× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ জাতীয় রাজনীতি সারা দেশ আন্তর্জাতিক অর্থনীতি খেলা বিনোদন মতামত চাকরি-ক্যারিয়ার শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

ষড়যন্ত্রের রাজনীতি, রাজনীতির ষড়যন্ত্র

মহিউদ্দিন খান মোহন

প্রকাশ : ২ ঘণ্টা আগে

আপডেট : ২ ঘণ্টা আগে

মহিউদ্দিন খান মোহন। গ্রাফিক্স: প্রতিদিনের বাংলাদেশ

মহিউদ্দিন খান মোহন। গ্রাফিক্স: প্রতিদিনের বাংলাদেশ

একটি কথা ইদানীং বেশ প্রচলিত হয়েছেÑ ‘পৃথিবীর সবচেয়ে পুরনো যন্ত্রের নাম ‘ষড়যন্ত্র’।

এ যন্ত্র চালাতে তেল-গ্যাস লাগে না, বিদ্যুতেরও প্রয়োজন হয় না। লাগে না কোনো টেকনিশিয়ান বা ড্রাইভার। মগজ-মননে এর সৃষ্টি, সেখান থেকেই এ যন্ত্র পরিচালিত হয়। এ যন্ত্রটির আঘাতে অনেকেই ধরাশায়ী হন। আবার এ যন্ত্রের সদ্ব্যবহার করে কেউ কেউ উঠে যান ওপরের দিকে। তবে সে ওপরে ওঠা সাধারণত বেশিক্ষণ বা বেশিদিন স্থায়ী হয় না। অনুরূপ আরেকটি যন্ত্রের কবলে পড়ে ওপরে উঠে যাওয়া ব্যক্তি পপাত ধরণীতল হন। এটাই প্রকৃতির বিধান। 

ষড়যন্ত্র নামের এ ক্রিয়াটির বিস্তৃতি ব্যাপক। পরিবার থেকে সমাজ, সমাজ থেকে রাষ্ট্র, সর্বোপরি রাজনীতি, সর্বত্র এর অধিপত্য লক্ষণীয়। রাজনীতি আর ষড়যন্ত্রের অবস্থান অনেকটাই পাশাপাশি। বলা যায়, একটি যেখানে উপস্থিত, অপরটির উপস্থিতি সেখানে অবধারিত। তবে সব সময় এমনটি ঘটবে তা নয়। রাজনীতির স্বাভাবিক পথ রুদ্ধ হলে ষড়যন্ত্রের অঙ্কুরোদগম ঘটে। আবার রাজনীতির মানুষদের মধ্যে ক্ষমতা লাভের অপরিণামদর্শী লোভও ষড়যন্ত্রের বীজ উপ্ত করে। রাষ্ট্রক্ষমতা কিংবা দলের নেতৃত্ব করায়ত্ত করতে বা ধরে রাখতে কেউ কেউ স্বাভাবিক পথে না গিয়ে বাঁকা পথে হাঁটেন। সে পথ তাদেরকে টেনে নেয় ষড়যন্ত্রের মঞ্জিলে। তবে ষড়যন্ত্র নামের যন্ত্রটি ভয়ংকরও বটে। যদি তা লক্ষ্য ভেদ করতে না পারে, তাহলে ব্যবহারকারীর জন্য তা বুমেরাং হয়।

রাজনৈতিক জগতে যুগে যুগে ষড়যন্ত্র হয়েছে। বলা যায়, ষড়যন্ত্র রাজনীতিরই অংশ। তবে নেতিবাচক অর্থে। রাজনৈতিক কূটনীতি গ্রহণীয় হলেও ষড়যন্ত্রকে কেউ সমর্থন করে না। একটি ষড়যন্ত্র আরেকটি ষড়যন্ত্রের জন্ম দেয়। বাংলার শেষ স্বাধীন নবাব সিরাজ-উদ-দৌলার বিরুদ্ধে তার প্রধান সেনাপতি মীর জাফর আলী খাঁ এবং আমাত্যবর্গ যে ষড়যন্ত্র করেছিল, পৃথিবীর ইতিহাসে তা কলঙ্কজনক অধ্যায় হিসেবেই লিপিবদ্ধ রয়েছে। বস্তুত ১৭৫৭ সালের ২৩ জুন পলাশির আম্রকাননের যুদ্ধ ছিল ইংরেজ বণিক গোষ্ঠী ও মীরজাফর গংয়ের ষড়যন্ত্র বাস্তবায়ন নাটকের মঞ্চায়ন মাত্র। নবাবের সরলতা কিংবা দুর্বলতার কারণেই ইংরেজ বেনিয়ারা ষড়যন্ত্রকারীদের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে নিজেদের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে পেরেছিল। ফলে অবনমিত হয়েছিল বাংলা, বিহার, উড়িষ্যার স্বাধীনতার পতাকা।

আমাদের দেশের ইতিহাসের সঙ্গে ওতপ্রোতোভাবে জড়িয়ে আছ একটি ষড়যন্ত্রের কথা। সেটা ঐতিহাসিক ‘আগরতলা ষড়যন্ত্র’ নামে পরিচিত। পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী সেটাকে দেশবিরোধী আখ্যা দিয়ে তার সঙ্গে জড়িতদের বিচার ও শাস্তির পদক্ষেপ নিয়েছিল। একটি ঘটনা বা কাজ দু’ভাবে মূল্যায়িত হতে পারে। যে বা যারা সে কাজটির বেনিফিশিয়ারি হন বা হতে পারেন, তারা সেটাকে দেখেন ইতিবাচক কাজ হিসেবে। আর যাদের সে কাজের দ্বারা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে, তারা নেতিবাচক দৃষ্টিতেই দেখেন সেটাকে। পাকিস্তানি শাসকরা যেটাকে ‘আগড়তলা ষড়যন্ত্র’ বলে আখ্যায়িত করেছিল, সেটা ছিল আসলে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানকে স্বাধীন করার একটি উদ্যোগ। এর মূল নেতৃত্বে ছিলেন পাকিস্তান নৌ-বাহিনীর কর্মকর্তা লে. কমান্ডার মোয়াজ্জেম হোসেন; যিনি মুক্তিযুদ্ধের শুরুতেই ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে পাকিস্তানি বাহিনীর হাতে নিহত হন। তার সঙ্গী ছিলেন বিমানবাহিনীর সার্জেন্ট জহুরুল হক, সিএসপি রুহুল কুদ্দুস, স্টুয়ার্ট মুজিবর রহমান, নৌসেনা নূর মোহাম্মদ (ক্যাপ্টেন বাবুল)সহ ৩৫ জন। পূর্ব বাংলাকে পাকিস্তানি শাসন থেকে মুক্ত করে স্বাধীন-সার্বভৌম রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা তারা নিয়েছিলেন স্বদেশের মাটিতে বসেই। গোপন সে পরিকল্পনা যখন ফাঁস হলো, সরকার উদ্যোগ নিল জড়িতদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলার। সে সময় পূর্ব পাকিস্তানের রাজনৈতিক অঙ্গনে আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ মুজিবুর রহমান অপ্রতিদ্বন্দ্বী নেতা এবং ক্ষমতাসীন সরকারপ্রধান প্রেসিডেন্ট আইয়ুব খানের সামনে দুর্লঙ্ঘ বাধা। প্রেসিডেন্ট আইয়ুব খান অনেক দিন ধরেই শেখ মুজিবকে নিশ্চিহ্ন করে দেওয়ার মওকা খুঁজছিলেন। আগরতলা মামলা তার সামনে সে সুযোগ এনে দেয়। প্রথমে মামলাটি ছিল ‘রাষ্ট্র বনাম লে. কমান্ডার মোয়াজ্জেম হোসেন’ নামে। পরে তাতে শেখ মুজিবকে এক নম্বর আসামি করে নাম দেওয়া হয় ‘রাষ্ট্র বনাম শেখ মুজিব’ মামলা। আইয়ুব খানের পরিকল্পনা ছিল এই মামলার মাধ্যমে শেখ মুজিবকে জনগণের সামনে দেশদ্রোহী হিসেবে প্রতিপন্ন করে তাকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে চিরতরে সরিয়ে দেওয়া।

তবে আগরতলা পরিকল্পনার সঙ্গে শেখ মুজিবের যে একেবারে যোগাযোগ ছিল না তা নয়। লে. কমান্ডার মোয়াজ্জেম হোসেন ও তার অনুসারীরা ভেবে দেখলেন তাদের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্য একজন নেতা দরকার। সে সময় মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী ছিলেন সবচেয়ে প্রবীণ, সাহসী ও সর্বজন গ্রহণযোগ্য নেতা। তারা তার সঙ্গে যোগাযোগ করলেন। সব শুনে তিনি বললেন, তোমাদের পরিকল্পনাকে আমি সমর্থন করি। তবে এ কঠিন কাজে সরাসরি নেতৃত্ব দেওয়ার বয়স এবং শক্তি এখন আমার নেই। তোমাদের নেতৃত্ব দিতে পারেন একজনইÑ শেখ মজিবর। তোমরা তার কাছে যাও। মওলানার নির্দেশ মতো গ্রুপটি শেখ মুজিবুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করে। পরে তার সঙ্গে তাদের প্রথম বৈঠক হয় পশ্চিম পাকিস্তানের করাচিতে হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর মেয়ে আখতার সোলায়মানের বাসভবনে। শেখ মুজিব সহজেই এ বিদ্রোহে নেতৃত্ব দিতে রাজি হন। এরপর বিদ্রোহী গ্রুপটি এই দুরূহ কাজে প্রতিবেশী ভারতের সহযোগিতা লাভের চেষ্টা করে। এ লক্ষ্যে তাদের একজন প্রতিনিধিকে ত্রিপুরার রাজধানী আগরতলায় প্রেরণ করা হয়। এই প্রতিনিধি ছিলেন স্টুয়ার্ট মুজিবুর রহমান। তিনি আগরতলায় গিয়ে প্রায় পনেরো দিন অবস্থান করে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেন। কিন্তু অনুকূল সাড়া না পেয়ে দেশে প্রত্যাবর্তন করেন। কেউ কেউ স্টুয়ার্ট মুজিবের জায়গায় শেখ মুজিব সেখানে গিয়েছিলেন বলে উল্লেখ করে থাকেন। কিন্তু পূর্ব পাকিস্তানের তৎকালীন রাজনৈতিক পরিবেশ ও সরকারের গোয়েন্দা সংস্থার শ্যেনদৃষ্টি এড়িয়ে শেখ মুজিবের মতো জনপরিচিত নেতার প্রতিবেশী দেশে গিয়ে কয়েক দিন অবস্থান বাস্তবতার সঙ্গে মেলে না। তবে শেখ মুজিব একদিন সকালে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া সীমান্ত দিয়ে ওপারে গিয়ে সেদিন সন্ধ্যায়ই ফেরত এসেছিলেন বলে কেউ কেউ উল্লেখ করেছেন। আগরতলা পরিকল্পনার সঙ্গে শেখ মুজিবুর রহমানের সংযোগ বা সম্পৃক্তি এতটুকুই। সে মামলার ৫ নম্বর আসামি ছিলেন নৌ-সেনা নূর মোহাম্মদ বাবুল। ২০২৩ সালের ১২ আগস্ট তার সঙ্গে আমার সাক্ষাৎ ঘটেছিল। আমি তার একটি সাক্ষাৎকার নিয়েছিলাম। তার ওপর ভিত্তি করে একটি নিবন্ধ লিখেছিলাম, যা বাংলাদেশ প্রতিদিন-এ ২৩ আগস্ট (২০২৩) তারিখে প্রকাশিত হয়। এসব তথ্যের অনেকটাই তার কাছ থেকে পাওয়া। বস্তুত পরিকল্পনাটিকে পাকিস্তান ভাঙার ষড়যন্ত্র এবং তার রূপকার হিসেবে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের জনপ্রিয় নেতা শেখ মুজিবকে জনগণের কাছে ভিলেন হিসেবে উপস্থাপনের অভিপ্রায়ে আইয়ুব খান তাকে মামলার প্রধান আসামি হিসেবে অভিযুক্ত করেন। তবে তার ফল হয় উল্টো। মামলাটি শেষ পর্যন্ত আইয়ুব খানের পতন ডেকে আনে, আর শেখ মুজিবুর রহমানকে পরিণত করে বাংলাদেশ তথা তদানীন্তন পূর্ব পাকিস্তানের অবিসংবাদিত নেতায়।

স্বাধীন বাংলাদেশেও রাজনীতিকে ঘিরে ষড়যন্ত্র থেমে থাকেনি। তেমনি ষড়যন্ত্রের যূপকাষ্ঠে বলি হন বাংলাদেশের স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও স্বাধীনতার ঘোষক জিয়াউর রহমান। বঙ্গবন্ধু হত্যার পর তারই ঘনিষ্ঠ বন্ধু ও কেবিনেট কলিগ খন্দকার মোশতাক আহমদ ক্ষমতায় বসেন। মনে করা হয়, শেখ মুজিব হত্যার ষড়যন্ত্রের মূল হোতা খন্দকার মোশতাক। তবে তা নিশ্চিত নয়। অবশ্য পরবর্তী সময়ে মুজিবকন্যা শেখ হাসিনা ক্ষমতাসীন হয়ে পিতার হত্যাকারীদের কয়েকজনকে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত করলেও হত্যাকাণ্ডের ষড়যন্ত্র পরিষ্কার হয়নি। অন্যদিকে ১৯৮১ সালের ৩০ মে সেনাবাহিনীর কতিপয় বিপথগামী সদস্যের হাতে নিহত হন প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান। এই হত্যাকাণ্ডের পেছনেও ছিল এক সুগভীর ষড়যন্ত্র। জেনারেল এম এ মঞ্জুর হত্যাকাণ্ডে নেতৃত্ব দিলেও কারা এ ষড়যন্ত্রের সঙ্গে জড়িত ছিল তা আজও উদঘাটন সম্ভব হয়নি। বস্তুত ক্ষুব্ধ সৈনিকদের হাতে জেনারেল মঞ্জুর নিহত হওয়ায় জিয়া হত্যা রহস্য অনপনেয় এক মোটা পর্দার আড়ালে ঢাকা পড়ে যায়। অনেকের মতে, জিয়া হত্যার মূল ষড়যন্তকারীদের নির্দেশেই জেনারেল মঞ্জুরকে হত্যা করা হয়; যাতে ষড়যন্ত্রের স্বরূপ ও এর অনুঘটকদের পরিচয় অনুদঘাটিত থেকে যায়।

সমকালীন রাজনীতিতে ষড়যন্ত্র শব্দটি ব্যবহার হচ্ছে এক ধরনের মলম হিসেবে। একসময় আমাদের দেশে ‘আশ্চর্য মলম’ নামে এক প্রকার মলম পাওয়া যেত; ব্যথা উপশমে যা ধন্বন্তরির ন্যায় কাজ করত। এখন ষড়যন্ত্র তত্ত্বও সরকারের ব্যর্থতা ধামাচাপা দেওয়ার কাজে ব্যবহার হতে দেখা যায়। বিগত লীগ সরকারের আমলজুড়ে এই ষড়যন্ত্র তত্ত্বের বহুল ব্যবহার দেখা গেছে। আওয়ামী লীগ এখন ক্ষমতায় নেই। রাজনীতিতেও তারা অনুপস্থিত। তবে ষড়যন্ত্র তত্ত্ব মরে যায়নি। এখনও তার ব্যবহার চলছে। গত ৫ জুন বিএনপি মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘দেশে রাজনীতি ধ্বংসের ষড়যন্ত্র হচ্ছে।’ বিএনপি মহাসচিব যেহেতু সে ষড়যন্ত্রের বিশদ ব্যাখ্যা দেননি, তাই এক ধরনের কুজ্ঝটিকা তৈরি হয়েছে তার বক্তব্য ঘিরে।

এমনিতেই ষড়যন্ত্র কথাটি শুনলেই এদেশের মানুষের অন্তরাত্মা কেঁপে ওঠে। আর তা যদি হয় রাজনীতি ধ্বংস করার, তাহলে উদ্বেগ বেড়ে যায় কয়েকগুণ। কেননা, রাজনীতি ধ্বংস হলে আমাদের জাতীয় অস্তিত্বই বিলুপ্ত হওয়ার আশঙ্কা সৃষ্টি হয়। আওয়ামী আমলে এই ‘ষড়যন্ত্র’ তত্ত্ব দিয়ে বহু অঘটন ঘটানো হয়েছে। দেশবাসী চায় না সে রাজনৈতিক অপসংস্কৃতির পুনরুত্থান ঘটুক। কারণ এদেশের জনগণ যে ঘরপোড়া গরু! সিঁদুরে মেঘ দেখলেই তাদের অন্তরাত্মা দুরু দুরু করে!

 

মহিউদ্দিন খান মোহন

সহকারী সম্পাদক, প্রতিদিনের বাংলাদেশ

শেয়ার করুন-

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা