× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

জননেত্রী শেখ হাসিনা : স্বপ্নপূরণের বাতিঘর

ডা. খালেদ শওকত আলী

প্রকাশ : ১৭ মে ২০২৩ ১৬:১৭ পিএম

জননেত্রী শেখ হাসিনা : স্বপ্নপূরণের বাতিঘর

আজ প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি জননেত্রী শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা পুনরুদ্ধার এবং সমৃদ্ধ বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার অভিযাত্রায় বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার ঐতিহাসিক স্বদেশ প্রত্যাবর্তন একটি তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যাকাণ্ডের পর প্রায় ছয় বছর নির্বাসিত জীবন কাটিয়ে ১৯৮১ সালের ১৭ মে দেশে ফেরেন তার জ্যেষ্ঠ কন্যা শেখ হাসিনা।

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট যেদিন বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা করা হয়, শেখ হাসিনা তখন তার ছোট বোন শেখ রেহানা এবং দুই সন্তানসহ স্বামীর কর্মস্থল পশ্চিম জার্মানিতে অবস্থান করছিলেন। ফলে তারা খুনিদের হাত থেকে প্রাণে বেঁচে যান। ১৯৮১ সালের ১৪, ১৫ ও ১৬ ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত আওয়ামী লীগের জাতীয় সম্মেলন অধিবেশনে শেখ হাসিনার অনুপস্থিতিতে তাকে আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত করা হয়।

দেশের গণতন্ত্র আর প্রগতিশীলতার রাজনীতি ফেরাতে দুই শিশুসন্তান সজীব ওয়াজেদ জয় ও সায়মা ওয়াজেদ পুতুলকে ছোট বোন শেখ রেহানার কাছে রেখে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে দেশে ফেরেন শেখ হাসিনা। তখনকার রাজনীতির মতোই প্রকৃতিও সেদিন ছিল ঝঞ্ঝাবিক্ষুব্ধ। ১৯৮১ সালের ১৭ মে ছিল কালবৈশাখীর হাওয়া, বেগ ছিল ঘণ্টায় ৬৫ মাইল। প্রচণ্ড ঝড়বৃষ্টি সেদিন গতিরোধ করতে পারেনি গণতন্ত্রকামী লাখ লাখ মানুষের মিছিল। মুষলধারার বৃষ্টি-বাদল উপেক্ষা করে গণতন্ত্রকামী, মুক্তিপাগল বাঙালি বিমানবন্দরে অপেক্ষা করছিল নেত্রী কখন আসবেন সেই প্রতীক্ষায়। বিকাল ৪টায় কুর্মিটোলা বিমানবন্দরে জনসমুদ্রের জোয়ারে এসে পৌঁছান শেখ হাসিনা। তাকে একনজর দেখার জন্য কুর্মিটোলা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে শেরেবাংলা নগর পর্যন্ত রাস্তাগুলো রূপ নিয়েছিল জনসমুদ্রে। লাখো মানুষের সঙ্গে প্রকৃতিও কাঁদছিল পিতা হারানোর শোকে, কাঁদছিলেন শেখ হাসিনা। ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ ধ্বনিতে প্রকম্পিত হয় বাংলার আকাশ-বাতাস। জনতার কণ্ঠে বজ্রনিনাদে ঘোষিত হয়েছিল ‘পিতৃহত্যার বদলা নিতে/লক্ষ ভাই বেঁচে আছে, শেখ হাসিনার ভয় নাই, রাজপথ ছাড়ি নাই।’

দেশের মাটিতে পা দিয়ে লাখ লাখ জনতার সংবর্ধনায় আপ্লুত শেখ হাসিনা সেদিন বলেছিলেন, ‘সব হারিয়ে আমি আপনাদের মাঝে এসেছি, বঙ্গবন্ধুর নির্দেশিত পথে তার আদর্শ বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে জাতির পিতা হত্যার প্রতিশোধ গ্রহণে আমি জীবন উৎসর্গ করতে চাই। আমার আর হারাবার কিছুই নেই। পিতা-মাতা, ভাই রাসেলসহ সবাইকে হারিয়ে আমি আপনাদের কাছে এসেছি। আমি আপনাদের মাঝেই তাদের ফিরে পেতে চাই।’ তিনি বলেন, ‘আমি আওয়ামী লীগের নেত্রী হওয়ার জন্য আসিনি। আপনাদের বোন হিসেবে, মেয়ে হিসেবে, বঙ্গবন্ধুর আদর্শে বিশ্বাসী কর্মী হিসেবে আমি আপনাদের পাশে থাকতে চাই।’ তিনি আরও বলেন, ‘জীবনে ঝুঁকি নিতেই হয়, মৃত্যুকে ভয় করলে জীবন মহত্ত্ব থেকে বঞ্চিত হয়।’

বঙ্গবন্ধুবিহীন বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলায় আলোর মশাল হাতে কাণ্ডারি হয়ে স্বদেশের মাটিতে এসেছিলেন জাতির পিতার জ্যেষ্ঠকন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা। সেদিনই বঙ্গবন্ধুবিহীন বাংলাদেশের পুনর্জন্ম হয়েছিল। শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের মাধ্যমে ঘুরে দাঁড়ায় বাংলাদেশ। বাংলার মানুষ আবার মুক্তির স্বপ্ন দেখতে শুরু করে। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে পতন হয় স্বৈরাচারের, ব্যর্থ হয় উগ্রবাদী চক্র, ফিরে আসে গণতন্ত্র, শুরু হয় উন্নয়নের কর্মযজ্ঞ, ভাগ্য বদলাতে থাকে সাধারণ মানুষের; যার ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশ উন্নীত হয়েছে মধ্যম আয়ের দেশে, উন্নয়নশীল রাষ্ট্রের স্বীকৃতি অর্জন করে আমরা আজ ধাবমান উন্নত রাষ্ট্রের কাতারে নাম লেখানোর পথে।

বাংলাদেশের অগ্রগতির অবিশ্বাস্য সাফল্যের পেছনে কোনো জাদুমন্ত্র নেই, যা আছে তা হলো বঙ্গবন্ধুর রাষ্ট্রদর্শনকে বাস্তবায়নের জন্য সুচিন্তিত কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন এবং কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে তা বাস্তবায়ন। স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের পর দীর্ঘ এক দশক ধরে দেশের আনাচেকানাচে ঘুরে ঘুরে বঙ্গবন্ধুর অবর্তমানে ছিন্নভিন্ন হয়ে যাওয়া আওয়ামী লীগকে সংগঠিত করেন শেখ হাসিনা, জাতীয় মুক্তির জন্য সংগঠিত করে তোলেন সর্বস্তরের মানুষকে। দেশের গণমানুষের মৌলিক সমস্যাগুলোকে একান্তই নিজের সমস্যা মনে করে, তা সমাধানের জন্য সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা করেন গণতন্ত্রের মানসকন্যা শেখ হাসিনা। এ কারণেই স্বাধীনতা সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্বদানকারী দল আওয়ামী লীগকে তৃণমূল পর্যায় থেকে নতুন করে গোছাতে শুরু করেন তিনি। দলকে পুনর্গঠিত করার মাধ্যমে উগ্রবাদী ও স্বৈরাচারের হিংস্র থাবায় আক্রান্ত দেশকে পুনর্গঠনের জন্য দীর্ঘমেয়াদি ছক আঁকেন। যার ফলাফল হিসেবে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের হাত ধরে বিশ্বের বুকে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে গেছে এক নতুন বাংলাদেশ এবং বৈশ্বিক পরিস্থিতির সঙ্গে প্রতিযোগিতা করে বেড়ে ওঠার সুযোগ পাচ্ছে আজকের ডিজিটাল প্রজন্ম, যাদের হাত ধরেই স্মার্ট রাষ্ট্র হিসেবে বিশ্বকে নেতৃত্ব দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে বীর বাঙালির প্রিয় বাংলাদেশ। তিনি এখন একবিংশ শতকের একজন মডেল রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে পরিচিত। জাতিসংঘের মহাসচিব থেকে শুরু করে বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট, সবাই স্বীকার করেন শেখ হাসিনা আর তার নেতৃত্বে বদলে যাওয়া বাংলাদেশ থেকে শেখার আছে অনেক কিছু। শেখ হাসিনা তার পিতার পর বাঙালির উজ্জ্বলতম বাতিঘর।

শেখ হাসিনার রাজনৈতিক জীবনের এই দীর্ঘ চলার পথ ফুল বিছানো ছিল না। নেতাজী সুভাষ বসু বলেছিলেন, ‘বিপ্লবের পথ একেবারে ঋজুপথ নয়। এ পথে নিরবচ্ছিন্ন সাফল্য আসে না, এ পথ বহু বিঘ্নসংকুল, সুদীর্ঘ ও সর্পিল।’ পদে পদে বিপদ এবং মৃত্যুর ঝুঁকি তাড়া করেছে শেখ হাসিনাকে। ২১ বার তাকে হত্যার অপচেষ্টা চলেছে। জীবন-মৃত্যুকে পায়ের ভৃত্য করে তিনি এগিয়ে চলেছেন। বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা মাত্র ৩৪ বছর বয়সে আওয়ামী লীগের দায়িত্ব নিয়েছিলেন। তিনি শুধু দীর্ঘসময় ধরে আওয়ামী লীগেরই সভানেত্রী নন, তিনি সরকারপ্রধান হিসেবেও বেশি সময়ের রেকর্ড সৃষ্টি করেছেন। তিনি এখন একদিকে যেমন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী, একই সঙ্গে তিনি একজন বিশ্বনেতাও বটে। তার প্রশংসায় অকুণ্ঠ অনেক দেশের সরকারপ্রধান। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ উন্নতি ও সমৃদ্ধির পথে চলেছে। বিশ্বসভায় বাংলাদেশ এক ভিন্নতর মর্যাদার আসন লাভ করেছে।

বাংলাদেশ আজ বিশ্বে উন্নয়নের রোল মডেল। বঙ্গবন্ধুকন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। মাথাপিছু আয় দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৮২৪ মার্কিন ডলার। স্বাস্থ্য, শিক্ষা, খাদ্য, বিদ্যুৎ ও যোগাযোগসহ সর্বক্ষেত্রে দ্রুত উন্নয়ন সাধিত হচ্ছে। বাংলাদেশকে ২০২১ সালের মধ্যে মধ্যম আয়ের দেশ এবং ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত সমৃদ্ধ দেশে পরিণত হওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করে সামনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে মানবতার জননী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। যুদ্ধবিধ্বস্ত একটি দেশ থেকে জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলা প্রতিষ্ঠা হতে যাচ্ছে। একমাত্র প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গতিশীল নেতৃত্বে সম্ভব হচ্ছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশের গৌরবময় পথচলা। দেড় দশক ধরে বিদ্যুৎ পরিস্থিতি, নারী শিক্ষা ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ, অবকাঠামো উন্নয়ন, বিনিয়োগ বৃদ্ধি, প্রযুক্তির ব্যবহার ইত্যাদি ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ধারাবাহিকভাবে উন্নতি করছে। ২০২১-২২ অর্থবছরে মাথাপিছু আয় দাঁড়িয়েছে ২৭৯৩ ডলার। বিশ্বব্যাংকের হিসাবে দেখা গেছে, গত দশ বছরে ধারাবাহিকভাবে গড়ে ৬-এর ওপর অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে বাংলাদেশ। কোভিড মহামারির সময়ও ২০২০ সালে জিডিপিতে প্রবৃদ্ধির হার ছিল ৩.৪৫। খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে সেই ধাক্কা সামলে গত ২০২১ সালে জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার দাঁড়িয়েছে ৬.৯৪। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের পরিসংখ্যানে দেখা যায়, বিশ্ব অর্থনীতির কঠিন চ্যালেঞ্জের মধ্যেও বিশ্বের ৩৫তম বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ এখন বাংলাদেশ।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গোড়া থেকেই বাংলাদেশের সম্ভাবনাগুলোকে বাস্তবে রূপ দিতে বদ্ধপরিকর। জননেত্রী শেখ হাসিনা দেশের প্রধানমন্ত্রী আছেন বলেই দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। শেখ হাসিনাই বাংলাদেশের স্বপ্নপূরণের যোগ্য কাণ্ডারি। তার মধ্যেই মূর্ত হয়ে উঠছে বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশ। জয়তু শেখ হাসিনা।

  • প্রেসিডিয়াম সদস্য, বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ এবং চেয়ারম্যান, ৭১ ফাউন্ডেশন
শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা