× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

প্রেক্ষাপট

বেসরকারি ট্রেইনি চিকিৎসকদের ভাতা

ডা. এটিএম আখেরুজ্জামান

প্রকাশ : ০৫ জুলাই ২০২৩ ০০:০০ এএম

আপডেট : ০৫ জুলাই ২০২৩ ০০:৩৭ এএম

অলঙ্করন : প্রবা

অলঙ্করন : প্রবা

মেডিকেলে লেখাপড়া সম্পন্ন করার প্রক্রিয়াটি দীর্ঘ এবং কষ্টসাধ্য। একজন মেডিকেলে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীকে নিয়মিত পরীক্ষায় পাস করে ইন্টার্নসহ ডাক্তার হতে অন্তত ছয় বছর অপেক্ষা করতে হয়। ডাক্তার হওয়ার পর তাকে ১ বছর অভিজ্ঞতা অর্জনের পর তিনি উচ্চতর ডিগ্রির পরীক্ষা দেওয়ার যোগ্যতা অর্জন করেন। উচ্চতর ডিগ্রির পথটিও মসৃণ নয়। এখানেও শিক্ষার্থীকে অনেক সময় ব্যয় করতে হয়। উচ্চতর ডিগ্রি অর্জনের ট্রেইনিং পিরিয়ড হচ্ছে ২-৫ বছর। অর্থাৎ কেউ ডাক্তার হওয়ার পরও উচ্চতর ডিগ্রি অর্জনের জন্য কমপক্ষে ৫-৮ বছর, এমনকি ১০ বছরেরও বেশি সময় ব্যয় করতে হয়।

মেডিকেল শিক্ষার্থীদের পাঠ্যপুস্তকের তালিকাও দীর্ঘ। তা ছাড়া চিকিৎসাবিজ্ঞানে নিত্যনতুন বিষয়েও শিক্ষার্থীদের পর্যাপ্ত জ্ঞান রাখতে হয়। পড়াশোনার সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলায় তাদের বয়সও ৩০ পেরিয়ে যায়। এতদিনে পরিবারের দায়দায়িত্বও তাদের ওপর অর্পিত হয়। বেসরকারি ট্রেইনি চিকিৎসকদের সুষ্ঠুভাবে উচ্চতর ডিগ্রি অর্জনের পথ সুগম করতে তাদের ২০ হাজার টাকা ভাতা দেওয়া হয়। তবে বিদ্যমান বাস্তবতায় সামান্য এই অর্থ দিয়ে জীবননির্বাহ সম্ভব নয়। অর্থনৈতিক সংকট সারা বিশ্বেই প্রকট আকার ধারণ করেছে।

স্বাস্থ্য খাতে প্রশিক্ষিত ও দক্ষ চিকিৎসকের প্রয়োজন অনেক বেশি। যারা ভবিষ্যতে দক্ষতার সঙ্গে স্বাস্থ্য খাতে অবদান রাখবেন, তাদের পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা জরুরি। দেশে বেসরকারি ট্রেইনি চিকিৎসকের সংখ্যা সাত হাজারের বেশি। এই চিকিৎসকরা দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা টারসিয়ারি লেভেল হাসপাতালগুলোতে সেবা দিয়ে আসছেন। কিন্তু কঠোর পরিশ্রম ও আন্তরিকতা থাকার পরও তারা ন্যায্য পাওনা থেকে বঞ্চিত।

২০২০ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সভায় বেসরকারি ট্রেইনি চিকিৎসকদের জন্য ২০ থেকে ৩০ হাজার টাকা ভাতা পাস করা হয়। কিন্তু এই ভাতা এখনও চিকিৎসকদের দেওয়া হয়নি। শুধু তাই নয়, নন রেসিডেন্টদের জন্য নির্ধারিত ভাতাও নিয়মিত নয়। সমস্যা এখানেই সীমাবদ্ধ নয়। এফসিপিএস ট্রেইনিদের ভাতা দিলেও তা ৬ মাস পরপর দেওয়া হয়। অনিয়মিত ও স্বল্প বেতন-ভাতায় আমাদের বেসরকারি ট্রেইনি চিকিৎসকদের জীবনযাপনে নানা সংকট দেখা দিয়েছে। শতভাগ শ্রম ও মেধা দিয়ে বিশ্বমানের চিকিৎসক হিসেবে গড়ে তোলার জন্য মনোনিবেশ প্রয়োজন। সেখানেও ব্যাঘাত ঘটেছে। আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশ থেকে অনেকেই এ দেশে চিকিৎসাশাস্ত্রে অধ্যয়ন করতে আসেন। কিন্তু তাদের দেশে বেসরকারি ট্রেইনি চিকিৎসকদের ভাতা গড়ে আমাদের থেকে অনেক বেশি। অর্থাৎ তারা বিশ্বমানের চিকিৎসাশিক্ষা অর্জনের ক্ষেত্রে পূর্ণ মনোনিবেশে সক্ষম হন। তার ওপর দেশে ট্রেইনিং পিরিয়ডে চিকিৎসকদের প্রাইভেট প্র্যাকটিসেরও অনুমতি নেই। সপ্তাহে ৭ দিন নিয়মিত ডিউটি পালনের পাশাপাশি ২৪ ঘণ্টাই অনকলে থাকতে হয়। দেশের সর্বস্তরে সুচিকিৎসা নিশ্চিত করতে এবং দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ন্যায্য ভাতা প্রদানের নিমিত্তে পোস্ট গ্রাজুয়েট বেসরকারি ট্রেইনি চিকিৎসকদের পক্ষ থেকে মাসিক ভাতা অন্তত ৫০ হাজার টাকা করার দাবি বহুদিনের। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মনোযোগ আরও গভীর হোক এই প্রত্যাশা করি।

 

 

  • বেসরকারি ট্রেইনি চিকিৎসক
শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা