× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

আরেকটি রাজনৈতিক ‘ঘূর্ণিঝড়’ কি আসন্ন

মহিউদ্দিন খান মোহন

প্রকাশ : ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ ০০:২৯ এএম

অলঙ্করন : জয়ন্ত জন

অলঙ্করন : জয়ন্ত জন

ধেয়ে আসছে ভয়ংকর ঘূর্ণিঝড়...’ প্রাকৃতিক দুর্যোগের দেশ হিসেবে খ্যাত আমাদের দেশের সংবাদমাধ্যমগুলোয় এমন শিরোনাম বছরে দু-চার বার দৃশ্যমান হয় সেই সঙ্গে মানুষকে সতর্ক করতে সমুদ্রবন্দরগুলোয় জারি করা হয় থেকে ১০ নম্বর মহাবিপদ সংকেত প্রাকৃতিক দুর্যোগের পাশাপাশি আরেকটি দুর্যোগ আমাদের দেশে যেন স্থায়ী রূপ নিয়েছে মাঝেমধ্যেই তা জনজীবনে ছন্দপতন ঘটায়, দুর্ভোগ সৃষ্টি করে এর নামরাজনৈতিক দুর্যোগ প্রাকৃতিক দুর্যোগ যেমন নগর-জনপদ লন্ডভন্ড করে দেয়, মানুষের জীবন-সম্পদ ধ্বংস করে; রাজনৈতিক দুর্যোগও তার থেকে কিছু কম যায় না এর কবলে পড়ে আমাদের জাতীয় জীবনের আকাশে গণতন্ত্র নামের সূর্যটি ভালোভাবে মুখই দেখাতে পারছে না কিছুদিন আকাশ পরিষ্কার থাকলেও অনাকাঙ্ক্ষিত মেঘ এসে মাঝে মাঝে তা ঢেকে দেয় কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গানের ভাষায়, ‘মাঝে মাঝে তব দেখা পাই, চিরদিন কেন পাই না/কেন মেঘ আসে হৃদয়-আকাশে, তোমারে দেখিতে দেয় না...’ এই যে গণতন্ত্র নামের সূর্যটির মাঝেমধ্যেই মেঘের আড়ালে চলে যাওয়া, এর জন্য দায়ী কে বা কারা? কেন  এবং কোথা থেকে আসে মেঘ? এসব প্রশ্নের জবাব পাওয়া যাবে আমাদের রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহের দিকে একটু গভীর দৃষ্টিতে তাকালেই আমাদের রাজনৈতিক দলগুলোর সংকীর্ণ দৃষ্টিভঙ্গি, জাতীয় স্বার্থের চেয়ে দলীয় স্বার্থকে প্রাধান্য দেওয়া এবং অপরিণামদর্শী ভাবনাচিন্তা সিদ্ধান্ত গণতন্ত্রের আকাশে ঘোর কৃষ্ণবর্ণ মেঘ জমা করে থাকে

বিদ্যমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে জনমনে শঙ্কার সৃষ্টি হয়েছে, আমরা আরেকটি রাজনৈতিক ঘূর্ণিঝড়ের কবলে পড়তে যাচ্ছি কি না সরকার এবং তাদের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি যেভাবে স্ব স্ব অবস্থানে অনড়, তাতে অমন শঙ্কা জন্ম নেওয়াটা অস্বাভাবিক নয় বিএনপি বলছে, তারা তত্ত্বাবধায়ক সরকার ছাড়া দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে অংশ নেবে না অন্যদিকে সরকার পক্ষ বলছে, তত্ত্বাবধায়ক সরকার একটি মৃত অধ্যায়, আর কখনও ওটা জীবিত হওয়ার সম্ভাবনা নেই বিএনপিসহ সব দলকেই বর্তমান সরকারের অধীনে নির্বাচন করতে হবে দুই পক্ষের বিপরীত মেরুর অনড় অবস্থানে কোনো ধরনের সমঝোতার ইঙ্গিত এখন পর্যন্ত দিচ্ছে না আর সেজন্যই সচেতনদের প্রশ্নÑ সমস্যার সমাধান কোন পথে? মুহূর্তে সমাধানের কোনো পথ দেখা না গেলেও সমস্যা আরও জটিল হয়ে ওঠার আলামত দেখা যাচ্ছে যদিও বিশিষ্টজনেরা সমস্যা থেকে উত্তরণের উপায় হিসেবে সরকার বিরোধী দলের মধ্যে সংলাপ অনুষ্ঠানের ওপর জোর দিচ্ছেন তারা মনে করেন, সৃষ্ট রাজনৈতিক সমস্যার শান্তিপূর্ণ সমাধানে সব পক্ষের মধ্যে সমঝোতার কোনো বিকল্প নেই আর সেই সমঝোতার জন্য সংলাপ অপরিহার্য বিষয়ে ২৮ জানুয়ারি প্রতিদিনের বাংলাদেশসংলাপর দাবি জেরালো হচ্ছেশীর্ষক প্রতিবেদনে দেখা যায়, দেশের সুশীলসমাজের প্রতিনিধিদের একটি অংশ সংকটের সমাধান খুঁজতে এবং বড় রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে মতৈক্য সৃষ্টিতে সংলাপের কোনো বিকল্প দেখছে না বিদেশি কূটনীতিকরাও নিরপেক্ষ অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের লক্ষ্যে সবার মধ্যে সংলাপ হওয়া উচিত মনে করছেন প্রসঙ্গে সুশাসনের জন্য নাগরিক-সুজন সম্পাদক . বদিউল আলম মজুমদার বলেছেন, ‘যদি রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সমঝোতা না হয়, রাজনৈতিক বন্দোবস্ত না হয়; তাহলে সংকটময় পরিস্থিতি থেকে উত্তরণ ঘটবে না অর্থাৎ কতকগুলো বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছাতে হবে না হলে সংকট দূর হবে না ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক শান্তনু মজুমদার মনে করেন, ‘নো রিটার্ন পয়েন্টে চলে যাওয়ার চেয়ে ডায়ালগ হওয়া ভালো সংলাপের সফলতা আসবে তখন, যখন সব পক্ষের মধ্যে দায় স্বীকারের মানসিকতা থাকবে

বিশিষ্টজনেরা সমঝোতার কথা বললেও দুই প্রধান দল বলছে ভিন্ন কথা প্রতিদিনের বাংলাদেশ লিখেছে, এর আগে সংসদে বক্তব্য দিতে গিয়ে আওয়ামী লীগ প্রেসিডিয়াম সদস্য জাতীয় সংসদের উপনেতা মতিয়া চৌধুরী পরিষ্কার ভাষায় বলেছেন, ‘আমরা সংলাপের দরজা বন্ধ করিনি তবে সংলাপের জন্য পালকি পাঠিয়ে কাউকে নিয়ে আসা ; সেটা করা হবে নাঅন্যদিকে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেছেন, ‘ মুহূর্তে সংলাপ করার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়নি যখন সরকার ১০ দফা দাবি মেনে নেবে, তখন সরকারের পদত্যাগ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিষয়সহ অন্যান্য বিষয়ে সংলাপ হতে পারে এর আগে নয়মতিয়া চৌধুরীর পালকি পাঠিয়ে কাউকে সংলাপে না আনার ঘোষণা এবং মির্জা আলমগীরেরদাবি মানার আগে সংলাপ নয়প্রত্যয় ব্যক্ত করা অচিরেই কোনো সমঝোতার ইঙ্গিত দেয় না

এদিকে বিএনপি-আওয়ামী লীগ মাঠে ময়দানে রয়েছে পরস্পরের মুখোমুখি এক দল আরেক দলকে একচুল পরিমাণ ছাড় দেওয়ার মানসিকতা মুহূর্তে পোষণ করছে বলে মনে হয় না বিশেষত বিএনপির রাজনৈতিক কর্মসূচির দিনে আওয়ামী লীগও পাল্টা কর্মসূচি দিয়ে চলেছে বিএনপি বিক্ষোভ মিছিল বা পদযাত্রার কর্মসূচি দিলে পাল্টা হিসেবে আওয়ামী লীগ দিচ্ছেশান্তি সমাবেশ কিন্তু তাতে কাঙ্ক্ষিত শান্তি আসছে না বরং অশান্তি ছড়িয়ে পড়ছে চারদিকে ১১ ফেব্রুয়ারি বিএনপি সারা দেশে ইউনিয়ন পর্যায়ে পদযাত্রা কর্মসূচি দিয়েছিল এর বিপরীতে আওয়ামী লীগও ইউনিয়ন পর্যায়ে শান্তি সমাবেশের ঘোষণা দিয়েছিল ফলাফল কী হয়েছে, তা ব্যাখ্যার দরকার পড়ে না বিষয়ে ফেব্রুয়ারি প্রতিদিনের বাংলাদেশেএবার তৃণমূলেও মুখোমুখিশীর্ষক প্রতিবেদনে যে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছিল, বাস্তবে তা- ঘটেছে আক্ষরিক অর্থেই সেদিন দুই দল মুখোমুখি হয়েছিল পরস্পরের ফলে দেশের প্রায় সব জেলায় বিএনপি আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়

ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ নেতারা বলছেন, তারা রাজনীতির মাঠ কাউকে ফাঁকা ছেড়ে দেবেন না তাই বিএনপি যখন যেখানে কর্মসূচি দেবে, জনগণের জানমালের রক্ষায় তারাও পাল্টা কর্মসূচি দিয়ে মাঠে থাকবেন কিন্তু প্রশ্ন হলো, মাঠ দখলে রাখার জন্য একই দিনে কর্মসূচি দিতে হবে কেন? রাজনীতির মাঠ তো পদ্মার বুকে জেগে ওঠা কোনো নতুন চর নয় যে পেশিশক্তির জোরে তা দখলে নিতে হবে রাজনীতির মাঠ দখলের প্রধান অস্ত্র রাজনৈতিক আদর্শ কর্মসূচি সে কর্মসূচি জনগণের কাছে পৌঁছে দেওয়ার জন্য বিভিন্ন মাধ্যম আছে সেগুলোর মধ্যে সভা-সমাবেশ অন্যতম একটি তবে তা প্রতিদ্বন্দ্বী দলের সভা বা মিছিলের বিপরীতে একই দিনে একই সময়ে কর্মসূচি দিয়ে নয় সমঝোতা গণতন্ত্রের সৌন্দর্য কিন্তু পরিতাপের বিষয়, সমঝোতা নয়, সংঘাতের পথই যেন আমাদের রাজনৈতিক দলগুলোকে বারবার টানে কারণে কখনো কখনো প্রলয়ঙ্করী ঘূর্ণিঝড় অবশ্যম্ভাবী হয়ে পড়ে


  • সাংবাদিক  রাজনীতি বিশ্লেষক
শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা