× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ জাতীয় রাজনীতি সারা দেশ আন্তর্জাতিক অর্থনীতি খেলা বিনোদন মতামত চাকরি-ক্যারিয়ার শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

প্রধানমন্ত্রীর যুক্তিসঙ্গত ক্ষোভ

সম্পাদকীয়

প্রকাশ : ৩ ঘণ্টা আগে

আপডেট : ১ ঘণ্টা আগে

খুলনা শিপইয়ার্ডের সড়ক প্রশস্তকর

খুলনা শিপইয়ার্ডের সড়ক প্রশস্তকর

আমাদের দেশে সরকারি নির্মাণ বা উন্নয়ন কাজ নির্দিষ্ট সময়ে শেষ করতে না পারা অনেক পুরনো রোগ।

বলা যায়, এটা আমাদের জাতীয় অপসংস্কৃতিতে পরিণত হয়েছে। কোনো সরকারি প্রকল্পের মেয়াদ বৃদ্ধির পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় এর ব্যয়ও বহুলাংশে বৃদ্ধি পায়। প্রকল্পটি ঢুকে পড়ে অপচয়, দুর্নীতি ও অনিয়মের চক্করে। এমনও দেখা গেছে, একটি নির্মাণ বা উন্নয়ন প্রকল্পের মেয়াদ তিন থেকে পাঁচ বছর পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। এর ফলে প্রকল্পের প্রাক্কলিত ব্যয় যা নির্ধারণ করা হয়, কাজ শেষে তা গিয়ে দাঁড়ায় দ্বিগুণ-তিনগুণ। এভাবে রাষ্ট্রীয় কোষাগারের কোটি কোটি টাকা প্রতিবছর অনর্থক খরচ হচ্ছে, যা অপচয় হিসেবেই গণ্য। প্রকল্পের মেয়াদ ও খরচ বৃদ্ধিতে চরম অসন্তোষ ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। গত মঙ্গলবার সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় তিনি এ ক্ষোভের কথা জানিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর এ ক্ষুব্ধতার খবর গতকাল প্রতিদিনের বাংলাদেশসহ বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত হয়েছে।

খবরে বলা হয়েছে, সভায় খুলনা শিপইয়ার্ডের সড়ক প্রশস্তকরণ ও উন্নয়ন প্রকল্পের তৃতীয় সংশোধনী প্রস্তাব উত্থাপন করা হলে প্রধানমন্ত্রী তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, একই প্রকল্পের মেয়াদ বারবার বাড়ানো কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এরপর প্রকল্পটি সম্পর্কে আলোচনা না করে তা মন্ত্রণালয়ে ফেরত পাঠানো হয়। এ সময় প্রধানমন্ত্রী শুধু এই একটি নয়, সরকারি সব উন্নয়ন প্রকল্পের অহেতুক মেয়াদ ও ব্যয় বৃদ্ধির কারণ অনুসন্ধান এবং এজন্য দায়ী কর্মকর্তাদের খুঁজে বের করারও তাগিদ দেন।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এ ক্ষোভ যে অত্যন্ত ন্যায়সঙ্গত তা বলার অপেক্ষা রাখে না। কেননা, রাষ্ট্রীয় তহবিল থেকে যে অর্থ বিভিন্ন প্রকল্পে ব্যয় করা হয়, তা মূলত জনগণেরই অর্থ। এমনকি বিদেশি সরকার বা সংস্থার ঋণে যেসব প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়, সে ঋণ পরিশোধও করতে হয় দেশের জনসাধারণকে ভ্যাট-ট্যাক্স দিয়ে। ফলে জনগণের অর্থের এ ধারার হরিলুটের বিপরীতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যে নির্দেশনা দিয়েছেন, সেজন্য তিনি অবশ্যই ধন্যবাদার্হ। জানা গেছে, তিনি এলজিইডি ও পিডব্লিউডির পৃথক রেট শিডিউলের ব্যাপারে তার আপত্তির কথা জানিয়েছেন। সরকারি সব বিভাগের উন্নয়ন কাজের রেট শিডিউল এক ও অভিন্ন করার নির্দেশও দিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি উন্নয়ন প্রকল্পের নামে সড়ক পার্শ্বস্থিত বা প্রকল্প প্রাঙ্গণের নির্বিচার গাছ কাটার বিষয়েও প্রধানমন্ত্রী বিরক্তি প্রকাশ করেছেন। দেশকে সবুজায়নের লক্ষ্যে অপরিকল্পিত ও অবিবেচনাপ্রসূত বৃক্ষনিধন বন্ধ করার নির্দেশ দিয়েছেন তারেক রহমান।

আমাদের দেশে প্রকল্প বাস্তবায়ন কাজে নিয়োজিত সরকারি চাকুরেরা নিজেদের দক্ষতার প্রমাণ দিতে পারেননি। উপরন্তু সরকারি উন্নয়ন ও নির্মাণ প্রকল্পের মেয়াদ ও ব্যয় বৃদ্ধির পেছনে দায়িত্বপ্রাপ্ত আমলা-কর্মকর্তাদের কারসাজির কথা কারওরই অজানা থাকার কথা নয়। অধিকাংশ ক্ষেত্রে দেখা যায়, ঠিকাদাররা কার্যাদেশ (ওয়ার্ক অর্ডার) পাওয়ার পর, কাজ শুরু করে নানা অজুহাতে প্রকল্প ব্যয় রি-শিডিউল করার জন্য কর্তৃপক্ষকে চিঠি দেয়। আর কর্তৃপক্ষের দায়িত্বপ্রাপ্তরা সব সময় এ সুযোগেরই অপেক্ষায় থাকেন। তখন ঠিকাদার, প্রকৌশলী ও আমলারা মিলে নিজেদের মধ্যে সমঝোতায় এসে প্রকল্পের ব্যয় পুনঃসমন্বয় করেন। বাড়তি খরচের একটি বড় অংশ যায় প্রকৌশলী ও কর্মকর্তাদের পকেটে। আর ঠিকাদাররাও এ সুযোগে হাতিয়ে নেয় অতিরিক্ত মুনাফা। বছরের পর বছর এ ধারাই চলে আসছে। মাঝেমধ্যে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ কিংবা অধিদপ্তরের প্রকৌশলী, প্রকল্প কর্মকর্তা এমনকি সার্ভেয়ার ও পিয়ন-ড্রাইভারদের শতকোটি টাকার মালিক বনে যাওয়ার যেসব খবর প্রকাশিত হয়, সেসবের নেপথ্য কারণ রাষ্ট্রীয় তহবিলের এই তছরুপ। বিগত সরকারের আমলে স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মচারী আবজলের হাজার কোটি টাকার সম্পদশালী হওয়া কিংবা স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের ড্রাইভার মালেকের বিত্তশালী হওয়ার পেছনেও রয়েছে আলাদিনের এই চেরাগের স্পর্শ। বিষয়টি জানা সত্ত্বেও তা নিয়ে কেউ এতকাল কথা বলেননি। পত্রপত্রিকায় অবশ্য এসব নিয়ে রিপোর্ট বেরিয়েছে, নিবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে। তবে এতে যাদের কান দেওয়ার কথা, তারা তাদের কর্ণযুগলকে কৃত্রিম বধিরতায় আচ্ছন্ন করে রেখেছিলেন। ফলে জনমনে অসন্তোষ বিদ্যমান থাকলেও রাষ্ট্রীয় তহবিল লুটেরাদের গায়ে একটু আঁচড়ও লাগেনি। এবারই প্রথম একজন সরকারপ্রধান গুরুত্বপূর্ণ এ বিষয়টি নিয়ে প্রকাশ্যে মন্তব্য করলেন এবং ব্যবস্থা নেওয়ারও নির্দেশ দিলেন।

প্রধানমন্ত্রীর এ শক্ত অবস্থান দেশবাসীকে নিঃসন্দেহে আশান্বিত ও আশ্বস্ত করবে। আমরা আমাদের স্বদেশকে যেরকম দেখতে চাই, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উল্লিখিত ক্ষোভ ও নির্দেশনা তার বাস্তবায়নে সঠিক পথনির্দেশ দেবে, দেশবাসী মনেপ্রাণে তা বিশ্বাস করে। তারা আরও বিশ্বাস করে, তিনি তার পিতা প্রেসিডেন্ট শহীদ জিয়াউর রহমান ও মা প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার কাছ থেকে উত্তরাধিকারসূত্রে সততা, দেশপ্রেম ও কর্তব্যনিষ্ঠার যে অনুপ্রেরণা পেয়েছেন, তাকে পাথেয় করে বলিষ্ঠ নেতৃত্ব দিয়ে দেশকে এগিয়ে নেবেন। একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়কে সামনে এনে যথাযথ নির্দেশনা দেওয়ায় আমরা প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানাই। সে সাথে তার এ নির্দেশনা যাতে কার্যকর হয়, সেদিকে যথাযথ নজরদারির আহ্বান জানাই। 


সম্পাদকীয়


শেয়ার করুন-

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা