× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ জাতীয় রাজনীতি সারা দেশ আন্তর্জাতিক অর্থনীতি খেলা বিনোদন মতামত চাকরি-ক্যারিয়ার শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

নামে আছে, কাজে নাই

সম্পাদকীয়

প্রকাশ : ৭ ঘণ্টা আগে

ফুটওভারব্রিজ থাকা সত্ত্বেও পথচারীরা মূল সড়কের মাঝখান দিয়ে পারাপার করছেন। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ

ফুটওভারব্রিজ থাকা সত্ত্বেও পথচারীরা মূল সড়কের মাঝখান দিয়ে পারাপার করছেন। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ

পদচারীদের নিরাপদ সড়ক পারাপারের জন্য রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন স্থানে দুই সিটি করপোরেশন নির্মাণ করেছে বেশকিছু ফুটওভার ব্রিজ।

তবে সেগুলোর অধিকাংশই এখন অব্যবহৃত। প্রয়োজনীয় তত্ত্বাবধান ও মেরামতের অভাবে কোনো কোনোটি জরাজীর্ণ অবস্থায় উপনীত। তবে বেশির ভাগ ফুটওভার ব্রিজ ঠায় দাঁড়িয়ে নিজের অস্তিত্ব ঘোষণা করলেও তাকে কেউ ব্যবহার করে না। ব্রিজের জায়গায় ব্রিজ দাঁড়িয়ে আছে, আর পায়ে হাঁটা মানুষরা অবলীলায় পার হচ্ছে ব্যস্ততম সড়ক। রাজধানীতে এ দৃশ্য প্রতিদিন, প্রতিক্ষণের। ফলে নিয়তই ঘটছে দুর্ঘটনা। কিন্তু তাতেও কারও বোধোদয় হচ্ছে না। অবস্থা অনেকটা নগরীর বিভিন্ন স্থানে স্থাপিত ডাস্টবিনের মতো। ডাস্টবিনের গায়ে লেখা থাকে ‘আমাকে ব্যবহার করুন’। কিন্তু অবস্থা দেখলে মনে হতে পারে, ডাস্টবিন নয়, সেটার চারপাশকে ব্যবহারের অনুরোধ করা হয়েছে। তেমনি প্রতিটি ফুটওভার ব্রিজের ওঠানামার সিঁড়ির গোড়ায় পথচারীদের তা ব্যবহার করার অনুরোধ জানিয়ে লেখা বোর্ড থাকলেও অধিকাংশ মানুষ তাতে ভ্রুক্ষেপ করে না।


গতকাল প্রতিদিনের বাংলাদেশ-এ ‘ব্যবহার নেই, নামেই ফুটওভার ব্রিজ’ শিরোনামের প্রতিবেদনে এ চিত্রই তুলে ধরা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের আওতায় ১০২টি ফুটওভার ব্রিজ নির্মিত হয়েছে। এর মধ্যে উত্তর সিটিতে ৭০টি এবং দক্ষিণ সিটিতে ৩২টি। এ ছাড়া উত্তর সিটিতে আরও সাতটি নির্মাণাধীন রয়েছে। প্রয়োজনীয় রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে এসব ফুটওভার ব্রিজের অধিকাংশের এখন জীর্ণদশা। কোনোটির রেলিং ভাঙা, কোনোটির স্টিলের পাটাতনে সৃষ্টি হয়েছে বড় বড় ফোকল। কয়েক দিন আগে প্রতিদিনের বাংলাদেশে হাইকোর্ট থেকে বঙ্গবাজারগামী সড়কের কবি সুফিয়া কামাল ছাত্রী হল সংলগ্ন ফুটওভার ব্রিজের মাঝখানের পাটাতনে বিশাল ফোকলের একটি ছবি ছাপা হয়েছিল। যে কারণে পথচারীরা ওটা ব্যবহার করে না। কিন্তু তাতেও ঘুম ভাঙেনি দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নামের কুম্ভকর্ণের। কেননা, প্রতিদিনের বাংলাদেশ-এর গতকালের প্রতিবেদনেও সে ভাঙা পাটাতনের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।


লক্ষ্য করলে এটা চোখে না পড়ার কারণ নেই যে, রাজধানীর ফুটওভার ব্রিজগুলোর নির্মাণ পরিকল্পনায় অনেক ত্রুটি রয়েছে। অধিকাংশ ব্রিজ নির্মাণ করা হয়েছে অপরিকল্পিতভাবে। যেখান দিয়ে পথচারীদের রাস্তা পারাপারের অধিক্য, ব্রিজগুলোর অবস্থান তা থেকে দুই-আড়াইশ গজ দূরে। ফলে ইচ্ছা থাকলেও অতটা পথ ঘুরে অনেকেই ব্রিজে উঠতে আগ্রহী হন না। তা ছাড়া ব্রিজগুলোর উচ্চতাও সেগুলোর ব্যবহারে পথচারীদের অনাগ্রহী করে তোলার অন্যতম একটি কারণ। ব্রিজগুলো এতটাই উঁচু যে, অসুস্থ এবং বয়োবৃদ্ধরা তাতে উঠতে পারেন না। যদিও কয়েকটি ফুটওভার ব্রিজে ওঠার সিঁড়িতে এক্সেলেটর বসানো হয়েছে, তবে সেগুলোও অধিকাংশ সময় বন্ধ থাকে। প্রতিদিনের বাংলাদেশ-এর প্রতিবেদনেই সে তথ্য রয়েছে। সচেতন নাগরিকগণ মনে করেন, কয়েকটি নয়, নগরীর প্রতিটি ফুটওভার ব্রিজে ওঠানামার জন্য এক্সেলেটর বাসানো দরকার। তাহলে পথচারীগণ তা ব্যবহারে আগ্রহী হয়ে উঠবে।

কর্তৃপক্ষীয় উদাসীনতা আমাদের দেশে অধিকাংশ জনগুরুত্বসম্পন্ন স্থাপনা অব্যবহৃত থাকা বা জীর্ণদশায় উপনীত হওয়ার অন্যতম কারণ। সেসব কারণ প্রতিদিনের বাংলাদেশে তুলে ধরা হয়েছে। যদিও সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তারা বলেছেন, তারা সমস্যাগুলো সম্পর্কে সজাগ ও সতর্ক রয়েছেন। উত্তর সিটি করপোরেশনের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী বলেছেন, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণ খাতে ১৬ কোটি ৫০ লাখ টাকার বরাদ্দ থাকলেও মেরামত খাতে রয়েছে মাত্র ২ কোটি টাকা। করপোরেশন আরও ১০টি ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে বলেও তিনি জানিয়েছেন।


উল্লেখ্য, অর্থবছর শেষ হতে বাকি আছে কমবেশি মাত্র দুই সপ্তাহ। এই সময়ের মধ্যে তারা নতুন ব্রিজ নির্মাণ এবং পুরনোগুলোর সংস্কার কাজ কতটা সম্পন্ন করতে পরেবেন, তা নিয়ে কিছু বলেননি তিনি। এ বিষয়ে উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইনস্টিটিউট ফর প্ল্যানিং অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের (আইপিডি) নির্বাহী পরিচালক আদিল মুহাম্মদ খানের মন্তব্য প্রণিধানযোগ্য। তিনি বলেছেন, ‘শুধু অবকাঠামো নির্মাণ করলেই হবে না, সেগুলোর রক্ষণাবেক্ষণ গাইডলাইন থাকতে হবে।’ বাস্তবতার নিরিখে খানের এই বক্তব্যের যথার্থতা নিয়ে দ্বিমত প্রকাশের অবকাশ আছে বলে মনে হয় না। কেননা, একটি স্থাপনা নির্মাণ যেমন ব্যয়বহুল এবং সময়সাপেক্ষ, তেমনি এর যথার্থ ব্যবহার ও রক্ষণাবেক্ষণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রয়োজনীয় তত্ত্বাবধানও অতীব জরুরি। কেননা, এর অভাবে গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো অনেক সময় অকার্যকর হয়ে পড়ে এবং ধ্বংসের মুখোমুখি হয়।

লক্ষ করলে দেখা যাবে, মহানগরীর সবগুলো ফুটওভার ব্রিজের ওঠানামার সিঁড়ির মুখে হকাররা পসরা সাজিয়ে বসে। কোনো কোনোটির ওপরের পাটাতনে দোকান-পসার দেখলে বিপণিবিতান বলে ভ্রম হতে পারে। এতে পথচারীদের যেমন বিঘ্ন সৃষ্টি হয়, তেমনি ফুটওভার ব্রিজ ব্যবহারকারীরাও সমস্যায় পড়েন। কিন্তু এসব সমস্যা দেখার যেন কেউ নেই। অন্যদিকে কম ব্যবহার হয়, এমন ফুটওভার ব্রিজগুলো রাত একটু বাড়লেই সমাজবিরোধীদের দখলে চলে যায়। ছিনতাইকারীদের উৎপাতের কারণে কেউ আর সেগুলো ব্যবহার করতে সাহসী হন না।

রাজধানী ঢাকাকে তিলোত্তমা, পরিচ্ছন্ন নগরী করা কিংবা সৌন্দর্যায়নের অনেক কথা অতীতে শোনা গেছে। পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে। কিছু কাজ যে করা হয়নি তাও নয়। কিন্তু সেসব অদূরদর্শী পরিকল্পনা এবং নির্মিত অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণে কর্তৃপক্ষীয় উদাসীনতার কারণে নগরবাসী তার সুফলপ্রাপ্তি থেকে বঞ্চিতই থেকে যাচ্ছে। বিষয়টি অবজ্ঞা করার মতো নয়। জনগুরুত্বসম্পন্ন এ বিষয়ে সরকারের ত্বরিত ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত।


সম্পাদকীয়

শেয়ার করুন-

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা