× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

সম্পাদকীয়

সমীক্ষাতেই ১০ বছর!

সম্পাদক

প্রকাশ : ২৩ মে ২০২৩ ১৪:৪৯ পিএম

অলঙ্করন: প্রবা

অলঙ্করন: প্রবা

কথায় আছে ‘১৮ মাসে বছর’। আমাদের সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের জন্য হয়তো সময়টি একটু কমই! ফলে সমীক্ষাতেই কাটিয়ে দেওয়া সম্ভব হয়েছে ১০ বছর। আমাদের প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নে বোধহয় সময় একটু বেশিই লাগে। কারণ প্রকল্প হাতে নেওয়ার সময়ে যে ব্যয় ধরা হয়, অধিকাংশ ক্ষেত্রেই তা নির্ধারিত সময়ে শেষ না হওয়ায় ব্যয়ও বাড়ে। আবার কোথাও কোথাও প্রকল্প বাস্তবায়নের আগে সমীক্ষাতেই কাটিয়ে দেওয়া যায় বছরের পর বছর। সে ছবিই আবারও স্পষ্ট হয়েছে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক প্রকল্প ঘিরে। চট্টগ্রাম-কক্সবাজারের সড়কের ১৫০ কিলোমিটার সড়কটি দুই লেনবিশিষ্ট। ২২ মে প্রতিদিনের বাংলাদেশ-এ প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ ২০১৩ সালে এই সড়কটির গুরুত্ব বিবেচনায় চার লেনে উন্নীত করার উদ্যোগ নেয়। সে মোতাবেক গ্রহণ করা হয় প্রকল্প। সড়কটি চার লেনে উন্নীত করার জন্য তিন দফা সমীক্ষা চালিয়েছে দেশি-বিদেশি প্রতিষ্ঠান। সমীক্ষা রিপোর্টও জমা পড়েছে। কিন্তু প্রকল্প রয়েছে ‘কচ্ছপ গতিতেই’।

চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কটি আঞ্চলিক হলেও খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ভৌগোলিক গুরুত্ব বিবেচনাতেও সড়কটির গুরুত্ব অনেক। প্রকৃতির অনন্য উপহার পৃথিবীর দীর্ঘতম সমুদ্রসৈকতের অবস্থান কক্সবাজারে। এ জেলাতেই অবস্থিত দর্শনীয় প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিন ও ছেঁড়াদ্বীপ। সৌন্দর্যপিপাসু মানুষ, দেশ-বিদেশ থেকে প্রতিদিন এ জেলায় আসে। সেই সঙ্গে মিয়ানমার সেনাবাহিনী কর্তৃক দেশটির বিপুলসংখ্যক নির্যাতিত রোহিঙ্গা শরণার্থী এ জেলায় আশ্রয় নেওয়াতেও কূটনৈতিক ও দেশি-বিদেশি সাহায্য সংস্থায় কর্মরতরাও জেলাটিতে আসছেন, ফলে সড়কে ব্যস্ততা বেড়েছে। জেলার বিমানবন্দরটিতে শুধু অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট পরিচালিত হয়। চট্টগ্রামের সঙ্গে কক্সবাজারের ট্রেন যোগাযোগে প্রবেশ করতে যাচ্ছে শিগগিরই। ২০১০ সালে দোহাজারী থেকে রামু হয়ে কক্সবাজার ও রামু থেকে মিয়ানমারের কাছে ঘুমধুম পর্যন্ত ১২৮ কিলোমিটার রেলপথ নির্মাণ প্রকল্পটির কাজ প্রায় শেষ। শিগগিরই চট্টগ্রামের দোহাজারী থেকে কক্সবাজার রেললাইন সারা দেশের রেলওয়ে নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার আশা করা হচ্ছে। জেলায় নির্মিত হয়েছে দৃষ্টিনন্দন একটি আধুনিক রেলস্টেশনও। এ অবস্থায়, চট্টগ্রাম-কক্সবাজার সড়ক চার লেনে উন্নীত করা সময়েরই দাবি।

চট্টগ্রাম-কক্সবাজার সড়ক চার লেনে উন্নীত করার বিষয়ে অনিশ্চয়তা নেই। তার পরও কেন এত ধীরগতি, এত দীর্ঘসূত্রতা তা আমাদের বিস্মিত করে। বর্তমান সরকার যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়নে সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়েছে। সারা দেশকে সড়ক ও রেল যোগাযোগ নেটওয়ার্কের আওতায় আনতে কাজ করছে। হাতে নিয়েছে অনেক প্রকল্প। দেশের যোগাযোগব্যবস্থার মাইলফলক পদ্মা সেতু। বর্তমান সরকারের হাত ধরেই বাস্তবায়িত হয়েছে। ইতোমধ্যে এর সুফলও আমরা পেয়েছি হাতে হাতে। একসময় দক্ষিণবঙ্গের মানুষকে রাজধানীতে আসতে যে দুর্ভোগ পোহাতে হতো, পদ্মা সেতু সে দুর্ভোগ ভোজবাজির মতো মিলিয়ে দিয়েছে। দক্ষিণবঙ্গের মানুষ দিনেই রাজধানীতে এসে নিজের কাজ সম্পন্ন করে বাড়ি ফেরার সুযোগ পাচ্ছে। বেড়েছে ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার। যোগাযোগব্যবস্থার গুরুত্ব অনুধাবন করেই উত্তরবঙ্গের মানুষের সঙ্গে রাজধানীর যোগাযোগ সহজ করতে যেমন মহাসড়ক চার লেনে পরিণত করার কাজ এগিয়ে চলেছে, তেমনি এগিয়ে চলেছে যমুনা নদীর ওপর রেল সেতু নির্মাণের কাজও।

তৃতীয় বিশ্বের উন্নয়নশীল দেশের তালিকা থেকে ইতোমধ্যে আমাদের উন্নতি ঘটেছে। আমরা প্রবেশ করেছি মধ্যম আয়ের দেশের তালিকায়। সরকার চাইছে, ২০৪১ সালের মধ্যে দেশকে উন্নত বিশ্বের কাতারে পৌঁছে দিতে। সে লক্ষ্যেই সব আয়োজন। এই আয়োজনের সুফল ঘরে তুলতে যোগাযোগব্যবস্থার উন্নতির দিকেই সর্বাগ্রে নজর দিতে হবে। সে কাজটিই করছে সরকার। এ ক্ষেত্রে কারও গাফলতি, কারও অদক্ষতা বা অবহেলা ও অসাধু উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের জন্য কোনো প্রকল্পে কচ্ছপগতি নেমে এলে, তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। ইতোমধ্যে মহাসড়কটি চার লেনে উন্নীত করতে পরিচালিত সমীক্ষাতেও অর্থ খরচ হয়েছে। ১৩ হাজার ৮৬৬ কোটি টাকা ব্যয় ধরা পরিকল্পনা করা প্রকল্পটি বাস্তবায়নের কাজ যদি এভাবে চলতে থাকে, তবে প্রতিনিয়ত ব্যয় বাড়তে থাকবে, যা আখেরে ক্ষতিই বাড়াবে। সেই সঙ্গে বাড়তে থাকবে এ পথে যাতায়াতকারীদের যানজটে আটকে থাকার দুর্ভোগ। আমরা ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত বিশ্বের দেশ হওয়ার স্বপ্ন দেখছি, কিন্তু সেই স্বপ্ন পূরণের পদক্ষেপগুলো বাস্তবায়নের জন্য যদি সে সময় পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়, তাহলে ফসল ঘরে তোলা দুরূহ হয়ে উঠবে। তাই গুরুত্ব বিবেচনা করে, ‘কন্ট্রোলড-অ্যাক্সেস হাইওয়ে’ হিসেবে নির্মাণের পরিকল্পনা করা চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক দ্রুত চার লেনে উন্নীত করার কাজ সমাপ্ত করা জরুরি।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা