দিবস
গুল-ই-জান্নাত জেনী
প্রকাশ : ১১ অক্টোবর ২০২৩ ১১:১১ এএম
লিঙ্গবৈষম্য দূর করার উদ্দেশ্য নিয়ে জাতিসংঘভুক্ত দেশগুলোতে প্রতিবছর ১১ অক্টোবর পালিত হয় আন্তর্জাতিক কন্যাশিশু দিবস। কন্যাশিশুদের জন্য এমন একটি দিনের পরিকল্পনা প্রথম করে প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল নামে একটি বেসরকারি সংস্থা। সংস্থাটি ‘কারণ আমি একজন মেয়ে’ (বিকজ আই অ্যাম এ গার্ল) স্লোগানে বিশ্বে কন্যাশিশুর পরিপুষ্টি সম্পর্কে জনসচেতনতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেয়। তাদের এই আন্দোলনে কানাডায় সংস্থাটির কর্মীদের সঙ্গে যুক্ত হয় কানাডা সরকারও। ২০১১ সালে জাতিসংঘের সাধারণ সভায় কানাডা সরকার বিশ্বব্যাপী কন্যাশিশু দিবস পালনের জন্য একটি দিনের প্রস্তাব করে। প্রস্তাবের সমর্থনে সকলে একমত হওয়ায় ২০১১ সালের ১৯ ডিসেম্বর জাতিসংঘভুক্ত দেশগুলোতে আন্তর্জাতিক কন্যাশিশু দিবস উদযাপনের সিদ্ধান্ত হয়। সভার গৃহীত সিদ্ধান্ত মোতাবেক দিনটি পালনের জন্য নির্ধারণ করা হয় ১১ অক্টোবর। পরের বছর, ২০১২ সালের ১১ অক্টোবর প্রথমবারের মতো পালিত হয় আন্তর্জাতিক কন্যাশিশু দিবস। অন্যান্য দিবসের মতো আন্তর্জাতিক কন্যাশিশু দিবসের জন্যও প্রতিবছর একটি থিম বা প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়। প্রথম বছরে আন্তর্জাতিক কন্যাশিশু দিবসের প্রতিপাদ্য ছিল ‘বাল্যবিবাহ বন্ধ কর’। এবার আন্তর্জাতিক কন্যাশিশু দিবসের প্রতিপাদ্য, ‘ডিজিটাল জেনারেশন, আওয়ার জেনারেশন’।

কন্যাশিশুদের
নিয়ে সাধারণত তিনটি দিনের কথা জানা যায়। এর একটি কন্যা দিবস বা ডটার্স ডে। দিনটি শুধু
ভারতে পালিত হয় সেপ্টেম্বর মাসের শেষ রবিবারে। বাংলাদেশে ৩০ সেপ্টেম্বর পালিত হয় জাতীয়
কন্যাশিশু দিবস বা গার্ল চাইল্ড ডে। আর আন্তর্জাতিকভাবে পালিত কন্যাশিশু দিবস জাতিসংঘভুক্ত
সব দেশই পালন করে ১১ অক্টোবর। দিনটি সার্বজনীন। এর বাইরেও বিশ্বের বিভিন্ন দেশ নিজেদের
সুবিধা অনুযায়ী জাতীয়ভাবে আরেকটি দিন কন্যাশিশু দিবস হিসেবে পালন করে। এ দিনকে মেয়েদের
দিনও বলা হয়। তবে দিনটির উদ্দেশ্য শুধু লিঙ্গবৈষম্য দূর করাই নয়, একই সঙ্গে শিক্ষার
অধিকার, পরিপুষ্টি, আইনি সহায়তা ও ন্যায় অধিকার, চিকিৎসা সুবিধা, ও বৈষম্য থেকে সুরক্ষা,
নারীর বিরুদ্ধে হিংসা ও বলপূর্বক তথা বাল্যবিবাহ রোধও। বিশ্বে মেয়েদের অধিকার এবং
মেয়েরা যে প্রতিনিয়ত বিভিন্ন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয় দিনটি সেসব বিষয়কেও স্বীকৃতি
দেয়।
আধুনিকতার ছোঁয়া
সবখানে, তারপরও কন্যাশিশু ও নারী নির্যাতন কমেনি। নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতা কমেনি।
অনেকক্ষেত্রেই এখনও পুরুষতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থার আড়ালে নারী ও শিশুর প্রতি নির্যাতন-নিপীড়নের
ঘটনা ঘটছে। বর্তমান বাস্তবতায় প্রতিটি মানুষের নিরাপত্তা ও সুস্থ-সুন্দর জীবনযাপনের
সঙ্গে সঙ্গে একটি সমতাভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠায় কন্যাশিশু ও নারীদের অধিকার নিশ্চিত
করা প্রয়োজন। প্রতিটি দিনই নিরাপদ হোক আমাদের কন্যাশিশুর জন্য। আর তা নিশ্চিতের জন্য
শুধু নির্ধারিত একটি দিনে একটি দিবস পালনের মাধ্যমেই নয়, নারীর সম-অধিকার প্রতিষ্ঠায়
সবারই সারা বছরই সচেতন ভূমিকা পালন করা প্রয়োজন।