× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

সম্পাদকীয়

মশা মারতে নিষ্ফল কামান দাগা!

সম্পাদক

প্রকাশ : ২৬ জুলাই ২০২৩ ১৩:৫৬ পিএম

মশা মারতে নিষ্ফল কামান দাগা!

“রেতে মশা দিনে মাছি, এই নিয়ে আছি' বলে বহু বছর আগে কবি ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত যে খেদোক্তি করেছিলেন, সেই খেদোক্তি আজ আমাদের নগর নিয়েও। সেই খেদ আরও বাড়িয়ে তুলতেই যেন মশা মারতে দাগা হচ্ছে নিষ্ফল কামান। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) ২৪ জুলাই বাজেট পেশ করেছে। বাজেটে উত্থাপিত তথ্য থেকে জানা যায়, এ বছর সংস্থাটি মশা মারতে খরচ করবে ১১৪ কোটি ৫০ লাখ টাকা, আগের অর্থবছরে খরচ করেছিল ৬৭ কোটি ৫০ লাখ টাকা। অর্থাৎ গতবারের তুলনায় এবারের খরচ প্রায় দ্বিগুণ। ২৫ জুলাই প্রতিদিনের বাংলাদেশ-এ প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, নিয়ন্ত্র কার্যক্রম ও যন্ত্রপাতি কিনতে সংস্থাটি এবার বরাদ্দ রেখেছে ৮৪ কোটি ৫০ লাখ টাকা, যার ৪৫ কোটি টাকা খরচ করবে মশার ওষুধ ক্রয়ে। আগাছা পরিষ্কার ও পরিচর্যা বাবদ খরচ করবে ১ কোটি ৫০ লাখ টাকা। ফগার ও স্প্রে মেশিন পরিবহনে ৫ কোটি টাকা এবং মশক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমের বিশেষ কর্মসূচি খরচ করবে ১ কোটি টাকা। এ ছাড়া ৩০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে মশকনিধন কার্যক্রমে, ২ কোটি টাকা রাখা হয়েছে মশকনিধনে চিরুনি অভিযান পরিচালনায়।

মশকনিধনে এই যে ঢাক ঢাক গুড় গুড় অবস্থা তারপরও মশকনিধন কার্যক্রমে সফলতা মিলেছে, তেমন বলার সুযোগ নেই। কারণ, সমস্যা-সংকটে, বিদ্যুৎ-পানি-গ্যাসের লুকোচুরির মাঝে যানে জটে ত্যক্ত-বিরক্ত নগরবাসীর জেরবার করছে মশা। এই ক্ষুদ্র প্রাণের তাণ্ডবে নগরজুড়ে ত্রাহী অবস্থা। হাসপাতালগুলোতে ডেঙ্গু রোগীর ঠাঁই নাই ঠাঁই নাই অবস্থা। গরম এবং বৃষ্টির সঙ্গে সঙ্গে বাড়ছে মশার দাপট, বাড়ছে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যাও। বিশেষজ্ঞরা অনেক আগেই সতর্ক করেছিলেন। তারা ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়ার আশঙ্কাও করেছিলেন। দুর্ভাগ্যজনকভাবে তাদের আশঙ্কাকে সত্যি প্রমাণ করে শহর থেকে গ্রাম সবখানেই মশা তার দাপট দেখাতে শুরু করেছে। ফলে শুধু রাজধানীতেই নয়, ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে অন্যান্য শহর এমনকি গ্রামেও। মশা নিধন বিষয়ে যেমন কম কথাবার্তা হয়নি তেমনি এ বাবদ খরচও কম হয়নি। এই যে খরচের বহর, মশার আবাসস্থল ভেঙে দিতে নগরজুড়ে জল্পনা-কল্পনা- পরিকল্পনা, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা নিয়ে আলোচনা ও আলোড়ন, তার কিন্তু সুফল মেলেনি। মাঝ থেকে গচ্চা গেছে অনেক টাকা। একটি সিটি করপোরেশনের মশা মারতে যে খরচ, তার সঙ্গে দেশের অন্যান্য সিটি করপোরেশন, পৌরসভা ও ইউনিয়নের খরচ এবং ব্যক্তিগত খরচ যোগ করলে সে অঙ্ক কোথায় ঠেকবে তা সহজেই অনুমেয়। বছরজুড়েই মশাবাহিত রোগ নিয়ন্ত্রণে ফগারের সাহায্যে স্প্রে, ওষুধ ছিটানো, মানুষকে সচেতন করা এবং পরিষ্কার- পরিচ্ছন্নতা অভিযান চলে। কিন্তু পরিস্থিতি যে পাল্টেছে, মানুষ যে উপকৃত হয়েছে, জোর গলায় তেমন বলার সুযোগ নেই। আমরা তো মনে করি, এক্ষেত্রে যতটা গর্জেছে, তত বর্ষেনি। ফলে মশা নিধন হয়নি। মশারা দাপটের সঙ্গেই বংশবিস্তার করেছে এবং ডেঙ্গু ছড়াচ্ছে। কিন্তু এমন তো হওয়ার কথা নয়।

ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে সরকার, সিটি করপোরেশন এবং পৌরসভাগুলোও অনেক জনসচেতনতামূলক কর্মসূচি নিয়েছে। অনেক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তও নিয়েছে। কিন্তু তা যথেষ্ট নয় । ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে করণীয় কী, তা সবারই জানা। কিন্তু তারপরও সংক্রমণের মৌসুম শুরু হলে আক্রান্তের সংখ্যায় রাশ টানা যায় না। এতে করে স্পষ্ট, আমরা মশা মারতে বিপুল অঙ্কের টাকা বরাদ্দ রাখছি, যথেচ্ছ খরচও করছি। কিন্তু কাজের কাজ হচ্ছে না। ফলে ডেঙ্গু প্রতিবছরই চোখ রাঙাচ্ছে। সেই চোখ রাঙানি এবারে ভয়াবহ হয়ে উঠেছে। এতে করে ধরে নেওয়া যায়, কথা ও কাজের মধ্যে বড় ধরনের গোলমাল আছে। অথবা পদক্ষেপগুলো শুনতে যতটা আকর্ষণীয় শোনায়, প্রয়োগের ক্ষেত্রে তাতে যথেষ্ট ফাঁক রয়েছে। তাই আমরা মনে করি, শুধু খরচের বহর বাড়ানো নয়, সঙ্গে এটাও ভাবা উচিত আমাদের এই দেদার খরচ কাজে আসছে না কেন? কেন মশা নিধন হচ্ছে না। আমাদের ত্রুটি কোথায়? এগুলো যদি যথাযথভাবে চিহ্নিত না হয়, তাহলে শুধু খরচই সার হবে। কাজের কাজ হবে না। তাই আমরা ডেঙ্গু প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় সকল বিষয়কেই বিবেচনায় আনতে বলি। সেই সঙ্গে ডেঙ্গু যে মহামারির আকার নিচ্ছে, তার পেছনের কারণগুলো খতিয়ে দেখতে বলি। তা চিহ্নিত করতে বলি। কাজের কাজটা কতদূর হলো, তা নিশ্চিত করাও জরুরি। অন্যথায় মশা নিধন বা ডেঙ্গু নিরোধে শুধু গল্পই শোনানো হবে, অর্থের অপচয়ই হবে। অসারের তর্জন গর্জনই সার হবে। কাজের কাজ হবে না।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা