× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

বিশ্বাসঘাতকদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধের সেই দিন

মো. মাসুদুল হক মাসুদ

প্রকাশ : ১৫ আগস্ট ২০২৩ ১২:২৬ পিএম

আপডেট : ১৫ আগস্ট ২০২৩ ১২:৫৯ পিএম

মো. মাসুদুল হক মাসুদ।

মো. মাসুদুল হক মাসুদ।

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট সকালেও অন্য দিনগুলোর মতো সূর্য উঠেছিল পূর্ব দিগন্তে। গাছে গাছে পাখির কলতানও ছিল স্বাভাবিক। প্রাতঃক্রিয়া সেরে নাশতার টেবিলে বসেছি। হঠাৎ বজ্রাহতের মতো স্থির হয়ে গেলাম বেতারে প্রচারিত এক ঘোষণায়। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যা করা হয়েছে। রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা দখল করেছে সেনাবাহিনী। নিজের কানকে বিশ্বাস করতে পারছিলাম না। রেডিওটা হাতে নিয়ে আবারও শুনলাম সেই নির্মম ঘোষণা। সত্যিই বাঙালি জাতির মুক্তিদাতা, স্বাধীনতার স্থপতি বঙ্গবন্ধু আর আমাদের মাঝে নেই। কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে বসে রইলাম। হাউমাউ করে কাঁদলাম কিছুক্ষণ।

মনে নানা প্রশ্ন, বাকি নেতৃবৃন্দের অবস্থা কী? তারা কে কোথায় আছেন? দলীয় কোনো কর্মসূচির জন্য উন্মুখ হয়ে অপেক্ষা করছিলাম। তাৎক্ষণিকভাবে আমি স্থানীয় নেতা-কর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করি। পরবর্তীতে স্থানীয় কিছু কর্মীর সহযোগিতায় বঙ্গবন্ধু হত্যার প্রতিবাদে ভূঞাপুর পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে থেকে বাসস্ট্যান্ড পর্যন্ত ১৪ থেকে ১৫ জনের একটি ঝটিকা মিছিল করি। কয়েক দিনের মধ্যে বিশ্বাসঘাতক মোশতাকের নেতৃত্বে মন্ত্রিসভা গঠিত হয়। তখন মনে হলো, মুক্তিযুদ্ধের কিংবদন্তি কাদেরিয়া বাহিনীর প্রধান বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকীর কথা।

বঙ্গবন্ধু তাকে টাঙ্গাইল জেলার গভর্নর নিযুক্ত করেছিলেন। বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকীর অবস্থান জানার চেষ্টা করি। হঠাৎ একদিন আমার ভূঞাপুরের বাসার সামনে এক অদ্ভুত লোককে দেখতে পাই। সে পাগলের বেশে চটের কাপড় পরে ছিল। আমাকে একা পেয়ে চটের ভেতর থেকে একটি চিরকুট বের করে দেয়। কিছুটা অবাক হয়ে চিরকুটটা হাতে নিই, দেখি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকীর লেখা। চিঠির বক্তব্য ছিল, ‘সুপ্রিয় মাসুদ, পত্রপাঠ চলে আস। ইতি কাদের সিদ্দিকী।’ পত্রবাহকের কাছে জানতে পারি কাদের সিদ্দিকী তখন ভারতে। ইন্দিরা গান্ধীর নেতৃত্বের তৎকালীন কংগ্রেস সরকার তাকে আশ্রয় দিয়েছে। ভারতে তিনি কিছু অস্ত্র সংগ্রহ করেছেন, সেগুলো নিয়ে 

বাংলাদেশে প্রবেশের সিদ্ধান্ত নেন। উদ্দেশ্য মানুষকে সংগঠিত করা। তিনি মাইনকার চর হয়ে যমুনা নদী দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেন। তিনি যখন নিশ্চিন্তপুর আসেন তখন তৎকালীন সামরিক সরকারপ্রধান জিয়াউর রহমান মেজর খালেদের নেতৃত্বে সেনাবাহিনীর একটি দলকে সেখানে পাঠান। সৈন্যরা হেলিকপ্টার নিয়ে নিশ্চিন্তপুর পৌঁছে। দুপক্ষের মধ্যে তুমুল যুদ্ধ হয়। বঙ্গবীরের সঙ্গে থাকা বগুড়া জেলার তৎকালীন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক খসরুর প্রশিক্ষণ ছিল হেলিকপ্টার চালানোর। তিনি হেলিকপ্টারটি দখলের জন্য অগ্রসর হলে হেলিকপ্টারে থাকা পাইলট গুলি করে। ঘটনাস্থলেই খসরু নিহত হন। বঙ্গবন্ধু হত্যার প্রতিবাদে প্রতিরোধযুদ্ধে প্রথম শহীদ খসরু।

বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী দলবল নিয়ে যমুনা নদী হয়ে কালিহাতির পটল বাজারে পৌঁছেন। পথে নলিন বাজারে আমার সঙ্গে তার দেখা হয়। এ সময় তিনি আমার কাছে ৭০টি এম-৩ রেখে যান। বঙ্গবীরের কাছ থেকে অস্ত্রগুলো বুঝে নেওয়ার সময় আমার সঙ্গে ছিল বাগবাড়ীর বাদশা ও শাহজাহান। অস্ত্রগুলো দেওয়ার সময় বঙ্গবীর বলেন, ‘জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবকে হত্যাকারী জিয়াউর রহমানের সামরিক সরকারের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছি। এই প্রতিরোধযুদ্ধে জনগণকে উদ্বুদ্ধ করে সংগঠিত করতে কাজ শুরু করো।’ পটল বাজারে তিনি সমবেত জনতার উদ্দেশে বক্তব্য রাখেন। পরবর্তীতে তিনি কালিহাতি আবু সাইদ চৌধুরীর বাসভবন থেকে ওয়্যারলেস সেট নিয়ে সখীপুর পাহাড়ে অবস্থান নেন। মণিপুর থেকে পায়ে হেঁটে পৌঁছেন ময়মনসিংহের সম্ভুগঞ্জে। ফেরি পার হয়ে একটি বাস দখল করে তিনি নিজেই ড্রাইভ করে হালুয়াঘাট যান এবং হালুয়াঘাট থানা দখল করেন। পরে থানার ওসিকে পরিবারসহ হালুয়াঘাট সীমান্ত হয়ে ভারত নিয়ে যান। 

বঙ্গবীরের দেওয়া অস্ত্রগুলো নিরাপদ জায়গায় রাখি। এরপর আমি পশ্চিম ভূঞাপুরের বকুল, বীরহাটির মতিনসহ বেশ কয়েকজনকে অস্ত্র চালানোর প্রশিক্ষণ দিই। আমাদের সঙ্গে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা শাহজাহান, মহির, বাদশা, ইকরাম উদ্দিন, তারা মৃধা, বদিউজ্জামান, সাঈদসহ বেশ কয়েকজন যোগ দেয়। পরবর্তীতে বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী আমাদেরকে ভারতে যাওয়ার জন্য সংবাদ প্রেরণ করেন। আমরা নৌপথে সিরাজগঞ্জ, রংপুর, দিনাজপুর হয়ে বাংলাবান্ধা সীমান্ত দিয়ে ভারতে প্রবেশ করি। পরে শিলিগুড়ি হয়ে মাইনকার চর পৌঁছাই। মাইনকার চর বিএসএফ ক্যাম্পে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদে আমরা জানাই, বঙ্গবীর আব্দুল কাদের সিদ্দিকীর নির্দেশে ভারত এসেছি। তারা বঙ্গবীরের সঙ্গে ওয়্যারলেসে কথা বলতে চাইলে আমি তাদেরকে অনুরোধ করি এই বলে যে, ওনাকে যেন জানানো হয় টাঙ্গাইল থেকে মাসুদ লোকজন নিয়ে এসেছে। সংবাদ পেয়ে বঙ্গবীর মাইনকার চর ক্যাম্প হতে মহেন্দ্রগঞ্জ ক্যাম্পে আসেন। তিনি আমাদেরকে চান্দুভূই পাহাড়ে নিয়ে যান। চান্দুভূই ক্যাম্পে দেখা হয় সুলতান মোহাম্মদ মনসুর, প্রয়াত ফারুক আহম্মেদ, কাদের সিদ্দিকীর দেহরক্ষী আব্দুল্লাহসহ নাম না জানা অনেকের সঙ্গে। আমরা ক্যাম্পে ২১ দিন অবস্থান করি। এ সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৪ জন যুবক আমাদের সঙ্গে যোগ দেয়। বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী আমাদের দুটি গ্রুপে ভাগ করে আমাকে একটি গ্রুপের কমান্ডারের দায়িত্ব অর্পণ করেন। আমার দলে ডেপুটি কমান্ডার ছিলেন ইসলামিক ফাউন্ডেশনের প্রয়াত ডিজি শামীম আফাজ। অন্য আরেক দলের কমান্ডার ছিলেন প্রয়াত এমপি নাসিম ওসমান। 

বঙ্গবীর আমাদেরকে নেত্রকোণা হয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করার নির্দেশ দেন। আমার গ্রুপকে নেত্রকোণা এবং নাসিম ওসমানের গ্রুপকে ঢাকার দিকে রওনা হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। নির্দেশনা মোতাবেক আমরা নেত্রকোণা হয়ে বাংলাদেশে ঢুকে কাঞ্চনপুর নামের একটি গ্রামের চেয়ারম্যানের বাড়িতে অবস্থান নিই। সারা দিন আমরা ওই বাড়িতে অবস্থান করি। নিরাপত্তার জন্য এ সময় বাড়ির সবাইকে জিম্মি করে রাখলেও তাদের একজন পালিয়ে নিকটবর্তী বিডিআর ক্যাম্পে খবর দেয়। খবর পেয়ে বিডিআর সদস্যরা বিকালের মধ্যে পুরো বাড়ি ঘেরাও করে। আমাদেরকে ধরার জন্য বাড়ির ভেতর প্রবেশের চেষ্টা করলে আমাদের সঙ্গে তুমুল গুলিবিনিময় হয়। আমাদের অবস্থান বাড়ির ভেতরে হওয়ায় আমরা ২২ জনই অক্ষত থাকি। অন্ধকার নামলে ওই বাড়ি থেকে পালিয়ে আসি। অন্ধকারে দৌড়ানোর সময় চারপাশের কিছুই দেখতে পাচ্ছিলাম না। সামনে নদী, নদীতে পানি ছিল না। শুকনো নদীতে পড়ে আমার পায়ের গোড়ালিতে প্রচণ্ড আঘাত পাই। হাঁটতে পারছিলাম না। দলের সদস্যরা আমাকে নিয়ে রাতে এক বাড়িতে আশ্রয় নেয়। পরদিন সকালে কাঞ্চনপুর গ্রামের পাশের নুরুল ইসলাম নামে একটি ছেলে বাসে আমাকে নিয়ে এসে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজে ভর্তি করিয়ে দেয়। 

আসার সময় বাকি সবাইকে নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যেতে এবং ঢাকা আক্রমণের জন্য বঙ্গবীরের নির্দেশের অপেক্ষায় থাকতে বলি। আমি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তির সময় নিকলার সুকুমার রায়ের ছেলে সুজিত রায় এবং বামহাটার সাইফুল ইসলাম মেডিকেল কলেজের চূড়ান্ত বর্ষের ছাত্র ছিল। ওরা নিয়মিত আমার খোঁজখবর রাখত। একদিন ওদের কাছে জানতে পারি, মেডিকেল কলেজ আঙিনা খুবই উত্তপ্ত হয়ে আছে। ওখানে থাকা নিরাপদ না মনে করায় চলে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিই।

সুজিত এবং সাইফুল আমাদেরকে টাঙ্গাইলের বাসে উঠিয়ে দেয়। নুরুল ইসলাম নামের ওই ছেলেটির সহযোগিতায় আমি ঘাটাইলের পাকুটিয়ায় নেমে দৌলতপুর হয়ে বাগবাড়ী আমার নিজের বাড়িতে পৌঁছি। নুরুল ইসলাম আমাকে বাড়িতে রেখে চলে যায়। বিপদ মাথায় নিয়েও আমাকে সাহায্য করায় আমি তার প্রতি আজীবন কৃতজ্ঞ থাকব। বাড়িতে এসে জানতে পারি পুলিশ আমাকে খুঁজছে। এ অবস্থায় বাড়িতে থাকা নিরাপদ না। তাই ঢাকায় আমার বড় ভাই বীর মুক্তিযোদ্ধা প্রয়াত শামসুল হকের কাছে চলে যাই। তিনি তখন ঢাকার মিরপুরে থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ বিভাগে পড়তেন। এক মাসের মতো ঢাকায় থেকে আবারও বাড়িতে ফিরে আসি। ভূঞাপুরে এসে আমার একান্ত কাছের কিছু মানুষকে অস্ত্রের প্রশিক্ষণ দিই। আমি যে বিশ্বস্ত কিছু সহযোদ্ধাকে অস্ত্র প্রশিক্ষণ দিচ্ছি সে প্রশিক্ষণের কথা লোকমুখে ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে আমার বিরুদ্ধে গোয়েন্দা নজরদারি শুরু হয়। তারই ফলে আমাদের গ্রামের চেয়ারম্যান মৃত মীর মোয়াজ্জেম হোসেন দুদু মিয়া আমাকে পুলিশের হাতে ধরিয়ে দেন। (গ্রামে আমার দেওয়া অস্ত্র প্রশিক্ষণরত মো. হেলুরকে প্রথমে দুদু মিয়া পুলিশ দিয়ে গ্রেফতার করান। হেলুকে রিমান্ডে নেওয়া হলে আমি কোথায় আছি সেই তথ্য দিতে বাধ্য হয় হেলু। সঙ্গে অস্ত্র কোথায় রেখেছি তাও বলে দেয় এবং তথ্য মোতাবেক পুলিশ অস্ত্র উদ্ধার করে। মীর মোয়াজ্জেম হোসেন দুদুামিয়া গোবিন্দাসী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এবং তৎকালীন থানা আওয়ামী লীগের সভাপতিও ছিলেন। ওনাকে বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বলেছিলেন, ‘দুদু ভাই মাসুদকে দেখে রাখবেন। ওর কাছে কিছু অস্ত্র রেখে গেলাম। দুদু মিয়া দেখে রাখা তো দূরের, উল্টো নিজেই আমাকে ধরিয়ে দেন।) একুশে ফেব্রুয়ারি ১৯৭৭ আমি ঢাকা থেকে বাড়িতে এসেছিলাম শহীদ মিনারে ফুল দিতে। সে রাতেই আমাকে ধরিয়ে দেওয়া হয়। গ্রেফতারের পর প্রথমে টাঙ্গাইল জেলে দশ দিন, তারপর ঢাকা ক্যান্টনমেন্টে এক মাস পাঁচ দিন আমাকে অমানবিক নির্যাতন করা হয়। 

ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট থেকে নির্যাতনের পর আমাকে পাঠিয়ে দেওয়া হয় ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে। কেন্দ্রীয় কারাগারে যাওয়ার পর দেখতে পেলাম প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমান, প্রয়াত সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবদুস সামাদ আজাদ, আওয়ামী লীগের বর্তমান সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের ও বাংলাদেশ ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় কমিটির তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক খ ম জাহাঙ্গীরকে। কেন্দ্রীয় কারাগারে যাওয়ার পর আমার অবস্থা এতই খারাপ ছিল যে আমাকে হসপিটালে ভর্তি করানো হয়। আমাকে ভর্তি করান প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমান এবং প্রয়াত পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্দুস সামাদ আজাদ। আমাকে যে অস্ত্র মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়েছিল সে মামলায় কোনো সাক্ষী না থাকায় খালাস পাই। আমি জেল থেকে মুক্ত হওয়ার পর আবার আমার বিরুদ্ধে হুলিয়া জারি হয়। যে মামলায় আমাকে গ্রেফতার করা হয় এবং যে মামলায় আমাকে জামিনে মুক্তি দেওয়া হয়েছিল, সেই মামলায়ই আবার আমার বিরুদ্ধে হুলিয়া জারি করা হয়। মামলাটি রিভিউ করা হয়। তখন আমি উকিলের সঙ্গে পরামর্শ করি, কেন আবার একই মামলায় আমাকে হয়রানি করা হচ্ছে এবং মামলা কেন রিভিউ করা হলো। তখন আমার অ্যাডভোকেট বললেন, জিয়াউর রহমানের মার্শাল ল যতদিন থাকে ততদিন পালিয়ে থাকেন এবং হাজিরা দেবেন না। 

আরও বেশ কিছুদিন সিরাজগঞ্জ, শাহ্জাদপুর, বগুড়া, ঢাকার মিরপুরসহ বিভিন্ন স্থানে পলাতক থাকি। পলাতক থাকা অবস্থায় বর্তমান মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার রাজনৈতিক উপদেষ্টা মো. কবির বিন আনোয়ার সাহেবের বাবা প্রয়াত আনোয়ার হোসেন রতু ভাই সার্বিক সহযোগিতা ও ছত্রছায়ার রেখেছিলেন। পরবর্তীতে ১৯৮০ সালে আবার কোর্টে হাজির হয়ে জামিনে মুক্ত হই। ১৯৮০ সালে জামিনে মুক্ত হওয়ার পর ইব্রাহিম খাঁ কলেজে রি-অ্যাডমিশন নিই থার্ড ইয়ারে। ইব্রাহিম খাঁ কলেজ ছাত্র সংসদে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ আমাকে ভিপি পদে মনোনয়ন দেয় এবং আমি ফুল প্যানেলসহ নির্বাচিত হই। আমাকে ছাত্রলীগ উপজেলা শাখার সভাপতির দায়িত্ব দেওয়া হয়। সিনিয়র নেতাদের নির্দেশ মোতাবেক ছাত্রলীগ সুসংগঠিত করি। ১৯৭৫-এর ১৫ আগস্টের পর প্রথম আওয়ামী লীগের বড় সমাবেশ করি ইব্রাহিম খাঁ কলেজ মাঠে। যেখানে প্রধান অতিথি এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে আসেন জোহরা তাজউদ্দীন এবং প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমান। জাসদ এবং বিএনপির বিরুদ্ধে আমাদের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড বেগবান হয়। এরপর আশির দশকেও রাজনৈতিক অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য আমাদের অনেক নেতাকর্মীকে জেল, জুলুম, অত্যাচারের শিকার হতে হয়। বেশ কয়েকবার আমাদের বাড়িতে আক্রমণ করে ঘরবাড়ি ভেঙে দেওয়া হয়। ঘটনা অনেক যা লিপিবদ্ধ আছে ইতিহাসের পাতায়।

  • বীর মুক্তিযোদ্ধা, মেয়র, ভূঞাপুর (টাঙ্গাইল) পৌরসভা
শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা