মার্চ ২
মামুন রশীদ
প্রকাশ : ০২ মার্চ ২০২৩ ১৪:২৭ পিএম
আপডেট : ০৩ মার্চ ২০২৩ ১৫:২৩ পিএম
অলঙ্করন : প্রবা
১৯৭১ সালের মার্চ,
উত্তাল মার্চ হিসেবে ইতিহাসের চিহ্নিত। মার্চের সেই দিনগুলোর প্রতিটি ক্ষণেই বদলে যাচ্ছিল
প্রেক্ষাপট, বদলে যাচ্ছিল রাজনৈতিক সব সমীকরণ। পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান
কর্তৃক জাতীয় পরিষদ স্থগিত ঘোষণার পরই রাজপথে নেমে আসা জনস্রোত; সেই জনস্রোত বাঙালির
ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করে দেয়। বাকি ছিল শুধু সময়ের ক্ষণগণনা। ২ মার্চ ‘জাতীয় পরিষদের অধিবেশন স্থগিত’ শিরোনামে ইত্তেফাক পত্রিকার
প্রধান প্রতিবেদনে বলা হয়, “জাতীয় পরিষদের অধিবেশন স্থগিত হওয়ায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব ‘আকস্মিকভাবে আহূত’ সংবাদ সম্মেলনে বলেন, সংখ্যালঘিষ্ঠ
দলের সেন্টিমেন্টের জন্য অধিবেশন স্থগিত করা হয়েছে এবং এটা মেনে নেওয়া হবে না।” অধিবেশন স্থগিতের ঘোষণায় যে
প্রতিক্রিয়া হয়েছিল, ইত্তেফাকের সেই খবরের শিরোনাম ছিলÑ ‘প্রতিবাদে রাজধানীতে প্রচণ্ড
বিক্ষোভ।’
মার্চের প্রথম
দিনই ঢাকায় আওয়ামী লীগের আহ্বানে হরতাল পালিত হয়। ২ মার্চ, ১৯৭১-এও চলছিল হরতাল কর্মসূচি।
১ মার্চ রাতেই বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে গঠিত হয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ। ২ মার্চ বেলা ১১টায়
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলার ছাত্রসভায় সকাল হতেই ছাত্ররা জমায়েত হতে থাকে। সভামঞ্চ
নিয়ে যাওয়া হয় কলাভবনের গাড়ি বারান্দার ওপরে। সভায় ছাত্রলীগ সভাপতি নূরে আলম সিদ্দিকী
শুরুতেই বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্ব ও নির্দেশ অনুযায়ী স্বাধীনতার সংগ্রাম চালিয়ে যাওয়ার শপথ
করান উপস্থিত সবাইকে। ঐতিহাসিক এই সমাবেশেই ওড়ানো হয় সবুজ পটভূমির ওপর লাল বৃত্তের
মাঝে সোনালি মানচিত্রখচিত স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা।
ছাত্র সংগ্রাম
পরিষদের সমাবেশে ওড়ানো পতাকার জন্মকথা সম্পর্কে মহিউদ্দিন আহমদ তার ‘এই দেশে একদিন যুদ্ধ হয়েছিল’ বইটিতে লেখেন, ‘ছয়ই জুন রাতে (১৯৭০ সাল) আমি
ইকবাল হলে যাই। ১১৮ নম্বর কক্ষে ঢুকতেই দেখি একজন এক টুকরো কাপড়ে কী একটা আঁকছেন।
দেখলাম বটলগ্রিন (গাঢ় সবুজ) জমিনের মধ্যে একটা লাল সূর্য, সূর্যের মধ্যে সোনালি রঙ
দিয়ে বাংলাদেশের মানচিত্র আঁকছেন শিবনারায়ণ। ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় অফিস ছিল বলাকা বিল্ডিংয়ের
তিন তলার এক কোণে। পাশে “নিউ পাক ফ্যাশন টেইলার্স’ নামে একটি দর্জির দোকান। দোকানের
মালিক এবং কর্মচারীরা সবাই বিহারি। মানচিত্র আঁকার পর বটলগ্রিন ও লাল কাপড়ের টুকরো
দুটো এই দোকানেই সেলাই হয়। মানচিত্র সংযোজনের প্রস্তাব দেন সিরাজুল আলম খান, যাতে
কেউ ‘যুক্ত বাংলা’ বানানোর স্ক্যান্ডাল ছড়াতে
না পারে।” (পৃষ্ঠা ৪৫)।
মুক্তিযুদ্ধে
এক সাগর রক্তের বিনিময়ে বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালে পটুয়া কামরুল হাসানের প্রতিবেদনের
ভিত্তিতে মানচিত্রটি বাদ দিয়ে বাংলাদেশের জাতীয় পতাকার ডিজাইন চূড়ান্ত করা হয়। সেই
থেকে ২ মার্চ পতাকা উত্তোলন দিবস হিসেবে পালন করা হয়।