প্রেক্ষাপট
মোহাম্মদ ইকবাল হাসান
প্রকাশ : ২৩ মে ২০২৩ ১৪:৪০ পিএম
অলঙ্করন : প্রবা
স্মার্ট বাংলাদেশ বাস্তবায়ন করতে স্মার্ট স্কুলের গুরুত্ব
কোনো অংশেই কম নয়। স্মার্ট স্কুলের শিক্ষার্থীরা অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ইন্টারনেট অব
থিংস, ব্লক চেন, রোবটিক্স, মেশিন লার্নিং, ডাটা বিশ্লেষণÑএসব প্রযুক্তির ব্যবহার করতে
সক্ষম হবে। সৃজনশীলতা, সূক্ষ্ম চিন্তনদক্ষতা, খাপ খাইয়ে নেওয়ার ক্ষমতা, সহযোগিতা, সহমর্মিতা
এবং যোগাযোগ দক্ষতার মতো সফট স্কিল স্মার্ট স্কুলের শিক্ষার্থীরা অর্জন করতে পারবে।
এর ফলে যেকোনো পেশায় সমাজে সফলভাবে নিজের এবং অন্যের মঙ্গল করতে পারবে। স্মার্ট স্কুলের
শিক্ষকও হবেন আধুনিক প্রযুক্তিজ্ঞানসমৃদ্ধ দক্ষ মানুষ। ইন্টারনেট অব থিংস, ব্লক চেন,
রোবটিক্স, মেশিন লার্নিং, ডাটা বিশ্লেষণÑ এসব প্রযুক্তি ব্যবহার করে দৈনন্দিন কাজকর্ম
কীভাবে করতে হবে, সে বিষয়ে শিক্ষার্থীদের শেখানোর দক্ষতা একজন স্মার্ট শিক্ষকের থাকতে
হবে। শিক্ষার্থীদের মধ্যে সৃজনশীলতা, সূক্ষ্ম চিন্তনদক্ষতা, খাপ খাইয়ে নেওয়ার ক্ষমতা,
সহযোগিতা, সহমর্মিতা এবং যোগাযোগ দক্ষতার মতো সফট স্কিল যদি তৈরি করতে পারেন তবেই তিনি
স্মার্ট শিক্ষক।
স্মার্ট শিক্ষার্থী তৈরির ক্ষেত্রে অভিভাবকের ভূমিকাও
গুরুত্বপূর্ণ। অভিভাবককেও হতে হবে স্মার্ট। স্মার্ট অভিভাবক তার সন্তানকে স্মার্ট হিসেবে
গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারেন। আমাদের প্রতিষ্ঠানগুলো ফলাফলকেন্দ্রিক
হয়ে উঠেছে। যে প্রতিষ্ঠানের ফল ভালো, সেই প্রতিষ্ঠান ভালো। যে প্রতিষ্ঠানের ফল খারাপ,
সেই প্রতিষ্ঠান খারাপ। এ মানদণ্ড ঠিক করার ক্ষেত্রে অভিভাবক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন
করেন। শুধু ভালো রেজাল্টই যে কাউকে পরিপূর্ণ মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে পারে না, তাও অভিভাবককে
বুঝতে হবে। সমস্যা হলো, প্রযুক্তির দ্রুত উন্নতির কারণে কে কোন পেশায় যাবে তা বলা কঠিন
হয়ে উঠছে। ফলে অভিভাবককেই যেকোনো পরিস্থিতিতে খাপ খাওয়াতের পারার উপযোগী করে সন্তানকে
গড়ে তুলতে হবে।
স্মার্ট শিক্ষাব্যবস্থা হবে সম্পূর্ণ ক্লাউডনির্ভর। এখানে
কোনো ধরনের হার্ডওয়্যারের প্রয়োজন হবে না। স্কুল ইন ক্লাউডে প্রথমে একটি স্কুলকে লার্নিং
ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমের আওতায় নিয়ে এসে এখানে ভালো ভালো শিক্ষকের লেকচার আপলোড করা
যেতে পারে। এ লেকচারগুলো অন্য শিক্ষকরা দেখে অনুপ্রাণিত হয়ে ব্যবহার করতে পারেন অথবা
তারা নতুন করে তৈরি করতে পারেন। এ লার্নিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমটি কীভাবে ব্যবহার করা
হবে তা-ও এর মধ্যে থাকবে। এর ফলে খুব সহজে অনেক বেশি শিক্ষককে এ স্কুল ইন ক্লাউডের
মাধ্যমে সংযুক্ত করে প্রশিক্ষণ প্রদান করা যাবে। এর মধ্যে শিক্ষার্থীরাও জড়িত থাকবে।
তারা লেকচারগুলো দেখবে, তাদের অ্যাসাইনমেন্ট জমা দেবে, অন্য শিক্ষার্থীর সঙ্গে যোগাযোগ
ও আলোচনা করবে। আমরা যদি লার্নিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমের মাধ্যমে স্কুল ইন ক্লাউড,
কমিউনিটি স্কুল ইন ক্লাউড এবং রিজিওনাল স্কুল ইন ক্লাউডে শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ দিতে পারি,
তাহলে দেশের সব শিক্ষাব্যবস্থা স্মার্ট শিক্ষাব্যবস্থার আওতায় চলে আসবে।
মোট কথা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং শিক্ষার প্রযুক্তির ব্যবহার
নিশ্চিত করতে পারলে আগামী প্রজন্ম স্মার্ট নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠবে। শিক্ষা বিভাগকে
কম গুরুত্ব দিয়ে স্মার্ট নাগরিক তৈরির স্বপ্ন বাস্তবায়ন হবে না। সে কারণে শিক্ষায় বরাদ্দ
বাড়াতে হবে। স্মার্ট নাগরিক তৈরিতে চাই স্মার্ট স্কুল।