× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

আল জাজিরার বিশ্লেষণ

ফিলিস্তিনে বিপন্ন মানবতার দীর্ঘ ছায়া

ড. আদনান আবু আমের

প্রকাশ : ১০ এপ্রিল ২০২৩ ১৩:২৬ পিএম

আপডেট : ১০ এপ্রিল ২০২৩ ১৩:২৭ পিএম

অলঙ্করন : জয়ন্ত জন

অলঙ্করন : জয়ন্ত জন

৫ এপ্রিল পূর্ব জেরুজালেমে ইসরায়েল অধিকৃত আল আকসা মসজিদের একটি ভিডিও ফুটেজ অনলাইনে প্রকাশিত হয়। সেখানে ইসরায়েলি সেনাদের আল আকসা মসজিদে প্রার্থনারতদের নির্দয়ভাবে প্রহার করতে দেখা যায়। মুসলমানদের অন্যতম পবিত্র একটি স্থানে এমন ঘটনার পর স্বভাবতই জনরোষের সঞ্চার হয়েছে। লেবানন ও গাজা থেকে সতর্কসংকেত পাঠানো হলেও ইসরায়েল তাতে কর্ণপাত করেনি। পরের দিন আল আকসা মসজিদের কাছে আল হারাম শরিফেও একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি হয়।  ফিলিস্তিনে শান্তি প্রতিষ্ঠার মার্কিন প্রচেষ্টা পুরোপুরি ব্যর্থএমনটিই সত্য। দোষ ফিলিস্তিনের বাসিন্দাদের দেওয়া যাবে না। ক্ষমতার লড়াইয়ে মত্ত ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর উত্থান ওয়াশিংটনের মনঃপুত না হলেও তাদের কিছু করার থাকছে না। তবে পরিস্থিতি আরও নৃশংসতার দিকেই এগিয়ে চলেছে। কারণ এবারও  ফিলিস্তিনে হামলা হচ্ছে এবং অসংখ্য মানুষ প্রাণ হারাচ্ছে।

কয়েক বছর ধরেই ফিলিস্তিনে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠার কমতি নেই। জেনিন আর নেবলুসে সশস্ত্র প্রতিরোধও গড়ে তোলা হয়েছে। তবে ইসরায়েলি সেনাদের  ফিলিস্তিনের শহর ও গ্রামে ভয়াবহ অভিযানের তুলনায় তা সামান্যই। ২০২২ সালে ইসরায়েলি সেনারা অন্তত ১৭০ ফিলিস্তিনিকে হত্যা করে। এদের মধ্যে ৩০ জনই শিশু। এ ছাড়া আরও ৯ হাজারের মতো মানুষ আহত হয়। জাতিসংঘ ২০২২-কে পশ্চিম উপকূলের ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়াবহ বছর বলে আখ্যায়িত করে। তবে গত দুই মাসে অন্তত ৬৫ জন ফিলিস্তিনিকে হত্যা করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ১৩ জনই শিশু। অর্থাৎ ২০২২-এর থেকেও ভয়ংকর পরিস্থিতি হতে পারে চলতি বছরে। এই ভয়াবহতা থেকে সবার মনেই উৎকণ্ঠা, বৈশ্বিক শক্তিগুলোর কোনো পদক্ষেপই তাহলে কি কার্যকর নয়? আপাতদৃষ্টে স্পষ্টভাবে তাই মনে হচ্ছে।

মুসলিমদের জন্য পবিত্র রমজান মাস। পাশাপাশি ইহুদিদের পবিত্র পাসোভার এ সময়ে হওয়ায় অনেকেই আশঙ্কা করছিলেন, এবারও হয়তো ফিলিস্তিনের ওপর ভয়াবহ আঘাত আসতে পারে। পরিস্থিতি শান্ত রাখার উদ্দেশ্যে জর্দানের বন্দরনগর আকাবাতে ফেব্রুয়ারির ২৬ তারিখে  ফিলিস্তিন, ইসরায়েল, জর্দান, মিশরীয় এবং মার্কিন প্রশাসনিক ব্যক্তিরা এক বৈঠকে করেন। মূলত  ফিলিস্তিনে ইসরায়েলের অবৈধ দখল অভিযান বন্ধ করার বিষয়ে নানা আলোচনা হয়। ১৯ মার্চ শারম আল শেখেও একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। পবিত্র রমজানে ফিলিস্তিনে নির্দয় আচরণ না করার বিষয়ে আলোচনা চলে। রমজানে মুসলমানরা তাদের ধর্ম উদযাপনের ব্যাপক আয়োজন করে। এই প্রস্তুতির মধ্যে সামরিক অভিযান করবে না বলে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে কথা বলা হয়। কিন্তু নেতানিয়াহু সরকার এসবে কর্ণপাত করছে না। তাদের কাছে ক্ষমতাই সব। অন্যদিকে বৈশ্বিক শক্তির পদক্ষেপ কোনো কার্যকর ভূমিকা রাখতে সক্ষম হচ্ছে না।

২০২৩-এর শুরুতেই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ইতামার বেন-গেভির আল হারাম আল শরিফে প্রবেশ করলে ফিলিস্তিনের বাসিন্দারা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে্ন। তার অধীনে ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর প্রহরাবেষ্টিত মুসলিম এলাকাগুলোয় ত্রাস বেড়েছে। ইতামারের মতো উগ্রপন্থিরাই নেতানিয়াহুকে ক্ষমতার আসনে বসিয়ে রাখতে পারে। আপাতত যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ার ইচ্ছে ইসরায়েলের নেই। তারা আপাতত ফিলিস্তিনের ওপর দখল রাখতেই বেশি আগ্রহী। কারণ ওই ভূখণ্ডে ইরানের সামরিক সাফল্য এবং প্রভাব তাদের কিছুটা হলেও চিন্তায় রেখেছে। প্রশ্ন হচ্ছে, নেতানিয়াহু কি সামরিক বাহিনীর কথা শুনবেন?  ফিলিস্তিনের ওপর সাম্প্রতিক হামলার ঘটনায় হামাস ইতোমধ্যে সতর্কতা জারি করেছে। আপাতত তারা এই সংঘাতে জড়িয়ে পড়তে চাচ্ছে না। তবে খুব বেশিদিন তারা সংঘাত এড়িয়ে চলতেও পারবে না। ইসরায়েলের নৃশংস হামলা যদি চলতেই থাকে, তাহলে হামাসের পক্ষে আর কিছুই করার থাকবে না। কারণ ফিলিস্তিন প্রশাসনও কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না। ফিলিস্তিনের বাসিন্দারাও এ জন্য প্রশাসনের ওপর ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। বলা যায়, হামাসকে এক সময় হয়তো এগিয়ে আসতে হবে। ফলে ২০২১-এর মতোই গাজায় ভয়াবহ যুদ্ধের সূত্রপাত ঘটা অস্বাভাবিক কিছু নয়। এমনকি অনেকে মনে করেন, মুসলমানদের পবিত্র স্থানে বারবার হামলার ঘটনায় ধর্মযুদ্ধের সূত্রপাত ঘটতে পারে। এমনকি আল আকসার ওপর কর্তৃত্ব ধরে রাখার জন্য হামাসের এখন স্থানীয়দের উদ্বুদ্ধ করার কাজ করতে হবে। যদি তা করা সম্ভব হয় তাহলে জোর প্রতিরোধের সম্ভাবনা কিছুটা হলেও দেখা দিতে পারে।

আপাতত নেতানিয়াহুর সামরিক আগ্রাসন দেখে অনেকেই সন্দেহ করছেন, ফিলিস্তিনের বাসিন্দারা তাদের ধর্মীয় স্থানে প্রবেশাধিকারের ক্ষেত্রে বাধার সম্মুখীন হবেন নানাভাবে। হেব্রনে ইব্রাহিমি মসজিদে প্রবেশ নিষেধাজ্ঞার মতো অন্যান্য জায়গাতেও একই ঘটনা হয়তো ঘটতে যাচ্ছে। ১৯৯৪ সালেই মসজিদটিতে প্রার্থনারত মুসলিমদের ওপর গুলি-হামলায় ২৯ জন মারা যায়। তার পর ইসরায়েল প্রশাসন মসজিদটিকে দুটি ভাগ করে ফেলেন। একটি অংশে মুসলমানরা প্রবেশ করবেন এবং অন্য অংশে ইহুদিরা। আল আকসাতেও যদি এমন কিছু করা হয় তাহলে চূড়ান্ত নীতিভঙ্গ হবে। আল আকসাতে অন্য ধর্মাবলম্বীরা নির্দিষ্ট একটি সময়ে প্রবেশ করতে পারে। এমনকি তাদের সেখানে প্রার্থনা করার অনুমতিও নেই। আপাতত ইসরায়েলের ওপর আরব রাষ্ট্রগুলোর নিষেধাজ্ঞা ব্যতীত কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেই। ইউরোপীয় ইউনিয়ন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এখনও একটি বিষয়ে ভুল করছে। ইসরায়েলের আগ্রাসনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়া গেলে পরিস্থিতি ক্রমেই খারাপ হতে থাকবে। নেতানিয়াহুর ডানপন্থি উগ্রবাদী বন্ধুরা আরও নৃশংস হয়ে উঠবে। মানবতা আরও বিপন্ন হবে। মুসলিমদের (এমনকি খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদেরও) পবিত্র স্থানগুলোতে আরও ভয়াবহ হামলা পরিচালনা করবে। আল হারাম আল শরিফে যেভাবে হামলা হচ্ছে তা থেকে এটুকু বোঝা সহজ, পরিস্থিতি আরও খারাপ হবে। ধ্বংসস্তূপে পরিণত হতে পারে  ফিলিস্তিন।

 

  • বিভাগীয় প্রধান, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ, উম্মাহ বিশ্ববিদ্যালয়, গাজা


আল জাজিরা থেকে ইষৎ সংক্ষেপিত ভাষান্তর : আমিরুল আবেদিন

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা