× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

মৃত ‘রেমিট্যান্স যোদ্ধা’দের প্রাপ্য সম্মান দিন

সম্পাদক

প্রকাশ : ৩০ আগস্ট ২০২৩ ০৯:৪৮ এএম

মৃত ‘রেমিট্যান্স যোদ্ধা’দের প্রাপ্য সম্মান দিন

২১ দিন মর্গে থাকার পর আবুধাবি থেকে দেশে এসেছে প্রবাসী মোশারফের মরদেহ। তার মরদেহ দেশে পাঠানোর জন্য চাঁদার মাধ্যমে প্রায় দেড় লাখ টাকা জোগাড় করেন স্থানীয় প্রবাসীরা। খবরটি প্রকাশ পেয়েছে ২৯ আগস্ট প্রতিদিনের বাংলাদেশ-এ। শুধু মোশারফেরই নয়, অধিকাংশ প্রবাসী শ্রমিকের মরদেহই দেশে আসে পারিবারিক খরচ, সহকর্মীদের অনুদান ও বিত্তবানদের সহায়তায়। একটি পরিসংখ্যান বলছে, দেশে গড়ে প্রতিদিন ১০-১২ কর্মীর মরদেহ আসে। এ হিসাবে গত ৬ বছরে দেশে এসেছে প্রায় ২০ হাজার কর্মীর মরদেহ। আর গত এক যুগে এ সংখ্যা ৩৫ হাজারেরও বেশি। এ ধরনের মৃত্যু কখনোই কাম্য না হলেও আমাদের প্রতিনিয়ত বেদনাবিদ্ধ হতে হচ্ছে। একজন শ্রমিক কখনও কখনও ভিটেমাটি বিক্রি করে, বন্ধক রেখে অথবা ঋণের টাকায় বিদেশে পাড়ি জমান। তার চোখে থাকে অনেক স্বপ্ন। স্বজনরাও স্বপ্ন দেখেন সচ্ছলতার। কিন্তু সেই শ্রমিকই যখন স্বজনবিহীন পরিবেশে অকালে প্রাণ হারান, তখন তার পরিবার-পরিজনও অসহায় বোধ করেন। সঙ্গে তাদের ওপর চাপে লাশ ফেরত আনার বাড়তি দুশ্চিন্তা। কারণ বিদেশ থেকে মরদেহ আনতে টাকা লাগবে। সে টাকা কোথায়? এজন্য প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে সরকারের বরাদ্দ রয়েছে। কিন্তু সেই বরাদ্দ যৎসামান্য হওয়ায় তা সবার ভাগ্যে জোটে না। ফলে প্রবাসীর মরদেহ আনতে ভরসা হয়ে দাঁড়ান প্রবাসীরাই। তারাই চাঁদার মাধ্যমে জোগাড় করেন মরদেহ দেশে ফেরত পাঠানোর টাকা।

যাদের আমরা ‘রেমিট্যান্স যোদ্ধা’ বলছি, সেই যোদ্ধার শোকার্ত পরিবারকে কেন স্বজনের লাশ ফিরিয়ে আনতে হাত পাততে হবে? আর্থিক ও মানসিক হয়রানির শিকার কেন হতে হবে? আত্মীয়-পরিজনদের কেন অন্যের সহায়তার দিকে তাকিয়ে থাকতে হবে? কেন আবেদন নিয়ে কর্তৃপক্ষের দ্বারে দ্বারে ঘুরতে হবে। এই রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের মরদেহ বিদেশ থেকে বাড়ি পৌঁছে দেওয়ার দাবি কি অন্যায্য কিছু? আমরা প্রবাসী শ্রমিককে যেভাবে সম্মানিত করছি, মৃত্যুর পর তা তাদের দিচ্ছি না। এটা স্পষ্ট যে, রাষ্ট্র ও সমাজ দু’তরফেই আমরা যথাযথ দায়িত্ব পালন করছি না। আমরা বিতর্ক করতে জানি, কিন্তু স্বজনহারা পরিবারের কাছে তাদের প্রবাসী সন্তানের মরদেহ পৌঁছে দেওয়ার সম্মানটুকু দিতে পারি না। আমরা প্রবাসে মৃত পরিবারের সদস্যটিকে স্বজনদের শেষ দেখার মানবিক দাবিটুকু পূরণ করতে পারি না। কিন্তু স্বজনদের এই প্রত্যাশা তো খুব বেশি নয়।

আমরা এখানে প্রাসঙ্গিকভাবেই আরেকটি বিষয়ের দিকে সরকারকে মনোযোগ দিতে বলি। সড়ক দুর্ঘটনা ছাড়া অধিকাংশ প্রবাসীর মৃত্যুর কারণ হিসেবে ব্রেন স্ট্রোক ও হার্ট অ্যাটাকের কথা বলা হয়। কিন্তু এই শ্রমিকদের লাশ দেশে আনার পর ময়নাতদন্ত না হওয়ায় মৃত্যুর সঠিক কারণ অজানাই থাকে। তাই আমরা সরকারকে এ ব্যাপারেও উদ্যোগী হতে বলি। কেননা প্রবাসে মৃত শ্রমিকদের অধিকাংশেরই বয়স স্ট্রোক বা হার্ট অ্যাটাকের দিকে ইঙ্গিত দেয় না। এজন্য তাদের মৃত্যুর সঠিক কারণ নির্ধারণ, শ্রমিকদের নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষের গাফিলতিসহ কোনো কারণ থাকলে তা উদঘাটনের প্রয়োজনে যেমন, তেমনি কোথাও কোনো অপরাধ হয়ে থাকলে তার বিচারপ্রাপ্তির নিশ্চয়তার জন্যও ময়নাতদন্ত হওয়া জরুরি।

প্রবাসে মারা যাওয়া ব্যক্তিকে তার স্বজনদের কাছে পৌঁছানোর একটি সুষ্ঠু ব্যবস্থা থাকা প্রয়োজন। এক্ষেত্রে সরকারকে আরও বেশি মানবিক হতে হবে। এই রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের শ্রমে-ঘামেই সমৃদ্ধ হচ্ছে আমাদের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ। অথচ তারা নানাভাবে অবহেলিত। বিদেশে যাওয়ার পথেও তারা দেশের ইমিগ্রেশনেই নানান হয়রানি-ভোগান্তি ও দুর্ভোগের শিকার হন। সে কথা সংবাদমাধ্যমের কল্যাণে কারোরই অজানা নয়। বিদেশে আমাদের দূতাবাসগুলোর বিরুদ্ধেও তাদের প্রয়োজনীয় সহায়তা না করার কথাও সবার জানা। প্রবাসীর মরদেহ দেশে ফেরত আনা নিয়ে কোনো জটিলতা তৈরি হোক তা যেমন কাম্য নয়, তেমনি এক্ষেত্রে কালক্ষেপণও শুভ ইঙ্গিত দেয় না। আমরা মনে করি, উত্থাপিত সকল বিষয়েই সরকারকে ভাবতে হবে। এ বিষয়ে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং সংশ্লিষ্ট দূতাবাসগুলোকেও আন্তরিক হতে হবে। প্রবাসীর মরদেহের সদগতির বিষয়ে দ্রুত মীমাংসা করতে হবে। শোকার্ত পরিবারগুলোকে যেন স্বজনের লাশের পথ চেয়ে দিন গুনতে না হয় বা স্বজনকে শেষ বিদায় দিতে অসম্মানিত হতে না হয়-সেদিকে সতর্ক থাকতে হবে। আমরা কৌশলী হওয়ার চেষ্টা না করে, এক্ষেত্রে জানা অসুখগুলো দ্রুত সারানোর চেষ্টার কথা বলি। আর শুধু মুখের কথায় নয়, প্রকৃত প্রস্তাবেই রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের সম্মান দেওয়ার জন্য বলি। 

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা