× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

পরিপার্শ্ব

পেহেলগামে আশ্চর্যসুন্দর সকাল

ডা. লিপি বিশ্বাস

প্রকাশ : ২৭ আগস্ট ২০২৩ ১০:০৭ এএম

আপডেট : ২৭ আগস্ট ২০২৩ ১২:৩৪ পিএম

ডা. লিপি বিশ্বাস

ডা. লিপি বিশ্বাস

পেহেলগামে আশ্চর্যসুন্দর একটি সকালের স্মৃতি আজও মানসপটে অমলিন! এমন সকাল কটাই বা এসেছে এই জীবনে! আগের দিন রাতে প্রচণ্ড ক্লান্তি নিয়ে বিছানায় গিয়ে সঙ্গে সঙ্গে ঘুমিয়ে পড়েছিলাম। মাঝরাতে ঘুম ভাঙল। কম্বলের নিচে শুয়ে শুয়ে একটা অদ্ভুত আশ্চর্য শোঁ শোঁ আওয়াজ পেলাম। প্রথমে বুঝিনি কিছু। হঠাৎই মনে পড়ল আমাদের হোটেলের কাছেই ছিল লিডার নদী। এ তারই বয়ে চলার শব্দ! বিছানায় শুয়ে কখনও নদীর স্রোতের শব্দ শুনতে পাব, তা জীবনে ভাবিনি! আমরা সমতল সমতলের মানুষ, আমাদের নদীগুলো তীরে ছলাৎ ছলাৎ করে আছড়ে পড়ে। কিন্তু এরকম একটানা তরঙ্গের শব্দ তুলে বয়ে চলা পাহাড়ি নদীর পক্ষেই সম্ভব। কখনও কখনও কোনো সুখস্বপ্নের সুখ জেগে থেকেও পাওয়া যায়।

সকাল হলো। আমাদের রুমটা ছিল পশ্চিমমুখী। বিপরীত থেকে সূর্য উঠছিল। এর আলো পড়ছিল আমাদের জানালাবরাবর পাহাড়ে। সেই সোনাঝরা আলোর দৃশ্য ভুলব না। পৃথিবীর কোনো ক্যামেরার সাধ্য নেই সেই দৃশ্যের সঠিক মূল্যায়ন করা। কাশ্মীর যাওয়ার সপ্তাহ দুয়েক আগে থেকেই আমরা গুগল সার্চ করে আবহাওয়ার পূর্বাভাস দেখেছিলাম। সেখানে বৃষ্টি, ঝুমবৃষ্টি, বজ্রবৃষ্টি আমাদের মন ভেঙে দিচ্ছিল। সবাইকে সান্ত্বনা দিচ্ছিলাম এই বলে, কাশ্মীরে একটি খারাপ দিন অন্য জায়গার সবচেয়ে সুন্দর দিনের চেয়েও সুন্দর! কিন্তু মনে তেমন ভরসা পাচ্ছিলাম না। আমার ভ্রমণভাগ্য বেশ ভালো, এটুকুই ছিল ভরসা। সত্যি অবাক বিষয়, ফোরকাস্টিংয়ের মুখে ছাই দিয়ে পেহেলগামে আসার দিনে কয়েকবার মিনিট পাঁচেকের গুঁড়িগুঁড়ি বৃষ্টি বাদ দিয়ে বাকিটা সময় রোদই ছিল। পেহেলগামের পরদিন সকালটা তো একদম ঝলমলে রৌদ্রোজ্জ্বল হয়ে শুরু হলো। আমরা আবার বের হলাম নির্ধারিত শিডিউল অনুযায়ী স্পট ঘুরতে। ঘড়িতে তখন ৮টার কাছাকাছি। প্রথমে গেলাম ‘চন্দনওয়ারি’। সাতসকাল বলে ট্যুরিস্ট তেমন কেউ ছিলই না আমরা ছাড়া।

চন্দনওয়ারি হলো অমরনাথ ধাম যাত্রার বেসক্যাম্প। সেখান থেকেই পুণ্যার্থীরা অমরনাথের উদ্দেশে যাত্রা করেন। কাশ্মীরে অন্য কোথাও বরফ না পেলেও এখানে বরফ পাবেনই সব সময়। অনেকেই বরফের মধ্যে নানানরকম অ্যাকটিভিটি করেন। চন্দনওয়ারির স্নিগ্ধ সকালটা আমাদের সবারই স্মরণীয় স্মৃতি হয়ে থাকবে। এর পরের গন্তব্য ‘বেতাব ভ্যালি’। আশির দশকে সানি দেওল-অমৃতা সিং জুটির বিখ্যাত ‘বেতাব’ মুভির শুটিং হয়েছিল এখানে। সেই থেকেই এর নাম ‘বেতাব ভ্যালি’! তবে সত্যি বলতে বেতাব ভ্যালি নিয়ে তুলনামূলক আগ্রহ ছিল একটু কম। কিন্তু গিয়ে একেবারে মুগ্ধ হয়ে গেলাম! এত সুন্দরও কিছু হতে পারে! বেতাব ভ্যালি থেকে সোজা ‘আরু ভ্যালি’।

সেখানেও অনেক বিখ্যাত ছবির শুটিং হয়েছে। সৌন্দর্যের দিক থেকে আরুই হয়তো দর্শনার্থীদের সবচেয়ে বেশি প্রিয়। কিন্তু যেহেতু আরুতে সবশেষে গিয়েছিলাম, ততক্ষণে দুনিয়ার সব পর্যটক সেখানে চলে গিয়েছিলেন। এত মানুষ! রীতিমতো বিরক্ত লাগছিল। আসলে স্থানের সঙ্গে কাল আর পাত্রের যোগ অতি জরুরি। পেহেলগামের পুরোটা সময়ই কেটেছে অদ্ভুত ঘোরে। বিশ্বাস হচ্ছিল না সত্যি এত সুন্দর কিছুর সংস্পর্শে আছি! নাকি এটা কোনো স্বপ্ন। কিন্তু ওই যে বললাম, মাঝে মাঝে জীবনে এমন একেকটা ‘অবিশ্বাস্য’ দিন আসবে যার সুখস্বপ্নের ঘোরলাগা সুখ আপনি জেগে থেকেই পাওয়া সম্ভব। আরু ভ্যালি শেষ করে আমাদের পেহেলগাম ভ্রমণের ইতি টানলাম। ততক্ষণে সিদ্ধান্তে পৌঁছে গেছি লাদাখ যাব। সুতরাং এদিকের প্ল্যানিংয়ের সময় কিছুটা পুনর্বিন্যাস করতে হলো। তবে পেহেলগামে আরও একটি দিন না থাকার কষ্টটা থেকেই গেল। সব সুন্দরকেই একসময় ছেড়ে আসতে হয় এবং আমরাও এলাম। হয়তো আবার একদিন কোনো এক সোনাঝরা রৌদ্রোজ্জ্বল দিনে নতুন করে যাব বলেই।

  • সহকারী রেজিস্ট্রার, শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ, বগুড়া
শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা