× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

প্রতীকী প্রতিবাদের ভাষা

হোসেন আবদুল মান্নান

প্রকাশ : ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ ০২:৩২ এএম

 অলঙ্করন : জয়ন্ত জন

অলঙ্করন : জয়ন্ত জন

আজকাল যত্রতত্র গ্রামে-গন্জে, পাড়া-মহল্লায়ও মানববন্ধন কর্মসূচির নামে অত্যন্ত কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য নিয়ে হাজির হচ্ছে একশ্রেণির দুর্বৃত্ত-দুর্বিনীত মানুষ। তারা তাদের দ্বারা নিত্যসংঘটিত অপরাধ, নির্যাতন, দখল, চাঁদাবাজি ইত্যাদি অপকাণ্ড ঢাকার উদ্দেশ্যে নিরপরাধ ও অন্যায়ের প্রতিবাদকারীর বিপরীতে অবস্থান নিচ্ছে। তাদের মূল কাজ হলো, এর মাধ্যমে সমাজের ভালো মানুষগুলোকে একটু কোণঠাসা করে রাখা, ভীতি প্রদর্শন করে তাদের ঘরবন্দি করা অথবা তাদের দলে যোগ দিতে বাধ্য করা। মাববন্ধনের নামে মিথ্যা, বানোয়াট বক্তব্য দিয়ে মিথ্যাচার করেছে। এতে কলঙ্কিত করা হচ্ছে মানুষকে, কুৎসা রটানো হচ্ছে। কুরুচিপূর্ণ, মিথ্যা, বানোয়াট বক্তব্য প্রদানের মাধ্যমে ছড়ানো হয় ঘৃণা। এর মাধ্যমে ভালো কাজে মন্দ বাক্যের ব্যবহার তো হয়ই, একইসঙ্গে একটি ভালো উদ্যোগকেও প্রশ্নবিদ্ধ করা হয়।

মানববন্ধন ছিল এক সময়ে ইউরোপ, আমেরিকাসহ বিশ্বব্যাপী সবচাইতে আকর্ষণীয়, গণতান্ত্রিক ও সভ্যতার প্রতীকী প্রতিবাদের ভাষা। এখানে কোনো শব্দ থাকে না, থাকে না সরব স্লোগান। নিঃশব্দ সচেতন মানুষ তার ন্যায়সংগত দাবিসংবলিত প্ল্যাকার্ড বা ব্যানার হাতে নিয়ে দাঁড়িয়ে জনগণ ও সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণে সারিবদ্ধভাবে নীরবে দাঁড়িয়ে থাকে। পোস্টার বা প্ল্যাকার্ডেই যা লেখার তা লেখা থাকে। তাই স্লোগান দেওয়ার কোনো প্রয়োজন পড়ে না।

অথচ আমাদের দুর্ভাগ্য, বর্তমান সময়ে দিবালোকে চিহ্নিত সন্ত্রাসী, মাদকাসক্ত, অশিক্ষিত, চাঁদাবাজরা ব্যানার হাতে সমাজের ভালো মানুষগুলোর বিরুদ্ধে উল্লাসে অট্টহাসিতে নৃত্য করছে। ভিডিওচিত্র ধারণ করে অশ্লীল অঙ্গভঙ্গি করছে। যদিও তারা জানে, অসত্য মিথ্যা ভিত্তিহীন বিষয় নিয়ে এসব করছে। তবু মানুষকে প্রতিবাদহীন দর্শকের সারিতে দাঁড়িয়ে দেখতে হচ্ছে। অনেক সময় তারা এমন ভাষায় কথা বলে, যা কেবল অপ্রয়োজনীয় না, অসংস্কৃতও বটে। অথচ ‍শুদ্ধবাদী মানুষের চাওর্য়া প্রতিটি মানুষ বাক্য শব্দ চয়নে যথেষ্ট সতর্ক থাকবে। তারা নিজের মর্যাদা ক্ষুণ্ন হয়, এমন কথা যেমন বলবেন না তেমনি অন্যের মর্যাদাও ক্ষুণ্ন হয় এমন কথা ও আচরণ থেকে বিরত থাকবেন। কিন্তু বলতে কষ্ট অনুভূত হচ্ছে, আমাদের সময়ের দুর্বৃত্তরা অবশেষে মানববন্ধন নামের অসাধারণ প্রতিবাদের নান্দনিক মাধ্যমটিও তারা নষ্ট করে ফেলছে। আজকের সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে আনাচেকানাচে ব্যাঙের ছাতার মতো বা পরজীবী আগাছার মতন বিকশিত হচ্ছে অসৎ দুর্বৃত্তরা। সামাজিক রীতিনীতির বন্ধন, আবহমান বাংলার ঐতিহ্য, কৃষ্টি-সংস্কৃতি সবকিছুই এখন তাদের হাতে জিম্মি। মানুষের যেকোনো সামাজিক অনুষ্ঠান, বিয়েশাদি থেকে শুরু করে সব জায়গায় এদের দৌরাত্ম্য দৃশ্যমান।

বর্তমান সরকার ঋণ করে দেশের সর্বত্র সমান হারে উন্নয়ন কর্মকাণ্ড করছে। বিশেষ করে অবকাঠামো উন্নয়ন তথা সড়ক যোগাযোগকে সমুন্নত রাখার আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। যোগাযোগ মানেই উন্নয়ন। একদিকে প্রধানমন্ত্রীর নিরলস প্রচেষ্টা আর অদম্য সাহসের ফলে দেশের মানুষ প্রতিদিন নতুন নতুন রাস্তা ব্রিজ পাচ্ছে; অন্যদিকে কতিপয় অসৎ অসাধু দলীয় লেবাসধারী দুর্বৃত্ত ঠিকাদারের সঙ্গে দহরম-মহরম ভাব করে রাস্তা ব্রিজ কালভার্ট ধ্বংস করে চলেছে। রাস্তাগুলোয় সঠিক হারে নির্মাণ উপকরণ না দিয়ে হাতিয়ে নিচ্ছে কোটি কোটি টাকা। আসলে তারা কারা? যারা প্রতিদিন জনদুর্ভোগ বাড়াচ্ছে, তারাই-বা কারা? তাদের কি কোনো দল আছে? এক্ষেত্রে সরকারি কর্মচারীদের ভূমিকা আরও কার্যকর থাকার কথা ছিল। কিন্তু বাস্তবতায় তারাও মৌনতা অবলম্বন করে চলেছেন। না দেখার মতো করে সময়ক্ষেপণ করছেন। অভিযোগ আমলে নিতে সাহসী হয়ে ওঠার প্রবণতা এখন আর অবশিষ্ট নেই বললেই চলে। 

 এসব ফ্রান্কেনস্টাইনের দানবরা আসলে অর্বাচীন, হতভাগা। তারা জানে না, সৃষ্টির ঊষালগ্ন থেকেই বা সমস্ত যুগেই কিছু মানুষ অন্যায়কারীর বশ্যতা স্বীকার করেনি। তারা সামান্য উচ্ছিষ্টের বিনিময়ে নিজেকে বিসর্জন দেয়নি। বরং সততা নিষ্ঠা আন্তরিকতা দেশপ্রেম ও সাহস দিয়ে তা মোকাবিলা করে গিয়েছে। ন্যায়ের জন্য কখনও কখনও তারা জীবন দিতেও কুণ্ঠিত হননি। অন্যায়ের বিরুদ্ধে আপস মানে সুস্থ জীবন নয়। ক্রমাগত আপসে মানুষের জন্মগত বিবেক-বিবেচনাও মরে যায়। যদিও প্রতিবাদ করতে গিয়ে সমাজের অনেক বিবেকবান মানুষও ধীরে ধীরে আত্মমর্যাদা হারিয়ে ফেলেন। তারা দুর্বৃত্তদের ভয় পান না, ভয় পান কেবল চারপাশের সমাজ এবং আত্মসম্মানবোধকে। দুর্বৃত্তরা এ সুযোগকে কাজে লাগাতে খুবই পারঙ্গম এবং কৌশলী। তখনই তারা সর্বত্র বেছে নেয় কীভাবে সৎ সাহসী জনগণবান্ধব মানুষটির চরিত্র হনন করা যায়। মানুষের চরিত্রে কলঙ্কের দাগ কেটে দেওয়াই তাদের কাছে বিজয়তুল্য। 

দুর্জনের পেছনে থাকে মহাশক্তিধররা। তারা বেশির ভাগ সময় মুখোশ পরিহিত থাকে। তাদের ঘাড়ে পিঠে মাথায় চড়ে বসে সমাজের ঘৃণিত পচা নষ্টরা। তারা শক্তিধরকে বিচিত্রসব পরামর্শ দেয়, জ্ঞান বিতরণ করে, গাইড ফিলোসফারের মতন কাজ করে। এমনকি রাজনীতির মন্ত্রণা দিয়েও পরিচালনা করে থাকে। তাদের কোনো শিক্ষা বিদ্যা সামাজিকতা না থাকলেও শক্তিধরের নানাবিধ দুর্বলতার সুযোগে তারা শতভাগ আদায় করে নিতে জানে। তারা জন্ম থেকে অপরাধী বলেই শক্তিধরের পাশে ছায়াসঙ্গী হয়ে বেঁচে থাকে। তারা অনেকটা বর্ষার ভরাজলে বা প্লাবনে ভেসে আসা আবর্জনা বা কচুরিপানার মতোবাতাসের অনুকূলে ভাসাই এদের চরিত্র। এরা প্রতিকূলতাকে ভয় পায়, বিপরীতে যাওয়া এদের কাজ নয়। লুটেপুটে খাওয়াই এদের ধর্ম। 

তবে চূড়ান্ত বিচারে নিয়তি হলো, তারা তাকে ক্রমাগত ব্যবহার করে, সাধারণ মানুষভালো মানুষ, ন্যায়নিষ্ঠ, সৎ দেশপ্রেমিকদের কাছ থেকে যোজন যোজন দূরত্বে নিয়ে যায়। এবং একপর্যায়ে আকস্মিক তাকে ফেলে দিয়ে অন্য আরেক কূলে তরী ভেড়ায়। বিস্ময়কর হলেও বাস্তবতা এমন যে, ধ্বংসের কিনারে উপনীত হওয়ার সামান্য পূর্বেও সেই দণ্ডমুণ্ডের কর্তাব্যক্তিটা তার পরিণতি অনুধাবন করতে পারে না। তার অক্ষমতা, তার দুর্বলতা, তার অগাধ শিক্ষা, মোহনীয় জাদু, নির্মল হাসির ঝিলিক সবকিছু যেন নিমিষেই ভেস্তে যায়। এটাই যেন আমাদের বহমান ইতিহাসের করুণ অধ্যায়। এজন্য আমাদের প্রত্যেককেই সতর্ক থাকা জরুরি। সেইসঙ্গে জরুরি হলো - নিরন্তর পঠন সাধনার মাধ্যমে মননশীল মানুষ হয়ে ওঠা। আমরা যদি পঠন ও সাধনার মাধ্যমে প্রতিনিয়ত নিজেদেরকে গুণগতভাবে ভালো মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে সচেষ্ট হই, তবে সমাজ ও দেশের সঙ্গে ব্যক্তি আমিও উপকৃত হবো। 


  • সাবেক সচিব ও গল্পকার
শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা