× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

অনলাইন জুয়ার সর্বনাশা থাবা

সম্পাদক

প্রকাশ : ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৩ ১১:১৮ এএম

অনলাইন জুয়ার সর্বনাশা থাবা

‘অনলাইন জুয়ার ফাঁদে সর্বস্বান্ত হচ্ছে বহু মানুষ’ শিরোনামে ১৭ সেপ্টেম্বর প্রতিদিনের বাংলাদেশ-এর শীর্ষ প্রতিবেদনে যে চিত্র উঠে এসেছে তা আমাদের উদ্বিগ্ন না করে পারে না। ‘জীবন নিয়ে জুয়া’—এই বাক্যটি আমাদের সমাজে হরহামেশা উচ্চারিত হতে শোনা যায়। প্রযুক্তির আশীর্বাদ যখন যোগাযোগসহ অনেক কিছুই হাতের মুঠোয় এনে দিয়েছে তখন এর অপব্যবহার একই সঙ্গে জীবনে সর্বনাশের গাঢ় ছায়াও ফেলেছে। জুয়ার ফাঁদ পাতা ভুবনে বিভিন্ন স্তরের মানুষ বিশেষ করে তরুণ-যুবসমাজ যেভাবে জড়িয়ে পড়েছে, তা অশনিসংকেত। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রতিদিন কোটি কোটি টাকার বাজি সংঘটিত হচ্ছে বিভিন্ন অনলাইন সাইটে। ক্রিকেট, ফুটবল জনপ্রিয় এসব খেলাসহ অন্য খেলা অনলাইন জুয়ার অন্যতম অনুষঙ্গ হয়ে উঠেছে। জুয়ার ওয়েবসাইটগুলোতে বিভিন্ন মাধ্যমে টাকা জমা করা হয়। প্রযুক্তির কল্যাণে নানা রকম প্রলোভন দিয়ে ‘টাকাওয়ালা’ বানানোর স্বপ্ন দেখিয়ে সর্বস্বান্তকরণের এই জাল ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে প্রায় সর্বত্র।

প্রতিদিনের বাংলাদেশ-এর মূল প্রতিবেদনের পার্শ্ব প্রতিবেদনে উঠে এসেছে আরও উদ্বেগজনক চিত্র। জুয়ার টাকা জোগাতে নানা অপরাধে জড়াচ্ছে তরুণ-যুবসমাজ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চটকদার নানা বিজ্ঞাপন প্রচার করে তাদের আকৃষ্ট করা হচ্ছে। এই অপছায়া ছড়িয়ে পড়েছে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলেও। অনেক মানুষ নিঃস্ব হওয়ার পরও প্রতারক চক্রের দৌরাত্ম্য কোনোভাবেই থামানো যাচ্ছে না। পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থার নানা অভিযানের পরও চক্রগুলো বিভিন্ন কৌশলে নিজেদের আখের গোছাচ্ছে মানুষকে সর্বস্বান্ত করে। অনলাইন জুয়া অপরাধজগতে যে নতুন উদ্বেগজনক মাত্রা যোগ করেছে তাতে এর বিরূপ প্রভাব আরও বহুমুখী হতে বাধ্য। আমরা মনে করি, অনলাইন জুয়ার ফাঁদ বন্ধ করতে জরুরি ভিত্তিতে বিশেষ আইন প্রণয়ন করা জরুরি। যতক্ষণ পর্যন্ত তা না হচ্ছে ততক্ষণ প্রচলিত আইনে বিশেষ ব্যবস্থা নিতেই হবে। শুধু যে সাধারণ জনগোষ্ঠীর বড় অংশই এর সঙ্গে যুক্ত হয়ে পড়েছে তা-ই নয়, সরকারি চাকরিজীবী এমনকি কিছু পুলিশ সদস্যেরও এক্ষেত্রে সম্পৃক্ততার অভিযোগ উঠেছে।

দেশে আর্থিক খাতের অন্যতম উপসর্গ হয়ে দাঁড়িয়েছে অর্থ পাচার। ব্যাংক জালিয়াতি, ঋণ খেলাপ করা, ই-কমার্সের ফাঁদ পাতা কিংবা হুন্ডি, অবৈধ এমএলএম ব্যবসাসহ ইত্যাদি নানা কায়দায় পাচার হচ্ছে অর্থ। এর মধ্যে দেশি-বিদেশি চক্র গোটা দেশে অনলাইন জুয়ার প্রসার ঘটিয়ে হাতিয়ে নিচ্ছে কোটি কোটি টাকা। অভিযোগ আছে, বিদেশের ক্যাসিনো ব্যবসায়ীদের সহায়তায় মোবাইল ফোনে জুয়ার অ্যাপ্লিকেশন তৈরি করে তা দেশে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এজেন্ট নিয়োগ করে এই অপকর্ম চালানোর খবরও ইতঃপূর্বে সংবাদমাধ্যমে এসেছিল। আমাদের স্মরণে আছে, গত বছরের শেষদিকে মেহেরপুরে অনলাইন জুয়ার সঙ্গে জড়িত ক্ষমতাসীন দলের ছাত্রসংগঠনের কয়েকজন নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করে জানা যায়, এর জাল অনেক বিস্তৃত। এর সঙ্গে যুক্ত রয়েছে অনেক চক্র। ইতঃপূর্বে বিটিআরসির তরফে বলা হয়েছিল, মোবাইল অ্যাপ ছাড়াও কুচক্রীরা বিভিন্ন ওয়েবসাইট বা ডোমেইনের মাধ্যমে সরাসরি অনলাইন গেম বা জুয়ার ফাঁদ পাতে। এ রকম বহু সাইট বিটিআরসি বন্ধ করার দাবিও করেছিল। কিন্তু দেখা যাচ্ছে, তারপরও কোনোই সুফল মেলেনি।

আমরা মনে করি, জুয়ার স্রোতে মানুষকে যেভাবে বিপথে টেনে নেওয়ার ফাঁদ তৈরি করা হয়েছে তা বন্ধে সাঁড়াশি অভিযান চালানো ছাড়া গত্যন্তর নেই। অনলাইন জুয়ার সর্বনাশা থাবায় আমাদের তরুণ-যুবসমাজের উল্লেখযোগ্য অংশের বিকাশের পথ কণ্টকাকীর্ণ করে তুলেছে কুচক্রীরা। তাদের সর্বনাশা থাবায় সামাজিক ও পারিবারিক জীবনে নেমে আসছে অন্ধকার। আমরা জানি, ‘নতুন জুয়া আইন-২০২৩’-এর খসড়া করেছিল স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ। বিদ্যমান বাস্তবতায় এ-সম্পর্কিত আইন প্রণয়ন এবং এর যথাযথ প্রয়োগ অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে। জুয়ার অ্যাপস বন্ধ করতে এবং এর সঙ্গে যুক্ত এজেন্টদের খুঁজে বের করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তযোগ্য শাস্তি নিশ্চিত করতেই হবে। বিটিআরসিকেও নজরদারি বাড়াতে হবে। একই সঙ্গে মোবাইল কোম্পানিগুলোকেও এ ব্যাপারে ভূমিকা রাখতে হবে। অনলাইন জুয়ার নেতিবাচকতা সম্পর্কে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ সামাজিক বিভিন্ন স্তরে জনসচেতনতা বাড়ানোর লক্ষ্যে বিশেষ কর্মসূচি নেওয়াও প্রয়োজন বলে আমরা মনে করি। এই বিষবৃক্ষ সমূলে উৎপাটন করতে না পারলে এর শাখা-প্রশাখা আরও ছড়াবে এবং সমাজের নতুন ঘাতক হিসেবে তা উদ্বেগের মাত্রা আরও বাড়িয়ে তুলবে। অনলাইন ‘বাজিকর’দের বেশিরভাগই শিক্ষিত। কারণ অনলাইনে বাজি ধরা হয় ডলারে এবং এজন্য প্রয়োজন প্রযুক্তিগত জ্ঞান ও দক্ষতা। কাজেই এই বিশেষ শ্রেণিকে সর্বাগ্রে নজরদারির আওতায় এনে ব্যবস্থা নেওয়া বাঞ্ছনীয়। 

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা