× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

রাজনৈতিক মেরুকরণ

কোন পথে বাম রাজনীতি

ইমতিয়ার শামীম

প্রকাশ : ২৬ আগস্ট ২০২৩ ০৯:২৩ এএম

আপডেট : ২৬ আগস্ট ২০২৩ ১০:৫৮ এএম

ইমতিয়ার শামীম

ইমতিয়ার শামীম

বামপন্থি দলগুলো কি দেশের রাজনৈতিক মেরুকরণে বর্তমানে কিংবা অদূর ভবিষ্যতে কার্যকর কোনো ভূমিকা রাখতে পারবে? পারবে কি অন্তত গত শতকের আশি-নব্বই দশকের মতো কার্যকর ও সংঘবদ্ধ অবস্থান নিয়ে ডানপন্থি রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আন্দোলন ও দর কষাকষি করতে? এমন প্রশ্নে এই শতাব্দীর শুরুর দিকেও আমরা অনেকে হয়তো আশাবাদীই হতাম। কিন্তু এখন এই ক্রান্তিকালে দেশটা যখন বিভিন্ন পরাশক্তির ব্যাপক ভূরাজনৈতিক স্বার্থের কেন্দ্রবিন্দুতে চলে এসেছে, তখন বামপন্থিদের কারও নিষ্ক্রিয়তা, কারও সরকারসংশ্লিষ্টতা, কারও-বা গণতন্ত্র আনার নামে অগণতান্ত্রিক শক্তির সঙ্গে জোটবদ্ধ হয়ে ভবিষ্যতে ক্ষমতাকাঠামোর আস্বাদ নেওয়ার তৎপরতা সেই প্রত্যাশার শেষ বিন্দুটাকেও যেন মুছে দিতে চলেছে।

আজকাল আমরা অনেকেই পরিবর্তনের কথা বলছি, নতুন বিকল্প শক্তির প্রত্যাশার কথা বলছি। এ পরিবর্তন ও প্রত্যাশার কথা অবশ্য বামমনারাই বেশি বলেন। কিন্তু কার্যত বিকল্প শক্তি হয়ে ওঠার সাধনা, সংগ্রাম ও আন্দোলনে তারা কতটুকু সক্রিয় তা বলা মুশকিল। এতে কোনো সন্দেহ নেই, সমাজতান্ত্রিক বিশ্বব্যবস্থায় সংকট ও ভাঙন দেখা দেওয়ার পর বলতে গেলে পৃথিবীর প্রায় সব দেশেই বাম রাজনৈতিক ধারা দুর্বল হয়ে পড়ে। বাংলাদেশেও এর গভীর প্রভাব পড়েছে। আশির দশকে বাম সংগঠনসমূহের নেতৃত্বে কৃষক, শ্রমিকসহ বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠনের বিকাশ ও দাবিদাওয়াভিত্তিক সংগ্রাম সামরিক শাসনবিরোধী আন্দোলনে নতুন মাত্রা যুক্ত করেছিল। কিন্তু একদিকে সামরিক সেই শাসকের পতনের সমান্তরালে সমাজতান্ত্রিক বিশ্বব্যবস্থার ধ্স বামপন্থি সংগঠনগুলোকে ছত্রখান করে। অন্যদিকে দীর্ঘ এক দশকের সামরিক শাসনের নেতিবাচক দিক ও এর লুটেরা পুঁজিসংস্কৃতি মধ্যবিত্ত শ্রেণির মধ্যেও সংক্রমিত হয়। ফলে সামরিক শাসকের পতন ঘটলেও বিভিন্ন শ্রেণি ও পেশার মানুষ যেসব দাবিদাওয়ার ভিত্তিতে আন্দোলন করেছিল, মাঠেই সেগুলোর নিঃসঙ্গ মৃত্যু ঘটে। তার পর থেকে নির্বাচনকেন্দ্রিক গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় যেসব বেসামরিক দল সরকার গঠন করেছে, তারা কার্যত সামরিক শাসকের এজেন্ডাগুলোই এগিয়ে নিয়ে গেছেÑধর্মতান্ত্রিক রাজনীতি ও সংস্কৃতিকে উৎসাহিত করা হয়েছে, একমুখী শিক্ষাব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার দাবি ছুড়ে ফেলা হয়েছে, শিক্ষা খাতে কার্যত বাজেট বরাদ্দ কমেছে, বরাদ্দ বেড়েছে সামরিক খাতে, বেসরকারিকরণ অব্যাহত থেকেছে, প্রশাসন বিকেন্দ্রীকরণের নামে সামরিক সরকারের অগণতান্ত্রিক নীতিমালাকেই অব্যাহত রাখা হয়েছে। উদ্ভূত নতুন এই পরিস্থিতিতে বাম রাজনৈতিক দলগুলো একদিকে দল ও জোটকে সংগঠিত রাখতে ব্যর্থ হয়েছে, অন্যদিকে সামরিক শাসনবিরোধী আন্দোলনের সময় জেগে ওঠা দাবিদাওয়ার আন্দোলনও পারেনি এগিয়ে নিতে। বরং পা দিয়েছে তত্ত্বাবধায়ক সরকারকেন্দ্রিক রাজনীতি ও আন্দোলনের ফাঁদে। এতে তাদের জনবিচ্ছিন্নতা বেড়েছে, বুর্জোয়া রাজনৈতিক দলগুলোর ওপর নির্ভরতা বেড়েছে কি আন্দোলনে, কি নির্বাচনে।

বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে অবশ্য সমাজতান্ত্রিক বিশ্বব্যবস্থায় ধ্স নামার পরও ২০০৭-০৮ সালের অর্থনৈতিক সংকটের সময় বড় বড় পুঁজিবাদী দেশসহ অনেকখানেই বাম রাজনীতি নতুন করে প্রাণ ফিরে পায়। এর কয়েক বছরের মাথায় ২০১১ সালে খোদ যুক্তরাষ্ট্রে ‘অকুপাই ওয়াল স্ট্রিট’ মুভমেন্টের মধ্য দিয়ে বামপন্থিদের পুনরুত্থান ধনতান্ত্রিক বিশ্বব্যবস্থার দুর্বলতা আবারও সামনে নিয়ে আসে। অনেকে উদ্বেল হন, বিস্মিতও হন অনেকে। বেশ কয়েকটি রাষ্ট্রে বাম-গণতান্ত্রিক শক্তি নির্বাচিত হয়ে সরকারও গঠন করে। স্পষ্টই বোঝা যায়, বিশ্ব অর্থনৈতিক সংকট মার্কসীয় রাজনীতির ধারা ফিরিয়ে আনছে। কিন্তু লেখাই বাহুল্য, বাংলাদেশ এসবের প্রবল ব্যতিক্রম। এখানে বামপন্থি রাজনীতিতে তরুণদের সম্পৃক্ততা আর বাড়েনি, প্রথানুগত বাম রাজনৈতিক ধারারও জাগরণ ঘটেনি। একশ্রেণির তরুণের মধ্যে বামচিন্তার প্রভাব এখনও দেখা যায় বটে, তবে অস্তিত্বের সংকটও উপলব্ধি করা যায় তাদের চিন্তাধারায় মিশে থাকা ধর্মবাদী ও নৈরাজ্যবাদী রাজনৈতিক ও দর্শনগত ধারার গহ্বরের দিকে তাকিয়ে।

বর্তমান সরকারের শাসনামলে যেসব আন্দোলন হয়েছে, সেগুলোর সংঘবদ্ধ হওয়ার প্যাটার্ন কিংবা নেতৃত্বের ধরনের দিকে তাকালেই বোঝা যায়, বাম সংগঠনগুলো আর আন্দোলনের স্ফুলিঙ্গ জ্বালাতে পারছে না, রাজপথে যে স্ফুলিঙ্গ হঠাৎ হঠাৎ জ্বলে উঠছে সেগুলোতেও কার্যকর কোনো ভূমিকা রাখতে পারছে না। বিসিএস পরীক্ষা পদ্ধতিকে যৌক্তিক করে তোলার আন্দোলন থেকে শুরু করে নিরাপদ সড়কের আন্দোলন সবই বামপন্থি ছাত্র সংগঠনগুলোর দুর্বলতার কারণে শেষ পর্যন্ত অপশক্তিদের সংঘবদ্ধ হওয়ার আধার হয়ে উঠেছে। ফলে গভীর সততা নিয়ে, তীব্র আবেগ নিয়ে নতুন যে তরুণরা এসব আন্দোলনের মধ্য দিয়ে উঠে এসেছেন, তারাও নতুন কোনো রাজনৈতিক মেরুকরণ ঘটাতে পারেননি।

এদিকে বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, চীন, জাপান, ভারতের মতো বৈশ্বিক-আঞ্চলিক পরাশক্তিগুলোর ভূরাজনৈতিক স্বার্থের কেন্দ্রবিন্দুতে চলে এসেছে। যে দলগুলোকে এখন বড় দল হিসেবে দেখা হচ্ছে, তারা বারবার ওইসব পরাশক্তির ভূরাজনৈতিক স্বার্থের দ্বন্দ্বের মধ্যেই ঘুরপাক খাচ্ছে। এ আবর্তন থেকে বেরিয়ে আসতে চাইলে যে প্রবল ধাক্কার মুখোমুখি হতে হবে, তা সামলানোর মতো প্রস্তুতি, দক্ষতা ও জনসমর্থন কোনোটাই তাদের নেই। কিন্তু কয়েক দশক ধরে যে রাজনীতির চর্চা করছে, তার ধারাবাহিকতায় বামপন্থিরাও কোনো বিকল্প হয়ে উঠতে পারছে না, বিকল্প গঠনের ক্ষেত্রে যে প্রতিকূল পথ পেরোতে হবে তার ধকল তারা নিতে পারছে না। গত কয়েক দশকে বাংলাদেশে যা যা ঘটেছে, তা সংক্ষেপে বলতে গেলেও নেহাত কম হবে না। এই সময়ে সমাজতান্ত্রিক বিশ্বব্যবস্থার অবসান ঘটেছে, যার প্রভাবে বাম রাজনীতিতেও নতুন মেরুকরণ ঘটেছে; দেশে একটি নাগরিক অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে ১৯৯০ সালে সামরিক জান্তা এরশাদের পতন ঘটেছে, কিন্তু এ অভ্যুত্থান নিয়ে অনেকে যত পুলকিতই হোন না কেন, কার্যত এর পর সমাজে একদিকে বিরাজনীতিকরণের চারা বড় হতে শুরু করেছে, অন্যদিকে ছাত্র আন্দোলনের গুরুত্বও খর্ব হয়ে গেছে; আবার বিরাট এক মধ্যবিত্ত শ্রেণির উত্থান ঘটেছে, বুর্জোয়া ও শ্রমিক শ্রেণির মধ্যবর্তী বিস্তৃত এই স্তরের উত্থান পরস্পরবিরোধী ওই দুই শ্রেণির মুখোমুখি বা সংঘাতপূর্ণ হওয়ার প্রক্রিয়াকে দীর্ঘ ও দুর্বল করে ফেলেছে। এই মধ্যবিত্ত শ্রেণির একটি বড় অংশ বিংশ শতাব্দীর মতো আর দোদুল্যমান নয়। মধ্যবিত্তের শ্রেণিগত দোদুল্যমানতা, মূল্যবোধ আর সাংস্কৃতিক স্বচ্ছতা একসময় বাম রাজনীতির প্রতি তাদের প্রবল সহানুভূতিশীল করে তুলেছিল, কিন্তু এখন বিশ্ববাজারে দেশ থেকে মেধা পাচারের পাশাপাশি দক্ষ, শিক্ষিত জনশক্তিকেও কার্যত সেবা ও বিপণন খাতের শ্রমিক হিসেবে পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে। এদিকে চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের ধারায় শ্রমিকের সংজ্ঞাও পাল্টেছে, কৃষিও এখন পুঁজিঘন শিল্পের ক্ষেত্র হয়ে উঠেছে, শিক্ষিত মধ্যবিত্তের একটি বড় অংশই হয়ে উঠেছে বৈশ্বিক প্রযুক্তি খাতের দক্ষ শ্রমিক। এই শ্রমজীবিতা তরুণদের মধ্যে নতুন নৈতিকতা, মূল্যবোধ ও সংস্কৃতির জন্ম দিচ্ছে। তথ্যপ্রযুক্তির এই যুগ যে নৈতিকতা, মূল্যবোধ ও সংস্কৃতি আমাদের সামনে নিয়ে আসছে তার সঙ্গে পুরোনো ধ্যানধারণার সংঘাতে অনেকের চিন্তা-মানসে বিকৃতিও দেখা দিচ্ছে। এমন নানা প্রক্রিয়ায় মানুষের সংগ্রাম ও আন্দোলন করার, অন্যায়ের প্রতিবাদ করার শক্তিও ক্ষয়ে যাচ্ছে।

এমন প্রেক্ষাপটে বামপন্থিদের একটি অংশ ইতিহাসগত ও সাংস্কৃতিক নৈকট্যের কারণে, রাজনৈতিক সংগ্রামের ধারাবাহিকতাজনিত প্রভাবের পথ ধরে সরকারি দলের সঙ্গে জোটবদ্ধ থাকার পথ বেছে নিয়েছে। যদিও এ পথ কতটা সঠিক, তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। তা ছাড়া এই ঐক্যবদ্ধতার কারণে তারা জনগণের নিত্যদিনের ইস্যুগুলো নিয়ে সংগ্রাম করার শক্তি হারিয়ে ফেলেছে। মন্ত্রিত্ব, এমপিত্ব কিংবা অন্য কোনো বিশেষ সুবিধা নিয়ে কয়েকটি বাম দলের নেতা যতটা লাভবান হয়েছেন, তা না পেরেছে তাদের দলকে বিকশিত ও সংঘবদ্ধ করতে, না পেরেছে তাদের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করতে। তাদের সামনে ধর্মনিরপেক্ষতা আর জঙ্গিবাদবিরোধিতার মুলোও ঝুলছে। কিন্তু কার্যত সরকারি দলও ধর্মকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করছে এবং শিক্ষা-সংস্কৃতি থেকে শুরু করে নানা ক্ষেত্রে ধর্মবাদের পৃষ্ঠপোষকতা করছে। বামপন্থিদের আরেকটি ধারা চেষ্টা করছে ‘রাষ্ট্রসংস্কার’ আন্দোলনের ঢেউ তুলতে। কিন্তু শুরুতে তা অনেকের দৃষ্টি আকর্ষণ করলেও এখন মিলেমিশে যেতে বসেছে ‘রাষ্ট্র মেরামতের’ দাবির তরঙ্গে। এমন হওয়া অস্বাভাবিক নয় যে, ষাটের দশক থেকে জাতীয় মুক্তি আন্দোলনে সম্পৃক্ত বামপন্থিদের ধারাটি যেভাবে জাতীয়তাবাদীদের স্রোতে প্রায় লীন হয়ে পড়েছে, একইভাবে এ ধারাটির বর্তমানের মেধাচর্চা ও আন্দোলনের ফসল সামরিকতন্ত্রের ছায়ায় বেড়ে ওঠা জাতীয়তাবাদী ধারায় মিশে যাবে।

কার্যত বামপন্থি শক্তি সুবিধাজনক বুর্জোয়া রাজনৈতিক ধারার সঙ্গে জোটবদ্ধ হওয়ার যে পথ বেছে নিয়েছে, তা তাদের জনগণের কাছে মূল্যহীন করে ফেলেছে। তাদের ভোটব্যাংক কখনোই উর্বর ছিল না, কিন্তু এটি অস্বীকার করার জো নেই, রাজনৈতিক অঙ্গনে বিশেষত আন্দোলনের মাঠে তাদের অবস্থান গত নব্বইয়ের দশকেও ছিল শক্তিশালী। শক্তি কম ছিল তাদের, কিন্তু তা যে শূন্যের কোঠায় পৌঁছেছে সেটা বোঝা যাচ্ছে বর্তমান রাজনৈতিক আবর্তনে। বামপন্থি দলগুলোর নেতৃত্বে পরিবারতন্ত্র নেই বটে, কিন্তু নেতৃত্বের যে শিলালিপি দেখা যাচ্ছে, তাতে এ প্রশ্নও সামনে চলে আসে যে, তাদের অভ্যন্তরেও নেতৃত্ব নির্বাচনের ক্ষেত্রে গণতন্ত্রের চর্চা আদৌ আছে কি না। তরুণ কোনো নেতৃত্বের উত্থান ছাড়া তাই বামপন্থি রাজনীতির ঐতিহ্যের যে প্রত্যাবর্তন ঘটবে না, জনগণের মধ্যে আস্থা ও আশা জাগবে না, তা বোধহয় অনায়াসেই বলে দেওয়া যায়। 

[email protected]

০৭-০৮ ভাদ্র ১৪৩০

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা