× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ জাতীয় রাজনীতি সারা দেশ আন্তর্জাতিক অর্থনীতি খেলা বিনোদন মতামত চাকরি-ক্যারিয়ার শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

বিশ্লেষণ

ব্যাংক থেকে নিজের টাকা তুলতে কেন ১০০ থেকে ৩০০ টাকা দিতে হবে?

আহমেদ তোফায়েল

প্রকাশ : ২০ ঘণ্টা আগে

আপডেট : ২০ ঘণ্টা আগে

 আহমেদ তোফায়েল। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ

আহমেদ তোফায়েল। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ

ব্যাংকিং খাতকে অর্থনীতির রক্তসঞ্চালন তন্ত্র বলা যায়। দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ব্যাংকের ওপর নির্ভর করে। সাধারণ মানুষের ক্ষুদ্র সঞ্চয় ব্যাংক ঘিরেই আবর্তিত হয়।

বিগত দেড় দশকে ‘আর্থিক অন্তর্ভুক্তি’ শব্দটি অনেক আলোচিত হয়েছে। সাধারণ মানুষকে ব্যাংকিং সেবার আওতায় আনা হয়েছে। অর্থনীতির মূল ধারার সঙ্গে তাদের যুক্ত করা হয়েছে। এক্ষেত্রে বেশ কিছু ইতিবাচক অগ্রগতি হয়েছে। প্রান্তিক চাষির ১০ টাকার হিসাব এর বড় উদাহরণ। স্কুল ব্যাংকিং ও মোবাইল ব্যাংকিংয়ের ব্যাপক বিস্তার ঘটেছে। এর ফলে আমাদের অর্থনীতি অনেক গতিশীল হয়েছে। 

তবে সম্প্রতি ব্যাংকিং সেবায় নতুন করে ফি নেওয়ার প্রস্তাব এসেছে। ব্যাংকগুলোর সংগঠন এবিবি এই প্রস্তাব দিয়েছে। তারা ১৪টি নতুন খাতে চার্জ বা ফি নিতে চায়। এই সংক্রান্ত একটি প্রস্তাব বাংলাদেশ ব্যাংকে জমা দেওয়া হয়েছে। 

বর্তমানে এই সেবাগুলো সম্পূর্ণ বিনামূল্যে দেওয়া হয়। প্রস্তাবটি অনুমোদন হলে সাধারণ আমানতকারীদের খরচ বাড়বে। একই সাথে ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীদের ব্যয় বাড়বে। আমদানিকারক, রপ্তানিকারক ও ঋণগ্রহীতাদের ব্যাংকিং ব্যয়ও বৃদ্ধি পাবে। এই বৃদ্ধির হার বেশ উল্লেখযোগ্য হবে। 

বাংলাদেশ একটি উন্নয়নশীল দেশ। এখানে সঞ্চয়কে উৎসাহিত করা প্রধান লক্ষ্য হওয়া উচিত। ব্যবসার ব্যয় কমানোও জরুরি। এই পরিস্থিতিতে চড়া মাশুলের প্রস্তাব গভীর পর্যালোচনার দাবি রাখে। 

কী রয়েছে নতুন ফির তালিকায়?

এবিবির প্রস্তাবিত তালিকায় বেশ কিছু নতুন খাত রয়েছে। এসব খাত এতদিন সম্পূর্ণ বিনামূল্যে ছিল। গ্রাহকেরা কোনো চার্জ ছাড়াই এই সেবা পেতেন। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় ধাক্কা এসেছে নগদ উত্তোলনে। ব্যাংক কাউন্টার থেকে নগদ টাকা তোলার ওপর ফি চাওয়া হয়েছে। 

বর্তমানে একজন গ্রাহক যতবার ইচ্ছা টাকা তুলতে পারেন। এতে কোনো চার্জ লাগে না। নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী মাসে মাত্র তিনবার বিনামূল্যে টাকা তোলা যাবে। চতুর্থ থেকে দশমবার পর্যন্ত প্রতিবারে ১০০ টাকা ফি দিতে হবে। আর দশবারের বেশি হলে প্রতিবারে ৩০০ টাকা ফি গুণতে হবে। 

এই নিয়ম সাধারণ মধ্যবিত্তের জন্য কষ্টদায়ক হবে। ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা এতে অনেক সমস্যায় পড়বেন। প্রবীণ নাগরিকেরাও বড় ধাক্কা খাবেন। তারা প্রযুক্তিনির্ভর এটিএম বা মোবাইল ব্যাংকিংয়ে অভ্যস্ত নন। তারা সরাসরি কাউন্টার থেকে লেনদেন করতে পছন্দ করেন। 

ব্যবসায়িক হিসাব বা কারেন্ট অ্যাকাউন্টের ক্ষেত্রেও সীমা আনা হয়েছে। বর্তমানে নগদ উত্তোলনে কোনো সীমা বা চার্জ নেই। নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী মাসে ২০ বার পর্যন্ত বিনামূল্যে তোলা যাবে। ২১ থেকে ৫০ বার পর্যন্ত প্রতিবারে ১০০ টাকা ফি লাগবে। ৫০ বারের বেশি উত্তোলনে প্রতিবারে ১৫০ টাকা ফি দিতে হবে। 

পাইকারি ও খুচরা ব্যবসায়ীদের প্রতিদিন একাধিকবার লেনদেন করতে হয়। তাদের নগদ টাকা তুলতে বা জমা দিতে হয়। এর ফলে ব্যবসায়ীদের পরিচালন ব্যয় বহুগুণ বেড়ে যাবে। লেনদেনের খরচ বাড়লে ব্যবসার গতি কমে যায়। 

এছাড়া নিষ্ক্রিয় বা ডরম্যান্ট হিসাব পুনরায় চালু করার ক্ষেত্রে ফি চাওয়া হয়েছে। এতদিন এই সেবাটি সম্পূর্ণ বিনামূল্যে পাওয়া যেত। এখন এই সেবার জন্য ৫০০ টাকা ফি প্রস্তাব করা হয়েছে। এই নিয়ম গ্রামীণ বা প্রান্তিক গ্রাহকদের জন্য বড় বাধা হবে। তারা ব্যাংকিং ব্যবস্থা থেকে আরও দূরে সরে যেতে পারেন। 

ঋণ ও ব্যবসা খাতের ওপর অতিরিক্ত বোঝার চাপ

এবিবির এই প্রস্তাবে শুধু আমানতকারীদের ক্ষতি হবে না। দেশের উৎপাদনশীল খাতের ওপরও বড় চাপ আসবে। ঋণ গ্রহণ এবং ব্যবসার খরচ আকাশচুম্বী হবে।  চলমান ঋণের ক্ষেত্রে নতুন ফি প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রতি বছর বকেয়া ঋণের ওপর সর্বোচ্চ ১ শতাংশ ফি চাওয়া হয়েছে। তবে এই ফি সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত হতে পারবে। একে ঋণ ব্যবস্থাপনা বা মনিটরিং ফি বলা হচ্ছে। 

বৃহৎ করপোরেট ঋণ ও ট্রেড ফাইন্যান্সে নতুন ফি ধরা হয়েছে। একে ‘ডিল স্ট্রাকচারিং ফি’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এই ফি হবে মোট ঋণের ১ শতাংশ। এর বাইরে অতিরিক্ত ঝুঁকি প্রিমিয়াম বাবদ আরও ১ শতাংশ ফি চাওয়া হয়েছে। 

এর অর্থ হলো একজন উদ্যোক্তাকে শুধু ঋণের সুদ দিলেই চলবে না। ঋণের ফাইল প্রসেসিং থেকে শুরু করে তদারকি পর্যন্ত ফি দিতে হবে। প্রতিটি ধাপে নতুন নতুন মাশুল গুনতে হবে। 

বিদ্যমান ঋণের প্রক্রিয়াকরণ ফি বর্তমানে সর্বোচ্চ ০.৫০ শতাংশ। প্রস্তাব অনুযায়ী তা বাড়িয়ে সর্বোচ্চ ২ শতাংশ করার সুপারিশ করা হয়েছে। কোনো কারণে ব্যবসা ক্ষতিগ্রস্ত হলে ঋণ পুনঃতফসিল করতে হয়। ঋণ পুনঃতফসিল বা পুনর্গঠনের ফি বর্তমানে ০.২৫ শতাংশ। এটি বাড়িয়ে সর্বোচ্চ ১ শতাংশ করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। 

এই নিয়ম সংকটে পড়া উদ্যোক্তাদের জন্য বড় বোঝা হবে। তবে সিএমএসএমই এবং কৃষি ঋণকে এই সীমার বাইরে রাখার সুপারিশ রয়েছে। বাস্তব ক্ষেত্রে ব্যাংকগুলোর কড়াকড়ির প্রভাব ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের ওপরও পড়ে। 

এছাড়া ঋণপত্র বা এলসি খোলার আবেদন গ্রহণে ১০০ টাকা ফি চাওয়া হয়েছে। বিদেশি ঋণপত্রের নথি প্রক্রিয়াকরণে সর্বোচ্চ ২০ মার্কিন ডলার ফি প্রস্তাব করা হয়েছে। স্থানীয় ঋণপত্রের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ১ হাজার টাকা চার্জ নির্ধারণের প্রস্তাব রয়েছে। 

এলসি সংশোধন ফি সর্বোচ্চ ৭৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে দেড় হাজার টাকা করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। ব্যাংক গ্যারান্টি কমিশনের সর্বোচ্চ হার ০.৫০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ০.৭৫ শতাংশ করার সুপারিশ রয়েছে। ন্যূনতম কমিশন ১ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ২ হাজার টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছে। 

এইসব বর্ধিত মাশুল দেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যকে আরও ব্যয়বহুল করবে। এর চূড়ান্ত প্রভাব পড়বে দেশের সাধারণ বাজারের ওপর। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য আরও বৃদ্ধি পেতে পারে। 

ব্যাংকগুলোর যুক্তি 

অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স, বাংলাদেশ (এবিবি) এই ফি বৃদ্ধির পক্ষে যুক্তি দিয়েছে। তারা বাংলাদেশ ব্যাংকে একটি চিঠি পাঠিয়েছে। চিঠিতে তারা উল্লেখ করেছে যে ব্যাংকিং সেবার পরিধি অনেক বেড়েছে। প্রযুক্তিনির্ভর সেবার সম্প্রসারণ হয়েছে। সাইবার নিরাপত্তা জোরদার করতে হচ্ছে। 

পরিচালন ব্যয়ের ঊর্ধ্বগতি ব্যাংকগুলোর মুনাফায় চাপ সৃষ্টি করছে। মূল্যস্ফীতির কারণে ব্যাংকগুলোর নিজস্ব খরচও অনেক বেড়েছে। ফলে মানসম্পন্ন গ্রাহকসেবা বজায় রাখা কঠিন হচ্ছে। ব্যাংকিং খাতের সক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে চার্জ কাঠামো পুনর্বিবেচনা করা জরুরি। তারা প্রতি বছর সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ পর্যন্ত চার্জ সমন্বয়ের সুযোগও চেয়েছে। 

ব্যাংকগুলোর পরিচালন ব্যয় বৃদ্ধির যুক্তিটি একেবারে মিথ্যা নয়। আধুনিক সফটওয়্যার কিনতে অনেক টাকা লাগে। এটিএম নেটওয়ার্ক রক্ষণাবেক্ষণেও খরচ আছে। দক্ষ মানবসম্পদ তৈরিতে বিনিয়োগের প্রয়োজন রয়েছে। 

তবে মূল প্রশ্নটি অন্য জায়গায়। এই অতিরিক্ত ব্যয়ের সম্পূর্ণ দায় কেন সাধারণ গ্রাহক নেবেন? দেশের ব্যাংকিং খাতের একটি বড় সংকট হলো খেলাপি ঋণ। অদক্ষ ব্যবস্থাপনার কারণেও ব্যাংকগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। 

ঋণের টাকা ঠিকমতো আদায় হচ্ছে না। বড় বড় আর্থিক কেলেঙ্কারির কারণে ব্যাংকগুলোর অনেক ক্ষতি হয়েছে। এখন কি সাধারণ সেবার ওপর ফি বাড়িয়ে সেই ক্ষতি আড়াল করা হচ্ছে? আয়ের সহজ পথ খোঁজা কি ব্যাংকগুলোর মূল লক্ষ্য? 

এই প্রশ্নটি আজ সাধারণ গ্রাহকদের মনে বড় হয়ে দেখা দিয়েছে। অদক্ষতার মাশুল যদি সৎ আমানতকারীকে দিতে হয় তবে তা অন্যায়। সাধারণ গ্রহীতাকে এই চাপ দেওয়া ব্যাংকিং সুশাসনের পরিপন্থী। 

বাংলাদেশ এখনো পুরোপুরি ক্যাশলেস বা নগদবিহীন অর্থনীতিতে রূপান্তরিত হয়নি। দেশের একটি বিশাল অংশের মানুষ সরাসরি লেনদেনে অভ্যস্ত। গ্রামীণ ও মফস্বল অঞ্চলের গ্রাহকেরা ব্যাংকে গিয়ে টাকা জমা দেন। টাকা তোলার জন্য তারা সরাসরি কাউন্টারের ওপর নির্ভরশীল। 

মাসে তিনবার টাকা তোলার পর যদি চতুর্থবার থেকে ফি কাটা হয় তবে তারা বিরক্ত হবেন। ১০০ বা ৩০০ টাকা করে কেটে নেওয়া হলে সাধারণ মানুষ ক্ষুব্ধ হবেন। নিম্ন ও মধ্যবিত্ত মানুষ ব্যাংকে টাকা রাখার আগ্রহ হারিয়ে ফেলতে পারেন। 

তারা পুনরায় টাকা ঘরের সিন্দুকে রাখার দিকে ঝুঁকবেন। অনানুষ্ঠানিক খাতে যেমন হুন্ডি বা সমিতিতে টাকা রাখার প্রবণতা বাড়বে। এটি দেশের ‘আর্থিক অন্তর্ভুক্তি’র মূল উদ্দেশ্যকে ব্যাহত করবে। সরকারের লক্ষ্য সাধারণ মানুষকে ব্যাংকিং চ্যানেলে আনা। এই ফি নীতি মানুষকে ব্যাংক বিমুখ করতে পারে। 

সঞ্চয়ী হিসাবের রক্ষণাবেক্ষণ ফির ক্ষেত্রেও বড় পরিবর্তন আনা হচ্ছে। বর্তমানে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত গড় স্থিতি থাকলে কোনো ফি দিতে হয় না। প্রস্তাব অনুযায়ী এই সীমা কমিয়ে ৫ হাজার টাকা করা হচ্ছে। ৫ হাজার থেকে ২৫ হাজার টাকা গড় স্থিতির ক্ষেত্রে মাসে ১৫০ টাকা ফি চাওয়া হয়েছে। আর ২৫ হাজার টাকার বেশি হলে ৩০০ টাকা ফি নির্ধারণের সুপারিশ করা হয়েছে। 

এর ফলে ক্ষুদ্র আমানতকারীদের জমানো আসল টাকা থেকেই ফি কাটা যাবে। ব্যাংকে টাকা রেখে যদি লাভের বদলে উল্টো আসল খোয়া যায় তবে মানুষ সঞ্চয় করবে না। ক্ষুদ্র সঞ্চয়ের প্রবণতা দেশ থেকে হারিয়ে যাবে। এটি দীর্ঘমেয়াদে দেশের অভ্যন্তরীণ মূলধন গঠনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। 

এবিবির এই প্রস্তাবটি এখন বাংলাদেশ ব্যাংকের বিবেচনাধীন রয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংককে এখানে অত্যন্ত সতর্ক ভূমিকা পালন করতে হবে। ভারসাম্যপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া এখন সময়ের দাবি। 

ব্যাংকগুলোর পরিচালন ব্যয়ের যৌক্তিকতা দেখতে হবে। তবে দেশের কোটি কোটি সাধারণ গ্রাহকের কথাও ভুলে গেলে চলবে না। সামগ্রিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার কথা মাথায় রাখতে হবে। এই সংকট নিরসনে কয়েকটি সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ নেওয়া যেতে পারে: 

১. ঢালাওভাবে সবার ওপর ফি বাড়ানো ঠিক হবে না। গ্রাহকদের আর্থিক অবস্থা বিবেচনা করা প্রয়োজন। ক্ষুদ্র আমানতকারী ও শিক্ষার্থীদের কোনো ফি দেওয়া উচিত নয়। প্রবীণ নাগরিক এবং কৃষকদের হিসাবগুলোকে নতুন ফি থেকে মুক্ত রাখতে হবে। বৃহৎ করপোরেট বা উচ্চবিত্ত গ্রাহকদের ক্ষেত্রে সেবার ফি কিছুটা বাড়ানো যেতে পারে। সাধারণ মানুষের মৌলিক ব্যাংকিং সেবাকে স্পর্শ করা উচিত হবে না। 

২. কাউন্টার থেকে নগদ উত্তোলনের ফি পুরোপুরি বাতিল করা দরকার। এটি গ্রাহকের নিজস্ব আমানত ব্যবহারের মৌলিক অধিকার। এই অধিকারের ওপর আঘাত করা ঠিক নয়। ডিজিটাল লেনদেনে উৎসাহ দিতে হলে ক্যাশব্যাক বা অন্যান্য সুবিধা দেওয়া উচিত। জরিমানা বা শাস্তিমূলক ফি দিয়ে মানুষকে বাধ্য করা যায় না। 

৩. ব্যাংকগুলোর নিজস্ব পরিচালন ব্যয় কমানো দরকার। এর জন্য অভ্যন্তরীণ সুশাসন জোরদার করতে হবে। অডিট ব্যবস্থা আরও কঠোর করা প্রয়োজন। বিলাসী ব্যয় হ্রাস করতে হবে। খেলাপি ঋণ আদায় জোরদার করতে হবে। প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহারের মাধ্যমে অপচয় কমাতে হবে। ব্যাংকগুলো তাদের অপচয় কমালে সাধারণ গ্রাহকের পকেট কাটার প্রয়োজন পড়বে না। 

৪. ঋণ প্রক্রিয়াকরণ বা পুনঃতফসিল ফি এক লাফে চার গুণ বাড়ানো কোনোভাবেই যৌক্তিক নয়। এটি ব্যবসার খরচ বাড়িয়ে দেবে। বাজারে পণ্যের দাম বেড়ে যাবে। তাই কেন্দ্রীয় ব্যাংককে প্রতিটি সেবার জন্য একটি যৌক্তিক সীমা নির্ধারণ করে দিতে হবে। সহনশীল ‘ক্যাপ’ থাকলে গ্রাহকেরা স্বস্তি পাবেন। 

দেশ এখন অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির একটি গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে রয়েছে। এই সময়ে ব্যাংকিং খাতের সিদ্ধান্তগুলো অত্যন্ত দূরদর্শী হওয়া কাম্য। ব্যাংক এবং গ্রাহকের সম্পর্ক সম্পূর্ণভাবে বিশ্বাসের ওপর প্রতিষ্ঠিত। 

মাত্রাতিরিক্ত ফি বা মাশুল আরোপের মাধ্যমে ক্ষণস্থায়ী মুনাফা অর্জন করা সম্ভব। তবে দীর্ঘমেয়াদে তা গ্রাহকের আস্থা ধসিয়ে দিতে পারে। বাংলাদেশ ব্যাংক একটি স্বাধীন রেগুলেটর বা নিয়ন্ত্রক সংস্থা। 

তাদের মূল দায়িত্ব জনস্বার্থ রক্ষা করা। সামগ্রিক অর্থনীতির বিকাশকে তাদের অগ্রাধিকার দিতে হবে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক এবিবির এই প্রস্তাবটি পুঙ্খানুপুঙ্খ মূল্যায়ন করবে। তারা একটি ভারসাম্যপূর্ণ নীতি প্রণয়ন করবে। এটাই দেশের সচেতন নাগরিক ও সাধারণ আমানতকারীদের প্রত্যাশা। 

ব্যাংকিং খাতের আধুনিকায়ন ও ডিজিটালাইজেশন জরুরি। তবে তা যেন সাধারণ মানুষের আর্থিক নিরাপত্তার দেওয়াল ভেঙে না ফেলে। জনবান্ধব ও অন্তর্ভুক্তিমূলক ব্যাংকিং ব্যবস্থাপনাই পারে একটি টেকসই অর্থনীতি বিনির্মাণ করতে।


লেখক: আহমেদ তোফায়েল

বিজনেস এডিটর, প্রতিদিনের বাংলাদেশ

অর্থনীতি ও ব্যাংকিং বিশ্লেষক

শেয়ার করুন-

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা