প্রজন্মের ভাবনা
সোলাইমান সোহাগ রাফি
প্রকাশ : ২৭ জুন ২০২৩ ০৫:৪৯ এএম
অলঙ্করন : প্রবা
মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিকে জিপিএ-৫। মেধার বাছবিচারে জিপিএ-৫ যদি মানদণ্ড হয়ে থাকে তাহলে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষায় কেন এত শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হচ্ছে? মনে রাখা জরুরি, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র তৈরি করা হয় মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিকের পাঠ্য বইয়ের বিষয়বস্তু থেকেই। তার পরও কেন ৯০ শতাংশ শিক্ষার্থী উত্তীর্ণ হতে পারেন না।এটি জরুরি প্রশ্ন বটে। এ জন্য অনেকে সৃজনশীল প্রশ্ন পদ্ধতিকে দায়ী কারণ। কারণ সৃজনশীল পদ্ধতিতে নির্দিষ্ট কিছু অধ্যায় পড়ে শিক্ষার্থীরা পরীক্ষায় অংশ নেন। পুরো বিষয় আয়ত্তে না থাকায় তাদের পক্ষে একটু ঘুরিয়ে দেওয়া প্রশ্নটি বোঝা কঠিন হয়ে যায়। বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষায় যারা মানবিক বিভাগের ইউনিটে পরীক্ষা দেন বা বিভাগ পরিবর্তনের ইউনিটে পরীক্ষা দেন, তাদের সমস্যা হয় একটু বেশি। কারণ এজন্য তাদের সাধারণ জ্ঞান থেকে প্রশ্ন করা হয়। সাধারণ জ্ঞানের জন্য বাজারে ঢাউস আকৃতির বই পাওয়া যায় সহজেই। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, প্রতিনিয়ত যেসব তথ্য আমাদের চারপাশে রয়ে গেছে সেগুলোর জন্য আলাদা প্রস্তুতির কী আছে?
মাধ্যমিক কিংবা উচ্চমাধ্যমিক- এই দুই পরীক্ষায়ই শিক্ষার্থীদের গাইডবই বা কোচিং থেকে নির্ধারিত শর্ট সাজেশন দেওয়া হয়। অনেকেই ভালো মানের বই পড়েন না। পুরো বই না পড়ার ফলে বইয়ের সিংহভাগ অংশই থাকে তার অজানা। এগুলো নীতিনির্ধারণের মাধ্যমে ঠিক করার বিষয় নয়। অনেক অভিভাবকই ফলাফলের দিকে এতটাই ঝুঁকে পড়েছেন যে তারা সন্তানের ভবিষ্যতের দিকটা চিন্তা করতে পারছেন না। উচ্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তি এখন বাবা-মার উৎকণ্ঠার বিষয়। অনেকে উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায় পার করার আগেই সন্তানদের ভার্সিটি ভর্তি কোচিং বা সেই প্রস্তুতির বাড়তি চাপ দেন। ফলে তারা বিষয়গুলো না বুঝে একনাগাড়ে মুখস্থ করার চেষ্টা করে। পরীক্ষার ফলে মানসিক চাপের কারণে জানা উত্তরও ভুল করেন শিক্ষার্থীরা। ভুল উত্তরের জন্য নম্বর কেটে নেওয়ায় শেষ পর্যন্ত পাস নম্বর পায় না অনেকে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশ্ন বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ইংরেজি ও বাংলা ব্যাকরণ অংশের বেশির ভাগ প্রশ্নের উত্তর দিতে পারেন না তারা। ব্যাকরণ থেকে কিছু সূক্ষ্ম প্রশ্ন থাকে, যা উচ্চ মাধ্যমিকে বা সৃজনশীল সিলেবাসে শিক্ষার্থীরা পড়েন না। উচ্চ মাধ্যমিকের ক্ষেত্রে সৃজনশীল পদ্ধতির পরীক্ষায় সূক্ষ্ম প্রশ্নের উত্তর কাছাকাছি হলেও নম্বর পাওয়া যায়। মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিকের পরীক্ষাগুলোতে শিক্ষার্থীরা সাধারণত বই, গাইড থেকে কিছু অংশ পড়াশোনা করে ভালো রেজাল্ট করলেও ভর্তি পরীক্ষায় তা একদম আলাদা। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষায় বইয়ের বাইরেও কিছু বেসিক প্রশ্ন থাকে, যা শিক্ষার্থীদের ধরাছোঁয়ার বাইরে। অথচ এমনটি হওয়ার কথা নয়। মানবিক বিভাগ মানেই মুখস্থ নয়। অর্থনীতি, পৌরনীতি, সাহিত্য, ভূগোল- এসব বিষয়ে বোঝার অনেক কিছু আছে। শিক্ষার্থীদের কেউ বোঝায় না, তুমি একবার বোঝার চেষ্টা করো। তাদের একনাগাড়ে মুখস্থ করতে দেওয়া হয় শর্ট সাজেশন। আর পরীক্ষার হলে যখন শব্দ বা বাক্যটি বদলে দেওয়া হয় তখনই বাধে বিপত্তি। কোনো মতেই তারা সিদ্ধান্তে আসতে পারে না উত্তর জানা সত্ত্বেও। শিক্ষাব্যবস্থায় পরিবর্তনের বিষয়ে বহুবার আলোচনা হয়েছে। সামাজিক সচেতনতারও অভাব রয়েছে। শিক্ষার্থীদের জ্ঞানের জগৎ বিস্তৃত করার পদক্ষেপগত ভুল আগামী প্রজন্মের অনেক শিক্ষার্থীকে আত্মমর্যাদাসম্পন্ন ও আত্মবিশ্বাসী হতে দিচ্ছে না।■ শিক্ষার্থী