× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

সম্পাদকীয়

মৎস্যসম্পদে নজর গভীর করুন

সম্পাদক

প্রকাশ : ২৫ জুলাই ২০২৩ ১৩:৪৫ পিএম

অলঙ্করন : প্রবা

অলঙ্করন : প্রবা

‘নিরাপদ মাছে ভরবো দেশ, গড়বো স্মার্ট বাংলাদেশ’Ñ এ প্রতিপাদ্য নিয়ে গতকাল সোমবার শুরু হয়েছে মৎস্য সপ্তাহ। এদিন রাজধানীর মানিক মিয়া এভিনিউয়ে জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ-২০২৩ উপলক্ষে বক্তব্যে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী বলেছেন, ‘এবারের মৎস্য সপ্তাহের উদ্দেশ্য হচ্ছে গুণগত মৎস্য উৎপাদন। কোনোভাবে সেখানে ভেজাল মেশানো যাবে না।’ তিনি এও বলেন, ‘মৎস্যজীবী ও এ খাতে সংশ্লিষ্টরা সরকারি নিয়মনীতি লঙ্ঘন না করে কাজ করবেন।’ আমরা মন্ত্রীর এ প্রত্যয়ে আশান্বিত বটে, তবে একই সঙ্গে এ কথাও বলতে চাই, প্রত্যয়ই শেষ কথা নয়। কর্মপরিকল্পনা যথাযথভাবে বাস্তবায়নের মধ্য দিয়েই লক্ষ্যে উপনীত হতে হবে। ২৪ জুলাই প্রতিদিনের বাংলাদেশ-এ প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশের ক্রমবর্ধমান জনগোষ্ঠীর খাদ্য ও পুষ্টি চাহিদা পূরণে মৎস্যসম্পদের গুরুত্ব এবং এর সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তা, উৎপাদন বৃদ্ধি ও যথাযথ ব্যবস্থাপনায় অত্যাধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, দারিদ্র্য বিমোচন ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে জনগণকে সম্পৃক্ত করার প্রত্যয়ও যুক্ত হয়েছে এবারের মৎস্য সপ্তাহ উদযাপনে। ধারণা করা যায়, যদি উল্লিখিত লক্ষ্যগুলো পূরণ করা সম্ভব হয় তাহলে শুধু জীবনযাপনেই এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে না, অর্থনীতির জন্যও তা সুবার্তা বয়ে আনবে।

এক সমীক্ষায় প্রকাশ, দেশের জিডিপিতে মৎস্য খাতের অবদান ১ দশমিক ৩৯ শতাংশ। আমাদের রপ্তানি পণ্যের তালিকা একদিকে যেমন দীর্ঘ নয়, অন্যদিকে সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও এর পরিসর বৃদ্ধি করা যাচ্ছে না রপ্তানির বাজার গণ্ডিবদ্ধ হওয়ায়। প্রচলিত পণ্যের বাইরেও এখন আন্তর্জাতিক বাজারে অনেক পণ্যের চাহিদা বাড়ছে, যার মধ্যে রয়েছে আমাদের মৎস্যসম্পদও, এমন বার্তা মিলেছিল সংবাদমাধম্যেই। আমরা দেখছি, দেশে মৎস্য উৎপাদন বাড়লেও বাড়েনি রপ্তানি। সমুদ্র আমাদের অন্যতম মৎস্যভান্ডার। তা ছাড়া ব্যক্তি প্রচেষ্টায় ব্যবসায়িক লক্ষ্যে মৎস্য চাষের পরিধিও বেড়েছে। কিন্তু উদ্বেগের কারণ হলো, ক্রমেই হারিয়ে যাচ্ছে দেশি প্রজাতির মাছ। অনেক প্রজাতির বিলুপ্তিও ঘটেছে। দেশি প্রজাতির মাছের অস্তিত্ব রক্ষায় বিশেষ উদ্যোগের ব্যাপারে এর আগে বহুবার গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে বটে, কিন্তু কার্যকর পদক্ষেপ সেভাবে দৃশ্যমান হয়নি। প্রাকৃতিক জলাশয় রক্ষায় ব্যর্থতা, নদনদীর দখল-দূষণও এর জন্য কম দায়ী নয়।

স্মরণ করা যায়, বঙ্গোপসাগরে সমুদ্রসীমা নির্ধারণে ২৫ হাজার বর্গকিলোমিটারের বেশি এলাকা নিয়ে ভারতের সঙ্গে যে সমস্যা ছিল, এর ১৯ হাজার বর্গকিলোমিটারই বাংলাদেশ পায় জাতিসংঘের সালিশ আদালতের রায়ে ২০১৪ সালে। এ অর্জন ‘ব্লু ইকোনমি’ তথা সামুদ্রিক সম্পদভিত্তিক অর্থনীতির বিরাট সম্ভাবনার দিগন্ত উন্মোচন করলেও এর সুফল এখনও কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় মেলেনি। এর সদ্ব্যবহার করার যোগ্যতা অর্জনে জোর দিতে হবে নিজেদেরই বৃহৎ স্বার্থে। টানা তিন মেয়াদের ধারাবাহিক এই সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপগুলো নিচ্ছে বটে, কিন্তু অভিযোগ আছে, এর গতি মন্থর। আমরা জানি, সমুদ্রে মাছ ধরা মৎস্য শিল্পে বেসরকারি বিনিয়োগ রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের অভিমত, সমুদ্রের গভীরে সম্পদের পরিমাণ বহুগুণ বেশি। এ প্রেক্ষাপটে আমরা মনে করি, গভীর সমুদ্রে বিনিয়োগ হলে সামুদ্রিক মাছ বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করবে এবং আমাদের খাদ্যাভ্যাসে তা পরিণত হলে ভালো পুষ্টিও জোগাবে। অর্থাৎ মৎস্যসম্পদ ঘিরে সম্ভাবনার বহুমুখী দরজা উন্মুক্ত। চাই শুধু সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা ও এর যথাথ বাস্তবায়ন।

মিঠাপানির মাছের উৎপাদন বাড়াতে আমাদের সুযোগ আছে বিস্তর। মৎস্য চাষিরা এ ক্ষেত্রে ইতোমধ্য কৃতিত্বও কম দেখাননি । নানা মিশ্র প্রজাতির মাছ উৎপাদন ও সংরক্ষণ বিশেষ করে ইলিশ সংরক্ষণে আমাদের সাফল্য আন্তর্জাতিক অঙ্গনে স্বীকৃত। মৎস্যসম্পদ রক্ষায় জনসচেতনতাও জরুরি। একই সঙ্গে মৎস্য সংরক্ষণ আইনের সুষ্ঠু বাস্তবায়ন, দেশীয় অন্য মাছ ও ইলিশের অভয়াশ্রম নির্ধারণ ও তা কার্যকর, প্রজনন মৌসুমে মা ইলিশ আহরণ বন্ধ রাখা এবং জাটকা নিধন বন্ধের কর্মসূচি আরও জোরদার করতে হবে। এ ক্ষেত্রে মৎস্যজীবীদের প্রয়োজনীয় খাদ্যসহায়তা প্রদান ও বিকল্প কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করাও কর্তব্য। দেশে জনপ্রতি মাছ খাওয়ার পরিমাণ বাড়ছে, এ তথ্য জানান মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী এবার মৎস্য সপ্তাহ উদ্বোধনকালে। আমরা মনে করি, মিঠাপানির মাছের চাষ বাড়ায় এমনটি সম্ভব হয়েছে। এজন্য আমরা কৃষি ও মৎস্যবিজ্ঞানীদের অবদানের বিষয়টি স্মরণ করি। নদনদীর দূষণ ঠেকানো, মিঠাপানির মাছের চাষ ও সামুদ্রিক মাছ আহরণ বাড়াতে পারলে মাছে-ভাতে বাঙালির তৃপ্তি ও পুষ্টির পূর্ণতাই শুধু মিলবে না, জাতীয় অর্থনীতির জন্যও তা হবে কল্যাণের। মৎস্যসম্পদের প্রতি গুরুত্ব বাড়ুক এসব লক্ষ্য সামনে রেখেই।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা