× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ জাতীয় রাজনীতি সারা দেশ আন্তর্জাতিক অর্থনীতি খেলা বিনোদন মতামত চাকরি-ক্যারিয়ার শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

কাপ্তাই হ্রদ যেন মরে না যায়

সম্পাদকীয়

প্রকাশ : ৩ ঘণ্টা আগে

আপডেট : ৩ ঘণ্টা আগে

কাপ্তাই হ্রদ। ফাইল ছবি

কাপ্তাই হ্রদ। ফাইল ছবি

দেশের একমাত্র জলবিদ্যুৎ উৎপাদনকেন্দ্র রাঙামাটির কাপ্তাই হ্রদ এখন পানিশূন্যতায় ভুগছে।

সাম্প্রতিক সময়ে হ্রদটির পানির স্তর আশঙ্কাজনকভাবে কমতে থাকায় বিদ্যুৎ উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। জানা গেছে, তীব্র দাবদাহ এবং পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত না হওয়ায় ক্রমাগত কমছে পানি। পানি স্বল্পতায় ইতোমধ্যে বিদ্যুৎ উৎপাদনের পাঁচটি ইউনিটের তিনটিই বন্ধ হয়ে গেছে। কেবল বিদ্যুৎ উৎপাদনই নয়, পার্বত্য অঞ্চলের জনজীবন, কৃষি, মৎস্যসম্পদ এবং স্থানীয় অর্থনীতিও হুমকির মুখে পড়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, হ্রদে পর্যাপ্ত পানি থাকলে সব কয়টি ইউনিট চালু রেখে সর্বোচ্চ ২৪০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব হয়। বর্তমানে চালু থাকা দুটি ইউনিট থেকে ৫৮ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব হচ্ছে। বলা হচ্ছে, পানির স্তর আরও কমে গেলে বিদ্যুৎ উৎপাদন পরিস্থিতি সংকটাপন্ন হয়ে পড়তে পারে। অর্থাৎ শিগগির ভারী বৃষ্টিপাত না হলে বা বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়া না হলে সবগুলো ইউনিটে বিদ্যুৎ উৎপাদন বন্ধ হয়ে যেতে পারে। এটি নিছক মৌসুমি সংকট নয়Ñ জলবায়ু পরিবর্তন, অপরিকল্পিত ব্যবস্থাপনা এবং দীর্ঘদিনের অবহেলার কুফল।

গতকাল প্রতিদিনের বাংলাদেশ-এ প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কাপ্তাই হ্রদের সর্বোচ্চ পানি ধারণক্ষমতা ১০৯ এমএসএল। বিপজ্জনক সীমা হিসেবে ধরা হয় ৬৮ এমএসএল নেমে এলে। পানির স্তর এই পর্যায়ে থাকলে বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়ে যায়। কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্র (কপাবিক)-এর ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মাহমুদ হাসান গণমাধ্যমকে বলেছেন, শুষ্ক মৌসুমে হ্রদের পানির স্তর ক্রমাগত কমছে। চলতি সপ্তাহে কিছু বৃষ্টিপাত হলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। তিনি জানান, রুল কার্ভ অনুযায়ী পানির স্তর ৭৮ দশমিক ৩৪ ফুট মিন সি লেভেলে থাকার কথা থাকলেও গত বুধবার সকাল ৯টা পর্যন্ত তা ছিল ৭৩ দশমিক ৯১ ফুট মিন সি লেভেল। অর্থাৎ পানির স্তর ৪ দশমিক ৪৩ ফুট কম রয়েছে। স্থানীয়রা বলছেন, হ্রদের পানির স্তর কমে যাওয়ায় শুধু বিদ্যুৎ উৎপাদনই নয়, হ্রদনির্ভর মানুষের জীবন-জীবিকাও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। পাশাপাশি ব্যবসা-বাণিজ্যেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

উল্লেখ্য, জলবিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যে ১৯৬০ সালে কাপ্তাই বাঁধ নির্মিত হয়। এই বাঁধকে কেন্দ্র করেই দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সর্ববৃহৎ কৃত্রিম জলরাশি কাপ্তাই হ্রদের সৃষ্টি। এই হ্রদকেন্দ্রিক জলবিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রের পাশাপাশি রাঙামাটি জেলায় গড়ে ওঠে নৌ-যোগাযোগ ব্যবস্থা, মৎস্য উৎপাদন, চাষাবাদ, পর্যটন শিল্পের উন্নয়নসহ নানান সুবিধা। কিন্তু বাঁধটি নির্মাণের পর, এ পর্যন্ত হ্রদের নাব্য রক্ষায় খনন করা হয়নি তলদেশ। ফলে একদিকে সৃষ্টি হয়েছে হ্রদের নাব্য সংকট, পাশাপাশি প্রতিবছর শুষ্ক মৌসুমে হ্রদজুড়ে জেগে ওঠে অসংখ্য ডুবোচর আর মাঠ। পানি কমে যাওয়ায় জেলা সদরের সঙ্গে নানিয়ারচর, বিলাইছড়ি, বরকল, জুরাছড়ি, লংগদু ও বাঘাইছড়ি উপজেলার নৌ-যোগাযোগ এখন অনেকটা বিচ্ছিন্ন। পানি শুকিয়ে গন্তব্য থেকে পথ সরে এসেছে ২০-৩০ কিলোমিটার নিচে। 

কাপ্তাই হ্রদে পানির সংকট দেখা দিলে প্রথম আঘাত আসে বিদ্যুৎ খাতে। তারপর অন্যান্য ক্ষেত্রেও। এই হ্রদকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা হাজারো জেলের জীবিকা মাছের উৎপাদনের ওপর নির্ভরশীল। পানির স্তর কমে গেলে মাছের প্রজনন ব্যাহত হয়, উৎপাদন হ্রাস পায় এবং জীববৈচিত্র্যের ব্যাপক ক্ষতি হয়। একই সঙ্গে হ্রদসংলগ্ন এলাকার কৃষিকাজেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। সেচের পানির সংকটে কৃষকরা ক্ষতির মুখে পড়েন। নৌপথে যোগাযোগ এবং পর্যটন শিল্পও ক্ষতিগ্রস্ত হয়, যা স্থানীয় অর্থনীতিকে আরও দুর্বল করে তোলে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনিয়মিত বৃষ্টিপাত, দীর্ঘস্থায়ী খরা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে কাপ্তাই হ্রদের পানি ধারণক্ষমতা ও পুনর্ভরণ প্রক্রিয়া যেমন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে তেমনি পাহাড় কাটা, বন উজাড় এবং জলাধার ব্যবস্থাপনায় সমন্বয়ের অভাব পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে। হ্রদে পলি জমে ধারণক্ষমতা কমে যাওয়ার বিষয়টিও দীর্ঘদিন ধরে উপেক্ষিত। অবস্থা এমন দাঁড়িয়েছে যে, অর্থনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ ও ঐতিহ্যবাহী এই জলাধারটির প্রাণহানির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এখনই প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপ না নিলে এর মৃত্যু অবধারিত হয়ে উঠতে পারে।

জনগুরুত্বপূর্ণ এই সংকট মোকাবিলায় সরকারকে স্বল্পমেয়াদি ও দীর্ঘমেয়াদি উভয় ধরনের পদক্ষেপ নিতে হবে। হ্রদের পানি ব্যবস্থাপনায় আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, পলি অপসারণ, জলাধার সংরক্ষণ এবং আশপাশের বনাঞ্চল রক্ষায় কার্যকর উদ্যোগ জরুরি। একই সঙ্গে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় সমন্বিত পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে। কাপ্তাই জলবিদ্যুৎকেন্দ্রের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কমিয়ে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহারও বাড়াতে হবে।

কাপ্তাই হ্রদের পানি সংকট কেবল একটি অঞ্চলের সমস্যা নয়; এটি জাতীয় জ্বালানি নিরাপত্তা ও পরিবেশগত স্থিতিশীলতার প্রশ্ন। এখনই কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে ভবিষ্যতে এ সংকট আরও গভীর হবে এবং এর মূল্য দিতে হবে পুরো দেশকে। কাপ্তাই হ্রদকে রক্ষার মাধ্যমে দেশের বিদ্যুৎব্যবস্থা, প্রাকৃতিক পরিবেশ ও মানুষের জীবন-জীবিকাকে রক্ষার সমন্বিত উদ্যোগ এখনই নেওয়া জরুরি। এ বিষয়ে সরকারের ত্বরিত পদক্ষেপ কাম্য। 


সম্পাদকীয়

শেয়ার করুন-

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা