× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

ওয়াশিংটন পোস্টের বিশ্লেষণ

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের গতিবিধি

ডেভিড ইগনাটিয়াস

প্রকাশ : ২২ জানুয়ারি ২০২৩ ০০:২৪ এএম

আপডেট : ২২ জানুয়ারি ২০২৩ ০০:৩৮ এএম

অলঙ্করন : প্রবা

অলঙ্করন : প্রবা

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ নতুন বছরে কেমন রূপ নেবে তা নিয়ে জল্পনা-কল্পনার শেষ নেই আপাতত যুদ্ধে রুশ সেনাবাহিনীর অবস্থা করুণ ২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে ইউক্রেনের অতর্কিত হামলায় রুশ বাহিনী কিয়েভ থেকে পিছু হটতে বাধ্য হয় তারপর একের পর এক দুঃসংবাদ পেতে শুরু করেন পুতিন নিজেকে একজন ধীশক্তিসম্পন্ন নেতা হিসেবে দাবি করা পুতিনও তখন বিপাকে পড়েছিলেন তিনি যে মোটেও ভালো নেই, তা তার প্রতিক্রিয়া থেকেই বোঝা গেছে যুদ্ধের মোড় যে অপ্রত্যাশিত হারে পরিবর্তিত হচ্ছিল তাতে তাৎক্ষণিক কার্যকর কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া কঠিনই সেখানে তিনি বেশ কবার ভুলও করেনঅন্তত এমনটাই মনে করছেন অনেকে পুতিনের জন্য বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছিল তার মিলিটারি প্যারাট্রুপার বাহিনী সেনাবাহিনীর ভেতর বিশৃঙ্খলা সমন্বয়ের অভাব ক্রমেই দৃশ্যমান হয়ে উঠছিল বিশেষত ২০২২ সালের সেপ্টেম্বরেই ইউক্রেনিয়ান সেনাবাহিনী পাল্টা আক্রমণ চালিয়ে কারখিভ উদ্ধার করে নেয় ইউক্রেনিয়ান বাহিনীর আক্রমণের তীব্রতা সামলাতে না পেরে রুশ বাহিনী পিছু হটতে বাধ্য হয়

এমনটা হওয়ার কথা ছিল না আগ্রাসী লড়াইয়ের ক্ষেত্রে রুশ সেনাবাহিনীর সুনাম রয়েছে কিন্তু সেজন্য সুপ্রশিক্ষিত সৈনিক প্রয়োজন আপাতত রাশিয়ার তেমন সৈনিক কোথায়? ওই বছর সেপ্টেম্বরেই ইউক্রেনের বিরুদ্ধে নিজেদের সামরিক শক্তি বাড়াতে বেসামরিক নাগরিকদের বাধ্যতামূলকভাবে সেনাবাহিনীতে নিয়োগ দিতে থাকে পুতিন সরকার সেনা সংগ্রহের পর দায়সারা প্রশিক্ষণ শেষে সৈনিকদের পাঠিয়ে দেওয়া হতো যুদ্ধক্ষেত্রে ফলে যুদ্ধক্ষেত্রে জটিল রণকৌশল প্রয়োগ করার পথ জটিল হয়ে দাঁড়ায় যুদ্ধপ্রধান জেনারেল সের্গেই সুরোভিকিনের জন্য গত বছরের শেষে দক্ষিণ ইউক্রেনের খেরসন হাতছাড়া হওয়ার পরে রুশ সংখ্যাগরিষ্ঠ ডনবাসের পুরো এলাকা নিয়ন্ত্রণে মরিয়া অভিযান শুরু করে পুতিন বাহিনী আর সেই অভিযানের নেতৃত্ব দিচ্ছেন পুতিনের বন্ধু তথা ওয়াগনা বাহিনীর প্রধান ইয়েভজেনি প্রিগোজিন রুশ সেনাবাহিনীর অবস্থা কতটা নাজুক তা আরও প্রকট হয় যখন মস্কোপন্থি মিলিশিয়া গোষ্ঠী ওয়াগনারের অধীন এক সৈনিক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ফেরাসিমভকে গালাগাল করে একটি ভিডিও প্রকাশ করেন সেই ভিডিওতে ওই সৈনিককে বলতে শোনা যায়, সবকিছু আমাদের ওপর চাপিয়ে দিয়ে তারা নিজের অফিসের কামরায় আরাম করছেন আর হুটহাট নির্দেশ দিচ্ছেন ওয়াগনারের অধীন সৈনিকদের ক্ষোভ থাকা অস্বাভাবিক নয় এই মিলিশিয়া বাহিনী মূলত যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামিদের নিয়ে গড়া তাদের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে, যদি এই যুদ্ধ শেষ হওয়া অবধি তারা বেঁচে থাকতে পারেন তাহলে তাদের মুক্তি দেওয়া হবে এমন অসংগঠিত সেনাবাহিনী নিয়ে এই মুহূর্তে যুদ্ধ করাটা রাশিয়ার জন্য কিছুটা কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে

২০২৩ সালে পুতিন তার পরিকল্পনায় রদবদল করলেন রাশিয়ান মিলিটারির প্রধান গেরাসিমভকে ইউক্রেনে অবস্থিত সৈন্যদের কমান্ডার অব মিলিটারি অপারেশন্সের বাড়তি দায়িত্ব চাপিয়ে দিয়েছেন ২০২২ সালে গেরাসিমভের পরিকল্পিত অভিযানে সফলতার পরিপ্রেক্ষিতেই ফের তাকে এই দায়িত্ব দিয়েছেন পুতিন জেনারেল সের্গেই সুরোভিকিনের স্থলাভিষিক্ত হয়ে গেরাসিমভ খুব বেশি সুবিধা করতে পারবেন বলে মনে হয় না গেরাসিমভ দায়িত্ব পেয়েই স্বীকার করেছেন, কমান্ড দিলেই তো আর পরিকল্পনা সাজানো সম্ভব না মুখে যত যা- বলুক না কেন, গেরাসিমভ পুতিনকে জয়ের আশ্বাস দিয়েই রণক্ষেত্রে প্রবেশ করেছেন এবং ২০২৩ সালে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের পরিকল্পনা গতিবিধিতে ব্যাপক পরিবর্তন আসতে চলেছে নতুন অত্যাধুনিক অস্ত্রের সাহায্যে বোনা পরিকল্পনায় রক্তপাতের হার অনেক বাড়বে কথাও অনেকটাই নিশ্চিত রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের পরিণতি নিয়ে শঙ্কা সহসাই কাটছে না তবে গেরাসিমভের অন্তর্ভুক্তি কিছুটা ইতিবাচক তো বটেই

রাশিয়ান সেনাবাহিনীকে আধুনিকায়নের জন্য গেরাসিমভ বিগত এক যুগ ধরেই নানাভাবে তাগাদা দিয়ে আসছেন সেনাপ্রধানের দায়িত্ব পাওয়ার পর ২০১৩ সালে এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, দুর্বার গতিতে শত্রু শিবিরে সৈন্য নিয়ে হামলে পড়ার পরিকল্পনা আগে সফল হলেও এখন আর তেমন কার্যকর নয় বরং যুদ্ধবর্তী এলাকায় সেনাবাহিনীর বিভিন্ন শাখার সমন্বয় করে রণকৌশল সাজাতে হবে রাশিয়া সচরাচর সরাসরি আক্রমণের যে যুদ্ধপদ্ধতি ঐতিহাসিকভাবে অনুসরণ করে আসছে, তা থেকে সরে আসার কথাই তিনি প্রতিবার বলেছেন কিন্তু এবার গেরাসিমভ এবং পুতিন যেমনটা ভাবছেন শেষে তা আদৌ পূরণ হবে কি না, তা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে অন্তত কিয়েভ দখলের প্রচেষ্টার ঘটনা থেকে কথা স্পষ্ট শুরুতেই যদি কিয়েভের দখল রুশ বাহিনী নিয়ে নিতে পারত তাহলে তাদের এই যুদ্ধ এতদিন টানতে হতো না বিভিন্ন কৌশল আধুনিক পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে গিয়ে যুদ্ধের সময়কালই বেড়েছে এবার যুদ্ধ পরিচালনার বাড়তি দায়িত্ব পেয়ে এই বিশৃঙ্খল অবস্থা থেকে যুদ্ধরত সৈন্যদের কতটা উদ্ধার করতে পারবেন তা দেখার বিষয় নতুন বছরে ইউক্রেন যেন বিষাদ কাটিয়ে নবোদ্যমে যুদ্ধক্ষেত্রে ফিরেছে যুক্তরাষ্ট্র এবং ন্যাটো সদস্যভুক্ত রাষ্ট্রগুলো দেশটিকে অত্যাধুনিক অস্ত্রশস্ত্র দিয়ে নানাভাবে সহায়তা করছে তাদের ভারী অস্ত্রশস্ত্র, গোলাবারুদ, কামান এবং অত্যাধুনিক প্রযুক্তিসমৃদ্ধ ট্যাংকও দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে আপাতদৃষ্টে ইউক্রেনের রসদ এবং যুদ্ধপ্রস্তুতি থেকে অনুমান করা যায়, নতুন বছর তাদের রণকৌশলে মার্কিন সমরকৌশলের প্রভাব পড়বে 

এখন প্রশ্ন হচ্ছে, এত সাহায্য পাওয়ার পরও ইউক্রেনের সেনাবাহিনী কতটা কার্যকরভাবে যুদ্ধ পরিচালনা করতে পারবে ইউক্রেনিয়ান সেনাবাহিনীর কমান্ডার ভ্যালেরি জুলুহনি এরই মধ্যে বেশ কিছু দেশের কাছে যুদ্ধের রসদ সরবরাহের আবেদন জানিয়েছেন এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ৫০টি ব্র্যাডলি যুদ্ধযান, জার্মানি ৪০টি মারডার যুদ্ধযান এবং ব্রিটেন ১৪টি চ্যালেঞ্জার ট্যাংক সরবরাহ করবে জানিয়েছে ছাড়া জার্মানি বছর ইউক্রেনকে লেওপার্ড ট্যাংক এবং ওয়াশিংটন স্ট্রাইকার কমব্যাট যুদ্ধযান সরবরাহ করবে এমন কথাও শোনা যাচ্ছে অন্তত আমার তা- মনে হচ্ছে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের পরিসমাপ্তি হয়তো এই বছরই ঘটতে চলেছে ইউক্রেনের কিছুটা হলেও মনোবল জোগাবে গেরাসিমভের ছত্রভঙ্গ রুশ বাহিনীর অবস্থা আপাতত এই যুদ্ধের পরিণতি কিংবা সমীকরণ বদলে দেওয়ার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউক্রেনের সমর্থনকারী রাষ্ট্রগুলোর কার্যকর পদক্ষেপ কতটা বাস্তবায়িত হচ্ছে সেটাই দেখার বিষয় তারা যদি সহযোগিতার হাত অর্ধপথেই থামিয়ে দেয় তাহলে ইউক্রেনের জন্য তা ভালো কিছু হবে না রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের বিষয়ে পশ্চিমের একটি পরিকল্পনা ইতোমধ্যে তৈরি হয়েছে সে পরিকল্পনা নিয়ে এগুতে হবে শান্তির পথে

লেখক : মার্কিন সাংবাদিক  ঔপন্যাসিক

 

ওয়াশিংটন পোস্ট থেকে ঈষৎ সংক্ষেপিত

ভাষান্তর : আমিরুল আবেদিন আকাশ

 

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা