মো. মোয়াজ্জেম হোসেন বাদল
প্রকাশ : ১৭ জুন ২০২৬ ১২:২২ পিএম
আপডেট : ১৭ জুন ২০২৬ ১৪:৩১ পিএম
মো. মোয়াজ্জেম হোসেন বাদল। গ্রাফিক্স: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
১১ জুন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট জাতীয় সংসদে উপস্থাপন করেছেন।
‘গণতান্ত্রিক, মানবিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনীতির অভিযাত্রা’ শিরোনামে এই বাজেটের আকার ধরা হয়েছে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা। বাংলাদেশের ইতিহাসে এটি সবচেয়ে বড় অঙ্কের বাজেট। সরকারের লক্ষ্য দেশকে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে উন্নীত করা। নতুন সরকার ও নতুন অর্থমন্ত্রীর এই প্রথম বাজেটে রয়েছে দেশের বিধ্বস্ত অর্থনীতিকে টেনে তোলার পরিকল্পনা। অর্থনীতির জন্য এই কঠিন সময়ে বিনিয়োগ প্রসারের প্রচেষ্টা, সরকারি-বেসরকারি খাতে কর্মসংস্থান সৃষ্টির প্রতিশ্রুতি, জ্বালানি সংকট মোকাবিলার রোডম্যাপ, তরুণ ও নারী উদ্যোক্তাদের উৎসাহিত করার পদক্ষেপ, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সামাজিক সুরক্ষাসহ নানাবিধ আকাশছোঁয়া প্রত্যয় সামনে রেখে বাজেট কাঠামো প্রণয়ন করা হয়েছে। যদিও উচ্চ মূল্যস্ফীতি, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ সংকট, রাজস্ব ঘাটতি এবং ব্যাংকিং খাতের সংস্কার এই মুহূর্তে সরকারের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ। আমি অর্থনীতির ছাত্র নই। একজন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী হিসেবে বাজেট নিয়ে আমার পর্যবেক্ষণ তুলে ধরছি।

বাজেট পরবর্তী
এক সংবাদ সম্মেলনে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, ‘এ বাজেট সবার’। তার
ভাষ্য, তিনি যে বাজেট দিয়েছেন সেটি কোনো দলের নয়। দেশের কামার, কুমার কৃষকসহ সব শ্রেণি-পেশার
মানুষকে বাজেটের আওতায় আনা হয়েছে। প্রস্তাবিত বাজেট বাস্তবায়িত হলে সবাই এর সুফল পাবেন।
প্রস্তাবিত বাজেট ‘ঋণনির্ভর’- এমন প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেছেন, সরকারের লক্ষ্য
হচ্ছে ঋণ-নির্ভরতা থেকে ধীরে ধীরে সরে আসা। কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে হলে বিনিয়োগ-নির্ভর
অর্থনীতি গড়ে তুলতে হবে। তিনি বলেছেন, ঋণ-নির্ভর যে বাজেট কাঠামো আছে তা থেকে রাতারাতি
বের হওয়া যাবে না। তবে ঋণ যাতে কম নেওয়া যায় সেই নীতি শুরু করেছি এবং আগামীতে এই ধারা
অব্যাহত থাকবে। অর্থমন্ত্রীর এই ভাষ্য আশাপ্রদ এবং বাস্তবতা নিয়েই উচ্চারিত।
সেই দৃষ্টিকোণ থেকে এবারের
জাতীয় বাজেট একটি ভিন্ন বার্তা নিয়ে এসেছে। বলা যায়, দীর্ঘদিন পর বাজেটে রাজস্ব
আদায়ের চেয়ে সাধারণ মানুষের স্বস্তিকে বেশি গুরুত্ব দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে।
আরও গুরুত্বপূর্ণ হলোÑ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য, কৃষি উপকরণ এবং স্বাস্থ্যসেবার ওপর
কর ও শুল্ক কমিয়ে জনগণের ব্যয় কমানোর যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, তা নিঃসন্দেহে
প্রশংসার দাবিদার।
আসলে জাতীয় বাজেট
কেবল আয়-ব্যয়ের হিসাব নয়, এটি একটি দেশের অর্থনৈতিক দর্শন ও উন্নয়ন কৌশলের
প্রতিফলন। এই বাজেট এমন একসময় প্রণয়ন করা হয়েছে যখন সাধারণ মানুষ নিত্যপ্রয়োজনীয়
পণ্যের মূল্যবৃদ্ধিতে দিশাহারা এবং ব্যবসায়ীরা উচ্চ সুদহার ও জ্বালানি ব্যয়ের
কারণে নতুন বিনিয়োগে আগ্রহ হারাচ্ছেন। বাজেটের বড় প্রত্যাশা ছিল মূল্যস্ফীতি
নিয়ন্ত্রণ, উৎপাদন বৃদ্ধি এবং জনগণের জীবনযাত্রার ব্যয় কমানোর কার্যকর উদ্যোগ
নেওয়া। যে কারণে বাজেটে রাজস্ব আহরণের উচ্চসীমা লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। বাস্তবায়নে
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) ওপর বড় ধরনের রাজস্ব সংগ্রহের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
দুর্ভাগ্যজনক সত্য
হচ্ছে, অতীতে বাংলাদেশের অর্থনীতি নিয়ে নানা সাফল্যের গল্প বলা হতো। কিন্তু
বাস্তবে সে সময় দেশের নিম্ন ও মধ্যবিত্ত মানুষ নীরব অর্থনৈতিক যুদ্ধে জীবনযাপন
করেছে। বাজারে আগুন, চিকিৎসা ব্যয়ে লাগামহীন বৃদ্ধি, শিক্ষা খরচের চাপ এবং সীমিত
আয়ের বাস্তবতায় লাখো পরিবার তাদের স্বপ্ন, সঞ্চয় এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা বিসর্জন
দিতে বাধ্য হয়েছে। খরচের চাপ এবং সীমিত আয়ের বাস্তবতায় লাখো মধ্যবিত্ত পরিবার
ধীরে ধীরে নিম্ন-মধ্যবিত্ত কিংবা দরিদ্রতার ঝুঁকিতে পড়েছে। তবে স্বস্তির কথা বলব, প্রস্তাবিত
বাজেটে বিভিন্ন পণ্য ও সেবার ওপর শুল্ককর ছাড়ের প্রস্তাব করা হয়েছে। স্বস্তির কথা বলব, স্বাস্থ্য
ও কৃষি খাতে বরাদ্দ বাড়ার বিষয়েও। প্রথমবারের মতো এই দুটি খাতে বরাদ্দ যথাক্রমে জিডিপির
২ শতাংশ এবং ১ শতাংশে পৌঁছানোর কথা বলা হয়েছে। বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় ৪০%
মানুষ প্রত্যক্ষভাবে এবং প্রায় ৭০-৮০% মানুষ পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কৃষি
খাত বাংলাদেশের জাতীয় জিডিপিতে প্রায় ১১% অবদান রাখে। কৃষির ক্ষেত্রে
সারের ভর্তুকি, কৃষিঋণ এবং খাদ্যশস্য উৎপাদনে প্রণোদনা কৃষকের উৎপাদন ব্যয় কমাতে
সাহায্য করবে।
বর্তমানে দেশে বিভিন্ন ধরনের সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির আওতায় প্রায় এক কোটির বেশি মানুষ সুবিধা পাচ্ছেন। বাজেটে দরিদ্র মানুষের জন্য ইতিবাচক দিক হচ্ছে, সামাজিক সুরক্ষা খাতে বরাদ্দ বাড়ানো হয়েছে, যা বাজেটের সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ রাজনৈতিক ও সামাজিক বার্তাগুলোর একটি। এ খাতে ব্যয় প্রায় ১৪ শতাংশ বাড়িয়ে প্রায় ১ লাখ ৪৫ হাজার কোটি টাকায় উন্নীত করার প্রস্তাব করা হয়েছে। কয়েক বছর ধরে উচ্চ মূল্যস্ফীতির চাপ সামলানো নিম্ন ও মধ্যবিত্ত মানুষের জন্য এসব প্রস্তাব অতীব গুরুত্বপূর্ণ ও সময়োপযোগী বলা যায়।
একজন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী হিসেবে বলব, করনীতিতে স্থিতিশীলতার বার্তাও
ইতিবাচক দিকগুলোর একটি। আগামী পাঁচ বছর করহার অপরিবর্তিত রাখার উদ্যোগটি
ব্যবসায়ীদের দীর্ঘদিনের দাবির প্রতিফলন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বিনিয়োগকারীরা
সাধারণত দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার জন্য নীতিগত পূর্বানুমানযোগ্যতা প্রত্যাশা করেন।
সেই দৃষ্টিকোণ থেকে এ পদক্ষেপ বিনিয়োগ পরিবেশে আস্থা বাড়াতে সহায়ক হতে পারে। একই
সঙ্গে বিনিয়োগ-সংক্রান্ত সেবাগুলোকে একক কাঠামোর আওতায় আনার উদ্যোগও গুরুত্বপূর্ণ
হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে জটিল প্রশাসনিক প্রক্রিয়া বিদেশি বিনিয়োগের
ক্ষেত্রে অন্যতম বড় প্রতিবন্ধকতা হিসেবে চিহ্নিত ছিল। নতুন এই উদ্যোগ সেই বাধা
কিছুটা হলেও কমাতে পারে বলে আশা করা যায়।
এ ছাড়া ব্যাংকঋণের বিকল্প হিসেবে করপোরেট বন্ড, মিউচুয়াল ফান্ড, গ্রিন
বন্ড এবং সুকুকের মতো অর্থায়ন ব্যবস্থাকে উৎসাহ দেওয়ার পরিকল্পনাও বাজেটের একটি
উল্লেখযোগ্য দিক। বাংলাদেশের বিনিয়োগ কাঠামো দীর্ঘদিন ধরে ব্যাংক-নির্ভর হওয়ায়
বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ সংকুচিত হয়েছে, যার প্রভাব ইতোমধ্যে বেসরকারি ঋণ
প্রবৃদ্ধিতে দেখা গেছে। তাই পুঁজিবাজারভিত্তিক অর্থায়ন সম্প্রসারণকে অর্থনীতির
জন্য দীর্ঘমেয়াদে ইতিবাচক উদ্যোগ হিসেবে গণ্য করা যায়। ব্যাংক খাতের সংস্কার নিয়েও
একই ধরনের প্রশ্ন রয়েছে। বাজেটে কিছু সংস্কার উদ্যোগের উল্লেখ থাকলেও ব্যাংকিং
খাতে চলমান অস্থিরতা সেই উদ্যোগের বিশ্বাসযোগ্যতাকে দুর্বল করে দিতে পারে।
এবার আলোচনার দৃষ্টি
একটু ভিন্ন আলোকে। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটের আকার ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা।
বিপরীতে ঘাটতির পরিমাণ প্রায় ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা, যা মোট দেশজ উৎপাদনের
(জিডিপি) প্রায় ৩.৬ শতাংশ। যে কারণে বাজেটের বড় চ্যালেঞ্জ হলো বিশাল ঘাটতি। অর্থনীতির
ভাষায় বাজেট ঘাটতি বলতে বোঝায় সরকারের মোট ব্যয় যখন মোট আয়ের চেয়ে বেশি হয়।
বাস্তবতা হচ্ছে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেশে রাজস্ব আহরণ কাঙ্ক্ষিত হারে বাড়েনি।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) বারবার লক্ষ্যমাত্রা পূরণে ব্যর্থ হয়েছে। অন্যদিকে
সরকারি ব্যয়, বিশেষ করে ঋণের সুদ পরিশোধ, ভর্তুকি এবং উন্নয়ন প্রকল্পের খরচ
ক্রমাগত বেড়েছে। ঘাটতি পূরণে সরকারকে অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক ঋণের ওপর নির্ভর করতে
হবে। অভ্যন্তরীণ ঋণ, বিশেষ করে ব্যাংকব্যবস্থা থেকে অতিরিক্ত ঋণগ্রহণ বেসরকারি
খাতের জন্য ঋণপ্রাপ্তি সংকুচিত করতে পারে। এতে শিল্প ও ব্যবসায় বিনিয়োগ আরও কমে
যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। অন্যদিকে বৈদেশিক ঋণগ্রহণের ক্ষেত্রেও বৈশ্বিক সুদের হার এবং
ঋণের শর্ত কঠোর হওয়ায় চাপ বাড়ছে।
বাজেটের সবচেয়ে বড়
চ্যালেঞ্জ মূল্যস্ফীতি। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, গত দুই বছরে
খাদ্য মূল্যস্ফীতি একাধিকবার ১০ শতাংশের ওপরে উঠেছে। তাই দরিদ্র মানুষের জন্য
সবচেয়ে বড় সহায়তা হলো বাজার নিয়ন্ত্রণ এবং মূল্যস্ফীতি কমানো। যদি বাজেট
মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ভূমিকা রাখতে না পারে, বাড়তি ভাতা বা সহায়তার সুফল
অনেকাংশে হারিয়ে যাবে। দীর্ঘ সময় ধরে খাদ্য মূল্যস্ফীতি সাধারণ মানুষের জীবনকে
দুর্বিষহ করে তুলেছে। বাজেটে কৃষি, খাদ্য উৎপাদন এবং সরবরাহ ব্যবস্থার উন্নয়নের
কথা বলা হলেও বাজার ব্যবস্থাপনায় দুর্বলতা, সিন্ডিকেট এবং মজুদদারির বিরুদ্ধে
কার্যকর পদক্ষেপ ছাড়া মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়।
বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধির বিষয়টিও বাজেটের কেন্দ্রবিন্দু হওয়া উচিত ছিল। বাংলাদেশে প্রতিবছর বিপুলসংখ্যক তরুণ শ্রমবাজারে প্রবেশ করছে। কিন্তু কাঙ্ক্ষিত হারে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হচ্ছে না। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের পর সারা দেশে বহু কলকারখানা, শিল্পপ্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বেশিরভাগই এখনও চালু হয়নি। বাজেটে এই ব্যাপারে কোনো স্পষ্ট নির্দেশনা নেই। আমি মনে করি, শিল্পায়ন, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের সহায়তা, প্রযুক্তিনির্ভর উদ্যোগ এবং রপ্তানি বহুমুখীকরণের মাধ্যমে কর্মসংস্থান বাড়ানোর বিকল্প নেই। ব্যাংকিং খাতের সংস্কারও বাজেট বাস্তবায়নের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। খেলাপি ঋণের উচ্চ হার এবং সুশাসনের অভাব অর্থনীতির জন্য বড় ঝুঁকি। আর্থিক খাত শক্তিশালী না হলে বিনিয়োগ বাড়বে না, ব্যবসায়িক আস্থা ফিরবে না এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিও টেকসই হবে না।
ব্যবসায়ীদের দীর্ঘদিনের অন্যতম প্রধান উদ্বেগ জ্বালানি সংকটের বিষয়টি বাজেটে প্রায় অনুপস্থিত। শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো বারবার বলে আসছে, নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ ছাড়া নতুন বিনিয়োগের পরিবেশ তৈরি করা সম্ভব নয়। কিন্তু গ্যাস সংযোগের অপেক্ষায় থাকা শিল্পপ্রতিষ্ঠান কিংবা ঝুলে থাকা আবেদনগুলোর নিষ্পত্তির বিষয়ে বাজেটে কোনো নির্দিষ্ট রূপরেখা নেই। ফলে বিনিয়োগ আকর্ষণের উচ্চাভিলাষী লক্ষ্য বাস্তবায়ন কতটা সম্ভব হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। তবে নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে কিছু ইতিবাচক সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছে। সৌর প্যানেল, ব্যাটারি ও সংশ্লিষ্ট যন্ত্রপাতির ওপর শুল্ক ও কর ছাড়ের প্রস্তাবকে এ খাতের জন্য সম্ভাবনাময় পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এতে সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের খরচ কমে আসতে পারে এবং শিল্প ও গ্রামীণ পর্যায়ে সৌরশক্তির ব্যবহার বাড়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে।
আমি বিশ্বাস করি, বাজেট
একটি দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন, সামাজিক অগ্রগতি এবং জনকল্যাণের রূপরেখা। প্রতিবছর
বাজেট ঘোষণার পর এর আকার, বরাদ্দ এবং বিভিন্ন খাতের সুবিধা-অসুবিধা নিয়ে ব্যাপক
আলোচনা হয়। কিন্তু বাংলাদেশের বাস্তবতায় একটি বিষয় বারবার সামনে আসেÑ বাজেট যত বড়ই
হোক, এর সফলতা নির্ভর করে বাস্তবায়নের ওপর। মানতেই হবে, দুই লাখ ৪৩ হাজার কোটি
টাকার ঘাটতি বাজেট নিঃসন্দেহে উচ্চাভিলাষী। উন্নয়ন অব্যাহত রাখা, অবকাঠামো নির্মাণ
এবং সামাজিক নিরাপত্তা সম্প্রসারণের জন্য বড় বাজেট অবশ্যই প্রয়োজন। কিন্তু বড়
বাজেটই দরিদ্র মানুষের জীবনমান উন্নয়নের নিশ্চয়তা দেয় না। দরিদ্র মানুষের প্রধান
সমস্যা হলো উচ্চ মূল্যস্ফীতি, কর্মসংস্থানের সংকট এবং আয়-বৈষম্য। বাজেট যদি এসব
সমস্যার কার্যকর সমাধান দিতে পারে, তাহলে এই ঘাটতি বাজেটকে সফল বলা যাবে। অন্যথায়
বড় অঙ্কের বরাদ্দ এবং উন্নয়ন পরিকল্পনার গল্প কাগজে-কলমেই সীমাবদ্ধ থাকবে।
আমি এটাও বিশ্বাস করি, বাজেটকে বাস্তবায়ন করতে হলে রাজনৈতিক সদিচ্ছা, প্রশাসনিক দক্ষতা এবং অর্থনৈতিক সুশাসনের সমন্বয় ঘটাতে হবে। জনগণের প্রত্যাশা একটাইÑ বাজেট যেন কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ না থেকে তাদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে বাস্তব পরিবর্তন এনে দেয়। আমি চাই, নতুন সরকারের প্রথম বাজেটে জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার বাস্তব প্রতিফলন ঘটুক, যা সরকারের প্রতি আস্থা আরও সুদৃঢ় করবে।
লেখক: মো. মোয়াজ্জেম হোসেন বাদল (কলাম লেখক ও শিল্পোদ্যোক্তা)