× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

'৬৯-এর ২৪ জানুয়ারি ইতিহাসের অক্ষয় অধ্যায়

তোফায়েল আহমেদ

প্রকাশ : ২৪ জানুয়ারি ২০২৩ ০০:৫৯ এএম

অলঙ্করন : প্রবা

অলঙ্করন : প্রবা

জাতীয় মুক্তিসংগ্রামের ইতিহাসে ১৯৬৯-এর ২৪ জানুয়ারি এক ঐতিহাসিক দিন জাতীয় জীবনে জানুয়ারি মাস ফিরে এলে৬৯-এর গণআন্দোলনের অগ্নিঝরা দিনগুলো স্মৃতির পাতায় ভেসে ওঠে বঙ্গবন্ধু  ৬ দফা দেওয়ার পর দেশের বিভিন্ন জেলায় বঙ্গবন্ধুর নামে ১০টি মামলা দায়ের করা হয় প্রতিটি মামলায় জামিন পেলেও নারায়ণগঞ্জ থেকে সভা করে ঢাকায় ফেরার পরপাকিস্তান দেশরক্ষা আইনেতাঁকে গ্রেপ্তার করা হয় প্রতিবাদে আওয়ামী লীগের ডাকে ৭ জুন সর্বাত্মক হরতালে ছাত্রলীগ অগ্রণী ভূমিকা পালন করে৬৮-এর ১৮ জানুয়ারি জেল থেকে বঙ্গবন্ধু মুক্তি পেলেও পুনরায় জেলগেটেই গ্রেপ্তার করে অজানা স্থানে নিয়ে যাওয়া হয় প্রথমে আমরা জানতাম না প্রিয় নেতা কোথায় কেমন আছেন৬৮-এর ১৯ জুন আগরতলা মামলার বিচার শুরু হলে আমরা বুঝতে পারি আইয়ুব খান রাষ্ট্রদ্রোহিতার অভিযোগ তুলে বঙ্গবন্ধুকে ফাঁসিকাষ্ঠে মৃত্যুদণ্ড দেবে আইয়ুব খান প্রদত্ত মামলার নামই ছিলরাষ্ট্র বনাম শেখ মুজিব ও অন্যান্যআমরা ছাত্রসমাজ এই গ্রেপ্তারের বিরুদ্ধে গণআন্দোলন গড়ে তুলি

ডাকসুসহ ৪টি ছাত্র সংগঠনের সমন্বয়ে ঐতিহাসিক ১১ দফার ভিত্তিতে৬৯-এর ৪ জানুয়ারি সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ গড়ে ওঠে ১১ দফা আন্দোলনের প্রণেতাÑ ছাত্রলীগ সভাপতি প্রয়াত আব্দুর রউফ ও সাধারণ সম্পাদক খালেদ মোহাম্মদ আলী; ছাত্র ইউনিয়ন (মতিয়া গ্রুপ) সভাপতি প্রয়াত সাইফুদ্দিন আহমেদ মানিক ও সাধারণ সম্পাদক সামসুদ্দোহা; ছাত্র ইউনিয়ন (মেনন গ্রুপ) সভাপতি মোস্তফা জামাল হায়দার ও সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল্লাহ এবং এনএসএফের একাংশের সভাপতি প্রয়াত ইব্রাহিম খলিল ও সাধারণ সম্পাদক ফখরুল ইসলাম মুন্সী প্রমুখের নেতৃত্বে আমি ডাকসু ভিপি হিসেবে সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের সমন্বয়ক ও মুখপাত্রের দায়িত্ব পালন করি আমার সঙ্গে ছিলেন ডাকসু জিএস নাজিম কামরান চৌধুরী৬৯-এর ১৭ জানুয়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা ভবনের বটতলায় ডাকসু ভিপি হিসেবে আমার সভাপতিত্বে ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরে গভর্নর মোনায়েম খান ১৪৪ ধারা জারি করেন উপস্থিত ছাত্ররা ১৪৪ ধারা ভঙ্গের সিদ্ধান্ত নিয়ে রাজপথে এলে পুলিশ লাঠিচার্জ করে আহত হন ছাত্রলীগ সভাপতি আবদুর রউফ পরদিন ১৮ জানুয়ারি বটতলায় জমায়েত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছাত্র ধর্মঘট ছিল বিধায় সকালে বটতলায় ছাত্র জমায়েতের পর খণ্ড খণ্ড মিছিল এবং সহস্র কণ্ঠের উচ্চারণ, ‘শেখ মুজিবের মুক্তি চাই, আইয়ুব খানের পতন চাইএদিনও ১৪৪ ধারা বলবৎ ছিল ১৪৪ ধারা ভঙ্গের সিদ্ধান্ত নিয়ে ছাত্ররা রাজপথে নেমে এলে দাঙ্গা পুলিশ লাঠিচার্জ আর টিয়ার শেল নিক্ষেপ করে ১৯ জানুয়ারি প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মিছিল এবং ১৪৪ ধারা ভাঙার সিদ্ধান্ত হয় মিছিল বেরুলে শুরু হয় পুলিশের লাঠিচার্জ, টিয়ার শেল নিক্ষেপ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ছাত্রলীগ কর্মী আসাদুল হক, বাড়ি দিনাজপুর, গুলিবিদ্ধ হয়ে লুটিয়ে পড়ে রাজপথে পুলিশের নির্যাতন ও গুলিবর্ষণের প্রতিবাদে ২০ জানুয়ারি সোমবার আবার বটতলায় সমাবেশের কর্মসূচি ২০ জানুয়ারি৬৯-এর গণআন্দোলনের মাইলফলক এদিন ১১ দফা দাবিতে ঢাকাসহ প্রদেশের সমস্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পূর্ণ ধর্মঘট পালিত হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলা প্রাঙ্গণ থেকে সর্বদলীয় ছাত্রসংগ্রাম পরিষদের সিদ্ধান্তক্রমে ১৪৪ ধারা ভঙ্গের ঘোষণায় লাখো মানুষের মিছিল নেমে আসে রাজপথে মিছিল যখন আগের কলা ভবন বর্তমান মেডিকেল কলেজের সামনে এলে শুরু হয় গুলি গুলি লাগে আসাদুজ্জামানের বুকে সঙ্গে সঙ্গে ঢলে পড়ে আসাদ আসাদকে ধরাধরি করে মেডিকেল কলেজের দিকে নেওয়ার পথে আমাদের হাতের ওপরেই সে মৃত্যুবরণ করে মেডিকেলের সিঁড়িতে আসাদের লাশ রাখা হয় তাঁর গুলিবিদ্ধ রক্তাক্ত শার্টটি সংগ্রামের পতাকা করে আমরা আসাদের রক্ত ছুঁয়ে শপথ নিয়ে সমস্বরে বলি, ‘আসাদ তুমি চলে গেছো তুমি আর ফিরে আসবে না আমাদের কাছে তোমার রক্ত ছুঁয়ে শপথ করছি, আমাদের দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আমরা মায়ের কোলে ফিরে যাব না২১ জানুয়ারি পূর্বঘোষিত হরতাল কর্মসূচি পালিত হয় ২২ জানুয়ারি শোক মিছিল, কালো ব্যাজ ধারণ, কালো পতাকা উত্তোলন হয় ২৩ জানুয়ারি শহরের সমস্ত অলিগলি থেকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে বের হয় মশাল মিছিল সমগ্র ঢাকা পরিণত হয় মশালের নগরীতে ২৪ জানুয়ারি সর্বাত্মক হরতাল পালিত হয় সর্বত্র মানুষের একই প্রশ্ন, ‘শেখ মুজিব কবে মুক্তি পাবে?’ ‘কবে আগরতলা মামলা তুলে নেওয়া হবে?’ হরতালের পর সমগ্র জনপদ গণঅভ্যুত্থানের প্রবল বিস্ফোরণে প্রকম্পিত, অগ্নিগর্ভ

সেনাবাহিনী, ইপিআর এবং পুলিশ মরিয়া হয়ে ওঠে বিক্ষোভ দমনে যত্রতত্র গুলি চালাতে থাকে সে গুলিতেই শহীদের তালিকায় যুক্ত হয় মতিউর, মকবুল, আনোয়ার, রুস্তম, মিলন, আলমগীর, আনোয়ারাসহ আরও অনেক নাম লাখো মানুষ নেমে আসে ঢাকার রাজপথে মানুষের পুঞ্জীভূত ঘৃণা এমন ভয়ঙ্কর ক্ষোভে পরিণত হয় যে, বিক্ষুব্ধ মানুষ সরকারি ভবন ও সরকার সমর্থিত পত্রিকাতে আগুন ধরিয়ে দেয়দৈনিক পাকিস্তান’, ‘মর্নিং নিউজএবংপয়গামঅফিস ভস্মীভূত হয় আগরতলা মামলার প্রধান বিচারপতি এস রহমান বাসভবন থেকে এক বস্ত্রে পালিয়ে যান নবাব হাসান আসকারি, পাকিস্তান জাতীয় পরিষদ সদস্য এনএ লস্কর এবং রবীন্দ্রসংগীত নিষিদ্ধকারী খাজা শাহাবুদ্দীনসহ আরও কয়েক মন্ত্রীর বাসভবনে আগুন দেওয়া হয় লাখ লাখ মানুষের অংশগ্রহণে ঢাকার নবকুমার ইনস্টিটিউশনের দশম শ্রেণির ছাত্র মতিউর রহমানের জানাজা অনুষ্ঠিত হয় পল্টন ময়দানে শহীদ মতিউরের পিতা আজহার আলী মল্লিক ক্রন্দনরত অবস্থায় বলেন, ‘আমার ছেলে চলে গেছে দুঃখ নাই কিন্তু আমার ছেলের এই রক্ত যেন বৃথা না যায়মতিউরের পকেটে এক টুকরো কাগজে নাম-ঠিকানাসহ লেখা ছিল, ‘মা-গো, মিছিলে যাচ্ছি যদি ফিরে না আসি মা, মনে করো তোমার ছেলে বাংলার মানুষের মুক্তির জন্য, শেখ মুজিবের মুক্তির জন্য জীবন দিয়েছে ইতি- মতিউর রহমান, ১০ম শ্রেণি, নবকুমার ইনস্টিটিউশন

সেদিন ছাত্রসমাজের নেতৃত্বে বাংলার মানুষ সুনির্দিষ্ট আদর্শ ও লক্ষ্য নিয়ে সংগ্রাম করেছে সোনালি সেই দিনগুলোর কথা ভাবলে গর্বে বুক ভরে ওঠে আমরা মানুষের বিশ্বাসের মর্যাদা দিয়েছি শহীদ মতিউরের রক্ত বৃথা যায়নি ২০ জানুয়ারি শহীদ আসাদের বীরোচিত আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে যে আন্দোলন রক্তে রঞ্জিত হয়, সেই আন্দোলনের সফল পরিণতি বঙ্গবন্ধুসহ সক রাজবন্দির নিঃশর্ত মুক্তি, প্রাপ্তবয়স্কদের ভোটাধিকার প্রাপ্তি, ’৭০-এর নির্বাচনে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ এবং পরিশেষে৭১-এর মহান মুক্তিযুদ্ধে এক সাগর রক্তের বিনিময়ে মহত্তর বিজয় অর্জন আর এসব অর্জনের ড্রেস রিহার্সেল ছিল৬৯-এর মহান গণঅভ্যুত্থানযা ইতিহাসের পাতায় স্বর্ণাক্ষরে লেখা আছে এবং থাকবে চিরদিন

লেখক : আওয়ামী লীগ নেতাসংসদ সদস্যসভাপতিবাণিজ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা