× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

রাজনৈতিক সংকট

দুই সমাবেশের বার্তা ও বিদেশিদের তৎপরতা

ড. ফরিদুল আলম

প্রকাশ : ২৯ জুলাই ২০২৩ ১৫:২৩ পিএম

দুই সমাবেশের বার্তা ও বিদেশিদের তৎপরতা

২৮ জুলাই ঢাকায় আওয়ামী লীগ ও বিএনপির যথাক্রমে শান্তি সমাবেশ ও মহাসমাবেশের দিকে সচেতন প্রায় সবারই দৃষ্টি ছিল। পাশাপাশি দুটি দলের সমমনারা কিংবা অঙ্গসংগঠনও ভিন্ন ভিন্ন ভাবে সমাবেশ করেছে এবং চট্টগ্রামে জামায়াত কর্মীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ ছাড়া মোটামুটি পরিবেশ শান্তিপূর্ণই ছিল। কিন্তু সামগ্রিকভাবে বিশ্লেষণ করলে স্বস্তির কোনো বার্তা নেই । মহাসমাবেশ ও শান্তি সমাবেশ থেকে যে বার্তা মিলেছে তাতে আশঙ্কা করা অমূলক নয়, দেশের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক পরিস্থিতি আরও জটিলের দিকেই যাচ্ছে। শান্তিপ্রিয় দেশবাসী কোনোভাবেই এমন পরিস্থিতি প্রত্যাশা করে না। দুটি সমাবেশেই বিপুল জনসমাগমের খবর সংবাদমাধ্যমে উঠে এসেছে। গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় শান্তিপূর্ণ সমাবেশ কিংবা আন্দোলন সিদ্ধ হলেও অস্বস্তির বিষয় হলো, আমাদের দেশে এসব কোনো কিছুতেই শান্তি-স্বস্তির আবহ শেষ পর্যন্ত থাকে না। ২৮ জুলাই মহাসমাবেশ ও শান্তি সমাবেশ থেকে যেসব বার্তা কিংবা পরবর্তী কর্মসূচি জানা গেছে তা দেশ-জাতির জন্য সুখকর নয়। এই পথ পরিহার করতেই হবে দেশ-জাতির বৃহৎ স্বার্থে। আমাদের রাজনীতি ও আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে বিদেশিদের 'নাক গলানো'র বিষয়টি অস্বস্তির মাত্রা আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে। নিঃসন্দেহে তাদের এই তৎপরতা কূটনৈতিক শিষ্টাচারবহির্ভূত।

১৯৬১ সালে জাতিসংঘের উদ্যোগে অস্ট্রিয়ার রাজধানী ভিয়েনায় কূটনীতিকদের আচরণ, দায়বদ্ধতা এবং সুযোগসুবিধা সম্পর্কিত যে কনভেনশন অনুষ্ঠিত হয়েছিল; সেটিই যেকোনো স্বাধীন দেশ তার আন্তর্জাতিক সম্পর্কের স্বার্থে প্রয়োগ করে থাকে। এ কনভেনশন কূটনীতি সম্পর্কিত ভিয়েনা কনভেনশন নামে বহুলভাবে পরিচিত। আমরা অনেক সময় কূটনীতিকদের আচরণের ক্ষেত্রে এ কনভেনশনের বিভিন্ন ধারার প্রয়োগ হতেও দেখে থাকি। এ ক্ষেত্রে কূটনীতিকদের জন্য প্রেরণকারী বা নিজ দেশের পক্ষ থেকে যেমন কিছু সুযোগসুবিধা দেওয়া হয়, একইভাবে গ্রহণকারী দেশগুলোও এ কনভেনশনের বিভিন্ন ধারার আলোকে কিছু নির্দিষ্ট সুবিধা দিতে বাধ্য থাকে, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে কূটনৈতিক এলাকাগুলোয় প্রেরণকারী রাষ্ট্রের কূটনীতিকদের অবাধ অধিকার, গ্রহণকারী রাষ্ট্রের কোনো আইন এ ক্ষেত্রে প্রয়োগযোগ্য হবে না। সেই সঙ্গে তারা গ্রহণকারী রাষ্ট্রগুলোর সংরক্ষিত এলাকার বাইরে অবাধে চলাচলের স্বাধীনতা রাখেন এবং এর জন্য গ্রহণকারী রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা প্রদান করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। তারা ফৌজদারি অপরাধের বাইরে থাকেন এবং সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় হচ্ছে, বিমানবন্দরগুলোয় তাদের বহন করা ব্যাগেজগুলো তল্লাশির আওতাবহির্ভূত থাকে।

এসবই রাষ্ট্রসমূহ পারস্পরিক সম্পর্ক রক্ষার প্রয়োজনে মেনে নিয়েছে নিজেদের মধ্যে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করার স্বার্থে। সেই সঙ্গে উল্লিখিত সব সুযোগসুবিধার বাইরে কূটনীতিকদের কিছু দায়বদ্ধতার বিষয় রয়েছে। ভিয়েনা কনভেনশনের মোট ৫৩টি ধারায় কূটনীতিকদের সুযোগসুবিধা এবং দায়বদ্ধতা সম্পর্কিত সবকিছুই বর্ণিত রয়েছে। এর মধ্যে ৪১ ধারা উল্লেখযোগ্য। এ ধারার ১ উপধারায় বলা হয়েছে, কূটনীতিকরা যে দেশে অবস্থান করছেন সে দেশের আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকবেন এবং অভ্যন্তরীণ বিষয়ে কোনো প্রকার হস্তক্ষেপ করবেন না। একই ধারার ৩ উপধারায় বলা হয়েছে, কূটনীতিকরা তাদের মিশনের কাজের সঙ্গে সম্পর্কিত নয়, এমন কোনো কাজে মিশনকে ব্যবহার করবেন না। এ অবস্থার ব্যত্যয় ঘটলে গ্রহণকারী দেশের পক্ষ থেকে কূটনীতিকদের ওপর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের অধিকার রয়েছে। আর এ ব্যবস্থা হচ্ছে ‘পারসোনা নন গ্রাটা’ বা সংশ্লিষ্ট কূটনীতিককে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করে একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দিয়ে তাকে নিজ দেশে ফেরত যাওয়ার নির্দেশনা প্রদান। ভিয়েনা কনভেনশনের ধারা ৯-এ সুস্পষ্টভাবে এর বিধান রাখা হয়েছে।

আশা করি উপরোক্ত ভূমিকাটির নেপথ্যের কারণ পাঠক ইতোমধ্যে উপলব্ধি করতে পেরেছেন। সম্প্রতি ঢাকা-১৭ আসনের উপনির্বাচনে একজন প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর ওপর হামলার বিষয়টি নিয়ে নির্বাচনের পরদিন একযোগে ১৩ দেশের রাষ্ট্রদূতরা যে বিবৃতি দিয়েছেন, তা সরকারকে কতটুকু বিব্রত করেছে বা করেনি এসব আলোচনা ছাপিয়ে আমাদের জন্য আত্মমর্যাদার দিকটি এখন সর্বাগ্রে বিবেচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিষয়টি নিয়ে অনেক আলোচনা-সমালোচনা হচ্ছে। আমাদের স্বাধীনতা উত্তর বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে সরকারের পক্ষ থেকে কূটনীতিকদের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ডেকে তাদের কর্তব্য বিষয়ে স্মরণ করিয়ে দেওয়া হলেও, একসঙ্গে এতজন কূটনীতিককে ডেকে নেওয়ার নজির এবারই প্রথম। বিষয়টি কেবল এখানেই সীমাবদ্ধ নয়, ১৭ জুলাইয়ের উপনির্বাচনের পর একদিকে যৌথ বিবৃতি, অন্যদিকে মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে ব্রিফিংয়ে সরকারের সমালোচনা- এসব থেকে সহজেই অনুমান করা যায়, সমস্ত ঘটনার পেছনে ঢাকাস্থ মার্কিন দূতাবাস এক ধরনের সমন্বয়কের কাজ করছে। বিষয়টি আরও পরিষ্কার হয় যখন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তলবের পর একই দিনে মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন মুখপাত্র বাংলাদেশের গণতন্ত্র ও নির্বাচন নিয়ে মন্তব্য করলেন। আমাদের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যা করেছে, তা ভিয়েনা কনভেনশন-প্রদত্ত অধিকারবলেই করেছে। এ নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই, বরং বলা যায় কোনো ধরনের কট্টর পন্থায় না গিয়ে তাদের কূটনীতিসুলভ আচরণ করতে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

আমরা বিশ্বের বিভিন্ন দেশের এ ধরনের অনেক উদাহরণ তুলে ধরতে পারব, যেখানে কূটনীতিকদের অকূটনীতিসুলভ আচরণের জন্য ভিয়েনা কনভেনশনের ধারা ৯ প্রয়োগ করা হয়। আমাদের প্রতিবেশী ভারত ও পাকিস্তানের স্বাধীনতার সূচনালগ্ন থেকে এখন পর্যন্ত উভয় দেশের পক্ষ থেকে অনেক কূটনীতিককে ‘পারসোনা নন গ্রাটা' করা হয়েছে। ২০১৬ সালে এ ধরনের একটি ঘটনায় ভারত একজন পাকিস্তানি কূটনীতিককে শুধু বহিষ্কার করেই ক্ষান্ত হয়নি, বহিষ্কারের আগে তাকে গ্রেপ্তারও করেছিল। যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার মধ্যে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ক্ষেত্রে এমনটি হামেশাই দেখা যায়। কিছুদিন আগে ইউক্রেন যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে ২০ জার্মান কূটনীতিককে বহিষ্কার করে রাশিয়া। অন্যদিকে নরওয়ের পক্ষ থেকে গত এপ্রিলে ২৫ রুশ কূটনীতিককে বহিষ্কার করা হয়। সব মিলিয়ে ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে এ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র এবং মিত্র দেশগুলোর পক্ষ থেকে প্রায় ৪০০ রুশ কূটনীতিককে বহিষ্কার করা হয়েছে।

বিদেশি কূটনীতিক, বিশেষত পশ্চিমাদের বাংলাদেশের রাজনীতি বিষয়ে হস্তক্ষেপ অনেকটা নিয়মিত হয়ে দাঁড়িয়েছে। বাংলাদেশের রাজনীতিতে এ ধরনের হস্তক্ষেপ কেবল ‘অশোভন' বা 'অনভিপ্রেত'- এ শব্দদ্বয়ের বাইরে আরও নির্দিষ্ট করে বলতে গেলে এক ধরনের অপরাধের পর্যায়ে পড়ে। এ ক্ষেত্রে আমরা আমাদের প্রতিবেশী দেশগুলোর উদাহরণ টেনে বলতে পারি, দক্ষিণ বা দক্ষিণ- পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর ক্ষেত্রে এ ধরনের ঘটনা ঘটলে সেসব দেশের সরকার কোনোভাবেই কূটনীতিকদের ডেকে কেবল সতর্ক করার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকত না, বরং নিশ্চিতভাবেই তাদের বহিষ্কার করত। রাজনীতিতে দ্বিধাবিভক্তি বা বহুধাবিভক্তি ধারা থাকতেই পারে, কিন্তু এর অর্থ এই নয় যে এ ধরনের সমস্যা সমাধানে বিদেশি কূটনীতিকদের হস্তক্ষেপের সুযোগ করে দিতে হবে। নিজেদের সমস্যা যদি নিজেরা সমাধান করতে না পারি, তাহলে কোনোভাবেই এটা প্রত্যাশা করা যায় না যে, বিদেশিরা এসে তা সমাধান করে দিয়ে যাবে। এ প্রসঙ্গে উদাহরণ টেনে বলা যায়, ১৯৯১-৯৬ মেয়াদে বিএনপি যখন সরকারে, প্রতিপক্ষ আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে সরকারবিরোধী আন্দোলন প্রশমিত করতে তখন কমনওয়েলথ মহাসচিব মধ্যস্থতা করার অভিপ্রায় জানান। সব রাজনৈতিক দলের সম্মতির ভিত্তিতে সে সময় অস্ট্রেলিয়ান মধ্যস্থতাকারী স্যার নিনিয়ান স্টিফেনকে বাংলাদেশে পাঠানো হয়। দেড় মাসাধিককাল বাংলাদেশে অবস্থান করে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠক করেও সমস্যার সমাধান করতে না পেরে তিনি দেশ ছাড়েন। পরে বিরোধী রাজনৈতিক দলের প্রবল চাপে তখনকার ক্ষমতাসীন দল জাতীয় সংসদে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিধান সংযুক্ত করে জাতীয় নির্বাচনের দাবি মেনে নিয়ে সরে দাঁড়াতে বাধ্য হয়। এ উদাহরণ দ্বারা এটি স্পষ্ট, নিজেদের সমস্যা নিজেদের মতো করেই সমাধান করতে হয়। এ ক্ষেত্রে বিদেশি হস্তক্ষেপ সমস্যা আরও জটিল করে দেয়।

দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক সুদৃঢ় করার প্রয়োজনে পারস্পরিক স্বার্থেই কূটনৈতিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠিত হয়। এ ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কোনো দেশের স্বাধীনতা রয়েছে যেকোনো দেশের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করার। যখন এ ধরনের সম্পর্ক ছেদ না করে নিজ কূটনীতিকদের মাধ্যমে কোনো দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করা হয়, এর থেকে অনুমান করা মোটেও অপ্রাসঙ্গিক হবে না যে, তারা কার্যত অনৈতিক উপায়ে কিছু ফায়দা নিতে চায়। পৃথিবীর এমন কোনো দেশ পাওয়া যাবে না, যেখানে গণতান্ত্রিক কাঠামো এবং রাজনৈতিক দলগুলো সর্বদা একটি নিয়মতান্ত্রিক ছকের মধ্য দিয়ে কাজ করে। সেই সঙ্গে কোনোভাবেই এও মেনে নেওয়া যাবে না যে, এক দেশের রাজনৈতিক অস্থিরতা অন্য দেশ গিয়ে মিটিয়ে দিয়ে আসতে পারে। যদি এটাই হয় বাস্তবতা, সে ক্ষেত্রে সুসম্পর্কের স্বার্থে ভিয়েনা কনভেনশনের যথাযথ চর্চাই আন্তর্জাতিক সম্পর্কে রাষ্ট্রগুলোর পারস্পরিক মর্যাদা অক্ষুণ্ণ রাখতে পারে। বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি থেকে যা স্পষ্ট বোঝা যায় তা হলো, সরকারের বিরুদ্ধে অনেক অভিযোগ থাকলেও রাজনৈতিকভাবে সরকারকে প্রয়োজনীয় সংস্কারে বাধ্য করতে না পারাটা চরম রাজনৈতিক ব্যর্থতা, আর এর দায় রাজনৈতিক দলগুলোর। এ ধরনের দায় আরও অনেকটা বেড়ে যায়, যখন প্রতি পদে বিদেশি দূতেরা আমাদের গণতান্ত্রিক আচরণ ও সংস্কারের বিষয়ে সবক দিতে থাকেন। আমরা একবারের জন্যও এ কথা ভেবে দেখি না যে, নিজেদের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে এ ধরনের হস্তক্ষেপের সুযোগদান রাজনীতিতে সুদূরপ্রসারী নেতিবাচক প্রভাব বয়ে আনতে পারে।

এদিকে ২৮ জুলাই বিএনপির সমাবেশ সামনে রেখে রাজধানীর গুলশানের একটি হোটেলে মার্কিন রাষ্ট্রদূত পিটার হাসের সঙ্গে গণতন্ত্র ও মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে এক মতবিনিময় সভায় মিলিত হন বিএনপির কয়েকজন নেতা, যা অন্যরকম ইঙ্গিত বহন করে। এর পরপরই জানা যায়, ঢাকার বাইরে থেকে যেসব নেতাকর্মী জনসভায় যোগ দেবেন, তাদের জামাকাপড় সঙ্গে করে নিয়ে আসার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ প্রয়োজনে তারা দলীয় কার্যালয়ের সামনে অবস্থান করে পুলিশকে বাধ্য করবেন তাদের উচ্ছেদ করতে। আর এর মধ্য দিয়ে তারা সরকারের বিরুদ্ধে মার্কিন ভিসানীতি প্রয়োগের বিষয়টি তুলে ধরবেন। সেই সঙ্গে অন্য দেশগুলো, যারা বিবৃতি দিয়েছে, তাদের সমন্বয়ে সরকারের বিরুদ্ধে এক গভীর ষড়যন্ত্রের নীলনকশা বাস্তবায়নের চেষ্টা করাও একটি উদ্দেশ্য। সবশেষে বলতে চাই, নিজেদের রাজনৈতিক দেউলিয়াত্ব ঢাকতে যেভাবে বিদেশি কূটনীতিকদের আমাদের রাজনীতি নিয়ে প্রতিনিয়ত মাথা ঘামানোর সুযোগ করে দেওয়া হচ্ছে, তা শিষ্টাচারবিবর্জিত কাজে উৎসাহিত করা হচ্ছে এবং এর দায় নিঃসন্দেহে রাজনীতিকদের। আমাদের রাজনৈতিক সংকট আমাদেরই নিরসন করতে হবে।

  • কূটনৈতিক বিশ্লেষক ও অধ্যাপক, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়
শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা