× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ জাতীয় রাজনীতি সারা দেশ আন্তর্জাতিক অর্থনীতি খেলা বিনোদন মতামত চাকরি-ক্যারিয়ার শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

যাদুকাটার মামলা

এবার কি থামবে নদীর বুকে ও পাড়ে বালুখেকোদের তাণ্ডব?

রাসেল আহমদ

প্রকাশ : ২ ঘণ্টা আগে

রাসেল আহমদ। ফাইল ছবি

রাসেল আহমদ। ফাইল ছবি

পরিবেশ ধ্বংসের সবচেয়ে বিপদ সবচেয়ে বড়। এতে শুধু প্রকৃতির ক্ষয়ই নয়, বরং যখন সেই ধ্বংস একটি নিয়মিত অর্থনৈতিক অপ-কর্মকাণ্ড ঘনীভূত রূপে শক্তিশালী হয়ে ওঠে।যা একধরনে রাজদূর্নীতি বলা চলে। আইনের প্রয়োগ বারবার রাজদূর্নীতির ছায়ায় আটকে যায়। তখন প্রশ্ন জাগে- রাষ্ট্র কি সত্যিই অপরাধের শিকড়ে পৌঁছাতে পারছে, নাকি রাজদূর্নীতির কালো ছায়া না মাড়িয়ে- গা বাঁচিয়ে কেবলই দৃশ্যমান অংশটুকুই মোকাবিলা করছে?

গণমাধ্যমে প্রকাশ, গত বছরের ৬ থেকে ১১ অক্টোবর সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার লাউড়েরগড় এলাকায় যাদুকাটা নদীর তীর কেটে প্রকাশ্যে বালু উত্তোলন করা হয়। নৌকা ও বাল্কহেড ব্যবহার করে হাজারো মানুষ নদী থেকে বালু নিয়ে যায়। এ ঘটনায় ১৫ অক্টোবর পরিবেশ অধিদপ্তরের

করা মামলার তদন্ত শেষে যাদুকাটা নদী থেকে অবৈধ বালু উত্তোলনের মামলায় ২৭ জনের বিরুদ্ধে ৬ জুলাই (সোমবার) আদালতে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়েছে। 

গত বছরের ৬–১১ অক্টোবর বালু লুটের ঘটনায় ১৫ অক্টোবর পরিবেশ অধিদপ্তর জনআলোচিত অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মামলা করে। আট মাস পর দাখিল হওয়া চূড়ান্ত অভিযোগপত্রে তাই স্বাভাবিকভাবেই স্থানীয় জনমনে প্রশ্ন উঠেছে- বালুখেকোদের প্রকৃত নামগুলো কি যথাযথভাবে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে?

অভিযোগপত্রে সাবেক তাহিরপুর উপজেলা চেয়ারম্যান ও বাদাঘাট ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক আফতাব উদ্দিন, মোশাহিদ আলম ওরফে রানু মেম্বারসহ একাধিক ব্যক্তির নাম রয়েছে। স্থানীয় ও জাতীয় বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ অনুযায়ী, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় এবং পরবর্তী অন্তর্বর্তীকালীন সরকার আমলেও তাঁদের বিরুদ্ধে যাদুকাটায় অবৈধ বালু উত্তোলনের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগ উঠে এসেছে। অন্যদিকে, এজাহারভুক্ত তাহিরপুর উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক রাখাব উদ্দিনসহ ১০ জনকে তদন্তে সম্পৃক্ততার প্রমাণ না পাওয়ায় অভিযোগপত্র থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে পরিবেশ অধিদপ্তর। 

তদন্তের ভিত্তিতে অভিযোগপত্র দেওয়া বিচারপ্রক্রিয়ার স্বাভাবিক অংশ। আদালতই শেষ পর্যন্ত নির্ধারণ করবেন কে দোষী, কে নির্দোষ। কিন্তু এই মামলার বাইরেও একটি বড় প্রশ্ন থেকে যায়- যাদুকাটার দীর্ঘদিনের অবৈধ বালু উত্তোলনের যে কাঠামো, সেটি কি সত্যিই আইনের আওতায় আসছে?

এই প্রশ্ন নতুন নয়। বরং যাদুকাটা, মাহারাম, পাটলাই ও চেলা নদীর সাম্প্রতিক ও অতীতের ঘটনাগুলো একসঙ্গে বিবেচনা করলে দেখা যায়, প্রায় একই চিত্র বছরের পর বছর পুনরাবৃত্তি হয়েছে। নদীর পাড় কেটে বালু উত্তোলন, প্রশাসনিক অভিযান, মামলা, শ্রমিক গ্রেপ্তার, কিছু নৌযান জব্দ, সাময়িক বিরতি- তারপর আবার আগের মতোই উত্তোলন। মামলার সংখ্যা বেড়েছে, কিন্তু নদীর সংকট কমেনি।

যাদুকাটা বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সীমান্ত নদী। ভারতের খাসিয়া পাহাড় থেকে নেমে আসা এই নদী শুধু প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের প্রতীক নয়; এটি হাওরাঞ্চলের কৃষি, মৎস্যসম্পদ, পর্যটন, জীববৈচিত্র্য এবং হাজারো শ্রমজীবী মানুষের জীবিকার সঙ্গে নিবিড়ভাবে যুক্ত। টাঙ্গুয়ার হাওরের জলপ্রবাহ ব্যবস্থারও একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ এই নদী। ফলে যাদুকাটার ক্ষতি মানে কেবল একটি নদীর ক্ষতি নয়; পুরো হাওরাঞ্চলের পরিবেশগত ভারসাম্যের ওপর চাপ সৃষ্টি হওয়া।

সমস্যা হচ্ছে, বালু একটি মূল্যবান প্রাকৃতিক সম্পদ হওয়ায় এর চারপাশে বিশাল অর্থনীতি গড়ে উঠেছে। বৈধ ইজারা, সরকারি রাজস্ব ও নির্মাণশিল্পের প্রয়োজন- এসব বাস্তবতা যেমন আছে, তেমনি রয়েছে অবৈধ উত্তোলন, নদীর পাড় কাটা, ইজারার সীমানা অতিক্রম এবং সংঘবদ্ধভাবে সম্পদ লুণ্ঠনের অভিযোগ। ফলে বিষয়টি কেবল পরিবেশের নয়; এটি সুশাসন, সম্পদ ব্যবস্থাপনা এবং আইনের শাসনেরও প্রশ্ন।

যাদুকাটা নিয়ে উদ্বেগ শুধু স্থানীয় মানুষের নয়। বিভিন্ন সময়ে সংবাদমাধ্যম, পরিবেশবাদী সংগঠন, প্রশাসন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীও একই ধরনের সতর্কবার্তা দিয়েছে। বিজিবি পর্যন্ত প্রকাশ্যে জানিয়েছে, ইজারাবহির্ভূত এলাকা থেকে সংঘবদ্ধভাবে বালু উত্তোলন চলতে থাকলে নদীভাঙন নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, দেড় থেকে দুই হাজার নৌকা এবং ১৫ থেকে ২০ হাজার শ্রমিক একযোগে অবৈধ উত্তোলনে অংশ নিয়েছে। এত বড় পরিসরের কর্মকাণ্ড কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা হতে পারে না; এর পেছনে অর্থ, সংগঠন, পরিকল্পনা এবং প্রভাব- সবকিছুরই উপস্থিতি থাকে।

সেখানেই জনমনে সবচেয়ে বড় প্রশ্নটি জন্ম নেয়। এত বড় একটি অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড কি কেবল মাঠপর্যায়ের শ্রমিক কিংবা কয়েকজন স্থানীয় ব্যক্তিকে কেন্দ্র করেই পরিচালিত হয়? নাকি এর পেছনে আরও শক্তিশালী আর্থিক ও সাংগঠনিক নেটওয়ার্ক থাকে, যাদের নাগাল আইন খুব কমই পায়?

এই প্রশ্নের উত্তর আদালত নয়, বরং তদন্তের মান, আইনের প্রয়োগ এবং রাষ্ট্রের সক্ষমতার মধ্যেই নিহিত। কারণ কোনো মামলায় কারও নাম থাকা বা বাদ পড়া দোষী কিংবা নির্দোষ হওয়ার চূড়ান্ত প্রমাণ নয়। কিন্তু যদি বছরের পর বছর একই ধরনের অপরাধ চলতে থাকে, আর অপরাধের কাঠামো অটুট থাকে, তাহলে আইন প্রয়োগের কার্যকারিতা নিয়েই প্রশ্ন ওঠে।

ইতিহাসও খুব আশাব্যঞ্জক নয়। যাদুকাটায় বালুখেকোদের আগ্রাসনের সূচনা ২০০১ সাল থেকে।

প্রথম দিকে রাতের আঁধারে লুটপাট হলেও এখন প্রকাশ্যে দিনেরাতে যাদুকাটার বুকে চলছে বিধ্বংসী খননযন্ত্র, চলছে তীরকাটা। ২০২১ সালে যাদুকাটায় নিলামবহির্ভূত এলাকা থেকে বালু উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছিল। স্থানীয়দের দাবি ছিল, জব্দ করা বালুর সীমা অতিক্রম করে আরও বালু নেওয়া হচ্ছে, এমনকি সাধারণ শ্রমিকদের তোলা বালুও জোরপূর্বক সরিয়ে নেওয়ার অভিযোগ ছিল। পরবর্তী বছরগুলোতেও একই ধরনের অভিযোগ, অভিযান ও মামলা হয়েছে। কিন্তু সমস্যার স্থায়ী সমাধান হয়নি।

বরং সাম্প্রতিক সময়ে নদীর পাড় রক্ষায় বাঁশের বেড়া দিতে হয়েছে। প্রশাসনকে টাস্কফোর্স গঠন করতে হয়েছে। বিজিবিকে অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করতে হয়েছে। এতসব উদ্যোগের পরও যদি অবৈধ উত্তোলন পুরোপুরি বন্ধ না হয়, তবে স্বীকার করতেই হবে- সমস্যাটি কেবল আইনশৃঙ্খলার নয়; এটি একটি সুসংগঠিত অর্থনৈতিক ও প্রশাসনিক চ্যালেঞ্জ।

তবে যাদুকাটার সংকটকে শুধু অবৈধ বালু উত্তোলনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখলে পুরো চিত্রটি ধরা পড়বে না। নদীকেন্দ্রিক অর্থনীতির আরেকটি বড় বিতর্ক হলো নৌপথে টোল আদায়। সম্প্রতি যাদুকাটা, পাটলাই ও আশপাশের নৌরুটে অতিরিক্ত টোল আদায়, বৈধ রশিদ ছাড়া অর্থ আদায় এবং নৌ-শ্রমিকদের হয়রানির অভিযোগ তুলে নৌকা মালিক ও ব্যবসায়ীরা জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছেন। অভিযোগগুলোর সত্যতা তদন্তসাপেক্ষ; তবে এ ঘটনা দেখিয়ে দেয়, নদীকে ঘিরে অনিয়মের পরিধি শুধু বালু উত্তোলনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। নদীপথের ব্যবস্থাপনাতেও স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির ঘাটতি নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।

এই প্রেক্ষাপটে সুনামগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান কামরুলের সাম্প্রতিক উদ্যোগ ইতিবাচক আলোচনা তৈরি করেছে। তিনি অতিরিক্ত টোল আদায়ের সমালোচনা করেছেন, অপ্রয়োজনীয় ঘাট পুনর্বিবেচনার কথা বলেছেন এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে সাময়িকভাবে আগের টোলহার বহাল রাখার উদ্যোগ নিয়েছেন। একই সঙ্গে যাদুকাটা নদী রক্ষায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা আরও জোরদারের প্রয়োজনীয়তার কথাও বলেছেন। জনপ্রতিনিধির এমন সক্রিয় ভূমিকা অবশ্যই গুরুত্বের দাবিদার। তবে সংসদ সদস্যের এই ব্যক্তি-উদ্যোগ কখনোই দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের বিকল্প হতে পারে না। প্রয়োজন প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার, স্বচ্ছ নীতি এবং ধারাবাহিক নজরদারি।

আরেকটি বাস্তবতা স্বীকার করাও জরুরি। যাদুকাটা অঞ্চলের হাজারো মানুষের জীবন-জীবিকা বালু, পাথর ও নৌপরিবহনের সঙ্গে সম্পর্কিত। তাঁদের অনেকেই দিনমজুর, মাঝি কিংবা শ্রমিক। অতীতের নানা ঘটনায় দেখা গেছে, প্রশাসনিক অভিযানের সবচেয়ে তাৎক্ষণিক অভিঘাত তাঁদের ওপরই পড়ে। নৌকা জব্দ হয়, শ্রমিক গ্রেপ্তার হন, জীবিকা বন্ধ হয়ে যায়। অথচ যাঁরা অর্থায়ন করেন, পরিকল্পনা করেন কিংবা পুরো বাণিজ্যিক কাঠামো নিয়ন্ত্রণ করেন, তাঁদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান ব্যবস্থা তুলনামূলক কম দেখা যায়- এমন অভিযোগ দীর্ঘদিনের। অভিযোগের সত্যতা প্রতিটি ক্ষেত্রে আদালত ও তদন্তই নির্ধারণ করবে; তবে জনমনে এই ধারণা কেন তৈরি হয়েছে, সেটিও রাষ্ট্রের গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা উচিত।

পরিবেশ রক্ষার নামে এমন কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত নয়, যার সবচেয়ে বড় মূল্য দিতে হয় দরিদ্র শ্রমজীবী মানুষকে, অথচ প্রকৃত অপরাধের অর্থনৈতিক ভিত্তি অক্ষত থাকে। আবার জীবিকার যুক্তিতে নদী ধ্বংসেরও কোনো সুযোগ নেই। এই দুই বাস্তবতার মধ্যে ভারসাম্য প্রতিষ্ঠাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

তাই সমাধানও হতে হবে সমন্বিত। কোথায়, কতটুকু, কোন মৌসুমে এবং কী প্রযুক্তিতে বালু উত্তোলন করা যাবে, তা কঠোর পরিবেশগত মূল্যায়নের ভিত্তিতে নির্ধারণ করতে হবে। ইজারার সীমানা ডিজিটালভাবে চিহ্নিত করতে হবে। ড্রেজার ব্যবহারের ওপর কার্যকর নজরদারি নিশ্চিত করতে হবে। প্রতিটি বালুবাহী নৌযানের ডিজিটাল নিবন্ধন, জিপিএস-ভিত্তিক পর্যবেক্ষণ এবং রাজস্ব ব্যবস্থাকে আরও স্বচ্ছ করার উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে টোল আদায়ের প্রতিটি পয়েন্টে নির্ধারিত হার প্রকাশ, বাধ্যতামূলক রশিদ প্রদান এবং অভিযোগ গ্রহণের কার্যকর ব্যবস্থা থাকতে হবে।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, পরিবেশ অপরাধকে আর বিচ্ছিন্ন আইনশৃঙ্খলার সমস্যা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। এটি এখন একটি সংঘবদ্ধ অর্থনৈতিক অপরাধের রূপ নিয়েছে। ফলে তদন্তও হতে হবে সেই বাস্তবতা মাথায় রেখে। শুধু নৌকা বা শ্রমিক নয় কিংবা রাজনৈতিক মতাদর্শগত বিরোধীদের শিকার নয়, অর্থের প্রবাহ, ড্রেজারের মালিকানা, অর্থদাতা, সুবিধাভোগী এবং সম্ভাব্য প্রভাবশালী নেটওয়ার্ক- সবকিছুকেই আইনের আওতায় আনতে হবে। আইনের চোখে কেউ প্রভাবশালী বা অপ্রভাবশালী নন; সবার জন্য একই মানদণ্ড কার্যকর হওয়াই আইনের শাসনের মূল ভিত্তি।

যাদুকাটার ঘটনা আমাদের আরও একটি শিক্ষা দেয়। একটি নদী ধ্বংস হয় একদিনে নয়; দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা, দুর্বল নজরদারি, নীতির অসামঞ্জস্য এবং জবাবদিহির ঘাটতির মধ্য দিয়ে ধীরে ধীরে তার অস্তিত্ব ক্ষয়ে যায়। তাই কেবল মামলা করলেই দায়িত্ব শেষ হয় না। সেই মামলা শেষ পর্যন্ত কোথায় পৌঁছাল, প্রকৃত অপরাধী আইনের মুখোমুখি হলো কি না, নদীর ক্ষতি বন্ধ হলো কি না- এসব প্রশ্নের উত্তরও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

আজ যাদুকাটা আমাদের সামনে একটি মৌলিক প্রশ্ন রেখে দাঁড়িয়েছে। আমরা কি আবারও এমন একটি চক্রের সাক্ষী হব, যেখানে মামলা হবে, আসামির তালিকা বদলাবে, শ্রমিকেরা হয়রানির শিকার হবেন, কিন্তু নদী লুণ্ঠনের কাঠামো অক্ষত থাকবে? নাকি এবার এমন একটি দৃষ্টান্ত গড়ে উঠবে, যেখানে আইন অপরাধের শেষ প্রান্ত পর্যন্ত পৌঁছাবে, পরিবেশ রক্ষা ও মানুষের জীবিকার মধ্যে ন্যায্য ভারসাম্য প্রতিষ্ঠিত হবে এবং রাষ্ট্র প্রমাণ করবে- প্রাকৃতিক সম্পদ কোনো গোষ্ঠীর নয়, সমগ্র জাতির সম্পদ?

যাদুকাটাকে বাঁচানো মানে শুধু একটি নদীকে রক্ষা করা নয়। এর অর্থ হাওরাঞ্চলের পরিবেশ, মানুষের জীবন-জীবিকা, রাষ্ট্রের রাজস্ব, আইনের শাসন এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের অধিকারকে একসঙ্গে রক্ষা করা। যদি মামলার লক্ষ্য কেবল আসামির তালিকা তৈরি না হয়ে প্রকৃত অপরাধের শিকড় উন্মোচন হয়, যদি আইন সত্যিই ক্ষমতা ও প্রভাবের ঊর্ধ্বে উঠে কাজ করে, তবে যাদুকাটা শুধু একটি নদী হিসেবেই নয়, পরিবেশ সুশাসনের একটি দৃষ্টান্ত হিসেবেও টিকে থাকবে। আর যদি তা না হয়, তাহলে মামলার নথি বাড়বে, কিন্তু নদীর ক্ষত আরও গভীর হবে।

তাই যাদুকাটার প্রশ্ন আসলে একটি নদীর প্রশ্ন নয়; এটি রাষ্ট্রের ন্যায়বিচার, পরিবেশ সুশাসন এবং উন্নয়নের দর্শনের প্রশ্ন। যদি আইন কেবল দুর্বলদের স্পর্শ করে, আর প্রকৃত সুবিধাভোগীরা বারবার আড়ালে থেকে যায়, তবে মামলা বাড়বে, কিন্তু নদী বাঁচবে না। আর যদি আইন সত্যিই অপরাধের শিকড় পর্যন্ত পৌঁছায়, পরিবেশ সংরক্ষণ ও মানুষের জীবিকার মধ্যে ন্যায্য ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা করতে পারে, তাহলে যাদুকাটা শুধু একটি নদী হিসেবেই নয়, রাষ্ট্রের জবাবদিহিরও এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে উঠতে পারে। আজ সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময়- আমরা কি শুধু মামলা করব, নাকি সত্যিই নদীকে বাঁচাব?

লেখক: সাংবাদিক ও হাওর উন্নয়ন বিষয়ক চিন্তক

শেয়ার করুন-

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা