পরিপার্শ্ব
রাজীব নন্দী
প্রকাশ : ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৩ ১০:৪২ এএম
শাটল ট্রেন, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের আবেগ। এ বিশ্ববিদ্যালয়ের
অন্যতম আকর্ষণ শাটল। গত বছর শাটলকে রাঙিয়ে আলোচনায় এসেছিলেন জার্মান শিল্পী লুকাস
জিলিনজার। কিন্তু বছর না ঘুরতেই শাটলের বহিরঙ্গের সেই পরিবর্তন মিইয়ে গেল
অন্তরঙ্গের অব্যবস্থাপনায়। শাটল ট্রেনের ছাদে ভ্রমণের সময় গাছের ডালের
ধাক্কায় আহত হয়েছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের কমপক্ষে ১৫ শিক্ষার্থী। ঘটনার পর
শিক্ষার্থীরা রাতভর ক্যাম্পাসের জিরো পয়েন্ট সংলগ্ন এলাকায় ভাঙচুর ও আগুন জ্বালিয়ে
বিক্ষোভ করেন। শিক্ষার্থীরা ‘আমার ভাই আহত কেন, প্রশাসন জবাব চাই’ স্লোগান দেন।
বাংলাদেশে রেলযোগাযোগ ব্যবস্থায় হারানো ঐতিহ্য ফিরে আসতে
যাচ্ছে। কয়েক বছর ধরে দেখছি রেলের অভাবনীয় পরিবর্তন। রেলওয়ের চলমান বিভিন্ন
প্রকল্প ইতোমধ্যে দৃশ্যমান হতে শুরু করেছে। সম্প্রতি ঢাকা থেকে পঞ্চগড় ও বেনাপোল
পর্যন্ত পৃথক রেললাইন চালু হয়েছে। এ সপ্তাহে চালু হবে আখাউড়া-আগরতলা রেল।
ঢাকা-কক্সবাজার রেললাইন চালু হবে দ্রুতই। রেলের টিকিট বিক্রি অ্যাপসের আওতায়
এসেছে। যদিও রেলের উন্নয়ন নিয়ে রাশি রাশি কথা খরচ হয়েছে বিগত বিভিন্ন সরকারের
আমলে। এরপর আশ্বাসে আশ্বাসে দিন কেটে গেছে আমাদের।
কিন্তু বর্তমান সরকারের আমলে অবস্থার পরিবর্তন হয়েছে। এখন
বাংলাদেশের ১০টি মেগা প্রকল্প চলমান। এর মধ্যে রয়েছে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার
রেললাইনও। সারা দেশ যখন রেলওয়ে নেটওয়ার্কের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে, তখন রাষ্ট্র
কেন ২৮ হাজার শিক্ষার্থীর শাটল ট্রেন নিয়ে ভাবছে না? ২০১৯ সালে রেলপথমন্ত্রী নুরুল
ইসলাম সুজন বলেছিলেন, ‘বিদ্যমান শাটল ট্রেনের পাশাপাশি নতুন করে আধুনিক আরেকটি
শাটল যুক্ত করা হবে। যেটিতে ওয়াইফাই ও এসির সুব্যবস্থা থাকবে।’ কিন্তু আমরা ওই
আশ্বাসেরও বাস্তবায়ন দেখিনি!
পদ্মা সেতুর ওপর যেদিন রেলযাত্রা হলো, সেদিনই দেশের আরেকদিকে শাটল ট্রেন দুর্ঘটনায় পড়ল! এই বৈপরীত্যকে কীভাবে দেখব? তিন দিন আগেই প্রতিদিনের বাংলাদেশ-এ বেশ গুরুত্ব দিয়ে প্রকাশিত হয়েছিল একটি সংবাদ। এতে বলা হয়, চট্টগ্রাম শহর থেকে ২২ কিলোমিটার দূরের এ ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের অন্যতম মাধ্যম শাটল ট্রেন। ১২ থেকে ১৫ হাজার শিক্ষার্থী শাটলে নিয়মিত যাতায়াত করেন। বর্তমানে দুটি শাটল ট্রেন প্রতিদিন ১৪ বার শহর-ক্যাম্পাস-শহর আসা-যাওয়া করে। প্রতিটি শাটলে ১০টি বগি আছে। ২৮ হাজার শিক্ষার্থীর যাতায়াতে যা খুবই অপ্রতুল। প্রতি বছর জ্যামিতিক হারে শিক্ষার্থী বাড়লেও বাড়েনি শাটলের শিডিউল। বরং লোকবলের সংকটে করোনা-পরবর্তী বন্ধ করে দেওয়া হয় নিয়মিত শিডিউলের ডেমু ট্রেন। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে শাটল ট্রেনকে আমরা আদর করে ডাকতাম ‘আনন্দ-বেদনার চলন্তকাব্য’। বুদ্ধিজীবী বন্ধুরা ডাকতেন ‘চল্লিশ চাক্কার ক্যাম্পাস’। কেন দিন দিন মুখ থুবড়ে পড়ছে এ ট্রেন? এ ভোগান্তি নিরসনে কেবল চবি প্রশাসন নয়, সরকারেরও উদ্যোগ দরকার। এর জন্য প্রয়োজনীয় দেনদরবার যা করার তার দায় চবি কর্তৃপক্ষের। শাটল ট্রেনের অব্যবস্থাপনা নিয়ে ছাত্র-শিক্ষক সম্পর্কের অবনতি হোক, তা কোনোভাবেই কাম্য নয়।