× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

ডন পত্রিকার বিশ্লেষণ

রাজনীতিই পাকিস্তানের সংকট দূর করতে পারে

সারাহ ইলিজার

প্রকাশ : ১২ মে ২০২৩ ১৪:১৩ পিএম

অলঙ্করন : প্রবা

অলঙ্করন : প্রবা

পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান গ্রেপ্তার হওয়ার ঘণ্টাখানেকের মধ্যে তেহরিক-ই-ইনসাফের সদস্যদের বিক্ষুব্ধ মিছিলের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। অন্যদিকে করাচিতে শরিয়া ফয়সালের আন্দোলনকারীদের ওপর পুলিশের শেল নিক্ষেপের ঘটনাও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আসে। মুলতানে বিক্ষোভকারীরা বাহাওয়ালপুরের চক ও নয়ন শহর অবরুদ্ধ করে রাখে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ১৪৪ ধারা দেখিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করে। পেশোয়ারে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে সাংবাদিকদের সংঘর্ষে একাধিক ব্যক্তির আহত হওয়ার খবর এসেছে সংবাদমাধ্যমে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, যেখানে কাঁদানে গ্যাস ছাড়ার প্রয়োজন ছিল না, সেখানেও গ্যাস ছাড়া হয়েছে। ফলে জনজীবনেও বাড়তি দুর্ভোগ তৈরি হয়েছে। একটি বিষয় স্পষ্ট, ১৪৪ ধারা জারির মাধ্যমে বড় শহরে বিক্ষোভ থামানোর কাজটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় বিক্ষোভ আরও বাড়ছে। এই প্রতিক্রিয়ার পর নানা সমস্যা তৈরি হচ্ছে এবং বিরুদ্ধপক্ষও নিজেদের পক্ষে নানা যুক্তি উপস্থাপন করার সুযোগ পাচ্ছে। দুর্নীতিগ্রস্ত রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে সচরাচর এমনটিই দেখা যায়। গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানের অভাব এবং সুসংহত রাজনৈতিক সংস্কৃতি না থাকায় নির্বাচনে জয়-পরাজয়টিই সবার প্রধান লক্ষ্য হয়।

পাকিস্তানের রাজনৈতিক সংস্কৃতি সম্পর্কে লাহোর ইউনিভার্সিটি অব ম্যানেজমেন্ট সায়েন্সের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক মোহাম্মদ ওয়াসীম জানান, ইমরান খানের বক্তব্য এবং আইএসআরপির উত্তর, দুটো ক্ষেত্রেই আমরা দেখব জনমনে এক ধরনের নিরপেক্ষ অনুভূতি জাগানোর চেষ্টা করা হয়েছে। কিন্তু আচমকা পাকিস্তানের পরিস্থিতি যেন উল্টোদিকে বাহিত হতে শুরু করেছে।

২০২২ সালের এপ্রিল থেকে পিটিআইপ্রধান ইমরান খান জনগণের সহানুভূতি আদায়ের জোর চেষ্টা চালাচ্ছেন। অধ্যাপক ওয়াসীম বর্তমানে ইমরান খানের এই জনসংযোগের বিষয়গুলো নিয়েই গবেষণা করছেন। তিনি বলেন, ‘ইমরান খানকে পাকিস্তানের রাজনীতিতে আমি একটু ভিন্নভাবে দেখব। পাকিস্তানের মানুষ তাকে এমন একজন রাজনীতিবিদ হিসেবে দেখে, যিনি অবশেষে দুই প্রধান রাজনৈতিক দলের একচ্ছত্র আধিপত্য দূর করার ক্ষেত্রে আশীর্বাদ হয়ে এসেছেন। জাতীয় পরিসরে ইমরান খান নায়কোচিত এক চরিত্র। ক্রিকেট মাঠ থেকে আচমকা রাজনীতির জটিল ময়দানে আসার বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়েই বিবেচনা করতে হবে। বিশেষত প্রবাসীদের কাছে তিনি তুমুল জনপ্রিয় হয়ে উঠেছিলেন।

দেশের বাইরে প্রবাসীদের স্বদেশপ্রেমের প্রভাব পাকিস্তানে এসে পৌঁছুয় এবং পিটিআইয়ের জনপ্রিয়তা বাড়তে শুরু করে। এই জনপ্রিয়তার কারণে প্রচলিত আইন যেন রাজনীতির সূতিকাগার হয়ে ওঠে। আর আইনের ব্যবহার-অপব্যবহারের ফলে সাংবিধানিক কিংবা অসাংবিধানিক বিষয়ের মধ্যকার পার্থক্য আর চোখে পড়ে না। অন্তত মোহাম্মদ ওয়াসীম পাকিস্তানের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে এভাবেই দেখতে বাধ্য হচ্ছেন।

আল কাদির ট্রাস্ট মামলার তদন্তের জন্য ইমরান খানকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাকে গ্রেপ্তারের নির্দেশ দিয়েছেন এনএবি চেয়ারম্যান নিজে। ইসলামাবাদের কাছে বিশ্ববিদ্যালয়ের জমিবিষয়ক দুর্নীতির দায়ে ইমরান খান এবং তার স্ত্রীকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অবশ্য মামলাটি এত গুরুত্ব পাচ্ছে না। বরং এই মামলার বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। কারণ রিয়েল এস্টেটের সঙ্গে এমন অনেক বড় নাম সংযুক্ত থাকে, যাদের কথা সচরাচর রাজনীতিকরাও তোলার সাহস পান না। আইনটির বিষয়ে আসাদ জামাল নামের এক আইনজীবী জানান, এনএবি ব্যুরো তাদের সংস্থার তদন্তের স্বার্থে কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারে। এই আইনটি সর্বপ্রথম ২০০২ সালে চালু করা হয়। ওই সময় আসফান্দার ওয়ালি এ আইনের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করলেও সুপ্রিম কোর্ট নিয়মটি বহাল রাখে। প্রচলিত আইন যেমনই হোক, সরকারকে এখন প্রমাণ দেখাতে হবে। তারা প্রচলিত আইনের সঙ্গে সমন্বয় করে ওয়ারেন্ট ইস্যু করেছে কি না তা দেখালেই হবে। তা ছাড়া পিটিআইয়ের সভাপতিকে তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের বিষয়ে আগে থেকে কিছু জানানো হয়েছে কি না তাও মানুষকে জানাতে হবে। আপাতত আমরা যা দেখতে পেয়েছি, ইমরান খান তার অন্য একটি মামলায় হাজিরা দেওয়ার পর বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে হাজিরা দিচ্ছিলেন। অবশ্য ওই মামলার বিচারকার্য অনুষ্ঠিত হয়নি।

একদিন আগের আইএসপিআরের দেওয়া একটি বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে ইমরান খানকে গ্রেপ্তারের কারণ দেখানো প্রচলিত আইনকে নিজেদের স্বার্থে ব্যবহারের বিষয়টিই তুলে ধরে। কারণ বিক্ষোভকারীদের দমনের জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী প্রথম থেকেই প্রস্তুত। বিক্ষোভ দমনের জন্য তারা অস্ত্র এবং টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপেও দ্বিধা করেনি। ক্ষমতা ধরে রাখার জন্য সরকারের এমন অবস্থান ভালো হতে পারে না।

সবকিছু দেখে মনে হচ্ছে, সরকার রাজনৈতিক অঙ্গন থেকে ইমরান খানের নাম মুছে ফেলতে বদ্ধপরিকর। আপাতত ইমরান যেন নির্বাচনে অংশ নিতে না পারেন তার জন্য সবকিছু করতে রাজি তারা। সেজন্য ইমরান খানের বিরুদ্ধে একশর বেশি মামলা করে তাকে কোনোভাবে জেলে পাঠাতে পারলেই হলো। ১৫ বছর আগে পিটিআইয়ের সদস্যরা রাজনৈতিক অধিকারের জন্য আন্দোলন শুরু করেছিলেন। এই ১৫ বছরে তারা দীর্ঘ এক পথ পাড়ি দিয়েছেন। অতীতেও ক্ষমতাসীনদের অন্যায় আচরণ ও দমনের শিকার হতে হয়েছে তাদের। কোনোবারই তারা হার মানেনি। পুলিশ বাহিনী দিয়ে তাই এই বিক্ষোভকারীদের দমন করা যাবে না। পাকিস্তানের জনজীবনে বর্তমানে নানা শঙ্কা কাজ করছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আরেকটি ভিডিও বেশ জনপ্রিয়তা পেয়েছে। এক বিক্ষোভকারী লাহোর কর্পসের কমান্ডারের বাড়ি থেকে ময়ূর চুরি করে তার বাড়ির একাংশে আগুন ধরিয়ে দেয়। প্রতিবাদের ভিন্ন এই পদ্ধতি বেশ কয়েক দিন ধরেই দেশ ও দেশের বাইরের মানুষের মুখে মুখে আলোচিত হচ্ছে। এই মুহূর্তে প্রচলিত আইনের ব্যবহারে দমন-পীড়ন নয়, পাকিস্তানের সংকট দূর করার জন্য রাজনীতিই হতে পারে সবচেয়ে বড় সহায়ক।


  • সাংবাদিক


পাকিস্তানের ডন পত্রিকা থেকে ঈষৎ সংক্ষেপিত ভাষান্তর : আমিরুল আবেদিন

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা