বিশ্ব বাঘ দিবস
তানভীর হাসান তপু
প্রকাশ : ২৯ জুলাই ২০২৩ ১৫:১০ পিএম
বন বিভাগের তথ্যে জানা যায়, স্বাধীনতার পর ১৯৭৫ সালের জরিপে সুন্দরবনে বাঘ ছিল। ৩৫০টি। এরপর ১৯৮২ সালে জরিপে ৪২৫টি এবং এর দুই বছর পর ১৯৮৪ সালে সুন্দরবন দক্ষিণ বন্য প্রাণী অভয়ারণ্যের ১১০ বর্গকিলোমিটার এলাকায় জরিপ চালিয়ে ৪৩০ থেকে ৪৫০টি বাঘ থাকার কথা জানানো হয়। ১৯৯২ সালে ৩৫৯টি বাঘ থাকার তথ্য জানায় বন বিভাগ। পরের বছর ১৯৯৩ সালে সুন্দরবনের ৩৫০ বর্গকিলোমিটার এলাকায় প্যাগমার্ক পদ্ধতিতে জরিপ চালিয়ে ধন বাহাদুর তামাং ৩৬২টি বাঘ রয়েছে বলে জানায়। ২০০৪ সালের জরিপে বাঘের সংখ্যা পাওয়া যায় ৪৪০টি। ১৯৯৬-৯৭ সালে বাঘের সংখ্যা উল্লেখ করা হয় ৩৫০টি থেকে ৪০০টি। ওই সময়ে বাঘের পায়ের ছাপ পদ্ধতিতে গণনা করা হয়। বর্তমানে নানা কারণে সুন্দরবনে বাঘের সংখ্যা কমছে। ১০০ বছর আগেও পুরো বিশ্বে প্রায় এক লাখের মতো বাঘের বসবাস ছিল। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বনাঞ্চল ধ্বংস, কালোবাজারি ও চোরাকারবারিদের দৌরাত্ম্যে বাঘ হত্যাসহ বিভিন্ন কারণে এই সংখ্যা হ্রাস পেতে পেতে বর্তমানে বিশ্বে প্রায় ৪ হাজার বাঘের অস্তিত্ব টিকে আছে।
বাংলাদেশ, ভারত ও নেপালসহ বিশ্বের ১৩টি দেশে বাঘের ঘনত্ব বেশি। এই ১৩টি দেশে প্রতি বছর ২৯ জুলাই গুরুত্বের সঙ্গে আন্তর্জাতিক বাঘ দিবস পালন করা হয়। জীবজগতের ভারসাম্য রক্ষায় বাঘ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাঘ মূলত তৃণভোজী প্রাণী শিকার করে এবং বনের বাস্তুসংস্থানে তৃণভোজী প্রাণীর ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে। তৃণভোজী প্রাণীর সংখ্যার ভারসাম্য নিশ্চিত করে বাঘ বনের উদ্ভিদের ভারসাম্যও রক্ষা করে। বাস্তুসংস্থানে তাই বাঘের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, বনভূমি ধ্বংসের পাশাপাশি মানব চোরাচালানকারীদের অপতৎপরতায় এই প্রাণীটির অস্তিত্ব সংকট দেখা দিয়েছে। যদিও সুন্দরবনে বাঘ রক্ষায় বন বিভাগ
অনেক দিন ধরেই কাজ করছে। তারপরও বিভিন্ন সময়ে চোরাকারবারিরা ফাঁদ পেতে বাঘ শিকার করছে। ২০২১-২২ সালের এক সমীক্ষায় বলা হয়েছে, বিভিন্ন সময় দুর্বৃত্তদের থেকে ১৯টি বাঘের চামড়া উদ্ধার করে বন বিভাগ। এর মধ্যে স্বাভাবিকভাবে ৮টি বাঘ মারা যায়। তবে কতগুলো বাঘ জন্ম নিয়েছে সে ব্যাপারে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। সর্বশেষ জরিপ অনুসারে সুন্দরবনে বাঘ রয়েছে ১০৬টি।
বাঘ আমাদের জাতীয় পশু। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে জাতীয় পশু সংরক্ষণে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়িত্বশীলরা নানামুখী কার্যক্রম গ্রহণ করে। বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে নানামুখী সংকটের মুখে রয়েছে গোটা বিশ্ব। এ সময় শুধু বনভূমি নয়, বনের বাস্তুসংস্থান টিকিয়ে রাখার জন্য জীববৈচিত্র্যও টিকিয়ে রাখতে হবে। আমাদের প্রেক্ষাপটে বাঘ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আন্তর্জাতিক বাঘ দিবস দেশে ব্যাপক গুরুত্বের সঙ্গে পালন করা হয়। আমাদের প্রত্যাশা, আগামীতে বাঘের বংশবৃদ্ধির জন্য বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির ব্যবহার বাড়ানো হবে।