× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

স্বাধীনতার চেতনা বিসর্জনের দিন

যতীন সরকার, শিক্ষাবিদ- লেখক

প্রকাশ : ১৫ আগস্ট ২০২৩ ০০:৩২ এএম

আপডেট : ১৫ আগস্ট ২০২৩ ১২:১২ পিএম

যতীন সরকার। ফাইল ছবি

যতীন সরকার। ফাইল ছবি

আমি তখন ময়মনসিংহে নাসিরাবাদ কলেজে অধ্যাপনা করি। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে যাবেন, এ খবরটি বেশ কিছুদিন ধরেই সম্প্রচারিত হচ্ছিল। তখন টেলিভিশনের ব্যাপক প্রচলন ঘটেনি। রেডিও খুলেই আমরা বিভিন্ন খবরাখবর শুনতাম। কয়েক ঘণ্টা পরপরই আমরা খবর শোনার জন্য রেডিও চালু করতাম।

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট সকালে ঘুম ভাঙার পরপরই রেডিওর নব ঘোরাতে শুরু করি। হঠাৎ রেডিও থেকে একটি কর্কশ কণ্ঠস্বর কানে এলো। কর্কশ কণ্ঠের অধিকারী ব্যক্তিটির নামও শুনলাম, মেজর ডালিম। মেজর ডালিমের বয়ানে রক্তহিম করা সংবাদটি  পেলাম। তিনি কর্কশ কণ্ঠে ঘোষণা করছেন, ‘বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করা হয়েছে।’ এ খবর শুনে বোধহয় আমার কণ্ঠ থেকে একটা আর্তচিৎকার বেরিয়ে আসে। বাড়ির অন্য সদস্যরা তড়িঘড়ি করে আমার কাছে ছুটে আসে। সবার মুখে শঙ্কা। 

আমার প্রতিবেশী বাসনদা ছিলেন আমার বড় শুভাকাঙ্ক্ষী। তিনি এসে বললেন, ‘তুমি এখনই বাড়ি ছেড়ে চলে যাও। মনে হচ্ছে দ্রুত ধর্মঘট শুরু হবে। এমন সময় বাড়িতে থাকা তোমার জন্য নিরাপদ নয়।’ আমার পরিবারের সবারও একই মত। তারা জোর করে আমাকে বাইরে পাঠিয়ে দিল। বাড়ি ছেড়ে আমার অগ্রজপ্রতিম বন্ধু কবি আশুতোষ পালের বাড়িতে ঠাঁই নিলাম। আশুতোষ বাবু নিতান্তই একজন অরাজনৈতিক ব্যক্তি। এজন্য তার বাড়িতে আশ্রয় নেওয়া তুলনামূলক নিরাপদ। আশুতোষ বাবুর বাড়ির নির্জন কামরায় আমার একমাত্র সঙ্গী এক ব্যান্ডের ট্রানজিস্টার। বাড়ির কর্তা আশুতোষ বাবু কিছুক্ষণ পরপর বাইরে যান এবং আমাকে এসে শহরের খবরাখবর জানান। সারা দেশে অনির্দিষ্টকালের জন্য সান্ধ্য আইন জারির ঘোষণা রেডিওতে দেওয়া হয়। তবে ময়মনসিংহ শহরে রাস্তায় মানুষের আনাগোনা বন্ধ হয়নি। প্রায় সব দোকানপাট খোলা। পুলিশ কিংবা সামরিক বাহিনীর আনাগোনাও ছিল না। 

পরদিন সকাল ৮টায় জানা গেল, সেনাবাহিনী দেশের সর্বময় ক্ষমতা দখল করে নিয়েছে। কিন্তু রাষ্ট্রের নেতৃত্বে অধিষ্ঠিত ব্যক্তিটি সামরিক বাহিনীর কেউ নন। তার নাম খন্দকার মোশতাক আহমদ। একদিন আগেও তিনি সরকারের বাণিজ্যমন্ত্রী বলে পরিচিত ছিলেন। মাত্র ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে রাষ্ট্রপতির গুরুত্বপূর্ণ পদটি দখল করে বসেন। আশুবাবু আমার কানের কাছে মুখ এনে ফিসফিসিয়ে বললেন, খন্দকার নয়, ‘খুনকার’। আশুবাবুর এ মন্তব্যের সঙ্গে আমি একমত হই। বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের বিস্তারিত বিবরণ পরে পাওয়া যাবে। তবে ওই সময় আমরা সহজেই অনুমান করে নিতে পেরেছিলাম, খন্দকার মোস্তাকই আসল খুনি। বঙ্গবন্ধু সপরিবারে খুন হওয়ার পর অসংখ্য ঘটনা আমরা জানতে পেরেছি। হত্যাকাণ্ড নিয়ে বিভিন্ন সময় বিভ্রান্তি সৃষ্টিরও চেষ্টা চলেছে। স্বঘোষিত খুনিদের জবানবন্দিও আমরা পেয়েছি। তাৎক্ষণিকভাবে আমরা সেদিন খন্দকার মোশতাককেই খুনি বলে মেনে নিয়েছিলাম। আমাদের ধারণা যে একেবারেই ভুল ছিল না, তা আজ প্রমাণিত ইতিহাস।

১৯৯৮ সালের জানুয়ারিতে ‘বাংলাদেশের ইতিহাস’ নামক বইয়ে ড. মোহাম্মদ হান্নান লিখেছেন, ‘আগস্টে ক্যু করে যারা ক্ষমতায় এসেছিল তারা জনগণের ভোটে ক্ষমতায় আসেনি। এসেছিল বন্দুকের জোরে। যদিও দেখা গেল মন্ত্রিসভার আসনে বসে আছেন আওয়ামী লীগেরই নেতৃবৃন্দ যেমন খন্দকার মোশতাক, তাহের উদ্দিন ঠাকুর প্রমুখ। এ গ্রুপটি ছিল আওয়ামী লীগের সেই অংশ যারা মুক্তিযুদ্ধের সময় নানাভাবে চক্রান্ত করে ব্যর্থ হয়েছিল। খন্দকার মোশতাক ক্ষমতার লড়াইয়ে পরাজিত এক রাজনীতিক। ১৯৬৬ সালে শেখ মুজিব ছয় দফা ঘোষণা করলে পাকিস্তানপন্থি খন্দকার মোশতাক তার বিরোধিতা করেছিলেন এবং ছয় দফার দাবিরত আওয়ামী লীগ থেকে বের হয়ে পিডিএমপন্থি আওয়ামী লীগের গ্রুপে যোগ দিয়েছিলেন। পরে অবশ্য বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্ব স্বীকার করে তিনি আওয়ামী লীগেই ফিরে এসেছিলেন। বহুদিন পরে খন্দকার মোশতাক বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করে দেশ স্বাধীন করার জন্য প্রতিশোধ নেয়।’ ড. মোহাম্মদ হান্নানের এ বইটির যে অংশ আমি উদ্ধৃত করলাম সেই অংশে মোটামুটি ১৫ আগস্টের প্রেক্ষাপট সম্পর্কে জানার প্রয়োজনীয় তথ্য রয়েছে। খন্দকার মোশতাক যদি বঙ্গবন্ধুর মন্ত্রিসভায় না থাকতেন কিংবা বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ঠ সহচর না হতেন এবং মুক্তিযুদ্ধের সময় স্বাধীনতার বিরুদ্ধে চক্রান্তকারী গোষ্ঠী রাজনীতিতে সক্রিয় থাকার সুযোগ না পেতেন, তাহলে জনগণের কাছে ভিন্ন বার্তা পৌঁছানো যেত। শুধু তাই নয়, যদি খন্দকার মোশতাক মন্ত্রিসভায় স্থান না পেতেন তাহলে আজ বাংলাদেশের ইতিহাস একটু ভিন্ন হতো। কিন্তু তেমনটি হলো না, হতে পারল না।

১৫ আগস্ট সকালে রেডিওতে বঙ্গবন্ধু হত্যার সংবাদের আকস্মিকতায় সারা দেশের মানুষ বিমূঢ় হয়ে পড়েছিল। কবি আশুতোষ পাল ময়মনসিংহ শহরের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে এসে বলেছিলেন, ‘বঙ্গবন্ধু হত্যার খবর কেউই বিশ্বাস করছে না। অনেকের ধারণা, কোনো এক বিদ্রোহী গোষ্ঠী বাংলাদেশ বেতার দখল করে নিয়েছে। কারণ বেতার থেকে যা বলা হচ্ছে তা এক কথায় অবিশ্বাস্য।’ আমি বললাম, ‘সবাই নিশ্চয়ই একই কথা ভাবছে না।’ আশুবাবু বললেন, ‘না, সবাই এমন ভাবছে না বটে। যারা ক্যুর বিষয়টি বিশ্বাস করেছে তারাও বঙ্গবন্ধু হত্যার বিষয়টিকে অসম্ভব বলেই মনে করছে। বঙ্গবন্ধুর অনুসারীরা তো আর বসে থাকবে না। রক্ষীবাহিনী আছে না? নতুনবাজারে চায়ের দোকানে কয়েকজনকে এও বলাবলি করতে শুনলাম, রক্ষীবাহিনী তৎপর হলেই সব পরিষ্কার জানা যাবে।’ দ্রুতই সব জল্পনাকল্পনার অবসান ঘটল। বঙ্গবন্ধু খুন হয়েছেন, এ খবরে কারও আর সন্দেহ রইল না। বিশেষ করে মন্ত্রিসভার শপথ গ্রহণের সময় খন্দকার মোশতাকের কণ্ঠস্বর রেডিওতে শোনার সঙ্গে সঙ্গে দেশের মানুষের মধ্যে অন্যরকম একটি ভাবনা পৌঁছে গেল।

ওইদিন অবশ্য আমি আশুতোষ বাবুর বাড়িতেই রাত কাটাই। তবে সকালের মতো আর নিজেকে গোপন করে রাখিনি। সান্ধ্য আড্ডায় অনেকের সঙ্গেই মতবিনিময় করি। বিশেষত সকালে যারা হতবিহ্বল হয়ে পড়েছিল, তারা সন্ধ্যায় আরেকটি ধাক্কা খেল। সবাই প্রত্যাশা করেছিল, বঙ্গবন্ধুর অনুসারীরা রক্ষীবাহিনীর সঙ্গে সংগঠিত হয়ে দেশজুড়ে প্রতিবাদ শুরু করবে। কিন্তু সন্ধ্যায় খন্দকার মোশতাকের মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথবাক্য পাঠের রেকর্ড রেডিওতে শুনে প্রত্যেকে আশাহত হলো। শুধু আশাহতই নয়, ক্ষুব্ধও হয় অনেকে। বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরী স্বাধীনতার পর দেশে ফিরলে বঙ্গবন্ধু তাকে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব অর্পণ করেন। বঙ্গবন্ধুর এই মনোনয়ন গণঅভিনন্দনে ধন্য হয়েছিল। বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরীর প্রতি দেশের মানুষের ছিল অশেষ শ্রদ্ধা। শুধু দেশ নয়, বুদ্ধিজীবী-রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে বিদেশেও তার ভাবমূর্তি ছিল উজ্জ্বল। ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয় তাকে ‘দেশিকোত্তম’ উপাধি দিয়েছিল। একসময় নিপীড়নের কারণে তিনি যখন স্বেচ্ছায় রাষ্ট্রপতির পদ ছেড়ে দিয়েছিলেন তখন দেশের মানুষ তাকে আরও বেশি শ্রদ্ধা করতে শুরু করেছিল। এর কিছুদিন পরই বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরীকে বঙ্গবন্ধুর মন্ত্রী হিসেবে যখন দেখা গেল তখন কেউ ক্ষুব্ধ হননি। প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি বঙ্গবন্ধুর মন্ত্রিসভায় যোগ দিয়েছেন এমনটি কারও কাছে বেমানান মনে হয়নি। কিন্তু খুনি খন্দকার মোশতাকের মন্ত্রিসভায় বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরীসহ আরও কয়েকজনের শপথগ্রহণের ঘটনা মানুষের মনে হতাশা ছড়িয়ে দিল। মর্যাদার উচ্চতর পর্যায়ে উঠে যাওয়া একজন মানুষ আরও উচ্চতর পর্যায়ে যাওয়ার বদলে স্বেচ্ছায় কিংবা কোনো প্রতিবাদ ছাড়াই নিম্নতর পর্যায়ে অধিষ্ঠিত হন, এমনটি এ দেশের মানুষ কোনো দিনই মেনে নিতে পারেনি।

মন্ত্রিসভার শপথগ্রহণের সময় খন্দকার মোশতাক রাষ্ট্রপতির ভাষণ শুরু করেন আল্লাহর নামে। বাংলাদেশ জিন্দাবাদ বলে শেষ করেন। পাকিস্তানি জাতির জিন্দাবাদ আবার চালু হলো। জয় বাংলা স্লোগানকে স্বাধীনতার বিরুদ্ধপক্ষে অবস্থানকারীরা বিদ্রুপ করে বলত, ‘জয় বাংলা জয়হীন, লুঙ্গি ছাইড়া ধুতি পিন্দ’। এই বিরুদ্ধপক্ষে অবস্থানকারীরা এতদিন চুপ ছিল। মোশতাকের কণ্ঠে পাকিস্তান জিন্দাবাদের সুরের প্রতিধ্বনি শুনে এরা হারানো শক্তি ফিরে পেল। ক্যুর সমর্থনে মোশতাক প্রদত্ত ভাষণে বলেছিলেন, ‘সকলেই এই শাসনব্যবস্থার পরিবর্তন চাচ্ছিল। কিন্তু প্রচলিত নিয়মে এ পরিবর্তন সম্ভব ছিল না বিধায় সরকার পরিবর্তনে সেনাবাহিনীকে এগিয়ে আসতে হয়। ঐতিহাসিক প্রয়োজনে সেনাবাহিনী দেশের মানুষের জন্য সুযোগের স্বর্ণোদ্বার খুলে দিয়েছে।’ ওইদিন সন্ধ্যায় আড্ডার আসরে বসে মোশতাকের ভাষণটির অর্থ উদ্ধার করছিলাম। দেশের মানুষের জন্য স্বর্ণোদ্বার খুলে যায়নি বরং পাকিস্তানপন্থিদের জন্য সুযোগের স্বর্ণোদ্বার খুলেছে। বুঝতে পেরেছিলাম, বাংলাদেশের রাজনীতির অঙ্কে নিহত পাকিস্তানের ভূতই ঘাড়ে চেপে বসে। 

গ্রাম বাংলায় একটি কথা রয়েছে, মানুষ মরে ভূত হয়। রাষ্ট্রও যে মরে ভূত হতে পারে, তা নিজের চোখে দেখলাম। ১৫ আগস্ট রাতেই বিবিসিতে শোনা গেল, বাংলাদেশকে ইসলামিক রিপাবলিক হিসেবে ঘোষণা করা হতে পারে। ওই রাতেই নতুন সরকারকে পাকিস্তান স্বীকৃতি জানায় এবং জুলফিকার আলি ভুট্টো ইসলামিক কনফারেন্সে তৃতীয় বিশ্বের চল্লিশটি রাষ্ট্রকে অনুরোধ জানায় যেন নতুন সরকারকে তারা স্বীকৃতি দেয়। সৌদি আরব বাংলাদেশের স্বাধীনতার অব্যবহিত পর স্বীকৃতি জানায়নি। এ সৌদি আরবই বঙ্গবন্ধু হত্যার পরদিন বাংলাদেশকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। ১৫ আগস্ট জুমার নামাজের আগেই খন্দকার মোশতাক রাষ্ট্রপতির শপথ গ্রহণ করেন। জুমার আগে ও পরে তিন ঘণ্টার জন্য তিনি কারফিউ তুলে দেন। দেশে-বিদেশে নিজের ধর্মীয় ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করতেই এমনটি করেছিলেন। এভাবেই বঙ্গবন্ধুকে হত্যার মাধ্যমে অসাম্প্রদায়িক দেশে স্বাধীনতার চেতনা বিসর্জন দেওয়া হলো। ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হলো পাকিস্তানপন্থি উগ্রবাদীরা। পাকিস্তানের মিত্রশক্তির কাছে নতুন ধর্মীয় রাষ্ট্র হিসেবে পরিচিতি পেতে শুরু করে বাংলাদেশ। পাকিস্তান মরে গিয়েও ভূত হয়ে চেপে বসেছিল। খন্দকার মোশতাকের ঘোষণার মাধ্যমে বাংলাদেশের খোলসে পাকিস্তানি শাঁস পুরে দেওয়ার চেষ্টা দীর্ঘদিন অব্যাহত ছিল।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা