পরিপ্রেক্ষিত
ইয়ান স্যাম্পল
প্রকাশ : ২৫ আগস্ট ২০২৩ ১২:২৯ পিএম
আপডেট : ২৫ আগস্ট ২০২৩ ১২:৩৪ পিএম
মহাকাশে
সফল একটি অভিযানের ক্ষেত্রে অসংখ্য ঝুঁকির বিষয় জড়িত থাকে। কিন্তু চন্দ্রযান-৩
মিশনের চাঁদে সফল অবতরণের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত ঘনঘটা মহাকাশে ঘটেনি। আলোড়ন ঘটেছে
গোটা বিশ্বে। চন্দ্রযান-৩ মিশন সফলভাবে চাঁদের পৃষ্ঠে অবতরণের পর কন্ট্রোল রুমের
সবাই একে অন্যকে অভিনন্দনে ভাসিয়ে উদযাপন করেন। আর যারা অধীর আগ্রহে ভারতের এই
সাফল্যের দৃশ্য দেখছিলেন, তারা আনন্দে উল্লসিত হয়ে ওঠেন। ভারতই সর্বপ্রথম চাঁদের
দক্ষিণ প্রান্তে কোনো মহাকাশযান সফলভাবে প্রেরণ করেছে। চাঁদের এ অংশে গভীর গিরিখাদ
রয়েছে। বিজ্ঞানীদের ধারণা, এ অংশে পানি, অক্সিজেন এবং সম্ভবত জীবাশ্ম জ্বালানিও
খুঁজে পাওয়া সহজ হবে। এ অভিযানের সফলতা আরও অনেক সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিয়েছে। লুনার
অরবিটের প্রথম মহাকাশযান হিসেবে এই প্রোব মঙ্গলগ্রহেও ভবিষ্যতে অভিযানের
প্রস্তুতিতে সহায়তা করবে। অন্তত এখন আর পৃথিবী থেকে মঙ্গলে অভিযানের জন্য
প্রয়োজনীয় বস্তু পাঠানোর অতিরিক্ত খরচ আর ঝুঁকি নিতে হচ্ছে না।
অ্যাপোলোর
চন্দ্রাভিযানের পর অর্ধশতক পার হয়ে গেছে। এতদিন পরও চাঁদে সফল অবতরণ বিরাট অর্জন। মানব
ইতিহাসে চতুর্থ রাষ্ট্র হিসেবে চাঁদে সফলভাবে মহাকাশযান অবতরণ করতে পেরেছে ভারত।
ভারতের আগে যুক্তরাষ্ট্র, চীন এবং সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়ন এ সফলতা অর্জন করতে
পেরেছিল। ভারত চাঁদের একটি প্রান্তকে বাছাই করেছে অবতরণের জন্য। চাঁদের ইকুয়েটরের
কাছে অবতরণের সহজ পথে না গিয়ে তারা আরেকটু কঠিন অর্জনের কথা ভেবেছে। এজন্য তাদের এ
সফলতার গল্প আরও বেশি সম্ভাবনাময় ও উৎসাহ জাগরূক। স্পেস পার্ক লিচেস্টারের
ডিরেক্টর প্রফেসর মার্টিন বারস্টো জানিয়েছেন, ‘অভিযান সফল হবে এ কথা বললেই অর্জন
করা সহজ হয় না। চাঁদের প্রান্তে অবতরণের কাজটি অনেক কঠিন। বরং ইকুয়েটরে অবতরণ সহজ।
আপনাকে প্রান্তের অরবিটে মহাকাশযান প্রথমে পাঠাতে হবে যেন সফলভাবে অবতরণ ঘটে। এ
কাজটি অতীতে কেউ করেনি। এমনকি যুক্তরাষ্ট্রও এ কাজে সফল হয়নি।’
ভারতের
এ অর্জনের আরেকটি উল্লেখযোগ্য দিক হলো, কদিন আগেই রাশিয়ার লুনা-২৫ মিশন ব্যর্থ
হয়েছে। দীর্ঘ ৪৭ বছর পর প্রথম চাঁদে অবতরণের এই অভিযানে তারা সফল হয়নি। ইউসিএলের
মুলার্ড স্পেস সায়েন্স ল্যাবরেটরির প্রফেসর এন্ড্রিউ কোটস জানান, ‘চাঁদ ও মঙ্গলের
কক্ষপথে সফলভাবে মহাযান প্রেরণের পর ভারত মহাকাশ গবেষণার সম্ভাবনার নতুন দিক
উন্মোচন করেছে। তারা পৃথিবীর গুটিকয় রাষ্ট্রের একটি যারা মহাকাশের সম্ভাবনা
আবিষ্কারের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তাদের প্রকৌশল ও বৈজ্ঞানিক গবেষণার ইতিহাসে এটি
নিঃসন্দেহে এক বড় অর্জন।’
ব্রিকস
সম্মেলনে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি অন্যান্য সহযোগী রাষ্ট্রের
প্রতিনিধিদের সঙ্গে অবতরণের সরাসরি সম্প্রচার দেখেছেন। তারপর তিনি তার বক্তব্যে
বলেন, ‘ভারত এখন চাঁদের পৃষ্ঠে। আকাশই আমাদের একমাত্র সীমানা নয় আর।’ জটিল এক সময়ে
ভারত মহাকাশ গবেষণার জগতে ধ্রুবতারা হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। ইতোমধ্যে তারা রকেট
উৎক্ষেপণের বিষয়টিতে এগিয়ে গেছে এবং আগামী কয়েক বছরে এ শিল্পে তাদের বিনিয়োগ পাঁচ গুণ
বাড়ানোর পরিকল্পনা রেখেছে। মহাকাশ অভিযান পরিচালনার ক্ষেত্রে সাশ্রয়ী পথ উন্মুক্ত
করতে চলেছে ভারত। বৈশ্বিক মহাকাশ শিল্প বর্তমানে ৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের সমপরিমাণ
একটি সম্ভাবনাময় শিল্প। ধারণা করা হচ্ছে, ২০৩০ নাগাদ তা ৩০ বিলিয়ন ডলারের শিল্পে
পরিণত হবে। আর এ শিল্পে গুটিকয় দেশেরই আধিপত্য রয়েছে। সেখানে ভারতের অংশগ্রহণ
নিঃসন্দেহে এশিয়া অঞ্চলের জন্য আশাজাগানিয়া।