে, মানুষের পেটে ভাত না থাকলে সেখানে নীতি, নৈতিকতা, আদর্শ, উন্নয়ন, অগ্রগতির কোনো তাৎপর্য থাকে না।