× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

বিনা দোষে কারাবাসে ক্ষতিপূরণ দিতেই হবে

সম্পাদক

প্রকাশ : ১০ মে ২০২৩ ১৩:৩৯ পিএম

প্রতীকী ছবি

প্রতীকী ছবি

আইনের শাসন নিশ্চিত করার বিষয়ে রাষ্ট্র বরাবরই জোর দিলেও, বিচারের বাণী নীরবে নিভৃতে কাঁদে- কথাটি সত্যতা হারায়নি। রাষ্ট্রের পক্ষে দায়িত্ব পালনকারীদের অনেকের অবহেলা, দায়িত্বহীনতা আবার কখনও লোভের বলী হতে হয় সাধারণ মানুষকে।

৯ মে প্রতিদিনের বাংলাদেশ-এ ‘বিনা দোষে কারাবাস ক্ষতিপূরণ কী’ শিরোনামের প্রতিবেদনে যেসব বেদনাদায়ক ঘটনার বর্ণনা উঠে এসেছে, তা চলচ্চিত্রের কাহিনীর মতো শোনালেও চরম সত্য। বিনা দোষে মানুষকে কারাগারে আটক থাকার ঘটনা দুঃখজনকই শুধু নয়, উদ্বেগজনকও। বিনা দোষে কারাবাসের ঘটনা প্রথম বড় পরিসরে আলোচনায় আসে পাটকল শ্রমিক জাহালমের মধ্য দিয়ে।

দুদকের একটি মামলায় তিনি বিনা অপরাধে দীর্ঘ তিন বছর কারাবাস করেন। ব্যাংকের অ্যাকাউন্টে নামের মিল নেই, ছবিতে মিল নেই, তারপরও মামলা তদন্ত কর্মকর্তারা তাকেই শনাক্ত করেন, এমনকি দুদকে উপস্থিত বিভিন্ন ব্যাংকের কর্মকর্তারাও অনুসন্ধানকালে জাহালমকেই ‘আবু সালেক’ হিসেবে শনাক্ত করায় অপরাধ না করেও জাহালম হয়ে যান অপরাধী।

বিচারিক আদালতের বিচারকও জাহালমের পরিচয় বিভ্রাটের প্রসঙ্গ আমলে না নেওয়ায় তাকে বিনা কারণে জেলে কাটাতে হয় তিন বছর। পরবর্তী সময়ে গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে হাইকোর্ট স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে মামলার কর্মকর্তা ও বাদীকে তলব করলে তদন্ত প্রক্রিয়ায় ভুল থাকার বিষয়টি উঠে আসে। হাইকোর্ট জাহালমকে মুক্তির নির্দেশ দেন। এখানেই যদি ঘটনা থেমে থাকত, তাহলেও বেদনায় প্রলেপ দেওয়া যেত। কিন্তু একই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি থেমে নেই।

পরিসংখ্যান বলছে, গত ৫ বছরে অন্তত শতাধিক ব্যক্তি বিনা দোষে কারাভোগের শিকার হয়েছেন। যাদের মধ্যে ৮০ বছরের বৃদ্ধ এবং প্রতিবন্ধী ব্যক্তিও রয়েছেন। এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। প্রচলিত আইনে নির্দোষ মানুষ বিনা কারণে কারাভোগ করার ক্ষতিপূরণও চাইতে পারেন না। ক্ষতিপূরণ পেলে হয়তো ভুক্তভোগীর বেদনার কিছুটা উপশম হতো।

প্রতিদিনের বাংলাদেশ-এর প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, সে বিবেচনায় সুনির্দিষ্ট আইন প্রণয়নের যুক্তি তুলে ধরেছিলেন বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম। এমনকি ২০১৭ সালের ৮ মার্চ সংসদে এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও যারা বিনা অপরাধে কারাগারে আটক রয়েছেন তারা সংশ্লিষ্ট আটককারী কর্তৃপক্ষের কাছে ক্ষতিপূরণ চাইতে পারেন বলে মন্তব্য করেছিলেন। অথচ এ বিষয়ে এখনও কোনো আইন তৈরি হয়নি। আমরা দ্রুত এ সংক্রান্ত একটি আইন প্রণয়নের পক্ষে। 

আমাদের সংবিধানের ৩২ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, আইনানুযায়ী ব্যতীত জীবন ও ব্যক্তিস্বাধীনতা হতে কোনো ব্যক্তিকে বঞ্চিত করা যাবে না। অথচ Institute for Crime and Justice Policy Research নামক একটি প্রতিষ্ঠানের তথ্যানুযায়ী, বাংলাদেশে মোট বন্দির ৮১.১ শতাংশই বিচারপূর্ববর্তী বন্দি। অর্থাৎ আমাদের মোট বন্দির বড় অংশই বিনা বিচারে আটক। 

অনেককেই আটক করা হয় শুধুই সন্দেহের বশে। আবার এ বন্দিদশারও নির্দিষ্ট সময়সীমা নেই। বিনা বিচারে তো বটেই, ভুল নামে অশনাক্ত ব্যক্তিকে আটক রাখার অর্থ সেই ব্যক্তির মানবাধিকার লঙ্ঘন করা। এটি সেই ব্যক্তির নাগরিক ও সাংবিধানিক অধিকারও লঙ্ঘন করার শামিল। বন্দিত্ব একজন মানুষকে পরিবার, প্রিয়জন ও সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেয়।

অপরাধ না করেও সেই বন্দিজীবনের নিঃসঙ্গতা ও একাকিত্বের ক্ষতি অপূরণীয়। বন্দিব্যক্তির সঙ্গে সঙ্গে তার পরিবারও সামাজিকভাবে হেনস্থা হয়। যা তাদের গ্লানিবোধ বাড়িয়ে দেয়। সামাজিকভাবে হেয় মানুষের মাথা উঁচু করে দাঁড়ানোর পথ রুদ্ধ হয়। একজন ব্যক্তিকে কোনোরকম যাচাই-বাছাই ছাড়া গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো অমানবিকও বটে। এই প্রক্রিয়ার মধ্যে পদ্ধতিগত ত্রুটি থাকলে আমরা তা সংশোধন করার কথা বলি।

সেইসঙ্গে তদন্তকারী কর্মকর্তাদের সতর্কতাও এক্ষেত্রে জরুরি। নামের মিল, তদন্তে অনিচ্ছাকৃত বা ইচ্ছাকৃত ভুল, মিথ্যা সাক্ষ্যদান বা বিচারিক প্রক্রিয়ায় বিলম্ব হওয়াসহ নানা নানা কারণে এ ধরনের ঘটনা ঘটছে। অধিকাংশ ক্ষেত্রে তদন্তকারী কর্মকর্তার গাফিলতি ও দায়িত্বহীনতার কারণেই বিনা দোষে আটক হওয়ার মতো ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটছে।

তাই যাদের গাফিলতি এবং দায়িত্বহীনতায় বিনা দোষে কারাবাস করার ঘটনা ঘটছে, আমরা তাদের শাস্তির দাবি করি। পাশাপাশি আটক ব্যক্তির মুক্তি এবং তাদের ক্ষতিপূরণ পাবার দাবিকে মানবাধিকার আন্দোলনের অংশ বলেই মনে করি। প্রতিদিনের বাংলাদেশ-এর প্রতিবেদনের মধ্য দিয়ে দীর্ঘ দিনের দাবি পূরণের ক্ষেত্র প্রস্তুত হলো।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা